আজব প্রেমর গল্প

আজব প্রেমর গল্প

আমি:ওই পিচ্চি শোন…
রিমি:কি বললি কুওা আমি পিচ্চি..
আমি:ওই কুওি, তুই তো বাচ্চা মেয়ে…
রিমি:আবার…(এবার খেপেছে)
কত স্পিডে আসছে তা মাপার যন্ত্র
তৈরি
হয়নি….
আমি:দেখতো, তোর ভাবি কেমন?
রিমি:ওই হারামী এইটা কি!!!পেত্নী
মার্কা…
আমি:খাওয়ার ইচ্ছা আছে নাকি?
রিমি:কি খাওয়াবি?তোর পেত্নী
পাওয়ার
খাতিরে…
আমি:দুইটা ঘুষি আর একটা লাথি…
রিমি:কিহ্!!!হারামী তুই আমায়
মারবি…
আমি:হুম,(বলার পরই হালকা করে ঘুষি
দিলাম)
রিমি:নাজিম,বাড়াবাড়ি হচ্ছে
কিন্তু…
(একটু বিষন্ন আর রাগীস্বর)
আমি:হুহ্…
রিমি:যা ফুট…কথা বলবিনা,ব্রেকাপ…
আমি:ওই, কি বললি বউ…
রিমি:বউ বলবি না…
আমি:বউ বউ বউ,আমার রাগী বউ…
রিমি:ওই ফোন দিবিনা…
আমি:ফোন বের করেই কল দিলাম…(একটু
মজার খাতিরে)
রিমি:কুওা তুই ঠিক হলিনা…(কেটে
দিয়ে)
আমি:হুম,লাভিউ…বউ…
রিমি:হেট ইউ…
আমি:পরে কথা হবে, বাই…
রিমি:দেখা যাবে…
আমি:না হলে বুঝতেই পারবি…
রিমি:বুঝে নিব…
অতপর চলে আসলাম…
কিছুদিন আগে এমন নানারকমের
ফাজলামি
নিয়েই পড়ে থাকতাম…
.
আসলে এইটা আমার পাগলী রিমি।
অনেক
রাগী, রাগাতেই ভাল্লাগে,রাগলে
কেমন
জানি হয়ে ওঠে…প্রতিদিনই আমাদের
ব্রেকাপ হত,এমনি নানা রকম
ফাজলামি
করার জন্য…
.
রিমি আর আমি অনার্সের শেষ বর্ষে
তখন…
রিলেশনের বয়স বেশিনয়,বছরের
কিছুটা
বেশি…
সবই ঠিকঠাক চলছিল, অামি প্রেমকরার
চেয়েও বেশি ফাজলামি করতাম…
রিমি জানে আমি তাকে ছাড়া
অন্যকিছু
ভাবতেও পারি না…
.
ফ্লাসব্যাক ৩বছর আগে…
.
ভার্সিটি তে ১বছর কেটে গেছে
আমার
প্রায় সবকিছুর সাথে পরিচিত…
নতুন একটা মেয়েকে দেখেই পছন্দ
ভাবলাম
নতুন ভর্তি নিচের বর্ষে..
১বছর নিচে পড়ে, আর প্রেম করা সুবিধা
হবে
ভাবতেই… উহ্ কেমন জানি মজা
লাগে…
কিন্তু ক্লাস শুরু হবার পরই চোখ
কপালে,কি
দেখি বুঝতাছি না…
মেয়েটা আমার সিটের তিন হাত ডান
পাশের সিটে বসছে…
নিজেকে বোঝাচ্ছি, নাজিম চিন্তা
করিস
না,এখন আরও সুবিধা হবে…সারাক্ষণ
দেখতে পারবি আর ফ্রেন্ডশিপ করে
মজার
খাতিরে বলতেও পারবি…
.
সবকিছু নিজের মাঝেই
রাখছি,কাওকে
বলিনি…হারামী মার্কা, রিতু
রিফাতকেও
না(এই দুটা আমার সবচেয়ে কাছের
দোস্ত)…
ওদের বলিনি কারণটা ট্রিট দিতে
পারব না
বলে…ঠিক ট্রিট না হারামীদের
রেস্টুরেন্টে খাওয়াতে হবে বলে…
.
যা হোক, নিজের বুঝ মেনেই চললাম….
সারাক্ষণ মেয়েটিকে দেখে
যাই,ফলো
করি…
ঘটনাটা রিতু ক্যামনে জানি বুঝতে
পারছে…
রিতু আমায় শুধু বলত,”প্রেমে পড়েছে
পাগল
প্রেমে পড়েছে”…নতুন গানও বানিয়ে
ফেলছে…
নিজের চেষ্টাতে যখন কাজ হচ্ছিল
না,তখনই রিতু রিফাতের শরণাপন্ন হই…
রিতু:দোস্ত,আমায় একটা হেল্প করতে
পারবি?
রিতু:ওই মেয়েটা,নতুন ভর্তি হইছে…
আমি:হুম,তুই ক্যামনে জানলি?
রিতু:মেয়েরা সব বোঝে বুঝলি,আর
গানটা
তোকে উদ্দেশ্য করেই বলা…
আমি:ওহ্,প্লীজ দোস্ত কিছু একটা করে
দে…
(গানটা আমায় বলা বুঝতাম,সয়তানটার
ভ্রু
কোচকানো সাথে থাকত বলে)…
রিফাত:কোন সাহায্য পাবিনা আর তুই
আগে বলিস নাই ক্যান?(কথার মাঝে
নাক
গলিয়ে)…
আমি:যা তোদের ডিনার আমার পক্ষ
থেকে…(কষ্ট চাপা দিয়ে বলি,টাকা
থাকতেও খরচ করার ইচ্ছা হয়না,নিজের
টাকা অন্যের পকেটে
যাবে,কেমনজানি
লাগে)…
রিতু রিফাত চিল্লানি দিয়ে সব
সাহায্য
পাবি…
অতপর চলতে থাকে আমাদের
মিশন,রিমিকে পটানোর…
নাহ্ বছর পেরিয়ে গেল,নিজেও
বলিনি আর
ফ্রেন্ডশিপও হয়নি…
ক্যামনে হয় প্রথমদিন থেকেই দেখেই
যাচ্ছি, আর নানা অঙ্গভঙ্গি করি…সব
কিছুই বুঝতে পারত কিন্তু পাওা
দিতনা…
(সব বুঝতে পারায় কিছু হয়নি)
রিতু রিফাতকেও তেমন পাওা
দিতনা,আমার সাথে থাকত বলে…
.
তৃতীয় বর্ষের শুরু হতে কয়েকদিন
বাকি…তিনজনের প্লান একটাই বছরের
শুরুতেই প্রপোজ করব…
.
আজ বছরের শুরু,রিমিও আসছে…
ক্যান্টিনে বসেছিল…এইতো সুযোগ…
হারামীদের ধাক্কা খেয়ে সামনে
যেতেই
হয়…
.
কথা বলি কীভাবে তা ভাবছিলাম…
সাত পাঁচ ভাবতে ভাবতে বলেই
ফেললাম…
আমি:কেমন আছেন?
রিমি:আলহামদুলিল্লাহ্,আপনি?
আমি:ভালই…
আমি সামনে দাঁড়িয়ে অাছি,কোন
কথা
নেই…
রিমি:কিছু বলার থাকলে বলতে
পারেন…
আমি:মানে মানে,বন্ধু হতে পারি
(তোতলিয়ে)
রিমি:ভেবে দেখব(কিছুক্ষণ পর)
আমি নিজেই চলে আসলাম…(বিষন্ন
মনে)
রিতু রিফাতের চোখ আমার দিকে,
শকুনের
মত দেখছে,যেন বড় অপরাধ করছি…
সামনে যেতেই,
রিতু:ওই,তুই বলতে পারিস নাই তো
সামনে
আসলি ক্যান…
রিফাত:হারামী চাপাবাজি
আমাদের
কছেই পারিস…
এটা ওটা বলে যাচ্ছিল(মাথা
নিচুকরে
শুনছি,আর ভাবছি এরা বলার আগেই
ক্যামনে জানল,মনেহয় আমার চোখমুখ
দেখেই বুঝে ফেলছে)…
.
কিছুক্ষণ পর…
রিতু:দোস্ত জানতাম বলতে পারবিনা…
রিফাত:আগে থেকেই প্লান করা
ছিল…
রিতু:মন খারাপ করিস না…
রিফাত:আবার মিশন শুরু…
ভাবতে পারছিলামনা এরা আমায় এত
ভালবাসে…
মিশন শুরুর পরেরদিন…
.
আবার রিমির সামনে যাই…
আমি:বন্ধুত্বের ব্যাপারে ভাবছেন
কিছু…
রিমি:হুম,হবে,তবে শর্ত আছে…
আমি:কি?
রিমি:আপনার ফ্রেন্ডদের সাথে যেমন
থাকেন তেমনি থাকতে হবে,প্রেমের
বিষয়
বাদ দেন…এতদিন ফলো করছেন বলেই
ফ্রেন্ডশিপ করতে রাজি হলাম,ভাবেন
না
প্রেম করব…
আমি:হুম, ঠিকআছে…আজকের মতো
বিদায়…যত্ন নিয়েন.ওপস্ যত্ন নিস…
রিমি:হুম,বাই(মুচকি হেসে)…
.
আমি আনন্দমাখা মুখ নিয়ে আসলাম
রিতু
রিফাতের কাছে…
কিছু বলার আগেই পকেট মেরে নিল…
রেগে যাব কিন্তু মুড নাই…
খাওয়া শেষ করে ফেলছে…
ওরা ভাবছিল প্রেমে রাজি হইছে
পরে
সত্যটা জেনে সেকি হাসি ওদের
(হাসিদেখে খুব হিংসা হচ্ছিল)
.
পরেরদিন রিমির ফোন নাম্বার নিয়ে
কথা
বলা শুরু হয় তবে তুই বলে…
সকাল,বিকাল রাতে ফোনে কথা হয়…
কিন্তু কুওী হারামী বলার সাহস
ছিলনা…
একদিন নিজেই কুওা, হারামী বলে…
তারপর
থেকে নিজেও বলি…
তৃতীয় বর্ষের শেষের দিকে নিজেই
প্রোপোজ করে বসি,সেদিন প্রথমেই…
আমি:রিমি,তুই জানিস আমি তোকে
ভালবাসি…জানিনা তুই বাসিস
কিনা..কিন্তু তুই আমার সব,আর “আমি
তোকে ভালবাসি”…
রিমি:ঠাস,কোন কথা না বলেই
চলেগেল…
আমি:ডানগালে হাত দিয়ে তার
যাওয়া
দেখছি…
তারপর কথা হয়নি প্রায় ৭দিন…
হাজারবার ফোনদিয়েও
পাইনি,বাসার
সামনে ঘুড়ঘুড় করেও দেখা হয়নি…
৭দিন পর, সামনে গিয়ে “সরি”বলি,
কাজ
হলনা…মাফচাইলাম, কোন রিয়েকশন
নাই…
অতপর কান ধরে উঠবোস করার
প্রথমবারেই
ডানহাত টেনে নিয়ে জরিয়ে
ধরে…আর
বলে”ভালবাসি নাজিম”…
অনেক খুশি আমি, চোখের কোণায়
পানি
আসছে…
রিমিকে ছড়িয়ে…
আমি:ভালবাসিস তো ৭দিন কথা না
বলার
মানে কি?
রিমি:ভাবছিলাম,তোকে আমি
ভালবাসিনা…কিন্তু তোকে মারার
পর
অনেকটা কষ্ট হয়,আর তোর সাথে কথা
বলিনি,খুব ইচ্ছা করছিল তোর
ভালবাসার
পরীক্ষা নিতে…আর তুই পাশ…
আমি:হুহ্,তুই আমায় তোর বাসার সামনে
নিশ্চয় দেখতি…ছাঁদে তো আসতে
পারতি…
রিমি:ওই বলদ,তোকে লুকিয়ে দেখতাম
তো,সামনে আসলে তো পরীক্ষার
মজাই
শেষ হত…
আমি:কত কষ্ট হইছে জানিস?
রিমি:জানিতো কুওা…
আমি:লাভিউ কুওী…
রিমি:লাভিউ আনলিমিটেড…
রিতু রিফাতের আনন্দ কে দেখে!!ওরাই
বেশি খুশি…
এমন করেই আমাদের শুরু হয়…
রিলেশনের সময় থেকেই বউ বলে
আসছি…
.
কিছুদিন আগেই আমি আমার পরিবারে
জানাই, রিমি ওর পরিবারে জানায়…
ওর বাবার আমার বেকারত্ব নিয়ে
কিছুটা
অমত থাকলেও পরে তা সম্মতিতে রুপ
নেয়…কারণটা বিয়ের পরপরই বাবার
কম্পানিতে জয়েন করতে হবে…
.
আজ রিমি আমার বিয়েকরা বউ…
বাসর রাত,আমি ঢুকছি আর বলছি…
—কুওী আমার বউ হইছে…
—আছে খাটে একাই বসে…
—ভালবাসি,ভালবাসি কুওী
তোকে…
—কুওা আইছে বাসর ঘড়ে…
বিছানার পাশে যেতেই ঘুষি মেরে
বুকে
লুকিয়ে “জামাই অনেকদিনের
জমানো
মারগুলোর শোধ দিলাম”…
…পরেরগুলা না জানলেও চলবে…
……. ……. ……………..সমাপ্ত …… ……. ……………..

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত