অনামিকা মিষ্টি বঊ

অনামিকা মিষ্টি বঊ

সারাদিনের ক্লান্ত শেষে জলন্ত সিগারেট হাতে নিয়ে বাসার বাইরে দাড়িয়ে আছি। মনের সুখে একের পর একটান দিয়ে যাচ্ছি। পূর্নিমার মস্তবড় চাঁদটা আমার হৃদয়টাকে ঝলসে দিচ্ছে। মাঝে মাঝে চাঁদটা মেঘের সাথে লুকোচুরি খেলসে, একটু পর পর দমকা হাওয়া আমার অশান্ত মনকে শান্ত করার বৃথা চেষ্টা করসে। সিগারেটে শেষ টানটা দিয়ে মাটির সাথে পিষে দিলাম। পকেট থেকে মোবাইলটা বের করে দেখি ১:৩৮ বাজে, আর লেট করা ঠিক হবে না… বাসায় যাওয়ায় দরকার।

নিজের রুমের দরজার সামনে দাড়িয়ে আছি। ভিতরে ঢুকবো কি ঢুকবো না ভাবতে ভাবতে আস্তে করে দুইটা টোকা দিলাম। সাথে সাথেই দরজা খুলে গেল। খুলে গেল বললে ভুল হবে, কেউ দরজাটা খুলে দিলো। মনে হয় সে আমার অপেক্ষাতেই ছিল। দরজাটা ধরে সে দাড়িয়ে আছে, তাকে পাশ কাটিয়ে রুমে ঢুকে পড়লাম। বাথরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে এসেই আমার জানের কোলবালিশটাকে জড়িয়ে ধরে শুয়ে পড়লাম। শুনেছি বাসর রাত নিয়ে মেয়েদের মনে অনেক পরিকল্পনা থাকে, এই মেয়েটিরও হয়তো ছিল কিন্তু তাতে গুড়ে বালি। মেয়েটিরও হয়তো অনেক আশা ছিল কিনা জানি না, তবে মেয়েটির মুখ দেখে বেশ বুঝা যাচ্ছে সে আমার কার্য্যকলাপে অনেকটা অবাক হয়েছে, আহত দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে আছে। যা ভাবে ভাবুক, তাতে
আমার কি..! বেশিক্ষণ তার দিকে না তাকিয়ে থেকে পাশ ফিরে শুয়ে পড়লাম।

সকালের ঘুমটা ভাঙ্গলো মেয়েটির ডাকেই…
– এই যে শুনছেন?
– ……..
– কি হলো উঠুন না? আর কত ঘুমাবেন?
– ঘুম ঘুম চোখে একবার তার দিকে তাকিয়ে আবার পাশ ফিরে শুয়ে পড়লাম।
– অনেক বেলা হয়ে গেসে তো?
– মেজাজটা পুরাই খারাপ হয়ে গেল, মেয়েটার দিকে তাকিয়েই দিলাম একটা ঝাড়ি।
কানের কাছে একদম চিল্লাচিল্লি করবেন না। আমাকে আমার মত থাকতে দিন। ভুলেও আমার কাছে আসবেন না।
– না মানে আম্ম…..
– চুপ থাকেন, আমার সামনে থেকে যান তো। আপনাকে আমি সহ্যই করতে পারছি না।
– …………..
– কি হলো যান…!
মেয়েটি কিছু সময় আমার দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো, হয়তো বিয়ের ২য় দিন এমন কথা আশা করেনি,
তারপর চুপচাপ রুম থেকে বের হয়ে গেল। স্পষ্ট দেখতে পেলাম মেয়েটির চোখের কোণায় জল জমেছে.. কাঁদলে কাঁদুক, তাতে আমার কি..!

ধ্যাত আর ঘুম ধরতেসে না। কিছুক্ষণ বিছানায় গড়াগড়ি করে উঠে ফ্রেশ হয়ে নিলাম।
রুম থেকে বের হয়ে রান্না ঘরে গিয়ে আম্মাকে বললাম খেতে দাও, ক্ষুদা লাগছে….
আম্মা : তুই টেবিলে গিয়ে বস, বউমা যাও ওকে একটু খেতে দাও তো, আমার অনেক কাজ আছে… মেয়েটা আম্মার পাশেই ছিল।
মেয়েটি : জ্বি আম্মু দিচ্ছি।
চুপচাপ খাওয়া শেষ করে বাসা থেকে বের হলাম দোস্তদের সাথে আড্ডা দেওয়ার জন্য।

মাত্রই পড়াশোনা শেষ করে একটা চাকরি পেলাম, তার মধ্যই আব্বা-আম্মা বিয়ের জন্য চাপ দেয়া শুরু করে দিয়েছিলো,
আমার ভাল মনে হয় কারোই সহ্যই হয় না।
অনেকটা জোর করেই মেয়ে দেখতে নিয়ে গেলো। ব্যস অঘটনটা ঐখানেই ঘটে গেল।
মেয়েকে আব্বা আম্মার পছন্দ হইসে, তাই ঐদিনই জোর করে আমার গলায় ফাঁসি ঝুলিয়ে দিল…..
মেয়েটিকে যে আমার পছন্দ হয়নি তা না, বরং অাশ্চর্য হইছিলাম অনেকটাই। কি আর করা বিয়েটা শেষমেষ করতেই হল।

টংয়ে বসে চা খাচ্ছিলাম এমন সময় এক দোস্ত বলে উঠলো, মাম্মা রাতে ঘুম কেমন হইসে??
– আরে মাম্মা… রাতটা পুরাই বিন্দাস কাটসে, কি যে মজা হইসে, তোদের বলে বুঝাতে পারবো না… বলেই সবাই হেসে ফেললাম।
আড্ডা দিতে দিতে কখন যে ২টা বেজে গেসে খেয়ালই করি নাই। হঠাৎ আম্মার ফোন
– ঐ হারামজাদা কৈ তুই?? তারাতারি বাড়িতে আয়… বলেই ফোন কেটে দিল..!
সবার কাছে থেকে তারাতারি বিদায় নিয়ে বাসার উদ্দেশ্য রওনা দিলাম, আল্লাহ জানে কপালে কি আছে?! আম্মা এতো ক্ষেপলো কেন বুঝলাম না..

দরজায় নক করতেই মেয়েটি দরজা খুলে দিল। মনে হয় সে জানতো আমি এখনই আসবো…
যাইহোক রুমে ঢুকার সাথে সাথেই আম্মার হাই লেভেলের ঝাড়ি
– তোর কি কোন দিন ও বুদ্ধিসুদ্ধি হবে না, তোর জন্য যে কেউ না খেয়ে বসে থাকতে পারে সে খেয়াল কি তোর আছে?!
– অনেকটা অবাক হয়ে, আমার জন্য আবার কে না খেয়ে আছে?
– চুপ, কথা কম বল। মেয়েটা সারাদিন এত্তো কষ্ট করে এত্তোকিছু রান্না করছে আর নবাবের বাড়িতে আসার সময় হয় না……
আম্মাকে আর কিছু না বলেই ফ্রেস হয়ে এসে খেতে বসে পড়লাম। টেবিলে এত্তোগুলা পছন্দের খাবার দেখে মনে হচ্ছে ক্ষুদা যেন আরও দশগুন বেড়ে গেছে………

খাবার গুলো যদিও অনেক সুস্বাদু ছিল তবুও মেয়েটিকে ঝাড়ি দিতে শুরু করলাম..(আম্মা বলছে আজ সব রান্না মেয়েটি করছে)
– এগুলা কি রান্না করছেন? এগুলা মানুষ খায়?
যতসব অখাদ্য কুখাদ্য রান্না করছেন। রান্না পারেন না, রান্না করতে বলসে কে? ঢং দেখলে বাঁচি না।
খাওয়া থেকে উঠে দাড়াতেই মেয়েটি বললো
– না খেয়ে উঠবেন না প্লিজ.. একটু অপেক্ষা করেন, একটা ডিম ভাজি করে এনে দেই……..
– আপনার ডিম আপনিই খান। আপনার হাতের রান্না খাওয়ার কোন ইচ্ছাই নাই আমার। অত দরদ দেখাইতে হবে না। এই কথা বলেই হাতটা কোনরকম ধুয়ে রুমে গিয়ে শুয়ে পড়লাম।

সন্ধ্যায় ঘুম থেকে উঠার সাথে সাথেই মেয়েটি এক কাপ চা নিয়ে এসে আমার সামনে দাড়িয়ে আছে…..
কাপটা হাতে নেওয়ার সময় দেখলাম মেয়েটার মুখটা শুকিয়ে গেসে, চোখটাও ফুলে অাছে। মনে হয় অনেক কান্নাকাটি করছে। কাপটা আমার হাতে দিয়েই রুম থেকে চলে গেল।
দিন যত যাচ্ছে মেয়েটিকে জ্বালানোর মাত্রা ততই বাড়তেসে। ছোট ছোট ব্যাপারেও হাজারটা কথা শুনাইতাম। মুখে কিছু না
বললেও লুকিয়ে লুকিয়ে যে কান্না করতো সেটা মেয়েটার মুখ দেখলেই স্পষ্ট বুঝা যেত।

একবার তো ফ্রিজের ঠান্ডা পানি গায়ে ঢেলে দিসিলাম। জ্বরের জন্য সাত দিন বিছানা থেকে উঠতে পারে নাই। এতো কিছুর পরও আমার আদর যত্নের কখনও কমতি রাখতো না।

অফিসে বসে বসে পুরানো দিনের কথা গুলা ভাবতেসি……
তখন আমি ইন্টার ১ম বর্ষে পড়ি। প্রাইভেট পড়ে বাসায় ফিরছিলাম হঠাৎ একটা মেয়েকে দেখে খুবই ভালো লেগে যায়। লাভ এন্ড ফাস্ট সাইট যাকে বলে আরকি ঐ টাইপ কিছু একটা। হিজাবী টাইপ বোরখা পড়েছিল মেয়েটি। তার চোখে এতটাই মায়া ছিল যে, আমাকে তার প্রেমে পড়তে বাধ্য করে।

বন্ধুমহলের করুণায় মেয়েটির খোঁজ খবর পেতে খুব বেশি সময় লাগেনি। মেয়েটি কোথায় থাকে, কিসে পড়ে সব তথ্যই পেয়েছিলাম ওদের কাছে থেকে।
মেয়েটার নাম ছিল অনামিকা।

অনামিকা কে এক নজর দেখার জন্য ঘন্টার পর পর ঘন্টা ওর স্কুলের সামনে দাড়িয়ে থাকতাম। বহু অপেক্ষার পর যখন একদল
ইউনিফর্ম পরিহিত বালিকা আসতে দেখতাম তখন রাস্তার পাশের চায়ের দোকান বা কোন বাসার গলির ভিতর থেকে লুকিয়ে
লুকিয়ে অনামিকা কে খুজে বেড়াইতাম।

এইভাবে ১ বছরের মত শুধু দেখেই গেলাম, সাহস করে মনের কথাটা আর অনামিকা কে বলতে পারলাম না।

সামনা সামনি কথা বলতে না পারলেও ফেসবুকের বদৌলতে সেই কাজটা অনেকটাই সহজ হয়ে যায়.. আমার মনের সুপ্ত ভালবাসার কথা অনামিকা কে জানিয়েছিলাম।

ধীরে ধীরে তার সাথে ফ্রেন্ডশিপ করলাম, হালকা কেয়ারিং শেয়ারিং আর অনেকটা আবেগের সমন্বয়ে ভালই চলছিল আমার দিনকাল… মনের মধ্য অনামিকা কে নিয়ে আলাদা জগত বানিয়ে ফেলেছিলাম। নাতী নাতনির নামটাও ঠিক করেছিলাম আমরা।

দিনটা ছিল ২৮ ডিসেম্বর হঠাৎ কি থেকে কি হয়ে গেল অনামিকা আমাকে বিনা নোটিশে ব্লক লিস্টের ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছিল। তাকে ফিরে পাবার জন্য অনেক রকম চেষ্টাই করেছিলাম কিন্তু প্রত্যেক বারই আমাকে দুর-দুর করে তাড়িয়ে দিয়েছে। এতটাই
ভেঙ্গে পড়ছিলাম, পড়াশোনায় মন বসাতে পারতাম না, সব সময় অনামিকার কথাই মনে পড়তো।

ভেঙ্গে যাওয়া হৃদয়টাকে নিয়ে জীবনটাকে সেই ভাবে আর গুছিয়ে উঠতে পারিনি। কিন্তু আল্লাহর রহমতে ভাল একটা চাকরি পাই। চাকরি পাবার পর থেকেই আব্বা আম্মা আমার পিছু লেগে যায়।
অনেকটা চাপে পড়েই মেয়ে দেখতে যাওয়া।

পাত্রীকে যখন আমার সামনে আনা হয় তখন এতোটাই অবাক হইছিলাম, যা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। সেই চোখ, সেই
মুখ, সেই ঠোঁট, আমি আর কিছুই ভাবতে পারছিলাম না। কারন মেয়েটি আর কেউ না, সে ছিল অনামিকা।

আব্বা আম্মার পছন্দেই সেই দিন আমার বিয়েটা হয়। যদিও বিয়ে করার কোন ইচ্ছাই আমার ছিল না। আবার মানাও করছিলাম না।

দীর্ঘ ৬ বছর পর অনামিকা কে আমি নিজের করে পাবো কখনও কল্পনাতেও ভাবি নাই।

অনামিকার উপর এত্তো দিনের অভিমানের ফলেই ইচ্ছা করে ওকে কষ্ট দিতাম। একটু বুঝুক মানুষের ইমোশনে কষ্ট দিলে
কেমন লাগে?!

যদিও ওকে কষ্ট দিয়ে নিজেও কষ্ট পেতাম। ও না খেয়ে থাকলে আমিও কিছু খেতাম না। ও যখন কান্না করতো তখন আর
সহ্য করতে পারতাম না, বাথরুমে গিয়ে নিজেও কান্না করতাম। রাতের পর রাত ওর মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে পার করে
দিতাম… প্রতিদিন ও ঘুমিয়ে যাওয়ার পর ওর কপালে একটা চুমু দিতাম… এত্তো জ্বালাইতাম, অথচ পাগলীটা কখনও কিছুই
বলতো না।

বিয়ের প্রায় ৮ মাস পার হয়ে গেসে অথচ আজও অনামিকা কে বুঝতে দেই নি কতোটা ভালবাসি ওকে।

পাগলীটাকে অনেক কাঁদাইসি আর না। বড্ড ভালোবাসি তো… ভালবাসার মানুষের ভুল যদি মাফ নাই করতে পারি তাহলে আমি
কেমন প্রেমিক হলাম।

সন্ধ্যায় অফিস থেকে বাসায় ফেরার পথে ২৫ টা লাল গোলাপ কিনে নিয়ে আসলাম। আজ আমার অনেক স্পেশাল একটা দিন।
আজ থেকে ঠিক ২৫০০ দিন আগে প্রথম অনামিকাকে আমি দেখিছিলাম, ২৫০০ টা গোলাপ কেনা তো সম্ভব না, তাই ২৫ টা
কিনলাম। ব্যাগটা রুমে রেখেই গোলাপ গুলো নিয়ে সোজা ছাদে চলে গেলাম। কারন সন্ধ্যায় পাগলীটা ছাদেই বসে থাকে।

ফুল গুলো একহাতে পিছনে লুকিয়ে রেখে পিছন থেকে তার কাঁধে হাত রাখলাম,
-এত্তো কিনারে দাঁড়িয়ে কি হচ্ছে,হুম.. ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিবো?
-আপনি যদি চান তাইলে দিতে পারেন… পিছন থেকে গোলাপগুলো বের করে
-তাইলে, এই গোলাপগুলো কাকে দিবো?
ছলছল চোখে আমার দিকে তাকিয়ে আছে অনামিকা।
– আমি বরাবরই একটা আনরোমান্টিক, স্টুপিড, ভীতুর ডিম ছিলাম। তাইতো তোমাকে এতটা কষ্ট দিয়ে ফেলিছি। শেষ বারের
মত ক্ষমা করা যায় না আমাকে?? কথা দিলাম আর কখনও কষ্ট দিব না তোমাকে।
– আমার হাতের ফুল গুলা নিয়ে অনেকটা শক্ত করেই জরিয়ে ধরলো অনামিকা।
তখন থেকে আমার শার্ট ভিজিয়েই যাচ্ছে।
– পাগলী আর কত কাঁদবা? এখনতো একটু থামো।
ওর চোখের পানি মুছে দিতে দিতে আবার বললাম,আচ্ছা আমি যে তোমাকে এত্ত কষ্ট দিতাম তুমি কিছুই বলতা না কেন???
– উহু… কে বলেছে তুমি শুধু আমাকে কষ্ট দিতে। সারাদিনের হাজারটা কষ্ট নিমিষেই ভুলে যেতাম যখন তুমি প্রতিরাতে
আমার কপালে একটা চুমু দিতে.. এজন্য-ইতো সবকিছু ভুলে যেতাম এক নিমিষেই… কি বলবো বুঝতে না পেরে কপালে
আলতো করে চুমু দিয়ে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম ওকে..
অনামিকা যেন আরো শক্ত করে জড়িয়ে ধরে বললো
-আমার ভুলটা কি শোধরানোর সুযোগ দেবে?
-সেটা তো তুমি অনেক আগেই মিটিয়ে দিয়েছো
-তাই?
-হুম ঠিক তাই…
-তাইলে পুরষ্কারটা কই আমার?
আচমকা অনামিকা কে কোলে নিয়ে গোল হয়ে ঘুরতে ঘুরতে হেসে বললাম
-এই যে নাও তোমার পুরষ্কার…

চারিদিকের সন্ধ্যা যখন রাতের সাথে মিশছে তখন কোথাও দু’জন সুখী মানুষ দু’জনের হাত ধরে হাসতে হাসতে
ভালোবাসা আঁকছে…
চাঁদটা যেন পূর্ণিমার আলোতে আশীর্বাদ দিয়ে যাচ্ছে তাদেরকে… এই সুখী মিলনের দিনে প্রকৃতিটাও যেন মৃদু হাওয়া খেলে হাসার আভাস দিচ্ছে…
ভালো থাকুক সকল ভালোবাসা, যদিও হোক না সেটা অন্তরালে ।

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত