প্রেমিকা চাই

প্রেমিকা চাই

– ও হারামি তুই কী শুরু করেছিস হুম (তৃণা)
– কেন আমি কিতা আকাম করছি।
– কী করছিস মানে, ঐ তুই পুরো এলাকাই ওই সব কী পোষ্টার লাগাইছিস।
– কী আবার,,, সবাই কত্ত ধরনের পোষ্টার লাগাই… আমি তো খালি ঐ একটু প্রেমিকা চাই তার একটা বিজ্ঞাপনদিছি।
– তোর মাথাই কী কোন ভাল কাজ এর বুদ্ধি আল্লাহ দেই নাই।
– ঐ তুই বুঝছ প্রেমিকা হীন একটা পোলার জীবন লবণ ছাড়া তরকারির মতো। আমি তো খালি ঐ সব ছেলে গুরার
পাশে খুঁটি হয়ে থাকতে চাই।
– চুপ কর তো ভাষণ দাঁড়া আমি আংকেল কে গিয়ে বলতেছি ।
– আরে যা যা ভাল কাজে মেলা বিপদ আসে সেটা আমি জানি, আমি এই প্রেমিকা হীন পোলাদের নিয়া একটা
দূর্গ তৈরি করমু, তুই আর আমার বাপ কিচ্ছু করতে পারবি না।
– শয়তান পোলা আজকে বাড়িতে আয় তুই দেখবি মজা।
– আরে যা যা, ও হ্যা আমি সাহরিয়া, আর ওনি মানে তৃণা আমার কে হয় তা আমি নিজেই জানি
না, দেখতে পুরাই সন্দেস এর মতো। পৃথিবীতে আমি সব থেকে দুইটা জিনিস বেশি ভালবাসি তৃণাকে আর আমার
জানেন জিগার সন্দেস কে। তৃণারে আমি কম করে হলে ও উনিশ বার প্রপোজ করেছি। ফল সরূপ আব্বার বকানি
আর কান ধরে ওঠ বস, আর মাইয়া মানে তৃণা খালি মজা লয়। তাই এই বার রাজনিতি বিদ দের প্রথা অবলম্বন করতেছি।
প্রেমিকা চাই এর পোষ্টার পুরো এলাকাই লাগাই দিছি। এইবার আমারে মিংঙ্গেল হইতে আটকায় কেডা।
– সাহরিয়া ভাই পুরা এলাকাই লাগানো শেষ।
– হুম বাপের বাচ্চা, চল আব্বার কাছে থেকে টাকা নিয়া তোদের দিমু।
– না না ভাই আমি আপনার বাপের কাছে যামু না, সেবার সবার সামনে পঞ্চাশটা কান ধনে ওঠ বস করে নিছে।
– দূর আমি আছি না চল, শুধু তোরা সাথে থাকবি।
– হুমমমম ঠিক আছে চলেন।
– আব্বা ওদের টাকা দাও।
– কীসের টাকা।
– না মানে ওরা একটা বীরত্বের প্রমান দিছে তাই।
– ও হ্যা আজকাল তুই নাকি কীসের জানি পোষ্টার লাগাইতেছিস।
– হুমমমম, আব্বা এজন্য তোমার গর্ব করা উচিৎ, এই বাংলার জমিনে তোমার পোলা, এই সাহরিয়াই এক মাত্র পোলা যে প্রেমিকা চাই
এই পোষ্টার লাগানোর ক্ষমতা রাখে। আমার সাথে সাথে তুমি ও একদিন ইতিহাসে উঠবা, সেজন্য এখন কয়টা টাকা খরছ করো না, ওদের তিনশো
টাকা দিয়া দাও আব্বা।
– হারামি তোর মাথাই এই সব ভূত আসে কই থেকে হুমমমম, দাঁড়া আজ তোর মাথা থেকে সব ভূত নামামু ।
– পালা সাহরিয়া না হইলে রেহাই নাই।
– আর এই মূর্খ মানুষ আমাকে বুঝতেছে না, একদিন সবাই ইতিহাসে সবাই পড়বে এই সাহরিয়া প্রেমিকা খোঁজার জন্য কী না কী করছে।
রাতে চুপি চুপি বাসাই ঢুকতেছি।
– যাক বাবা লাইট তা হলে অফ, তার মানে আব্বাই স্লিপিং। আহা এবার আর কোন টেনসন নাই, রুমে ঢুকতেই ভূত দেখার
মতো চিল্লানি দিছি। তৃণা তুই আমান রুমে ক্যান।
– তোর ঘাড় মটকামু তাই।
– ওলে বাবা পেত্নী কোথাকার যা ভাগ।
– আংকেললললল শয়তানটা চলে আসছে। হঠাৎ বাবা আগমন।
– কান ধরে ২০০ বার ওঠ বস করবি।
– তৃণা তুই দেখবি যাতে কম না হয়, আর একটা কম হলে আবার প্রথম থেকে।
– ঠিকআছে আংকেল।
– বাবা তুমি নিজেন পোলা সাথে এই অবিচারটা করতে পারবা।
– চুপ শয়তান, তুই ভাল হলে ভেবে দেখতাম।
– তৃণা মা তুই দেখিস, আমি গেলাম।
– আহা তৃণা এইডা মা আর নিজের পোলারে কান ধরে ওঠ বস করাইতেছে।
– ঐ বেয়াদব শুরু কর।
– না না এত্ত গুলা করা যাবে না প্রেমিক হীন পুরুষের গর্ব আমি।
– তৃণা শোন না, একটু মাফ করে দেওয়া যায় না বল, মা বলে যারা সুইট হয় তাদের মন ও অনেক ভাল হয়।
– চুপ কর আর তারাতারি শুরু করে দে।
– হুমমমমম করছি, আজ যদি আমার মা থাকত তা হলে আর এই দিন দেখা লাগত না,মা তুমি কেন চলে গেলা
তোমার এই সুইট পোলাটারে রাইখা। [ ইমোশোনাল ব্লাকমেইল করছি হা হা হা ]
– সাহরিয়া আন্টি কই।
– না না থাক আমি কান ধরে ওঠ বস করতেছি।
– না থাক করা লাগবে না আজকে মাফ করে দিলাম যা। হঠাৎ ফোন আসল ফোন।
– পেত্নী দেখ প্রেমিকা পেয়ে গেছি।
– হ্যালো।
– আচ্ছা আপনি সাহরিয়া।
– হুমমমমম, (আহা মেয়ের গলা)।
– আপনার সাথে কী দেখা করতে পারি।
– হুমমমমম কেন না, কই যাইতে হবে তাই বলেন।
– গ্রিনওয়ে রেস্টুরেন্ট এ কাল বিকেলে।
– আচ্ছা ওকে।।।। পেত্নী পাইয়া গেছি প্রেমিকা।
– চুপ কর কুত্তা।
– না না আমি আর চুপ করতেছি না, কালকে তুই ও যাবি আমার সাথে।
– না না আমি যামু না।
– প্লিজ প্লিজ প্লিজ তুই ছাড়া আমার আর আপন কে আছে বল।
– ঠিকআছে ওকে যাব। পরের দিন বিকেলে।
– ঐ পেত্নী এত্ত সাজুগুজু করা লাগবে না তোরে দেখলেই সবাই বুঝবে তুই পেত্নী।
– চুপ শয়তান চল।
– তৃণা টা দিন দিন আরো পরীর মতো হয়ে যাচ্ছে। তবে ওর মুখে বলার সাহস আমার নাই।
– ঐ কই তোর প্রেমিকা।
– আরে দাঁড়া এখানেই আসতে বলছেতো। ঐ ফোন দিছে।
– হ্যালো কই তুমি।
– এই তো বাবু তোমার পিছনে।
– আহহহহহ এটা তো আলুর বস্তা, তৃণা ভাগ, বলেই ওর হাত ধরে দৌড় দিছি।
– হা হা হা হা হি হি হি।
– চুপ পেত্নী।
– তুই যেমন, তোর প্রেমিকা টাও মিলে গেছিল।
– ঐ মেয়েরে দেখছিস আমার পাঁচ ডাবল হইব। আল্লাহ বাঁচাই দিছে আজকে।
– না না তোর জন্য ওমন একটা মাইয়া দরকার।
– না না না আমি মইরা যামু গলাতে ফাঁস দিয়া তাইলে।
– তাহলে তোর প্রেমিকা চাই পোষ্টার এর কী হইব।
– যার জন্য দিছি হেই বুঝে না ওই গুলা দিয়ে আবার কীইইইই হইব।
– ঐ শয়তান কী বললি।
– না না কিচ্ছু না, চল বাড়ি যামু। দেখি আব্বাই আবার কী রেডি করে রাখছে।
– হুমমমমম চল।
– সাহরিয়া কই তুই।
– বাসাই কেন।
– না এমনি শুয়ে আছি।
– তুই তো শুয়ে থাকার পোলা না, আজকে শয়তানি করিস নাই কেন।
– মাথা অনেক ব্যাথা করছে রে মনে হয় মরে যাব।
– চুপ বেয়াদব আমি আসছি।
– হুমমমম।
– ঐ একবার বলতে তো পড়তি যে মাথা ব্যাথা করছে।
– কেন টিপে দিতি।
– হুমমমমম তাই দিতাম, এখন কাছে আয়।
– পাগলি তুই একটু ছুঁয়ে দিলেই সব কেমন ঠিক হয়ে যায়।
– তাই না পাগল একটা।
– কখন থেকে মাথা ব্যাথা করছে।
– কালকে রাত থেকে।
– কীইইইই কাল রাত থেকে, আর আমাকে একবার বলতে পড়লি না কেন।
– আরে তুই তো শুধু শুধু বকা দিস তাই।
– হুমমমমম গাধা, এখন কেমন লাগছে।
– অনেক ভাল, তোর হাত না অনেক নরম জানিস। মা থাকলে তোর মতো একটা বউ এনে দিত হা হা।
– আন্টি থাকলে তোরে অনেক ভালবাসত নারে।
– হুমমমমম, আর তোরে ও আমার বউ বানাই নিত।
– হুমমমমম পাগল।
– জানিস তৃণা।
– হুমমমমম বল।
– মারবি না তো।
– না বল।
– তোরে না কেমন আমার বউ বউ মনে হচ্ছে হি হি।
– শয়তান পোলা থাক তুই গেলাম আমি।
– দূর বুঝি ও না আমারে ভালবাসে কী বাসে না।।।
পরের দিন কলেজে গেলাম আর একটা প্লাম করলাম, আজকেই শেষ প্রপোজ করমু বিশ বারে ও না হরে বিশ খামু।

রাজু আর রাসেল রে ঠিক করলাম, আমি যেই টাইম এ বিশ খামু তারা প্রস্তুুত থাকবে। যেই ভাবা সেই কাজ।
– তৃণা তোর সাথে আমার কথা আছে, একটু সাইট এ চল।
– হুমমমমম বল কীইইইই বলবি।
– এই নিয়ে তোরে বিশ বার প্রপোজ করা হয়ে গেছে আর আজ ও যদি ফিরিয়ে দিস তাই আমি এই বিশ খেয়ে ফেলমু সত্যি।
– হুমমমমম খা না খা, তোরে আমি চিনি না ভাবছিস।
– হুমমমমম সত্যি সত্যি খেলাম কিন্তুু।
– হুমমমমম খা।
– এমন সময় রাজুর এন্ট্রি না ভাই তুই খাস না।
– নারে তোরা আমারে বাঁচাই তে আসিস না আমি তো খামুই।
– হুমমমমম খা না খা।
– এই খেলাম।
– এমন সময় রাসের নাাাা ভাই তুই এটা কী করলি। আংকেলরে আমরা কী বলমু,
– ঐ বেয়াদব ওঠ আমি জানিনা ভাবছিস ওটা মধ্যে মধু আছে।
– ঐ তুই কেমনে জানলি।
– চুপ হালাই ঘুমাই থাক।
– হা হা হা, কালকে তোর সব প্লান আমি শুনে ফেলছি, শয়তান থাক তুই।
– দূর সব প্লান শেষ। ত্রিশ মিনিট পর।
– আংকেল সাহরিয়া একসিডেন্ট করছে, এখন হাসপাতালে অনেক খারাপ অবস্থা ( রাজু )।
– তৃণা মা সাহরিয়া একসিডেন্ট করছে অনেক খারাপ অবস্থা।
– তৃণা কেমন পাগলের মতো হাসপাতালে ছুঁটে গেল। বাহিরে রাজু আর রাসেল দাঁড়িয়ে আছে।
– ঐ সাহরিয়া কই কাঁদো কাঁদো কন্ঠে (তৃণা)
– ভিতরে আছে।
– দৌড়ে ভিতরে গেল।
– মুখে অক্সিজেন পুরো শরীর ব্যান্ডিস।
– আপনি প্রসেন্ট এর কে হন (ডাক্তার)।
– অনেক কাছে একজন।
– ঠিক আছে আপনি কাছে থাকুন, এখন ও ঠিক বলা যাচ্ছে না, তবে আল্লাহ কে ডাকুন। এবার তৃণা অনেক কান্না করছে,
– আমার জন্য এখন তোর এই অবস্থা, আমার সব দোষ, কেন এমন হল রে। আমি কেমন করে থাকব তোরে ছাড়া,
অনেক ভালবাসি তোকে কেন বুঝিস না। সাহরিয়া ওঠ নারে কখন ও বকা দিব না, একবার পেত্নী বলে ডাক খুব ভালবাসিরে খুব।
আমি ও মরে যাব তোকে ছাড়া। তোর কিছু হলে আমার বুক ফেঁটে যায় রে ওঠ না একবার, বউ করবি না আমাকে।
– না উঠতে পারমু না তবে বউ বানামু, ঐ কোন দিকে তাঁকাস আমি এই দিকে।
– কুত্তা তোর না একসিডেন্ট হয়েছে।
– হা হা তোর মুখ থেকে আসল কথাটা বের করার জন্য প্লানটা করা। আগের প্রানটা ভুয়া ছিল আর এইটা আসল হি হি।
– যা শয়তান তোর সাথে কথা নাই।
– ওকে এইবার কিন্তুু সত্যি সত্যি একসিডেন্ট করমু, ওমনি বুকে এসে জরাই ধরল। আমি তাহলে মরে যাবরে।
– ঐ ছাড় ছাড় সবাই দেখছে তো।
– না ছাড়ব না।
– ওকে তাহলে একটা পাপ্পি দে।
– হুমমমমম তাহলে চোখ বন্ধ কর।
ঐ আপনারা ও করেন কেমন।।।।হা হা।।
……………………………সমাপ্ত……………………………

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত