নিলা নামের সেই মেয়েটি

নিলা নামের সেই মেয়েটি

নীলা নামের মেয়েটাকে আমি পছন্দ করি কিন্তু, মেয়েটা আমাকে একদম সহ্য করতে পারে না, আমাকে দেখলেই নাকি, তার শরির গরম হয়ে যায়, একশ চার ডিগ্রি জ্বর চলে আছে, তাই সে নীলা বলেছে তার আশেপাসে না ঘুরতে, আমি তারপরও ঘুরি, কারন সে খুব বিরক্ত হয়, আর আমার মানুষকে বিরক্ত করতে খুব ভালো লাগে, আর সেটা নিলা হলে তো কথায় নেই।
কাল রাতে একটা মেয়ে ফোন দিয়েছিল ভুল করে, ফোনটা রং নাম্বারে দিয়ে যে কি বিপদেই পরেছিল বলার মতো না, কতবার যে বাবা মায়ের দোহাই দিয়েছিল , তাতেও যখন আমি বিরক্ত হই নি,
একের পর এক ফোন আর মেসেজ দিয়েই যাচ্ছিলাম, তখন আমার যায়গা হয়েছিল ব্লাক লিষ্টে,
তখন হয়তো মেয়েটা রাজ্যের হাসি একাই হেসেছিল।
আর আমি পরাজিত সৈনিক এর মত, আস্তে করে মোবাইল থুয়ে বিছানায় মাথা রেখেছিলাম।

আজ সকালে কলেজে আসতেছি, আর ভাবছি কি ভাবে আজ নীলাকে বিরক্ত করব, সবার সামনে আই লাভ ইউ বলব? নাকি জানু বলে ডাকা শুরু করব?
যেটাই হোক বিরক্ত তো হবেই, আর প্রতিদিনের রুটিন পিছে পিছে ঘোরা এটা তো থাকবেই, নিলা যখন সামনে দিয়ে যাবে, তখন একটু আবেগি সুরে বলব নিলা জানু নিলা জানু কেমন আছো,
জানি সে প্রচন্ড রেগে কষে একটা থাপ্পর ও মারতে পারে, তাই নিদিষ্ট দুরত্ব বজায়ে রাখতে হবে, কারন এর আগেও আমি থাপ্পর খেয়েছি, এতে আমার কিছু মনে হয় না, একদম ডালভাত এর মত।
কিছু ছেলে আছে যারা, থাপ্পর খেয়ে দ্রিব্রি হেসে ফেলে। তাদের মধ্যে আমি অন্যতম,,
নাকি নিলা কে পটানোর অন্য রাস্তা অবলম্বন করব। যে করেই হোক নিলা কে তো পটাতে হবে, কারন আমি প্রেম না করার কারনে বন্ধু মহলে, অনেক কথা শুনতে হয়, মাঝে মাঝে আমার পূরষত্ব নিয়ে কথা বলে,
কি সাংঘার্তিক!
একটা ছেলে প্রেম করবে না, আর তারা তাকে কাপুরুষ বানিয়ে ফেলতে দিধা করে না!
অবশেষে নিলা নামক পেইন টার পিছে পড়েছি যার কি না আমাকে দেখলেই মেজাজ খারাপ হয়ে যায় , তবে মেয়েটাকে আমি খুব পছন্দ করি,

তিন মাস পিছে ঘুরে যেহুতু কাজ হয় নি, সে জন্য আজ থেকে ভিন্ন রাস্তা,

মাথার আওলা ঝাওলা চুলগুলো, শরিষার তেল মেরে নামিয়ে দিলাম, হাত ভরা ব্যাচলেট গুলো খুলে সাদা কালো কালারের শার্ট পড়ে আয়নার সামনে গিয়ে দাড়িয়ে নিজেই চমকে গেলাম,
মাথা ভর্তি শরিষার তেল, এখনো চুয়ে চুয়ে পড়ছে, আর এই শার্ট টা তে একদম মদন কুমার মদন কুমার লাগছে! তাতে সমস্যা কি, রৃপ হবে এক সময় একেক রকম
এটাও খারাপ না, নতুনত্বের একটা ব্যপার আছে।
কলেজের বন্ধুরা সবাই অবাক, কেউ কেউ চোখ কচলা কচলি করে দেখছে।
আমি সবাই কে অবাক করে ক্লাসে ঢুকে গেলাম।
বন্ধুরা সবাই বলাবলি করছে, নিরব এর কি হলো, মাথা টা খারাপ হয়ে গেছে নাকি?
ক্লাসে ঢুকে বসে আছি,
ক্লাসের মেয়েরা বারবার তাকাচ্ছে, বিশেষ করে নিলার বান্ধবিরা, নিলা মেয়েটা আমার দিকে সোজা ভাবে তাকায় না। মাঝে মাঝে আরচোখে তাকায়, তাও খুব সাবধানে,
ক্লাসে মেডাম ঢুকলের, নাম খোদেজা, তার প্রতিদিনের রাগ হওয়ার একটাই কারন আমার মুখ দেখা।
ক্লাসে আমি কোনদিন ক্লাস শুরুর আগে ঢুকি নি, আগে মেডাম ঢুকবেন, তারপর আমি, আমাকে গালিগালাজ করেই, তার খারাপ দিন টা শুরু করেন।
ম্যাডামের মতে,
কলেজে পড়ি বলে গায়ে হাত তুলতে পারে না, নইলে পিটিয়ে সোজা করে ফেলতেন,
মেডাম যখন ক্লাস শুরু করেন, তখন আমি, রুমের সামনে গিয়ে বলি, ম্যাম আসতে পারি?
ম্যাডাম এক গাল বিরক্ত মুখে নিয়ে, কি দরকার আসার? আমি না হয় তোমার বাসায়ই পড়াতে যেতাম?
আমি ফিক করে হেসে ফেলি!!!এটা মেডামের সব থেকে বিরক্তিকর একটা হাসি!!
এসো ভিতরে এসো, আজ আর জিগেস করব না কিসের জন্য লেট হয়েছে, প্রতিদিন ট্রাফিক জ্যাম এর কথা শুনতে ভালো লাগে না।এসো ফাজিল কোথাকার?
তবে আমার মনে পরে না ঠিক কবে মেডাম কে ট্রাফিক জ্যাম এর কথা বলেছিলাম।কিন্তু ম্যাডাম ঠিক নিয়ম করে , প্রতিদিন বলবে।

কিন্তু আজ থেকে মেডাম, সেই বিরক্তিকর ছেলেকে দেখতে পারবেন না, যেটা দেখবেন সেটা ভদ্র ছেলে।
ম্যাডাম কাছে আসলেন, কিন্তু এমন ভান করলেন যেন কিছুই হয় নি, আমি এ রকমই ভদ্র। শুধু বললেন, কপালের তৈলটা মুছো।
ক্লাস শেষ করে, বাসায় চলে আসলাম, নিলা মেয়েটা আজ কে বেশ কয়েকবার তাকিয়ে ছিল, কিন্তু আমি তাকায় নি, বেশ ভালো লাগলো বিষয় টা।
পরেরদিন!
কলেজে এসেছি,গায় একটি টকটকে লাল র্টি শার্ট,কালো কালারের লুজ প্যান্ট, আর চোখে একটি চকচকে কাচের চশমা,
চশমা পড়ার একটাই কারন, বোকা ভাব টা বাড়ানো! চশমা পড়লে, ছেলেদের অনেক মদন মদন লাগে, যে কোন মেয়ে প্রেম করতে চায়, একটাই কারন, সারাজিবন জ্বালাতে পারবে, ইচ্ছা মত নাচাতে পারবে!
আবার অনেক মেয়ে, এই একই কারনে, টাকলু, কিংবা আংকেল টাইপ এ রকম ছেলে পছন্দ করে, নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরানোর জন্য,
হাটছি, ক্লাসের উদ্দেশ্যে, সোজা মাটির দিকে তাকিয়ে, সবুজ ঘাস গুলো শিশিরের ছোয়া পেয়ে জিবনত্ব হয়ে উঠেছে, সকালের মিষ্টি রোদ্রে চিকচিক করছে!
সহীদ মিনার এর উপর বসে আছে, নিলা ও, তার কয়েকটা বান্ধবি, সবগুলোর গায়ে চাদর, দেখে মনে হচ্ছে, যত ঠান্ডা সব তাদের গায়ে লেপ্টে পরেছে,
আসলে, সকালের এই মিষ্টি রৌদ্রময় সকালটা, কেউ হাত ছারা করতে চায় না, যতই গায়ে গরম কাপর পরুক না কেন? রৌদ্রসেবন তাকে করতেই হবে! এটা একটা নৈসা, শীতকালীন নেশা।
আমি নিলার দিকে না তাকিয়ে হেটে যাচ্ছি, ,,,,
এই যে ভাইয়া টাকা পড়ছে নাকি? (আমার দুই ইয়ারের জুনিয়র, একটা মেয়ে) বলেই খিলখিল করে হাসতে লাগলো,
আমি তার দিকে তাকালাম, না,
ভদ্র ছেলেদের মেয়েদের দিকে তাকানোর টাইম নাই, এদের একটা টেনশন থাকা উচিত, পড়া, শুধু পড়া, বই মুচরে খাওয়া,
নিলা তাকিয়ে আমাদের কথা শুনছে, কিন্তু কিছু বলছে না, কারন একটা অসহ্য ছেলের সাথে কথা বলার কোন মানেই হয় না,
তবে ইদানিং, মেয়েটার পিছনে ঘুরিনা বলে মেয়েটা অসস্হি বোধ করে, বারবার চোখ পিটপিট করে তাকায়,
সবার আগে আজকেও আমি ক্লাসে ঢুকলাম, আস্তে আস্তে ক্লাস ভরে গেল, ম্যাডাম আসলেন,
ম্যাডাম আমার পড়া ধরলেন,
আমি গরগর করে পড়া বলে দিলাম, সবাই অবাক, কারন ক্লাসে আমি কোনদিন পড়া পারছি, কেউ বলতে পারবে না।
তাই মেডাম সরাচর আমার পড়া ধরেন না, আজকে বা কি মনে করে আমার পড়া ধরলেন, সেটা আমার ধারনার বাহিরে ছিল,
মেডাম আমার চুল গুলো নেরে বল্লেন, গুড বয়!
আমি শুকনো একটা হাসি, দিয়ে বললাম থ্যাংকইউ ম্যাম। ভালো ছেলেরা কখনো খিলখিল করে হাসে না, তাদের শুকনো হাসিই মানায়। তাই আমি ব্যাতিক্রম করলাম না।
ক্লাস শেষ করে, হাটছি , নিলা দৌরে এসে সাথে হাটতে হাটতে বলল,
কিরে নিরব তোর এ রকম মদন এর মতন বদলে যাওয়ার কারন কি?
দেখ নিলা, জিবন টা ছোট না, ভালো ভাবে বাচতে হলে, পড়াশোনার অনেক প্রয়োজন, পরিক্ষার আর দুই বছর আছে, ভালো রেজাল্ট না হলে আর চাকরি পাবো না, এখন যা দেশের অবস্হা,
-তুই এ কথা বলছিস? আমার বিশ্বাস হচ্ছে না?
-না হলে কিছু করার নেই, আমার একটা ভবিষ্যত আছে , বিয়ে করব বউ বাচ্চা হবে, ভালো চাকরি না পেলে তাদের খাওয়াবো কি?
-বিয়ের টেনশনও মাথায় নিয়ে নিয়েছিস?
হুম নিতে তো হবেই, বিয়ে একটা ফরজ কাজ সেটা তো করতেই হবে! তাছারা ওপারে কি জবাব দেব?
ওরে বাবা, বিয়ে যে ফরজ কাজ সেটা তো খুব ভালোই বুঝেছিস,
-হুম বুঝতে তো হবেই,
-ভালো।
-নিলা কিছুক্ষন চুপ, করে আবার বলল,
আচ্ছা নিরব, আমি যে এতোক্ষন তোর সাথে হাটছি তোর কিছু মনে হচ্ছে না?
-না!
-কেন!
-এমনি
-এক সময় কিন্তু তুই আমার পিছনে সারাদিন পরে থাকতি?
-সেটা অতিত। এখন তো থাকি না।
-তবে এখন কার মদন টার থেকে আগেকার বখাটে কিন্তু অনেক ভালো ছিল।
-আমি কিছু বললাম না , শুকনো একটা হাসি দিলাম,
নিলা কিছুক্ষণ চুপ থেকে চলে গেল,
আমি ও কিছু বললাম না।
এরপর, মাস কেটে বছর চলে গেল, কিন্তু আমার আর পরিবর্তন হলো না, এখন পড়া টা একটা নৈশায় পরিনত হয়েছে, সারাদিন পড়া নিয়েই ব্যস্ত থাকি,
এখন স্যার মেডাম এর, পরিবর্তন এর উদাহরন আমি,
এবারের পরিক্ষায় কলেজের মধ্যে তিনজন ফেল করেছে, তার মধ্যে আমার নাম ও আছে, কেমন করে আমি ফেল করলাম, সেটাই বুঝতে পারছি না। তবে আমার থেকে বেশি বেশি আর্চয্য হয়েছে খোদেজা ম্যডাম, নিরব এটা কেমন করে সম্ভব বলো তো?
মেডাম সেটাই তো বুঝতে পারছি না, বলে ফ্যতফ্যত করে কাদতে শুরু করে দিলাম, (ভালো ছেলেদের রেজাল্ট খারাপ হলে কান্না করে, তাই আমি ও করলাম)
ম্যাডাম এসে মাথায় হাত বুলিয়ে সান্তনা দিয়ে গেল।
আমি মাথা নিচু করে দাড়িয়ে রইলাম।
কলেজ থেকে বাসায় ফিরছি, মনে একটু কষ্ট লাগছে বিশেষ করে খোদেজা ম্যাডাম এর জন্য, ম্যাডাম আমাকে নিয়ে কত গর্বই না করেছে, রেজাল্টের আগের দিন ও গর্ব করে বলেছে, তোরা দেখিস নিরব এবার কলেজের মধ্য ফাষ্ট হবে।
আর আমি করলাম ফেল? অবশ্য ফেল করেছি বলে যে মন খাারাপ সেটা না।কারন ফেল করার অভ্যাস আমার আজকে নতুন না।
নিলা কোথেকে এসে পাশাপাশি হাটা শুরু করছে, তার ধারনা ফেল করেছি বলে মন খারাপ?
-দেখ নিবর মন খারাপ করিস না, ফেল কেউ ইচ্ছা করে না, সামনের বার ভালো করবি,
-আমি নিলার দিকে না তাকিয়ে মাথা ঝাকালাম।
-নিরব তোকে একটা কথা বলব?
-হুম বল!
-নিলা আমতা আমতা করে বলতে লাগলো, নিরব -ফেল যখন করেইছিস তাহলে আবার আগের মত হয়ে যা!
আমি নিলার দিকে বিশ্মিত চোখে তাকিয়ে বললাম কেন? মানুষ খারাপ থেকে ভালো হতে বলে আর তুই ভালো থেকে খারাপ হতে বলছিস? কেন?
তুই আবার যদি আগের মত হয়ে যাস, তবে আবার আমার পিছে পিছে ঘুরবি, আবার আমাকে বিরক্ত করবি, আবার আমাকে ভালবাসবি, তবে এবার আর বিরক্ত হবো না,
-ধুর তা হয় নাকি? ফেল করছি তাতে কি, পড়তে হবে
ভালো করে পড়তে বল, এবার পাশ করতেই হবে। -মনে হয় আড্ডা মারা বেশি হয়ে যাচ্ছে,,
-তুই আড্ডা মারিস? কই আমি তো দেখি না, আগে কি রকম পিছে পিছে ঘুরতি, সারাদিন ঘুরতি, আর এখন কি ছাতার পড়া নিয়ে ব্যস্ত থাকিস? ভাল্লাগে না বাল!!! আর কটাদিন ঘুরতি রাজি হয়ে যেতাম!
-নিলা থাক আমি গেলাম, একটু পড় কোচিং আছে, ফেল করছি, লজ্জা হয়ে গেছে! এবার পাশ করমুই করমু! দোয়া করিস?
-ওই আমি কি বলি আর তুই কি বলিস। আবাল। জিবনেও পাশ করবি না, আবার ফেল করবি, দোয়া করে দিলাম।
আর কথা বারালাম না, দ্রুত হাটা শুরু করলাম, সামনে পরিক্ষা পাশ করতেই হবে, কথা বলার টাইম নাই,
নিলা দাড়িয়ে আছে, চোখ মুখ ফুলিয়ে,চোখদুটো চিকচিক করছে, সেটা দেখার টাইম আমার কাছে নাই, আমার পড়তে হবে ভালো করে পড়তে হবে পাশ করতে হবে,
কয়েকদিন যাবৎ পড়া বাড়িয়ে দিছি, খুব বাড়িয়ে দিছি, খেতে বসলেও বই হাতে করে বসি। বার্থরুমে গেলেও বই নিয়ে যাই, এক সেকেন্ড সময় নষ্ট করার টাইম আমার কাছে নাই, বই গুলো পড়তে পড়তে বইগুলোর এমন অবস্হা হয়েছে বলার মতো না। সামনের তিন চারটা পিষ্ঠা খুজেই পাই না, বইটাই মুখস্হ হয়ে গেছে।
সেদিন ১৬ই ডিসেম্বর উপলক্ষে, কলেজে এক বিজয় অনুষ্ঠান করা হয়েছিল। নাচ গান আর কবিতা আবৃতি,
কলেজের সবাই, নানা রং এর ড্রেস পড়ে এসেছিল, তবে বেশির ভাগই লাল আর সবুজ,
নিলা পড়েছিল, লাল ব্লাউজ আর সবুজ শারি, চোখে মোটা করে কাজল, সাথে খোলা চুল, চুলগুলো কোকরা কোকরা, অন্সীর মত লাগছিল নিলা কে, সেদিন কেন জানি বারবার দেখছিলাম মেয়েটাকে,
আবার হিংসা ও ভয় দুটোই হচ্ছিল কারন, কলেজের বড় ভাই রা, ড্যবড্যব করে তাকিয়ে ছিল, নিলা র দিকে, পিছে পিছে ঘুরছিল,
তাই সিদ্ধান্ত নিলাম , আজকেই বলব, এখনি বলব,
নইলে যদি নিলা তাদের কাউকে হ্যা বলে দেয় তাইলে তো আমি শেষ!
কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, বলার কোন সুযোগই পাচ্ছি না, নিলা যেখানে যায়, বড় ভাই গুলোও সেখানেই যায়, মনে হয় আজকে তারা একটা হেস্তনেস্ত করেই ছারবে, আর আমি ঘুরছি তাদের পিছনেই, তাদের কিছু বলতেও পারবো না, কিছু বলতে গেলে হয়তো মেরে ভর্তা বানিয়ে দেবে। মাথায় একশ রকমের টেনশন ঘুরপাক খাচ্ছে, কি করব?
বিকাল ৪:৩০
এখনো বলার মত কোন সুযোগ পাই নি,তবে এখন নিলা বাসায় যাবে, যা বলার রাস্তাই বলব ডিশিষন ফাইনাল।
রাস্তায় দারিয়ে আছি, এই রাস্তা দিয়েই নিলা আসবে,
অনুষ্ঠান শেষ হবে, ৫টায়, বাকি আছে ৩০ মিনিট,

কথায় আছে, সময় ও স্রোত কারো জন্য অপেক্ষা করে না, কিন্তু এখন করছে,
এই এিশ মিনিটেকে এিশ ঘন্টা মনে হচ্ছে, অপেক্ষা করা যে এতো কঠিন, সেদিনই আমি প্রথম ঠিক পেয়েছিলাম।
অবশেষে রাজকন্যা আসছে,
নিলা আসছে গুটিগুটি পায়, হয়তো শারি পরার অভ্যাস নেই, এতো আস্তে আস্তে কেউ হাটে?
সামনে আসতেই, তার সামনে গিয়ে দাড়ালাম,
কিরে রাস্তা আটকিয়ে দাড়ালি কেন?
আশেপাশে তাকালাম, না কেউ নেই, তাই কথা বাড়ালাম না।
হাটু গেরে বসে চোখ বন্ধ করে লাল টকটকে গোলাপ ফুল টা বাড়িয়ে বলেই ফেল্লাম
i love you “”nila””
i love you so much.
many many love you….nila ”’
নিলা ফুল টা নিল,
চোখ মুখ ছোট করে, বলল একটু দেরি করে ফেলেছিস রে, নিরব। একটু আগে একজন আমাকে প্রোপস করেছে।
আমার আবেগপ্রবল হাসি মাখা মুখটা, দপ করে ফ্যাকাশে হয়ে গেল, মুখ দিয়ে কোন কথা বের হলো না, একটা মলিন হাসি দিয়ে, চলে আসছি,
তখন মনে হলো কিসের জন্য এতো কিছু করলাম, কিসের জন্য, কার জন্য? তখন একটা গান খুব করে মনে বাজছিল, -কেন হঠাৎ তুমি এলে…..
কেন নয় তবে পুরোটা জুরে
কেন আজ পেয়ে ও হারানো যায় না তাকে
বাচার মানে টা রয়ে যাবে দূরে….
এতো সুন্দর একটা গান কে বলেছে, কিছুতেই মনে করতে পারলাম না, তবে আজ থেকে এ রকম স্যাকা খাওয়া গানই শুনতে হবে,

নিলা পিছন থেকে ডাক দিল, নিরব শোন,
আমার মুখ দিয়ে কোন কথা বের হচ্ছে না, শুধু এগিয়েই গেলাম,
মাথা নিচু করে দাড়িয়ে আছি, নিলা মিটমিট করে হাসছে,
আমি আবার ফিছু ফিরে চলে আসতেছি, অনেকদূর চলে এসেছি, মনে হচ্ছে বুকের ভেতর রক্ত খনন হচ্ছে, আসলে পেয়েও হারানোর ব্যাথাটা অনেক বেশি। সেটা হারে হারে টের পাচ্ছি।
হঠাৎ নিলা চেচিয়ে বলে উঠল, এখনো হ্যা বলিনি!
আমি দৌরে গেলাম, নিলার কাছে,
তাইলে আর হ্যা বলিস না!
কেন!
আমি যে তোকে বড্ড বেশি ভালোবাশি রে,
তোর কি মনে হয়, আমি এই মদন এর সাথে প্রেম করব?
মুখটা আবার শুকিয়ে গেল! তাহলে?
কালকে থেকে আবার আগের মত হয়ে যাবি, আমি সেই নিরবের সাথে প্রেম করব! যে নিরব সারাক্ষন আমার পিছে পিছে ঘুরত, আমাকে বিরক্ত করত, আর একটু একটু ভালোবাসতো!!
আমার চোখে পানি চকচক করছে, আনন্দের অশ্রু, একরাস স্বপ্নের অশ্রু, ভালোবাসা ফিরে পাওয়ার অশ্রু,
আচ্ছা, তাইলে একটু জরিয়ে ধরতে দিবি? একটু??
কি? কি বল্লি তুই, আজকেই প্রেম আজকেই জ্বরিয়ে ধরতে চাস? যা ব্রেকআপ!!
এই না না, আমি তো আগের নিরব হওয়ার চেষ্টা করছিলাম, তোকে বিরক্ত করতে হবে তো।
নিলা এবার খিলখিল করে হেসে উঠল, একটা রিকশা নে ঘুরতে যাবো!
কোথায়?
রাসেল পার্কে?
এভাবেই যাবো? বোকা বোকা লাগছে তো লোকজন কি মনে করবে, মোনালিসার পাশে, একটা বলদ?
-সমস্যা নেই চল, আজকের মত এ ভাবেই ঘুরি আসি।
চল।

দুজন রিকশায় বসে যাচ্ছি, নিলা জরিয়ে ধরতে না দিলেও, হাতটা ধরতে ঠিকই দিয়েছে। খুব যত্ব করে, হাতের আঙ্গুল গুলো নারছিলাম। চিকন চিকন আঙ্গুল, খুব ভালো লাগছিল,
-কিরে হাতটা নিয়ে এ রকম চটকাচটকি করছিস কেন?
হাত টা ফট করে, ছেরে দিলাম, এতো জোরে কেউ কথা বলে, চাচা কি মনে করবে, পাগল।
-পাগল না পাগলি হবে, বলেই আবার খিলখিল করে হাসতে শুরু করল।
আমি তার মুখের দিকে তাকিয়ে আছি, মেয়েটা হেসেই চলেছে,আবার আমি বোকা হয়ে গেলাম,
তার হাসির দেখে, কি রকম গুছিয়ে হাসতে পারে, মেয়েটা।
তবে একটা টেনশন মাথায় এখন ঘুরছে,
এই পাগলি টাকে নি যে কি ভাবে বাকিটা জিবন পারি দেব, সেটা হয়তো আল্লাহ ছাড়া আর কেউ বলতে পারবে না। হয়তো একটু ভালোবেশে জরিয়ে ধরছি তো, চিৎকার করে বলছে, কি ব্যাপার এ রকম চটকা চটকি করছো কেন, আমি কি আলু না কি যে ভর্তা করছো? ছারো ছারো বলছি।

………………………………..(সমাপ্ত)……………………………..

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক
DMCA.com Protection Status
loading...

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত