তোমার জন্য লেখা

তোমার জন্য লেখা

ফজরের নামাজ শেষে বারান্দায় পায়চারি করছে শুভ্র। আজ তার
মায়ের কথা বড্ড বেশি মনে পড়ছে, সেই পাঁচ বছর আগের
কথা। না, মায়ের কবর অনেক দিন হয়েছে দেখা হয়নি, মনে
মনে ভাবলো শুভ্র। নামাজের টুপিটা নিয়ে বেরিয়ে পড়লো।
.
ছোট্ট একটি কবরস্থান, মায়ের কবরের পাশে দাড়িয়ে আছে
শুভ্র। প্রায়ই মায়ের জন্য দোয়া করতে আসে। নিজের
অজান্তেই তার চোখ বেয়ে দুফোটা নোনা জল গড়িয়ে
পড়লো। মা তাদের ছেড়ে চলে যান পাঁচটি বছর আগে, বাবা
ক্যান্সারে ভোগছেন। তাদের একমাত্র ছেলে শুভ্র! তবে
সে মনে মনে খুব খুশি, মায়ের ইচ্ছা পূরণ করে মুখে হাসি
ফোটাতে চায়! মায়ের খুব শখ, ছেলে ইঞ্জিনিয়ার হবে। সে
ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার প্রতিজ্ঞা নিয়ে লেখাপড়া করছে, মায়ের শেষ
ইচ্ছা পূরণ করে ছাড়বে। তার ইচ্ছে করছে সেই ফেলে আসা
দিনগুলোতে ফিরে যেতে। স্কুলের টিফিন বানিয়ে মা তার
ব্যাগে রাখবে, সে ঘুমালে মাথায় হাত বুলিয়ে দিবে, কোথাও
গেলে তার বায়নার কারণে চকলেট নিয়ে আসবে, আরো শত
শত স্মৃতি। তবে একটা স্মৃতিই তাকে খুব কাঁদায়, মায়ের হাতে
খেতে পারেনা আজ কতদিন। মোনাজাত করতে করতে আঙুল
দিয়ে নোনা জল মুছলো,, হঠাৎ মেয়েলি কন্ঠে কারো কান্নার
শব্দ শোনে বাস্তবে ফিরলো শুভ্র। পেছনে চেয়ে
দেখে একটি কবরের পাশে দাড়িয়ে একটি মেয়ে ফুপিয়ে
কাঁদছে। স্বাভাবিক ব্যাপার, এখানে এসে প্রায় লোকই তার
আপনজনদের জন্য চোখের জল ফেলে। বিষয়টি পাত্তা দিলনা
শুভ্র। ইতি মধ্যে ঝিরঝির বৃষ্টি শুরু হয়েছে। সকাল থেকে
আকাশটা মেঘলা করে ছিল, ছাতা সাথে আনার দরকার ছিল, ভাবলো
শুভ্র। অনেক দেরি হয়ে গেল, এবার যাওয়া দরকার। গেটের
দিকে পা বাড়ালো শুভ্র। যাওয়ার পথে মেয়েটিকে নজরে
পড়তেই চোখ আটকে গেল শুভ্রর! অপরুপ সুন্দরী
মেয়ে। উজ্জ্বল শ্যামলা গায়ের রঙ, কপালের পাশের
চুলগুলো বৃষ্টিতে ভিজে গালের সাথে লেগে আছে, গাল
বেয়ে বৃষ্টি ফোটা পড়ছে। অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে
শুভ্র। মেয়েটা যেনো ডানা কাটা পরি। এদিকে শুভ্র নিজেই
ভিজে কাক হয়ে গেল সেদিকে কোনো খবর নেই তার।
মেয়েটা মোনাজাত শেষ করে শুভ্রের পাশ কাটিয়ে চলে
যায়। শুভ্র নির্বাক হয়ে তার দাড়িয়ে আছে। হঠাৎ জোরে বৃষ্টি শুরু
হতেই বাস্তবে ফিরলো শুভ্র, কিন্তু তার উপর বৃষ্টি পড়ছেনা,
অবাক হলো শুভ্র! পাশে চেয়ে দেখে সেই অপ্সরি তার উপর
ছাতা ধরে দাড়িয়ে আছে। শুভ্র চুপ করে দাড়িয়ে মেয়েটির
দিকে তাকিয়ে আছে,,,,
.
–দাড়িয়েই থাকবেন? যাবেন না? (নিরবতা ভেঙ্গে মেয়েটি
বলল)
–………….
–এইযে আপনাকে বলছি!!
.
শুভ্রর সেদিকে খেয়াল নেই, এক পলকে মেয়েটির দিকে
চেয়ে আছে।
.
–উফফ, এই আপনি কথা বলছেন না কেন???
–ওহ হ্যাঁ,, কিছু বললেন? (বাস্তবে ফিরলো শুভ্র)
–জ্বি বলেছি, যাবেন নাকি ছাতাটা সরিয়ে নিব?
–না-না চলুন! (শুভ্র)
.
দুজনে পা বাড়ালো গন্তব্যের দিকে, শুভ্র আড় চোখে
মেয়েটির দিকে বারবার তাকাচ্ছে, তার কানে মেয়েটির রিনরিনে
কন্ঠটা ভাসছে। নিরবতা ভেঙ্গে মেয়েটি বলল,,,,,,,
.
–আর কত দূর আপনার বাসা?
–হ্যাঁ? (শুভ্র)
.
শুভ্র তার কল্পনার জগতে…
.
–বলেছি আপনার বাসা আর কত দূর???
–এইতো পৌঁছে গেছি! (শুভ্র)
–এইযে কেমন মানুষ আপনি??
–কই আমি তো ঠিকই আছি! (শুভ্র)
–জ্বিনা, এত দূর পর্যন্ত হেল্প করলাম আর একটা ধন্যবাদ না দিয়েই
পালাচ্ছেন!!
–ওহ হ্যাঁ ধন্যবাদ। (শুভ্র)
–হুম, নাম কি আপনার?
–শুভ্র, আর আপনার? (শুভ্র)
–আমি প্রিমু!
–শুভ্র আস্তে আস্তে বলল – নামটা ঠিক তোমার মতো! (শুভ্র)
–কিছু বললেন? (প্রিমু)
–কই না তো! (শুভ্র)
–হুম এবার যান, নয়তো ঠান্ডা লেগে যাবে। আমাকেও কলেজ
যেতে হবে। (প্রিমু)
–ওহ, ঠিক আছে। বাই…… (শুভ্র)
.
দৌড়ে বাসায় চলে যায় শুভ্র। কাপড় পালটিয়ে মাথা মুছে মুছে
চিয়ারে বসলো, এই প্রথম কারো জন্য এমন অনুভূতি তার। প্রিমু!
নামটা কত সুন্দর, তারচেয়েও সুন্দর মেয়ে। সাদা রঙের জামার
মেয়েটি, প্রেমে পড়লে নাকি মানুষ কবি হয়ে যায়, তার বেলায়ও
বেতিক্রম হলোনা। শুভ্রর মনে কাব্য উঁকি দিল, “”এই সাদা জামার
মেয়েটি পাগল করেছে আমায়, পৃথিবীর যত ভালোবাসা তার এই
জামায়””…হাহাহা, আমার সাদা পরি। নিজের অজান্তেই হেসে ফেলল
শুভ্র। ঘড়ির দিকে তাকালো শুভ্র, ৮:৫৭! এলোমেলো চুলের
মেয়েটিকে নিয়ে ভাবতে ভাবতে কোন দিকে এতো সময়
চলে গেল। খাবার পর্ব সেরে ভারসিটি যেতে হবে শুভ্রকে,
সে এবার অনার্স দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছে। খাবার পর্বটা সেরে
কাধে ব্যাগ নিয়ে বেরিয়ে পড়লো শুভ্র।
.
রাস্তায় আনমনে হাটছে শুভ্র, উদ্দেশ্য বাসস্ট্যান্ড! শুভ্র হাটছে
আর ভাবছে, কবে আবার সেই এলোমেলো চুলের সাদা
পরিটার দেখা পাবে? আবারো কি কোন বৃষ্টি ভেজা দিনে তার
দেখা পাবে? ভাবতে ভাবতে কবে যে বাসস্ট্যান্ডে পৌছে
গেল খেয়ালই করেনি শুভ্র! শুভ্র একটা সিটে গিয়ে বসলো,
বেশ জ্বর জ্বর অনুভব হচ্ছে তার। হবেই বা না কেন? সকালে
যে কাক ভিজা ভিজলো? তার সময় কাটছে না, শুধু ওই পরিটার দেখা
পাওয়ার অপেক্ষা। চোখ বন্ধ করলেই সেই মায়া ভরা হাসি
চোখের সামনে ভেসে উঠে। অবশেষে বাসে উঠলো
শুভ্র! জানালার পাশের একটা সিটে বসে কানে হেডফোন গুজে
গান শুনছে। তাহসানের জনপ্রিয় গান,
.
“অনুভবে তুমি তবু মিশে যে আছো এক গভীর মায়ায়, তোমারই
ছায়ায়। সারাটি জীবন বুঝি কেটে যাবে তোমারই ছায়ায়।”
.
গানের সঙ্গে তাল মিলিয়ে গুনগুন করছে শুভ্র। ভার্সিটি পৌছাতে
এখনো বেশ দেরি। হঠাৎ তার পাশের সিটে কারো উপস্থিতি
টের পেল শুভ্র, বিষয়টি পাত্তা না দিয়ে সে একমনে গুনগুন
করেই চলল।
.
–এইযে!
–………… (শুভ্র)
–এই ছেলে আপনি কানে শুনেন না?
–………… (শুভ্র)
.
শুভ্র তার হাতে কারো স্পর্শ অনুভব করলো, পাশের সিটের
দিকে চেয়ে সে নির্বাক! প্রিমু! যার জন্য এতো অপেক্ষা।
প্রিমুর কথায় বাস্তবে ফিরলো শুভ্র,,,,,
.
–আচ্ছা সত্যি করে বলুন আপনি কি কানে শুনতে পাননা নাকি কথা
বলতে পারেননা?? (বিরক্তির ভাব নিয়ে বলল প্রিমু)
.
শুভ্র কান থেকে হ্যাডফোন খুলতে খুলতে বলল,,,,,
.
–দুঃখিত,, আসলে গান শুনছিলাম তো! (শুভ্র)
–ওহ, তবে গান তো ভালোই গাইতে পারেন। হাহাহা, তাহসান!
(প্রিমু)
.
প্রিয় মানুষের মুখে নিজের প্রশংসা শুনে বিশ্ব জয়ের হাসি দিল
শুভ্র!
.
–এই এভাবে কেব্লা মারখা হাসি হাসবেন না, যাচ্ছেন কোথায়?
(প্রিমু)
–ভার্সিটি। (শুভ্র)
–ও হ্যালো, এতো কম কথা বলেন কেন আপনি? (প্রিমু)
–না আসলে সকালে বৃষ্টিতে ভেজায় জ্বর আসছে! (শুভ্র)
.
শুভ্রর কপালে হাত দিল প্রিমু, শুভ্র অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে
আছে। আচ্ছা প্রিয় মানুষের হাত কি এতোই কমল হয়? যার স্পর্শ
পেলে এতো শান্তি অনুভব হয়! প্রিমু হাত সরিয়ে নিয়ে বলল,,,,,,
.
–বেয়াক্কেল ছেলে, আকাশের অবস্থা বুঝেও খালি হাতে
বেরিয়েছিল! (প্রিমু)
–কিছু মনে না করলে একটা কথা বলবো। (শুভ্র)
–মানা করেছি নাকি? (প্রিমু)
.
শুভ্র পকেট থেকে ফোন বের করে প্রিমুর দিকে এগিয়ে
দিল,,,,
.
–নম্বর প্লিজ! (শুভ্র)
.
প্রিমু কিছু না বলে হাত বাড়িয়ে ফোনটা নিল।
.
–থ্যাংক ইউ!! আমি যাই, ভার্সিটি পৌছে গেছি। (শুভ্র)
–ঠিক আছে! (মুচকি হেসে বলল প্রিমু)
.
বাস থেকে নামলো শুভ্র, পেছনে চেয়ে দেখে প্রিমু
মুচকি হাসছে। শুভ্রও একটা মুচকি হাসি দিয়ে চলে আসলো।
.
সেদিন আর তেমন ক্লাস করা হলোনা তার, মন শুধু প্রিমুকে
খুজে বেড়ায়। বিছানায় শুয়ে এপাশওপাশ করছে শুভ্র, প্রেমে
পড়লো নাকি? মোবাইল হাতে নিয়ে শুভ্র ভাবছে, প্রিমুকে
ফোন দিব?….
.
অন্যদিকে প্রিমুরও কিছুতে মন বসছে না, কলম কামড়ে ধরে
পড়ার টেবিলে বসে আছে! কোনো পড়া মাথায় টুকছে না।
শুভ্রর উপর রাগ হচ্ছে তার, ধুর বজ্জাত ছেলেটা নম্বর নিয়েছে
অথচ ফোন দিলনা, নিজের অজান্তে বলল প্রিমু। ফোনটা
বেজে উঠলো! চমকে উঠলো প্রিমু, শুভ্র ফোন দিল
নাতো? কাপা হাতে ফোন রিসিভ করলো প্রিমু,,,,,,,,
.
–হ্যালো? (প্রিমু)
–কেমন আছেন?
–হ্যাঁ ভালো, কে বলছেন? (শুভ্র)
–আমি শুভ্র!
–শুভ্র??? আপনার কথাই ভাবছিলাম! (প্রিমু)
–কেন? (শুভ্র)
.
মুহূর্তেই চুপ হয়ে গেল প্রিমু, কি বলছে সে!…
.
–হ্যালো! (শুভ্র)
–ওহ, না কিছু না। আছেন কেমন? (আমতা আমতা করে বলল প্রিমু)
–হুম মোটামুটি!
.
এভাবেই তাদের কথা চলতে থাকে,, একে অপরকে
ভালোবেসে ফেলে। শুভ্রর এক নতুন নেশা লেগেছে,
প্রিমুকে নিয়ে লেখা। ডায়েরির উপর কলম ধরে আছে শুভ্র,তার
মনের ফাঁদে নতুন কোনো কবিতা ধরা দেবে। লেখা শুরু
করলো শুভ্র,,,,,
.
“এই প্রথম কেউ দিল আমার মনে উঁকি,
সে যে হলো একমাত্র আমারই সাদা পরি।
ভালোবাসার ঘরে দিয়েছ ধরা যেওনা কখনো দূরে,
তোমায় না দেখতে পেলে মনটা পুড়ে যায় অজানা এক ঝড়ে।
এসো আমার পাশে বসে ধরো আমার হাত,
তোমারই হাত ধরে ডাকবো এনে এক নতুন শুপ্রভাত।
আমার ভালোবাসার ক্যানভাস জুড়ে শুধু যে তোমার ছবি,
শুধুই যে তুমি আমার ভালোবাসার অপ্সরি!”
.
কবিতা পড়ে নিজের অজান্তে হেসে ফেলল শুভ্র!
প্রিয়জনকে নিয়ে লেখা! সত্যি প্রিয়জনকে নিয়ে লিখতে খুব
ভালো লাগে। ঘড়ির দিকে তাকালো শুভ্র, রাত ০১:৩২ বাজে!,,,,,,,
.
–শুভ্র এখনো ঘুমাসনি? (শুভ্র খালা)
–এইতো এখন ঘুমাবো! (শুভ্র)
–তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়, এতো রাতে কি করছিস??
.
উত্তর দেওয়ার প্রয়োজন মনে করলো না শুভ্র,, টেবিল
লেম্বটা বন্ধ করে শুয়ে পড়লো! ঘুম আসছেনা তার,, এক
মনে ঘড়ির দিকে চেয়ে আছে।
টিকটক শব্দের সাথে আপন গতিতে ঘড়ির কাটা ঘুরছে, এক
পলকে শুভ্র চেয়ে আছে। চোখ বন্ধ করে ঘুমাতে চেষ্টা
করলো শুভ্র!
.
.
পরদিন সকাল,,,
তীব্র রোদের আলোয় ঘুম ভাঙ্গলো শুভ্রর, জানালার পর্দা
টেনে দিয়ে বিছানায় বসলো। পুরোপুরি ঘুম হয়নি, চোখ
জোড়া লাল হয়ে আছে তার। ফোনটা হাতে নিল শুভ্র, নতুন
একটি মেসেজ। “শুভ রাত্রি” প্রিমুর নম্বর থেকে, সে ঘুমিয়ে
পড়ার পর হয়তোবা মেসেজটি এসেছিল। ঠোঁটের এক
কোনে হাসির রেখা দেখা দিল শুভ্রর! বারবার একই মেসেজে
চোখ বুলাচ্ছে শুভ্র।
.
অন্যদিকে,,,,,,
–প্রিম, প্রিমুু! এই প্রিমু!! উফ এই মেয়েটা আজ উঠবেনা!
–প্লিজ আম্মু ঘুমাতে দাও, যাও এখান থেকে। (এই বলে কাথা
দিয়ে মুখ ঢেকে ফেলল প্রিমু)
–তুই ঘুমা, আমি যাই!
.
প্রিমুর মা রেগে গিয়ে চলে গেল, প্রিমু কাথা সরিয়ে একটা
দুষ্টুমি মাখা হাসি দিয়ে ফোনটা হাতে নিল। এখনো মেসেজের
রিপ্লে আসেনি, একটু মন খারাপ করলো প্রিমু। পুনরায় মেসেজ
করলো “শুভ সকাল”, এখনো রিপ্লে আসেনি….একটু অপেক্ষা
করে কল করলো প্রিমু,,,,,,,,
.
–হ্যালো! (শুভ্র)
–কেমন আছো? (প্রিমু)
–ভালোই, আসলে ফোনটা টেবিলে রেখে বাইরে
গিয়েছিলাম। (শুভ্র)
–ঠিক আছে, ব্যাপার না। শুনো আমার খালাতো বোনের
বিয়েতে তোমায় আসতে হবে, কাল গায়ে হলুদ, আসবে
তো? (প্রিমু)
–শুভ্র সাত পাঁচ ভেবে বলল- ঠিক আছে, যদি পারি। (শুভ্র)
–কিছুক্ষণ নিরব থেকে প্রিমু বলল- না আসলে কিন্তু খুব কষ্ট
পাবো। (প্রিমু)
.
শুভ্রর বুঝতে বাকি রইলো না, প্রিমু খানিকটা অভিমান করেছে। শুভ্র
হেসে বলল,,,,,,,,
.
–ঠিক আছে আমি আসবো। (শুভ্র)
–হুম এতক্ষণে ঠিক কথা বলেছো। (একটু হেসে বলল প্রিমু)
–তো কাল দেখা হচ্ছে, কেমন? (শুভ্র)
–হুম বাই! (প্রিমু)
.
টুট টুট টুট!!
শুভ্রর উত্তরের অপেক্ষা না করে ফোন কেটে দিল প্রিমু।
.
গায়ে হলুদের দিন,,,,,
.
–শুভ্র কোথায় তুমি? (প্রিমু)
–এইতো আরো পাঁচ মিনিট! (শুভ্র)
–উফফো, তাড়াতাড়ি এসো, প্লিজ!! (প্রিমু)
.
টুট টুট টুট!!
শুভ্র মনে মনে বলছে, এই মেয়েটা অল্পতেই অভিমান করে
ফেলে। গন্তব্যে পৌছায় শুভ্র, একটা চেয়ারে বসলো শুভ্র।
সামান্য দূরের চেয়ারে চোখ পড়তেই প্রিমুকে নজরে
পড়লো, কাছে যাবো? মেয়ে যদি রেগে থাকে? ভাবছে
শুভ্র,,,,,
.
প্রিমু চুপ করে একটি চেয়ারে বসে অপেক্ষা করছে,
ছেলেটা যে কি? হাবলু টাইপের ছেলে একটা,,,,,
.
–এহেম এহেম!!
.
প্রিমু পাশে তাকিয়ে দেখে শুভ্র,,,,,,
.
–এসেছো তাহলে! (শুভ্র)
–সরি! (মাথা নিচু করে বলল শুভ্র)
–এক গাল হেসে প্রিমু বলল- ইট্স অকে, নেক্সট টাইম এমন
করবে না! (প্রিমু)
–জ্বি আর হবেনা। (শুভ্র)
–তোমায় একটা কথা বলার ছিল। (প্রিমু)
–বলো। (শুভ্র)
–আসলে আমায়কিছুদিনের মাঝেই চলে যেতে হবে।
পরীক্ষার জন্য এখানে এসেছিলাম, আন্টির বাসায় থেকে
পরীক্ষা দিয়েছিলাম। যেহেতু আমার পরীক্ষা শেষ, আমায়
চলে যেতে হবে। (প্রিমু)
.
এক নিঃশ্বাসে সব কথা বলে উত্তরের অপেক্ষায় চুপ করে
রইলো প্রিমু, শুভ্রর মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়লো।
দেওয়ার মতো কোনো উত্তর নেই, সে নির্বাক। যাকে
নিজের অজান্তে ভালোবেসে ফেলেছে তার সাথে আর
দেখা হবেনা, ভাবতেই বুকে অজানা এক ঝড় বয়ে যায়।
.
–কি হলো চুপ করে আছো যে? (প্রিমু)
.
প্রিমুর কথায় ভাবনায় ছেদ পড়লো শুভ্রর, আমতা আমতা করে
বলল,,,,
.
–আসলে কি বলবো ভেবে পাচ্ছিনা! (শুভ্র)
–শুনো আমি আসছি, তুমি থাকো। কিছুক্ষণের মাঝেই আসছি।
(প্রিমু)
.
এই বলে প্রিমু উঠে পড়ে, শুভ্র প্রিমুর যাওয়ার পথের দিকে
চেয়ে আছে। একটা মেয়ে এতো সুন্দর করে হাটতে
পারে? বেশ ক্ষদা পেয়েছে তার, বাইরে খেয়ে নিবে বলে
বাসা থেকে বেরিয়েছিল শুভ্র। অথচ এখনো কিছু খায়নি।
.
প্রিমু এসে দেখলো শুভ্র নেই, অনেক খোজাখুজির পর
দেখলো শুভ্র খেতে লেগেছে। শুভ্রর খাওয়ার ধরন
দেখে খুব হাসি পেল প্রিমুর, শুভ্র খেয়াল করলো প্রিমু দূরে
দাড়িয়ে হাসছে। খাওয়ার মাঝে একটু স্মার্টনেস আনার চেষ্টা
করলো শুভ্র, বারবার চোখ চলে যাচ্ছে প্রিমুর দিকে। ঠিক
মতো না খেয়ে উঠে পড়লো শুভ্র। প্রিমুর কাছে যেতেই
সে বলল,,,,
.
–এসো আমার সাথে এসো। (প্রিমু)
.
প্রিমু এগিয়ে গেল কিন্তু শুভ্র সেই একই জায়গায় দাড়িয়ে আছে।
প্রিমু পিছু ফিরে আঙুলের ইশারায় শুভ্রকে আড়ালে আসতে
বলল প্রিমু, শুভ্র প্রিমুর পিছু পিছু এগিয়ে গেল।
.
আড়ালে এসে প্রিমু বলল,,,,,,,
.
–তুমি এতো বোকা কেন হুম? (প্রিমু)
.
শুভ্রর দিকে তাকিয়ে হাসছে প্রিমু, শুভ্র এক দৃষ্টিতে প্রিমুর সেই
মায়া ভরা হাসি দেখছে। শুভ্রর গালে লেগে থাকা ভাতটা আঙুল
দিয়ে সরিয়ে দিল প্রিমু। প্রিমুর হাতের ছোঁয়া পেয়ে যেন
আরো মুগ্ধ হয়ে গেল শুভ্র। দুজনই নিরব, শুভ্রর মাঝে এক
অজানা ভালো লাগা কাজ করছে। নিরবতা ভেঙ্গে প্রিমু বলল,,,,,,,,
.
–খাওয়ার সময় তোমায় অনেক খুজেছিলাম, ভেবেছিলাম
একসঙ্গে খাবো। (প্রিমু)
.
কিছুটা লজ্জা অনুভব করলো শুভ্র, সে ভুল করে ফেলেছে,
প্রিমুর জন্য অপেক্ষা করার প্রয়োজন ছিল। শুভ্রর নিরব থাকা
দেখে প্রিমু বলল,,,,,,
.
–এই বিয়ের পরপরই আমায় চলে যেতে হবে!! (প্রিমু)
.
মাথা তোলে তাকালো শুভ্র,, প্রিমুর চোখে জলের বিন্দু
টলমল করছে। প্রিমুর চোখে চোখ রাখতে পারছেনা শুভ্র।
কিছু বলতে হবে, কিছু বলা দরকার, ভাবলো শুভ্র।
.
–আর কিছুদিন থাকতে পারবেনা? (আমতা আমতা করে বলল শুভ্র)
.
শুভ্রর চোখে দিকে তাকিয়ে চোখ নামিয়ে নিল প্রিমু,,
বলল,,,,,,,
.
–ইচ্ছে তো করে, ইচ্ছে করে সারাটি জীবন থেকে যাই।
তুমি তো জানোই, সবকিছু সম্ভব হয়না! তোমায় ছাড়া থাকতে খুব
কষ্ট হবে, আর কখনো দেখা হবে কিনা জানিনা। অনেক অল্প
সময়ে তোমায় খুব আপন করে নিয়েছিলাম, কোনো ভুল
করে থাকলে ক্ষমা করে দিও!
.
কথাগুলো শেষ হতেই ফুপিয়ে কেঁদে উঠলো প্রিমু, প্রিমুর
গাল বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে। বারবার প্রিমুর কথাগুলো কানে
ভাসছে শুভ্রর, তাহলে কি প্রিমুও শুভ্রকে ভালোবাসে? প্রিমুর
মুখ তোলে চোখে চোখ রেখে তার জল মুছে দিল শুভ্র।
হাত বাড়িয়ে বরের স্টেইজ থেকে আনা গোলাপটা নিয়ে হাটু
গেড়ে বসে পড়লো শুভ্র। প্রিমু অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে
আছে, এখনো তার চোখ বেয়ে অশ্রু গড়িয়ে পড়ছে।
.
–তোমায় একটু খানি ভালোবাসার সুযোগটা দিবে আমায়? (শুভ্র)
.
চোখে জল থাকার পরও প্রিমুর ঠোঁটে হাসির রেখা দেখা দিল।
হাত বাড়িয়ে ফুলটা নিল প্রিমু। উঠে দাড়ালো শুভ্র। শুভ্রর
চোখের দিকে তাকিয়ে প্রিমু বলল,,,,,,,
.
–যতদিন আমি বেঁচে আছি, ততদিন এই ফুলটিও থাকবে। খুব যত্ন
করে রাখবো এই ফুলটিকে।
.
এই বলে জড়িয়ে ধরলো শুভ্রকে! প্রিমুর চোখের নোনা
জলে শার্টের বুক ভিজে যাচ্ছে শুভ্রর, তবুও খুব ভালো
লাগছে তার। প্রিমুর কান্না থামালো না শুভ্র, কাঁদুক না খানিক্ষণ??
.
খালাত বোনের বিয়ের আজ পর চলে যাবে প্রিমু। এই অল্প
সময়ে তাদের মাঝে কিভাবে ভালোবাসা উঁকি দিল তা বুঝে
উঠতে পারেনা, নিজের অজান্তে তাদের মাঝে ভালো লাগা
সৃষ্টি হয়েছে, সৃষ্টি হয়েছে ভালোবাসা। ছাদের রেলিংয়ের
সাথে হেলান দিয়ে দাড়িয়ে আছে শুভ্র। এক দৃষ্টিতে চেয়ে
আছে প্রিমুর দিকে, প্রিমু অন্যদিকে চেয়ে আছে। নিরব
পরিবেশ। মাঝেমধ্যে বাতাসে হয়তো প্রিমুর চুল উড়ছে, এমন
মুহূর্তেই হয়তো মেয়েদের খুব সুন্দর লাগে। বিকেলের
হালকা রোদ প্রিমুর মুখে এসে পড়ছে, আরো সুন্দর করে
তুলছে দৃশ্যটা। নিরবতা ভেঙ্গে প্রিমু বলল,,,,,,
.
–চুপ করে আছো কেন? (প্রিমু)
–………. (এক পলকে চেয়েই আছে শুভ্র)
–উফফো, আবারো বোবা হয়ে গেলে নাকি!! (প্রিমু)
.
কিছু না বলে ধীর পায়ে প্রিমুর দিকে এগিয়ে যায় শুভ্র, প্রিমুকে
কাছে টেনে নেয়।
.
–এই কি করছো? সবাই দেখবে তো!! (লজ্জা মাখা হাসি দিয়ে
বলল প্রিমু)
.
শুভ্রর মুখে কোনো কথা নেই, তাকিয়ে আছে প্রিমুর
চোখের দিকে।
প্রিমুর মাথায় দুষ্টুমি খেলে গেল, একটা দুষ্টুমির হাসি দিয়ে এক
ধাক্কায় সরিয়ে দিল শুভ্রকে,,,,,,
.
–এই এটা কি হলো? (শুভ্র)
–হাহাহা বোবার মুখ ফুটলো….
.
এই বলে ফুলের টব থেকে ফুল ছিঁড়ে শুভ্রর দিকে ছুড়ে
মারলো প্রিমু। ফুলটি মুখে এসে পড়লো শুভ্রর, হাত দিয়ে
আটকানর চেষ্টা করলো। প্রিমু হেসেই যাচ্ছে, সন্ধ্যাবেলার
পরিবেশটার সাথে মানিয়ে নিয়েছে হাসিটা, পরিবেশটা আরো
সুন্দর করে তুলছে,,,,,,,
.
–এভাবে কি দেখো হুম?? (প্রিমু)
–ওই ভাঙ্গা দাঁতের হাসি! (শুভ্র)
–এই কি বললে? আমার দাঁত ভাঙ্গা!! (রেগে গিয়ে বলল প্রিমু)
–ভাঙ্গা দাঁতের হাসিই কিন্তু সুন্দর হয়। (শুভ্র)
–শুভ্র এখন কিন্তু সত্যিই রেগে যাবো! (প্রিমু)
–এতক্ষণ মিথ্যা রেগে ছিলে নাকি? (মুচকি হেসে বল শুভ্র)
.
প্রিমু সরে বসে অন্যদিকে মুখ করে বলল,,,,
.
–যাও তোমার সাথে আর কথা বলবো না। (প্রিমু)
–আমি কি করলাম? (শুভ্র)
–আমার সাথে ঝগড়া করেছো! (প্রিমু)
–কই নাতো! (না বোঝার ভান করলো শুভ্র)
–হ্যাঁ করেছো। (শুভ্রর দিকে তাকিয়ে বলল প্রিমু)
–সন্ধ্যা হয়ে আসছে, এবার চলো। নয়তো তোমার ভেতর
বদ জ্বিন প্রবেশ করবে। (হাসতে হাসতে বলল শুভ্র)
–তুমিই তো একটা বদ জ্বিন। আমি যাবনা, বসে থাকবো, সারাজীবন
এখানেই বসে থাকবো। (রেগে গিয়ে বলল প্রিমু)
–কি? সারাজীবন? হাহাহাহা!! (শুভ্র)
–চুপ করো! (প্রিমু)
.
অভিমান করে অন্যদিকে চেয়ে আছে প্রিমু। শুভ্র ভাবলো,
অনেক হয়েছে, এরবেশি করলে হয়তো কেঁদেই দিবে।
প্রিমুর অভিমান ভাঙ্গানোর চেষ্টা করলো। প্রিমুর পাশে বসলো
শুভ্র। প্রিমু পাত্তা দিলনা, এক মনে চেয়ে আছে সূর্যাস্তের
দিকে। তার হাতটা ধরলো শুভ্র, প্রিমুর হাত ধরতেই শুভ্রর দিকে
তাকালো প্রিমু। টান দিয়ে হাত সরিয়ে নিয়ে প্রিমু বলল,,,,
.
–একদম হাত ছুঁইবে না। (প্রিমু)
.
শুভ্র কিছুক্ষণ অপেক্ষা করলো, একটা হাসি দিয়ে বলল,,,,
.
–হয়েছে আর রাগ করতে হবেনা, মজাও বুঝেনা! (একটা হাসি
দিয়ে বলল শুভ্র)
–এটা মজা? (শুভ্র দিকে তাকিয়ে বলল প্রিমু)
–না এটা ফান! (শুভ্র)
–শুভ্র! (প্রিমু)
–হাহাহা। (হাসছে শুভ্র)
–ভালো হচ্ছেনা কিন্তু! (উঠে দাড়িয়ে বলল প্রিমু)
.
প্রিমুর দুই গালে হাত রেখে কপালে চুমু খেলো শুভ্র,
মুহূর্তেই উজ্জ্বল হাসি দিল প্রিমু! মুহূর্তেই সব অভিমান যেন
বাতাসের সাথে মিশে গেল। সূর্য ডুবি ডুবি করছে, সূর্যের লাল
আলোয় তাদের কালো ছায়া নজরে পড়ছে।
.
–আর কতক্ষণ আমায় দেখবে? এখনো দেখা হয়নি বুঝি? (মুচকি
হেসে বলল প্রিমু)
–সারাজীবন দেখতে চাই। (প্রিমুর দিকে তাকিয়ে বলল শুভ্র)
–এই দেখো, আমি রেগে গিয়ে বলেছিলাম সারাজীবন ছাদে
বসে থাকবো আর এই ছেলেটা বলে সারাজীবন দেখবে!
(প্রিমু)
.
উত্তর দিলনা শুভ্র, শুভর দিকে চেয়ে থাকতে থাকতে গম্ভীর
কন্ঠে প্রিমু বলল,,,,,
.
–পারবে আমায় না দেখে থাকতে? (প্রিমু)
.
মুখ তুলে প্রিমুর দিকে তাকালো শুভ্র, এই কথাটা তাকে খুব কষ্ট
দেয়। কিভাবে প্রিমুকে না দেখে থাকতে পারবে! এখন তার সব
ভাবনা জুড়ে শুধুই প্রিমু, তার লেখা, তার গান, তার কাব্য, তার সুর, সবকিছু
জুড়ে প্রিমুর ছবি।
.
মাথা নত করে আছে শুভ্র। শুভ্রর চুপ থাকা দেখে তার অনুভূতিটা
বুঝতে পারলো প্রিমু, কষ্ট চেপে একটা ভাঙ্গা হাসি দিয়ে প্রিমু
বলল,,,,,,
.
–দেখো, সৃষ্টিকর্তা আমাদের একদিন না একদিন ঠিকই দেখা
করাবেন, সে মৃত্যুর এক মুহূর্ত পূর্বে হলেও। (প্রিমু)
.
প্রিমুর ভ্রু তোলে তাকালো শুভ্র, আমতা আমতা করে বলল,,,,,,
.
–সূর্যের দেখা না পেলে পৃথিবীটা যেমন অন্ধকার হয়ে
থাকে, ঠিক তেমনই তোমার দেখা না পেলে আমার মনটা
অন্ধকার হয়ে থাকবে। (শুভ্র)
.
হাসির রেখা দেখা দিল প্রিমুর ঠোঁটে কোনে। শুভ্র বুকে হাত
রেখে শুভ্রর চোখেচোখ রেখে প্রিমু বলল,,,,,,,
.
–শুধু তোমার জন্য হলেও ফিরে আসবো, শুধু তোমার জন্য।
.
ফোনটা বেজে উঠলো প্রিমুর, স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে
দেখে তার মা ফোন দিয়েছে। রিসিভ করলো প্রিমু,,,,,,,,
.
–হ্যালো আম্মু! (প্রিমু)
–কোথায় তুই? বিকেলের কথা বলে সন্ধ্যা পার করে ফেলছিস!
–এখনি আসছি টেনশন করোনা, বাই। (প্রিমু)
.
ফোন কেটে দিল প্রিমু। শুভ্র এতক্ষণ প্রিমুর ঠোঁটের দিকে
চেয়ে ছিল, শুভ্রর দিকে তাকিয়ে প্রিমু বলল,,,,,,,
.
–দেখো আম্মু ফোন দিচ্ছে, দেরি করা যাবেনা।
.
শুভ্র শুধু মাথা নাড়লো,,,,
.
–কষ্ট হচ্ছে তোমার? ভুলে যাবেনা তো আমায়? (কৌতূহলের
সাথে প্রশ্ন করলো প্রিমু)
.
চোখ টলমল করে উঠলো শুভ্রর! দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে
বলল,,,,,,,,
.
–তোমার কি মনে হয় যে আমি তোমায় ভুলে যাবো? (শুভ্র)
.
প্রিমু এক হাসি দিয়ে খুশিতে জড়িয়ে ধরলো শুভ্রকে!
.
সেদিন রাতের ট্রেনেই বাসার রওনা দেয় প্রিমু। একদম একা হয়ে
পড়ে শুভ্র, তাদের ভালোবাসা যেন আরো বৃদ্ধি পেল। প্রতিদিন
রাতে ফোনে কথা হলেও প্রিমুকে এক নজর দেখার জন্য
ছটফট করে শুভ্রর মন। প্রথম ভালোবাসা এমনই, হাজার বাধা
আসলেও প্রথম ভালোবাসার ব্যক্তিকে ভুলা অসম্ভব। প্রথম
ভালোবাসার জায়গায় অন্য কাউকে কল্পনাও করা যায়না। প্রথম
ভালোবাসাকে পাউক আর না পাউক, তাকে এক মুহূর্তের জন্য ভুলা
যায়না।
.
তারপরের গল্পটি খুবই সংক্ষিপ্ত, পড়ালেখার ধাপ শেষ করে একটি
ভালো কোম্পানিতে চাকরি পায় শুভ্র, হাজারো বাধা পেরিয়ে
প্রিমুর সাথে বিয়ে হয় শুভ্র নামের ছেলেটির সাথে।

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত