রোমান্টিক দুপুর

রোমান্টিক দুপুর

ইতিকে ফোন করে বললাম, বাসায় আমি একা আর কেউ নাই, তুমি জলদি করে আসো । কালকে আমার মামাতো বোন রুমির বিয়ে । তাই আজকে সকালেই মা বাবা ভাই বোন সবাই মিলে তাদের বাসায় গিয়েছে । আমিও যাব কালকে সকালে । আজকে আমি বাসায় একা ।

তাই আমি আমার গার্লফ্রেন্ডকে ফোন করে বললাম – আমি বাসায় একা , তুমি জলদি করে আসো ।

সে বললো – আমি কিছুক্ষণের মধ্যেই আসতেছি । আধাঘন্টা পরেই ইতি বাসায় এসে হাজির , দুজনে বসে কিছুক্ষণ গল্প করলাম । তারপর তাকে বললাম তাহলে এখন কাজ করা শুরু করে দাও ।অনেকদিন ধরে অপেক্ষা করছিলাম এই দিনটার জন্য । আমার আর অপেক্ষা সহ্য হচ্ছে না , কবে যে খেতে পারবো সেই আশায় আছি ।

সে বলে – রান্নাঘর কোন দিকে ।

আমি এরপর তাকে রান্নাঘর টা দেখিয়ে দিলাম । সে আর কোন কথা না বলে রান্না করে চলে গেল। আপনারা নিশ্চয়ই নেগেটিভ কিছু ভাবছিলেন । আসলে ঘটনা হচ্ছে কি , কিছুদিন আগে সে নাকি প্রথমবার রান্না করে । তার হাতের রান্না খেয়ে সবাই অনেক তারিফ করে। অনেক ভালো হয়েছে নাকি তার রান্না । তাই সেদিন থেকেই আমি অপেক্ষা করছি কোন দিন তার হাতের রান্না খেতে পারব । তাই আজকে সুযোগ পেয়ে তাকে বাসায় আসতে বলি , এবং কি সে এখন রান্নাঘরে রান্নার কাজে ব্যস্ত। লোকেরা রোমান্টিক ডিনার করে,আর আমরা দুজন আজকে রোমান্টিক লাঞ্চ করব। কিছুক্ষণ পর আমি রান্নাঘরে গেলাম , দেখি সে রান্নার কাজ শুরু করে দিয়েছে । আমি পিছন থেকে গিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরলাম ।

সে আমাকে বলে – দেখো এখন ন্যাকামি করবানা এখন রান্না করতেছি ছাড়ো আমাকে ।

আমি তখন বললাম – না আমি ছাড়বো না , আমি আমার হবু বউকে জড়িয়ে ধরেছি ।

সে তখন বলে- তা ডিয়ার হবু স্বামী ন্যাকামি করা বাদ দিয়ে ,আমাকে কাজে একটু সাহায্য করতে পার না ।

আমি বললাম- কি করতে হবে বলো ? সাথে সাথে কলিং বেলের শব্দ ।

আমি বললাম – এই রোমান্টিক সময় কে আবার ডিস্টার্ব করতে এসেছে , আচ্ছা তুমি দাঁড়াও আমি দেখে আসতেছি ।

এই বলেই আমি দরজার কাছে এসে দরজা খুলে হা করে তাকিয়ে আছি ‌,‌ দেখি দরজার সামনে মা দাঁড়িয়ে আছে । আমি শখ এর মধ্যে আছি । মনে হয় কেউ আমাকে ৪২০ ভোল্টের ঝাটকা দিয়েছে । মা তখন বলল সেই কখন থেকে কলিং বেল দিচ্ছি দরজা খুলতে এত সময় লাগে নাকি । আমি ভয় এবং শখ খেয়ে কোন শব্দই মুখ দিয়ে বের করতে পারলাম না । মা কোন কথা না বলেই সোজা চলে গেলেন উনার রুমে । আমি উনার পিছনে পিছনে গিয়ে বললাম আপনি না রুমির বিয়েতে গেছেন চলে আসলেন কেন । মা তখন বলল – রুমিকে আংটি দিব বলে একটা আংটি নিয়েছিলাম , সেটা ভুলে বাসায় রেখে গেছি , সেটা নিতে এসেছি।

আমি বললাম আমাকে ফোন করে বললেই হতো, কাল সকালে যাওয়ার সময় আমি নিয়ে যেতাম । মা তখন বলে – আলমারির চাবি হচ্ছে আমার কাছে তোকে ফোন করে বলল তুই নীতি কিভাবে । এ কথা বলার সাথে সাথে হঠাৎ রান্না ঘর থেকে আওয়াজ আসে , মা বলে রান্না করে কে এই বলে রান্না করে ছুটে যায়।
মা রান্না ঘরে গিয়ে ইতিকে দেখে বলে ওঠে এই মেয়ে তুমি কে ? ইতি ভয় পেয়ে যায় ,তার হাতে একটা মসলার ডিব্বা ছিল সেটা মাটিতে পড়ে যায় । ভূত দেখলেও সে এতটা ভয় পেত না যতটা ভয় মাকে দেখে পেয়েছে ‌। মা আবার বলে – এই মেয়ে চুপ কেন জবাব দিচ্ছ না কেন, তুমি কে? ইতি একবার আমার দিকে তাকাচ্ছে একবার মার দিকে তাকাচ্ছে , সে কি জবাব দিবে ভেবে পাচ্ছে না । মা রেগে গিয়ে আমাকে বলে,, এই মেয়েটা কে রান্না ঘরে কি করছে ?

আমিও কি জবাব দিব ভেবে পাচ্ছি না , হঠাৎ করে মনে পড়ল মা কিছুদিন আগে বলছিল, একটা কাজের মেয়ে দেখার জন্য , বাসায় অনেক কাজ মা একা একা সামলাতে পারছে না । আমি তখন বলে উঠলাম আরে মা ও কাজের মেয়ে ওর নাম সখিনা । আপনি কিছুদিন আগে বলছিলেন না একটা কাজের মেয়ে দেখতে, আজকে সকালে এই মেয়েটা এসে বলতেছে কাজের লোক লাগবে কিনা । তখনই আপনার কথা মনে পড়ছিল। তা আমি বললাম আমাদের ঘরে একটা কাজের মেয়ে লাগবে । তাই মেয়েটা কাজ করার মতো লোক কিনা সেটা দেখার জন্য আমি বলছিলাম আজকে রান্নাটা করার জন্য , দেখতে তার রান্না আর কাজকর্ম কেমন ।

মা তখন বলে আচ্ছা তাই নাকি , ইতি তখন বলে হ খালাম্মা, আমার একটা কাজ খুব জরুরী । মা তখন বলে আচ্ছা তাই , তাহলে দেখি তুমি কি কি কাজ করতে পারো । তারপর মা তাকে দিয়ে রান্নার সব কাজ করালো । রান্না শেষ হলে থালা বাসন সবকিছু পরিস্কার করালো । তারপর মা পুরনো কাপড় চোপড় দুই বালটি বের করে দিল সেগুলো ধুয়ে দেয়ার জন্য । ইতি কোন কথা না বলে চুপচাপ সেগুলো ধুয়ে দিতে লাগলো ।

কাপড় দোয়া হলে , ঘর ঝাড়ু দিতে বলল । এরপর ইতি সারাটা ঘর ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কার করলো। আমি তার কষ্ট সইতে পারছি না অন্যদিকে মুখ খুলে কিছু বলতেও পারছি না । আমি শুধু মাকে বললাম মা আমি তো বাসায় আছি আমি দেখতেছি ,আপনি রুমির বিয়েতে যান আপনার লেট হয়ে যাচ্ছে। মা তখন বলল – বিয়ে আজকে না বিয়ে হচ্ছে কালকে আমি সন্ধ্যা বেলায় গেলেও চলবে । এরপর মা একে একে ইতি কে দিয়ে ঘরের সব কাজ করিয়ে নিল । যে মেয়েটা কখনো ঘরের কাজ করেনি । সেই মেয়েটা আজকে পুরো ঘরের কাজ একা একা করেছে । সব কাজ শেষ করে মার কাছে এসে বলে খালাম্মা সব কাজ হয়ে গেছে ।

মা তখন বলে – তোমার কাজ আমার ভালো লেগেছে, তোমার ব্যবহার আমার ভালো লেগেছে, তোমাকে আমার ভালো লেগেছে । সবচেয়ে বেশি আমার ভালো লেগেছে তোমার ধৈর্য দেখে । আমি তোমাকে এত কাজ দিলাম তারপর তুমি কোন কথা না বলে চুপচাপ সে কাজগুলো করতে থাকলে । তোমার মত এমন একটা মেয়েই এই ঘরে দরকার , তোমাকে আমি সারা জীবনের জন্য আমার ঘরের রাখতে চাই । কিন্তু তার বিনিময়ে আমি তোমাকে বেতন দিতে পারব না , তবে তোমাকে ঘরের বউ করে রাখবো , তোমাকে মেয়ের মত ভালোবাসবো । আর এই পাঁচ ফুট 5 ইঞ্চি গাধার মত ছেলেটা কে তোমার নামে করে দিবো ।

মা এর কথা শুনেই আমরা দুজনেই অবাক । আমি মাকে বললাম -এসব কি বলছো মা ? মা তখন বলে, আমার গর্ভ থেকে তোর জন্ম আর সেই তুই আমার সাথে চালাকি করস , তুই কি ভাবছিস তুই সহজে আমাকে বোকা বানিয়ে ছাড়বি । আমি তোর মা কথাটা ভুলে যাস না , তোর চোখে মুখে যে একটা ভয়ের ছাপ দেখছিলাম, আমি তখনই বুঝে নিয়েছিলাম তুই আমার সাথে মিথ্যা বলছিস । এই মেয়ে কাজের বুয়া না । তাই আমি তাকে পরীক্ষা করে দেখতে চাইলাম। আমি বুড়ো মানুষ আজ আছি তো কাল নেই । আমি যাওয়ার পরে তোকে আর এই সংসার টা কে গুছিয়ে রাখতে পারবে কিনা সেটাই আমি দেখছিলাম ।

একথা বলেই মা উনার গলা থেকে স্বর্ণের চেইন টা খুলে ইতিকে পরিয়ে দেয় । মা তাকে জিজ্ঞেস করে ,তোমার নাম কি মা ? ইতি জবাব দেয় , ইতি সুলতানা । মা তখন বলে – শুন মা ইতি, ওর মামাতো বোনের বিয়ে তাই আমাকে এখন যেতে হবে । তোর সাথে তেমন কথা বলতে পারলাম না অন্য কোন দিন না হয় অনেক গল্প করব । এই বলেই মা যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিবেন । তখনই আবার আমাকে বলে – শোন গাধা , দুজনে একসাথে খাওয়া দাওয়া করে ইতিকে বাসায় পৌছে দিবি । আর কাল সকালে তুই বিয়েতে যাওয়ার সময় ইতিকে সাথে করে নিয়ে যাবি । সব আত্মীয়-স্বজনের সাথে আমার হবু বউ মা’র পরিচয় করিয়ে দিব ।

সমাপ্ত

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত