জুটি

জুটি

এসএসসি এক্সাম শেষ। এত দিন কষ্ট করার পর দীর্ঘ ছুটি পেলাম। বাসায় বসে থাকতেও ভালো লাগছেনা। আব্বু আম্মুকে রাজী করালাম ছোট মামার বাসা যাওয়ার জন্য। লম্বা জার্নি করার পরে পৌঁছলাম ছোট মামার বাসায়। ওখানে গিয়ে অনেক দিন পর বেষ্ট ফ্রেন্ড ( মামাতো বোন) কে পেলাম। তাই সারা রাত প্রায় গল্প করেই কাটিয়ে দিলাম। পরের দিন বেষ্ট ফ্রেন্ড সাফিয়ার সাথে ঘুরতে বেরুলাম। দুইজন মিলে মাঠে এলাম। চারিদিক সরষে ফুলের হলুদ রঙে ছেয়ে গেছে। যেদিকে তাকাই সেদিকেই হলুদ – সবুজের ছড়াছড়ি। অপরূপ লাগছে চারিদিক। খুব ভালো লাগছিল। একবার মনে হলো কেউ যেন আমাদের ছবি তুলছে। ততটা গুরুত্ব দিলাম না। কিন্তু পরের বার দেখতেই সাফিয়া কে বললাম। সাফিয়াও দেখতে পেলো কেউ আমাদের ছবি তুলছিল। সাফিয়া আমাকে বললো আমি যেন কোনো কথা না বলি।কারন ছেলেটা খুব খারাপ। যা বলবে ও একায় বলবে।
– ওই নায়িম তুই আমাদের ছবি তুলছিস কেন ( সাফিয়া)
– কই নাতো ( নায়িম)
– আবার মিথ্যা বলিস? আব্বু কে বলতে হবে নাকি? লুচ্চামি করার মানুষ পাস না? ( রেগে গিয়ে)
– সরি
– এক্ষনি ছবি গুলো ডিলিট কর আমাদের সামনেই
– আচ্ছা ডিলিট করছি।( ডিলিট করে দিল)
– যা এখান থেকে এখন। তারপর নায়িম নামে ছেলেটা চলে গেলো। আর আমি সাফিয়াকে জিজ্ঞেস করলাম
– সাফিয়া তুই বলছিলি ছেলেটা খারাপ কিন্তু ওর কথা শুনে তো মনে হলোনা খারাপ
– কিজানি এখন ভালো সাজার চেষ্টা করছে তাই হয়তো।
– আচ্ছা চল এখন বাসায় যায়
– চল।
সাফিয়া আর আমি বাসায় এসে কাউকে কিছু বললাম না। বিকালে আবার দুইজন বের হলাম সাফিয়ার বান্ধবী ঝুমুর বাসায় যাওয়ার জন্য।

সাফিয়া, আমি আর ঝুমু খুব আনন্দ করছিলাম তিনজন মিলে। নাইমের বাসার পাশেই ঝুমুর বাসা। তাই আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে নাইম ঝুমুর বাসার সামনে এসে ঝুমু কে ডাকতে লাগলো।
– ঝুমু, এই ঝুমু ( নাইম)
– কি হয়েছে বল ( ঝুমু)
– এদিকে শোন
– বল
– সাফিয়ার সাথে যে মেয়েটা আছে ও কে রে
– তা জেনে তুই কি করবি
– বল না প্লিজ
– ও স্বর্ন। এবার এসএসসি দিয়েছে। সাফিয়ার মামাতো বোন। তাই এখানে বেড়াতে এসেছে। সব বললাম। এবার বল কারন কি
– ওকে আমি যখন থেকে দেখেছি তখন থেকে আমার সব ভাবনা শুধু ওই ঘিরে আছে। হয়তো এর নামই লাভ।
– খুব বেশি সাহস হয়ে গেছে তোর বুঝলি। জানিস ওদের ফ্যামিলি কেমন? তুই ওর যোগ্য নাকি? আগে যোগ্য হয়ে দেখা তারপর এসব ফালতু ডায়ালগ বলতে আসিস। যা এবার
এখান থেকে। ( ঝুমু)
নাইম অপমানিত হয়ে চলে গেলো। আর ঝুমু আমাদের পাশে এসে বসলো।আমি জিজ্ঞেস করলাম
– কি বলছিলো? (আমি)
– ( সব বললো ঝুমু)
– ঠিক করেছিস ঝুমু। বামন হয়ে কিনা চাঁদে হাত বাড়াতে আসে। ( সাফিয়া)
– আচ্ছা ওই ছেলেটা কে? ( আমি)
– আমাদের এলাকার পাক্কা বদমাশ। ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছে । ব্রেইন ভালোই কিন্তু ওর আচরনের জন্য এলাকার কেউ ওকে ভালো চোখে দেখেনা। ( ঝুমু)
– তাহলে তো তোমাদের থেকে অনেক বড়। কিন্তু তুই বলছিলে কেন
– ছোট বেলায় একসাথে মাদ্রাসায় যেতাম তাই তুই অভ্যাস হয়ে গেছে। ( ঝুমু)
– এমন হলো কিভাবে?
– খারাপ বন্ধু দের সাথে মিশে মিশে। ( সাফিয়া)
– আচ্ছা এসব বাদ দে এখন ( ঝুমু)
– হুম ( আমি)

তারপরের দিন আমি আর সাফিয়া আবার বেরুলাম। কিন্তু আবার নাইমের সাথে দেখা হয়ে গেলো। পথ আগলে দাড়ালো নাইম আমাদের। তারপর বলতে শুরু করলো
– স্বর্ন তুমি আমার চোখের ঘুম কেড়ে নিয়েছো। কালকে সারাটা রাত আমি ঘুমাতে পারিনি। চোখ বন্ধ করলেই তোমার ছবি ভেসে উঠেছে মনের ফ্রেমে। ( নাইম)
– এই এসব ডায়ালগ অফ কর। বেশি বাড়াবাড়ি করিস না। ( সাফিয়া)
– স্বর্ন প্লিজ তুমি কিছু বলো। আমি তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি যে খুব ( নাইম)
– আগে নিজে ভালো হয়ে দেখান। যদি আপনার কথা গুলো সত্যি হয় তাহলে আমার বাসায় বিয়ের প্রস্তাব পাঠাতে পারেন। কারন আমি প্রেম করবোনা। ( আমি)
– বেশ।তোমার কথায় মানলাম। তোমাকে প্রেম করতে হবেনা। আমি ভালো মানুষ হয়ে তোমার আর তোমার বাসার লোকের সামনে দাড়াবো বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে। অপেক্ষা করবে তো আমার জন্য? ( নাইম)
– চেষ্টা করবো। আল্লাহ অবশ্যয় কাউকে আমার জন্য ঠিক করে রেখেছেন। যদি সে আপনি হন তাহলে কোনো সমস্যা নেই।
– আই লাভ ইউ স্বর্ন। আই রিয়ালি লাভ ইউ।
– এই উত্তর টি নাহলে তোলায় থাক। সাফিয়া চল।
চলে আসলাম ওখান থেকে। আব্বু আম্মুকে বললাম আজই বাসায় ফিরে যাওয়ার জন্য। কারন জানালাম না। বাসায় ফিরে এলাম। ব্যস্ত হয়ে পড়লাম পড়ালেখা নিয়ে। অনেক গুলো দিন কেটে গেলো দেখতে দেখতে। ইন্টার পরীক্ষাও দিয়ে ফেললাম। আল্লাহর রহমতে রেজাল্ট ভালোই হলো। মেডিকেলে এডমিসন দেওয়ার চেষ্টা করছি। আল্লাহ সহায় থাকার কারনে আর অক্লান্ত পরিশ্রমের কারনে চান্স পেয়েও গেলাম । বাসার সবাই খুব খুশি হলো। নাইমের কথা কবেই ভুলে গেছি। একদিন আম্মু বললো আমি যেন রেডি থাকি কারন পাত্র পক্ষ দেখতে আসবে। ছোট মামাই নাকি পাত্র পক্ষ দের আনছেন। আব্বু রাজী ছিলনা কারন তিনি আমাকে বিয়ে দিতে চাননা পড়াতে চান।

কিন্তু মামার কথা ফেলতে পারলেন না। আমি অনেক জোড় করলাম যেন বিয়েটা না দেয়। কারন আমি আমার স্বপ্ন পূরনের পথে পৌঁছে গেছি প্রায়।
পাত্র পক্ষের সামনে গিয়ে পাত্রকে দেখে অবাক হয়ে গেলাম। কারন পাত্র নাইম। আমাদের দুই জনকে আলাদ ভাবে কথা বলার জন্য পাঠানো হলো। নাইম জিজ্ঞেস করলো
– কেমন আছো
– ভালো। আপনি কেমন আছেন
– ভালোই আছি।
– শুনলাম আপনি নাকি বড় ইঞ্জিনিয়ার হয়েছেন। আর বিয়ে করে বউকে নিয়ে বিদেশে ট্রান্সফার হয়ে যাবেন
– হুম ঠিকই শুনেছো।সেদিন তোমাদের কথা গুলোর জন্যই হয়তো সম্ভব হয়েছে। কারন তখন অপমান হয়ে মনে জিদ হয়ে গিয়েছিল।
– কিন্তু আমি যে কি করবো বুঝতে পারছিনা
– কেন তোমার কি বফ আছে?
– না। আপনি হয়তো জানেন আমি মেডিকেলে পড়ি। বিয়ে করলে আমি কিভাবে আমার স্বপ্ন পূরন করবো
– তোমার জন্য যখন আমি এত কিছু করতে পেরেছি তখন এটুকুও করতে পারবো। তুমি বিয়ের পর পড়বে। আমার বাসায় কেউ কিছু বলবেনা। ট্রান্সফার করে নিবা।
– হুম।
– এবার তো রাজী?
– হুম। আল্লাহ আমাদের কেই জুটি করে বানিয়েছেন।
– হুম। আমাকে আর আপনি বলবেনা। তুমি বলবে। আচ্ছা?
– হিহি। আচ্ছা।

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক
DMCA.com Protection Status
loading...

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত