মধুর মিলন

মধুর মিলন

প্রথম লোকমা টা মুখে দিতেই আমার বউ টেবিলের ওপাশ থেকে রাগী চোখে চেয়ে বল্ল, অফিস থেকে ঘরে ঢুকার সময় রোকসানার দিকে তাকিয়েছিলে কেন?

— আমি মুচকি হেসে বল্লাম, ওহহ সে কারণেই দরজা খুলে দিয়ে তুমি সোজা বেডরুমে চলে গিয়েছিলে?

— রুপা (আমার বউ) আরো একরাশ বিরক্তি নিয়ে বল্ল, আমি জিজ্ঞেস করেছি তাকিয়েছিলে কেন!

— আমি ভাবলেশহীন ভাবে বল্লাম, আমার ইচ্ছে হয়েছে তাই আমি তাকিয়েছি।

তাছাড়া রোকসানা আজ কি দারুণ একটা শাড়ী পরেছে, আহহ দেখেই চোখ আটকে গেছে! রুপা এতোক্ষণ তার প্লেটের ভাত গুলোকে আংগুল দিয়ে এপাশ-ওপাশ করছিলো, আমার কথাটা শুনেই প্লেটে পানি দিয়ে সোজা বেডরুমে চলে গেছে। রুপার অভিমান কে তাচ্ছিল্যের বাক্সে রেখে, আমি খাওয়া শুরু করলাম। আহহ কি টেস্ট! প্রথম লোকমাটার স্বাদ আন্দাজ করেই মনে মনে বলছি, এই রান্না নিশ্চয়ই আমার বউ করেছে! রোকসানা এরকম রান্না করতে পারবেনা এইটা আমি শিওর।

রোকসানা মেয়েটা আমাদের বাসায় কাজ করে। তাছাড়া আরেকটা পরিচয় হলো, রুপার দেশের বাড়ির দূরসম্পর্কের খালাতো বোন হয় রোকসানা। আজ যখন অফিস থেকে বাসায় ঢুকি ঠিক তখনই রোকসানার হাত থেকে কাচের গ্লাস পড়ে গিয়ে ভেংগে যায়! শব্দটা শুনে রোকসানার দিকে চোখ পড়ে। 2 সেকেন্ড পর রুপার দিকে তাকাতেই বুঝতে বাকি রইলো না মহাভারত অসুদ্ধ করে ফেলেছি। মুখটাকে বাংলার পাঁচ বানিয়ে, রুপা হনহনিয়ে হেটে বেডরুমের দিকে চলে গেছে। আমি মনে মনে বল্লাম, সারাদিন অফিস করে বাসায় ফিরে এরকম মুখ দেখার চাইতে হনহনানো হাটা দেখাই ভালো। বাসার দরজাটা লাগিয়ে পিছনের দিকে ঘুরতেই আবার চোখ পড়লো রোকসানার দিকে। মেয়েটা ভাংগা গ্লাস তুলতে গিয়ে বেশখানিকটা হাত কেটে গেছে।

— আমি রুম থেকে সেভলোন আর তুলা এনে হাতে দিয়ে বল্লাম, এটা দিয়ে চেপে ধর। রক্ত বন্ধ হবে। তারপর চল বাহিরের ফার্মেসী থেকে বেন্ডেজ করিয়ে দেই। পরে বাসায় চলে যা।

— রোকসানা কান্নাভেজা চোখে বল্ল, আজ তো আমি বাসায় যামু না! হানিফ মানে আমার স্বামী বলছে, আজ কাজের শেষে আপনাদের বাসার সামনে দাড়াইতে। সে এসে আমায় ঘুরতে নিয়ে যাবে। আজ আমরা রিকশা করে ঘুরবো। এজন্যই দ্রুত কাজ করতে গিয়ে গ্লাস টা ভেংগে ফেলছি।

— আমি আগ্রহ নিয়ে জানতে চাইলাম, তোর স্বামী কি করে রে?

— রোকসানা বল্ল, ইদুর, তেলাপোকা, মাছি এইসবের ঔষধ বেচে।

— আমি বিরবির করে বল্লাম, হনহনিয়ে হাটা এমন রোগের কোন ঔষধ বেচে না?

— রোকসানা বল্ল, কি রোগ বলছেন?

— আমি বল্লাম, না কিছু না। পকেট থেকে পাঁচশ টাকার একটা নোট দিয়ে বল্লাম, যা আজকে তোদের রিকশা ভাড়াটা আমিই দিলাম। তোদের টাকা দিয়ে ঔষধ কিনে নিস।

যা হানিফ মনে হয় এসে দাড়িয়ে আছে। খাওয়া শেষ করে বিছানার এক পাশে এসে আস্তে করে শুয়ে পড়লাম। ভাবছি, দরজা খুলার সময় রুপার কানে যদি হেডফোন না থাকতো তাহলে গ্লাস ভাংগার শব্দটা সেও শুনতো। খাটের অন্য পাশে, মেয়েটা গুটিয়ে শুয়ে আছে। সহজসরল মেয়ে গুলো, অভিমান করলে গুটিয়ে শুয়ে থাকে। আর গুটিবাজ মেয়েরা শুয়ে থাকে সোজা হয়ে! রুপার এরকম শুয়ে থাকা দেখে আমার একটু মায়া হলো, কিন্তু আমিও তো কোন অন্যায় করিনি। আমি কেন রাগ ভাংগাবো? ইগোর কারণে তাকে ছুঁতে গেলাম না! রুপার চোখ বেয়ে নিস্তব্ধতার ঝরনা বইছে। শব্দহীন হাসিতে যতটা সুখ, তার চেয়ে দশগুণ বেশি কষ্ট হয় শব্দহীন কান্নায়।

রুপা ভাবছে নাঈম আজ আমার সাথে এমন ব্যাবহার কেন করলো? রুমে ঢুকেই আমার দিকে না তাকিয়ে রোকসানার দিকে তাকালো, একা একা খেয়ে নিলো, এখন বিছানার আরেক পাশে শুয়ে আছে! তাহলে কি আমার প্রতি তার ভালোবাসার ভাটা লেগেছে! নাহহ, আমি এমন ভাবছি কেন! খাবার থেকে উঠে আসার পরপরই পেটে ব্যাথা শুরু হয়েছে। লক্ষণ বলছে পিরিয়ডের ব্যাথা। অন্যান্যবার এরকম ব্যাথার সময়, নাঈম পেটের উপর মাথা দিয়ে শুয়ে থাকতো। আজ আমার সাথে কেমন বিরক্তিকর আচরণ করছে। করতে থাকুক আমিও কিছু বলবো না। একটা রাত পার করে দিবো নিরব কান্নায়। পরেরদিন, ঘড়িতে টাইম এখন দুপুর ২টা। সকালে খেয়ে আসিনি। কিন্ত, রুপা যত্ন করে লাঞ্চের খাবার দিয়ে দিয়েছে। বাটিটা সামনে নিয়ে ভাবলাম রুপাকে একটা কল দেই।

জিজ্ঞেস করি, খেয়েছে কি না। যদি না খেয়ে থাকে, তাহলে খুব যত্ন করেই একটা সরি বলবো। কল দিতে দিতে 10 টা কল দিলাম, তাও কল ধরলো না! প্রতিটি কল ধরার অপেক্ষায় মেজাজ টা খারাপ হচ্ছে। অফিস থেকে সোজা বাসায় আসলাম। রুমের সামনে তালা ঝুলছে। দারোয়ান কে জিজ্ঞেস করলাম তোমার ভাবি কিছু বলে গেছে? দারোয়ান বল্ল, একটা ছেলে আসছিলো বয়স ২৭,২৮ বছর হবে, কিছুক্ষণ পর দেখলাম ভাবি আর ঐ ছেলে বাসা থেকে এক সাথে বের হয়েছে। তারপর, ভাবি রাস্তার ঐপাশের ফার্মেসীতে গেলো আর ছেলেটা রিকশা করে অন্য দিকে চলে গেলো। এমন কিছু শুনেও, আমি আরেকবার জিজ্ঞেস করলাম, কতক্ষণ আগে বের হয়েছে? দারোয়ান বল্ল, এইতো একটু আগেই ৫,৭ মিনিট হবে। আমি আর কিছু না বলে, তালা খুলে বাসায় প্রবেশ করলাম।

৩৭ মিনিট পর দরজায় নক পড়লো! ৩৭ মিনিট পর দরজায় নক পড়লো! ১ম পর্বের পর আমি দরজা খুলে দিতেই রুপা বল্ল, তুমি এমন সময় বাসায়? আমি চুপ করে ঠায় দাড়িয়ে রইলাম! রুপা এবার কাধ থেকে ব্যাগ টা রাখতে রাখতে সিরিয়াসহীন ভাবে বল্ল, কি সমস্যা? কথা বলছো না যে! এমন সময় বাসায় আসছো কেন? এবার আর চুপ থাকা গেলো না! বাম হাতে রুপাকে আমার দিকে ফিরিয়ে ঠাস করে গালে একটা চর বসিয়ে দিয়ে বল্লাম, কয়টা কল দিছি তোরে? কয়দিন বলছি একটা কলের বেশি দুইটা কল যে দেয়া লাগে না? রুপা কিছু বলতে যাবে তার আগেই আরেকটা চর বসিয়ে দিয়ে বল্লাম, কি এমন সময় বাসায় এসে খুব অন্যায় করে ফেলেছি তাই না? না আসলে তো জানতেই পারতাম না, বাসায় যে কেউ আসে। সে জন্য আবার ফার্মেসীতেও যেতে হয়!

রুপা এবার শাড়ির আচল দিয়ে মুখ চেপে ধরে কান্না শুরু করলো। তার কান্নাকে প্রশ্রয় না দিয়ে ঘারে ধরে গাড়িতে নিয়ে তুল্লাম। শশুর বাড়ির গেইটের সামনে নামিয়ে দিয়ে বল্লাম, খবরদার আমার সাথে কোনরকম যোগাযোগ করার কথা ভাবনাতেও যেন না আসে। রুপা, গেইটের সামনে দাড়িয়ে নাঈমের চলে যাওয়া দেখছে! বুক ভেংগে যাচ্ছে, কিন্তু ফেরানোর সাধ্য তার নেই। কাল রাতের পেটের ব্যাথা এখনো থামেনি! রুপা দুই হাতে পেট চাপরে ধরে চিরো চেনা বাসাটায় প্রবেশ করতেই দাদী বল্ল, নাঈম পুলাডা অনেক বাড়ছে এবার আমার নাতিকে নিতে আসুক তারে দেখে নিবো!

রুপা, দাদীর কথায় একটু মুচকি হাসলো। দাদীর এরকম শাসন ভরা কথায় রুপার মন একটু শান্তিও পেলো। রুপা ফ্রেশ হয়ে বেলকনিতে কফির মগ নিয়ে বসলো। কফি প্রায় শেষের দিকে, রুপার চোখ এখনো শুকায়নি, টপটপ করে পানি পরেই যাচ্ছে! পিছন থেকে দাদী এসে বল্ল, রাগ অভিমানের পর মিলন টা কত যে মধুর হয়! রুপা বাকি কফি রেখেই, চুপচাপ বেলকনি থেকে এসে রুমের দড়জা লাগিয়ে বালিশে মুখ চেপে শুয়ে পড়লো। এই বালিশ চাপা কান্না বড়ই বেদনার! আজ ৪ দিন হলো অফিসে যাই না, রুপাকে ভুলে থাকার চেষ্টায় আজ ৫ম দিন। কতবার ফোন চেক করেছি তার একটা কল ও আসেনি। মানুষের মন বড় আজব। একবার না করেছি তাকে কল টেক্সট কিচ্ছু না করার জন্য, এখন তার কলের অপেক্ষাতেই আমার সময় স্থির হয়ে আছে। ৩ দিন পর বাসায় রোকসানা আসলো। আমি জিজ্ঞেস করলাম, কিরে তোর হাত ভালো হয়েছে? রোকসানা বল্ল,

— জ্বি ভালো হয়েছে। কিন্তু আপনি পানিতে হাত ডুবিয়ে রাখছেন কেন? আমি বল্লাম,

— নাহহ তেমন কিছুনা। ভাতের মার ফেলতে গিয়ে হাত পুরে ফেলেছি অনেকটা!

— কেন, ভাবি কোথায়?

— তোর ভাবি বাপের বাড়ি গেছে।

— বাপের বাড়ি গেছে নাকি আপনি পাঠিয়েছেন?

রোকসানা প্রশ্নটা করেই বলতে শুরু করলো… সেদিন ভাবি আমায় ফোন দিয়ে বল্ল, আপনাদের গ্যাসের চুলাটা নষ্ট হয়ে গিয়েছে। হানিফ গ্যাসের চুলা ঠিক করার টুকটাক কাজটাও জানে। সে জন্যে ঐ দিন দুপুরে হানিফ কে আমিই পাঠিয়েছিলাম। হানিফ আপনাদের বাসায় আসার আগেই ভাবি বের হতে যাচ্ছিলো। হানিফ আসায় ভাবি আর বের হয়নি। চুলা ঠিক করে দুজনেই বের হয় এক সাথে। কারণ টা শুনবেন কি জন্যে? আমি চুপ করে রইলাম!

রোকসানা আবার বলতে শুরু করলো, ছিহহ আমার লজ্জা হয়! একটা মেয়ের পাশে তার স্বামী শুয়ে থাকে অথচ সে জানেই না তার পিরিয়ড চলছে। স্বামী থাকা সত্বেও নিজে গিয়ে ফার্মেসী থেকে সেনোরা পেড কিনে আনতে হয়। আমি পানি থেকে হাত তুলে ফেল্লাম। ঐদিন রুপা যেখানে ব্যাগ টা রেখেছিলো ব্যাগ টা সেখানেই আছে। আমি ব্যাগের চেইন খুলে দেখি একটা সেনোরার প্যাক। টের পেলাম আমার বুকে কেমন ঝড়বইতে শুরু হলো। ব্যাগ টা টান দিতেই টেবিল থেকে ছোট্ট একটা চিরকুট পড়লো চোখে। চিরকুট যানো নাঈম, তুমি রাগাতে আমার বেশ ভালো লাগে।

তোমার জন্য একটা হাত ঘড়ি কিনেছি। রাতে সেটা তোমায় পড়িয়ে দিবো ভেবেছিলাম । কিন্তু তার আগে তোমাকে একটু রাগানো প্রয়োজন ছিলো। তাই কিছু না পেয়ে রোকসানার দিকে যেই তাকিয়েছো সেই মাথায় এলো এই একটা রাগানোর উপায় পেলাম। কিন্তু তুমি রেগে না গিয়ে আমায় অবহেলা করেছো। রাতে একবার ছুয়েও দেখনি আমায়! তোমার বউ তোমার সাথে আড়ি দিয়েছে হু! আমি মুচকি হাসছি কিন্তু চোখ জুরে সাগরের ঢেউ। আর একটুও দেরি না করে সোজা বের হয়ে গেলাম। সব মেয়েরা স্বামীর কাছে গহনা চায় না, কিছু কিছু মেয়ে কাচের চুরিও চায়। এইতো রাস্তার পাশে একটা চুড়ির দোকান দেখা যাচ্ছে, আকাশি কালারের এক মুষ্টি চুরি নিলে খারাপ হয় না। রুপাদের বাসার সামনে বেলকনির দিকে তাকিয়ে ২ ঘন্টা যাবৎ বসে আছি। ভাবছি কি করে বাসায় ঢুকবো।

লক্ষ্য করলাম এই গলির দিকে একটা হকার আসছে। হকার টা হ্যান্ড মাইক দিয়ে বলছে, ইদুর পোকা মারামারি নষ্ট করে ঘরবাড়ি। চিত হইয়া খাইয়া উপুত হইয়া মরে, উপুত হইয়া খাইয়া চিত হইয়া মরে। কারেন্টের মত শট খাইয়া মরে। হকার টা আমার সামনে আইসা বল্ল, আরে আপনি নাঈম ভাই না? আমি ব্রু কুচকে বল্লাম, হ্যাঁ। কিন্তু আপনি? হকার মিষ্টি একটা হাসি দিয়ে বল্ল, ভাই আমি হানিফ। ঐযে আপনাদের বাসার কাজের মেয়ে রোকসানার জামাই। আমি বল্লাম, ওহহ। খেয়াল করলাম তার পরনে ছেড়া একটা পাঞ্জাবি। ভাবছি তাকে দিয়ে আমার এখন কি উপকারে আসতে পারে। যেই ভাবা সেই কাজ। তাকে নিয়ে গলির অন্য পাশে এসে, তার পরনের ছেড়া পাঞ্জাবিটা আমি পরলাম। তার কাধ থেকে ইদুরের ঔষধের ব্যাগ টা আমার কাধে নিলাম। তার মাথার ক্যাপটাও দিলাম আমার মাথায়। হানিফ কে বল্লাম, ঐ যে গাড়ির নিচ থেকে একটু কালি নিয়ে আয়, তারপর হালকা করে আমার মুখে মেখে দে!

পকেট থেকে ১০০ টাকার নোট দিয়ে হানিফ কে বল্লাম, আমাদের বাসায় যা। রোকসানার রান্না বোধহয় শেষ, বাসা টা একদম ফাকা। দেখিস বাসায় গিয়ে বিড়াল মারিস না, পারলে কিছু ইদুর মারিস। আর হ্যান্ড বাইক টা অন করে দিয়ে যা। হানিফ চলে গেছে। হ্যান্ড মাইক টা মুখে নিয়ে রুপার বেলকনির সামনে দাড়িয়ে বলতে শুরু করলাম, ইদুর চিকা মারামারি, নষ্ট করে ঘরবাড়ি। একটি ইদুরের ঔষধের সাথে পাচ্ছেন এক মুষ্টি চুরি। যার লাগবে প্রচার মাইকের নিকট চলে আসুন তাড়াতাড়ি। আমি জানি, রুপা চুরির কথা শুনলে নিচে আসবেই। টেরপাচ্ছি সিড়ি ভেংগে নিচে আসছে মেয়েটা। পিচ্ছি মেয়েদের মত সবার আগে এসে বল্ল, জীবনের প্রথম এই শুনলাম ইদুরের ঔষধের সাথে কাচের চুরি ফ্রি। একটু দেখি, দেন তো।

আমি আকাশি কালারের চুরিটা তার হাতে দিতে গিয়ে, তার হাত টা একটু ছুইতে চেষ্টা করলাম। এরকম আপত্তিকর ছোয়ায়, রেগেমেগে কটমট করে আমার দিকে তাকালো রুপা। তাকাতেই চোখ দুইটা বড় করে বল্লো, নাঈঈঈঈঈম তুমিইইই! দাড়াও তোমারে আজ আমি হ্যান্ড মাইক, ব্যাগ ট্যাগ ফেলে দিয়ে দিলাম দৌড়। রুপা আমার পিছন আসছে আর বলছে, দাড়াও তোমারে ইদুর মারাচ্ছি। দৌড়াতে দৌড়াতে রুপার রুমে এসে শুয়ে পড়লাম। পিছন পিছন রুপাও আসলো। কোন কথা না বলেই বুকের উপর উঠে পাঞ্জাবির কলার টা শক্ত করে চেপে ধরলো।

আমি ফাসির আসামির মত মুখ করে বল্লাম, দরজাটা খুলা তো। রুপার ঠোঁট এবার আমার ঠোঁটে চেপে ধরে বল্ল চুপ একদম চুপ! মনে হচ্ছে দরজাটা বাহির থেকে কেউ লাগিয়ে দিলো! বাহীর থেকে রুপার দাদী চেচানো সুরে বলছে, বলেছিলাম না? প্রত্যেকটা রাগ আর অভিমানের পরের মিলনই হয় একেকটা মধুর মিলন! টের পাচ্ছি আমার পিঠে আরো একটা খামচির দাগ, এখনই বসবে।

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক
DMCA.com Protection Status
loading...

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত