অনুভূতি সিজন

অনুভূতি সিজন

বাসরঘরে বসে আছি পরনে সাদামাটা লংড্রেসটা শুধু। অন্যসব বাসরঘরের মত এই ঘরটা ফুঁলের গন্ধে মৌ মৌ করছেনা! না আমি ভালোবেসে আমার বরের অপেক্ষা করছি!অচেনা এই ঘরে বসে থাকতে আমার দমবন্ধ হয়ে আসছে বেশ বিরক্তিকর লাগছে। কারণ বিয়েতে আমার মত একদমি ছিলোনা। জোড় করে বিয়ে দিয়েছে আমাকে।

আমি বেলা কার এক্সিডেন্ট এ বাবা মমা ছোট বেলায়ই মারা যায়। তখন থেকে আমি ছোট চাচ্চুর কাছে বড় হই আমি খুব জ্বালাতন করেছি ছোট থেকে চাচ্চুকে। আমি খুব দুষ্টু ছিলাম এমন কোনোদিন নাই চাচ্চুর কাছে বিচার যায়নি। তাই আমাকে বিদায় করতেই। চাচ্চুকে এক প্রকার জোর করেই। বর্ণ চৌধুরীর সাথে আমার বিয়ে দিয়েছে। সকালেও জানতাম না আজ আমার বিয়ে হবে আমি তো সব সময়ের মতো হেলেদুলে কলেজ থেকে বাড়ি ফিরি কিন্তু বাসায় এসে আমি হ্যাং। বর্ণের বাবা আমার চাচ্চুর বন্ধু। তারা দুজন মিলেই বিয়েটা হুট করে ঠিক করে। বর্ণ কে আমি দুই একবার দেখেছি ছোট বেলা চাচ্চুর বন্ধুর ছেলে সেই সুবাদে। কিন্তু কথা কোনো দিনি হয়নি বর্ণের সাথে।

হবে কেমনে বর্ণ চৌধুরী বলে কথা এই চৌধুরী নামের মানুষ আমার একদম পছন্দনা। খালি বড় লোক্সস ভাব দেখায় অহংকারী হয়।বড় লোক মানুষী ভালো না। যদিও বর্ণ হারামিটা হ্যান্ডছাম আছে তাতে কি?? আমি কি বর ধুয়ে পানি খাবো?? যত্তসব আমার তো ইচ্ছে ছিলো। একটা মুটামুটি ঠিকঠাক ছেলেকে বিয়ে করবো। যে আমাকে অনেক ভালোবাসবে!!! যার টাকা কম থাকবে তার উপর আমি নিজেই ভাব দেখাবো বড় লোক্স সাজবো। সুন্দরী বলে ভাব নিবো।কিন্তু আপসোস সব শেষ হয়ে গেলো।সব চিন্তা জলে গেলো তো!!!

দেখতে পাচ্ছি এই বর্ন চৌধুরীর রুমে তার ইয়া বড় একটা ছবি দেয়ালে টানানো যা আপাদত আমার দিকে ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছে মনে হচ্ছে। তার গুণগান গাইছি বলে চোখ দিয়ে যেমন গিলে খাবে আমাকে। মন চাইছে চোখ দুটি কাটা চামচ দিয়ে টুশ করে গেলেদি।কেমন হবে এসব ভাবনার মধ্যেই। ভয়ানক জোরে দরজা লাগানোর বিকট শব্দে কেঁপে উঠি ভয়ে। সাথে সাথে পিছনে তাকিয়ে দেখি। অগ্নি দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে বর্ণ খরগোশ এর মতো সুন্দর মুখ খানা লাল হয়ে আছে। কিন্তু কেনো তাই ভাবাচ্ছে। আমি চুপচাপ দাঁড়িয়ে আছি কি করবে এই ছেলে তাই ভাবছি!!! বর্ণ অগ্নিদৃষ্টি নিয়ে এগিয়ে আসে বেলার দিকে আর বলে উঠে।

— কিছু কথা বলবো কান খুলে শুনে রাখো!! ধমক দিয়ে বলে বর্ণ।
— হুম বলুন। আস্তে করে বলে বেলা।
— তোমার মত আউলাঝউলা পাগল মেয়ে আমি নিজের বৌ মানতে পারছি না!! গম্ভীরকণ্ঠে বলে বর্ণ।
— হুম!
— কি হুম!!! শুনে রাখো আমার থেকে ভয়ানক দূরে থাকবে তুমি। আমি যদি পাড়ি তোমায় মেনে নিতে তাহলে মানবো না হলে ডিভোর্স দিয়ে দিবো।রেগে বলে বর্ণ।

— তাহলে বিয়ে করেছেন কেনো?? অবাক হয়ে বলে বেলা।
— কারণ বড়দের উপর কথা বলার মতো বেয়াদবি করতে পারিনি সব এমন হঠাৎ হয় আগে জানলে অবশ্যই আটকাতাম বিয়ে আমি কিন্তু এখন !কিন্তু তোমাকে আমি মেনে নিতে পারবোনা। দাঁতে দাঁত চেপে বলে বর্ণ। আমাকে আউলাঝাউলা পাগলনি অনেই বলেছে জীবনে। আর আমি সেই সব কটার একটা চুল ও মাথায় রাখিনি। সাথে শত্রুতা তো আছেই। কিন্তু আজ এই বর্ণ চৌধুরীর মুখে এই সব কথা শুনে খুব খুশী লাগছে। মন চাইছে নাগীন এর সাথে ছাকি ছাকি ডান্স দিতে। আমি সবকটা দাঁত বের করে বললাম।

— আপনি এনিটাইম আমাকে ডিভোর্স দিতে পারেন আমি সাইন করে দিবো। কিন্তু আমার একটা শর্ত আছে!!
— হ্যাঁ আই নো টাকা চাই তো তোমার। তোমার মত মেয়েরা এমনি??? তাচ্ছিল্য হেসে বলে বর্ণ।
— স্টপ!!আমি শর্ত আছে বলেছি!!কিছু চাই বলিনি যে টাকার কথা বলছেন হুহ। রেগে বলে বেলা।
— বলো কি শর্ত?? বিরক্তি নিয়ে বলে বর্ণ।
— আমকে শুধু একটা জব ঠিক করে দিবেন আর সেটা দুদিন এর মধ্যে ব্যস আর আর কিছু চাইনা আপনার থেকে হুহ।

— হোয়াট বর্ণ চৌধুরীর ওয়াইফ জব করবে??? চেঁচিয়ে উঠে বর্ণ।
— স্টপ কুল ডাউন। আপনি তো আমাকে ওয়াইফ ই মানেন না তাহলে আবার কিসের কি?????
— লিসেন। বর্ণ কে থামিয়ে দেয় বেলা।
— আপনি যদি আমাকে জব খুঁজে না দেন। তাহলে আমি আপনার বাবা কে বলে দিবো আপনি আমাকে মেনে নেন নাই। আর ডিভোর্স দিবেন বলেছেন!!!

— দিবো না তোকে ডিভোর্স। তুই তো আমার বৌ রাইট চল। বলে হাত চেপে ধরে বেলার বর্ণ।
— এই এই কি করছেন আপনি?? ছাড়ুন আমি এই বিয়ে মানিনা। চেঁচিয়ে বলে বেলা।
— মানতেই হবে ভালোয় ভালোয় বলছিলাম শুনিসনি কেনো? খুব শখ আমি তোকে মেনে নেওয়ার তাই তো?? এখন আমি আমার অধিকার নিবো তোর থেকে।বলতে বলতে বেলাকে বেডে ছুড়ে মারে বর্ণ।

— প্লিজ আ আপ আপনি যা বলবেন আমি শুনবো। ছেড়ে দিন প্লিজ। কেঁদে দেয় বেলা।
— মনে থাকবে তো?? না হলে রাতে কিন্তু তুমি একাই থাকবে এই রুমে তখন…!! শয়তানী হাসি দেয় বর্ণ।
— হ হ্যাঁ সব মনে থাকবে প্লিজ ছাড়ুন আমাকে।
— ছাড়বো তবে মনে রেখো এই ঘরের কথা বাইরে গেলে। আই মিন টু সে বাবা কানে ভুলেও গেলে না তোমার এমন অবস্থা করবো। আয়নায় নিজেকে চিনতে পারবেনা। বলেই চলে যায় ওয়াশরুমে বর্ণ। বর্ণ যেতেই বলেই বুকে ফুঁ দেয় বেলা। তাড়াতাড়ি উঠে বারান্দায় চলে যায় বেলা।

আল্লাহ জানতাম বড় লোক মানুষ খারাপ কিন্তু সাথে এই চৌধুরী ও কিন্তু এখন তো ডেঞ্জারাস ও মনে হচ্ছে আল্লাহ কার পাল্লায় পরলাম আমি বাঁচাও আমাকে।তাড়াতাড়ি জেনো ডিভোর্স দিয়ে দেয় এই খরগোশ ছেলে। হ্যাঁ খরগোশই তো খরগোশ এর মতো সাদা আবার খরগোশ এর মতই লাফায়। কিন্তু আমার কি হবে এই খরগোশ এর পাল্লায় পড়লে?? উহুম উহুম না না বেলা এভাবে চুপ থাকলে চলবে না। তোকে বিয়ে করে এখন ডিভোর্স এর কথা বলছে এখন জব ও করতে দিবেনা। মগেরমুলুক নাকি?? আমার কেনো ওই খরগোশ এর কথা শুনতে হবেই হুহ শুনবো না আমি। জব তো বর্ণ চৌধুরী তুমি নিজেই বের করে দিবে আমাকে দেখে নিও আজ তোমার দিন কাল আমার দিন হবে প্রমিস। এক্টু পর বেলা রুমে গিয়ে দেখে বর্ণ ওয়াশরুম থেকে বের হচ্ছে তাই দেখে বেলা ভয়ে আবার ফুড়ুৎ করে বারান্দায় আসতে চাইবে তার আগেই বর্ণ বলে উঠে।

— এই মেয়ে দাঁড়াও!!
— ইয়ে মানে জ্বী আবার কি??? মিনমিন করে বলে বেলা।
— এভাবে চড়ই পাখির মতো ফুড়ুৎ ফুড়ুৎ করো কেনো???
— আর আপনি খরগোশ এর মতো লাফান কেনো?? বলেই মুখ চেপে ধরে বেলা।
— কিহহহ আমি খরগোশ???
— সরি!!
— এই মেয়ে বাচ্চা তুমি কি সব বলো??যাও ফ্রেস হয়ে বারান্দায় শুয়ে পরো।
— কিহহহ বারান্দায়?? আমি বারান্দায় শুতে পারবোন আপনি যান বারান….য়। আর বলতে পারেনা বেলা বর্ণ চোখ রাঙিয়ে বলে।

— এক্টু আগের কথা ভুলে গেছো??? সব কথা শুনবে বলেছিলে????
— ইয়ে মানে বাইরে ভয় করে তো। ঠিক আছে শুচ্ছি। মলিন স্বরে বলে বেলা। বর্ণের মায়া হয় হঠাৎ ই বেলার কথা শুনে তাই বলে উঠে।
— থাক তুমি এখানে সোফায় শুয়ে পরো। আর শুনো সকালে বাবার সাথে ভালো ব্যবহার করবে।
— ওকে গুড্ডু নাইট। খুশী হয়ে বলে বেলা।
— হোয়াট গুড্ডু নাইট।
— ইয়ে মানে খুশীর ঠেলায় বলে ফেলছি।
— যত্তসব পাগলছাগল গলায় ঝুলছে।

বলেই বর্ণ বেডে শুয়ে পড়ে। বেলা হঠাৎ কেঁদে দেয়। আমার কেউ নেই ভালোবাসার।বর্ণ চৌধুরী ও চাচ্চুর মতো। মিস ইউ আম্মু আব্বু। মিস ইউ নিক্কু। বিড়বিড় করতে করতেই বেলা ঘুমিয়ে পড়ে। মাঝ রাতে। হঠাৎ কিছুই শব্দ পেয়ে ঘুম ভাঙে বর্ণের। বর্ণ কই থেকে শব্দ আসে দেখার জন্যই উঠে বলেই বর্ণের চোখ কপালে।

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক
DMCA.com Protection Status
loading...

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত