ছাত্রীর বোন যখন বউ

ছাত্রীর বোন যখন বউ

শাওইন্না তুই কি দিয়েছিস বিয়েতে

–কেন ইট দিয়েছি দুই টা, তোমাদের পুকুরের ঘাট টা ভেঙে গেছে দেখলাম, তাই ইট দেওয়া, সেই ইট দিয়ে তোমার আব্বু কন্সট্রাকশন করতে পারবে!!

–কুত্তা ছেরা তুই কালকে আমার সাথে দেখা করবি?

–হে হে হে কি বলো তুমি তো কাল কে তোমার শ্বশুরবাড়ি থাকবে, আমার সাথে কিভাবে দেখা করবে?

–তোকে আসতে বলেছি ব্যস আসবি, কিভাবে দেখা করবো সেটা আমার ব্যপার।

–এই তোমার না আজ বিয়ে হয়েছে, এখন তো শ্বশুর বাড়িতে থাকার কথা, মোবাইল কই পাইছো

–যেখানেই থাকি তুই কালকে লেকসিটিতে আয়, তারপর তোর মজা বুঝাবো, রাখলাম আমি বাই।

হিহিহি এই হলো আমার গার্লফ্রেন্ড পরী। আজ চারবছর ধরে রিলেশনস, ও সরি এখন রিলেশনস আর নাই, সে এখন অন্যের ঘরনী।

একটু ওয়েট কিছুদিন আগের কথা গুলো একটু শেয়ার করি।

–শাওন বাবা বিয়ে ঠিক করে ফেলেছে (পরী)

–হাহাহা সে আজ নতুন কি তোমার বিয়ে তো আজ দেড় বছর ধরেই হচ্ছে?

–এবার কিন্তু সত্যি সত্যি ঠিক করে ফেলেছে। ছেলে লন্ডন থাকে। ওখানেই সেটেল্ড, বিয়ের পরে আমাকে ও নিয়ে যাবে।

–এই ফান করো না তো, বসো আমি বাদাম নিয়ে আসি?

-রাখো তোমার বাদাম, আজ আমি তোমার সাথে পার্কে বাদাম খেতে আসিনি

–তাহলে কেন এসেছো পরী

–এই যে কথা গুলো বলার জন্য

–সিরিয়াসলি তোমার বিয়ে ঠিক করে ফেলেছে

–মিথ্যে বলতেছি মনে হচ্ছে আমার এক্সপ্রেশন দেখে

–না

–কত করে বললাম একটা জবের ট্রাই করো জবের ট্রাই করো, না উনি বিন্দাস হয়ে ঘুরে বেড়াবে, কত বিয়ে ভেঙেছে এই বছরে, শুধু তোমার জন্য, যদি একটা গতি করতে পারতে, আছো শুধু টিউশনি আর হাংকি পাংকি নিয়ে।।

–তোমাকে আমি আগেই বলেছি এই শহরে মামা খালু না থাকলে চাকরী পাওয়া যায় না, যেগুলো পাওয়া যায় সেগুলো দিয়ে তুমি তো দুরের কথা আমি নিজে চলতেই কষ্টসাধ্য হয়ে যাবে।

–তা এখন কি করবে শু

–কি আর করবো, প্রতিবার যা করো তাই এবার ও করো বিয়েটা ভেঙে দাও, আমাকে আর ছয়টা মাস সময় দাও কিছু একটা করে ফেলবো?

–এসব বলে এখন লাভ হবেনা, অনেক বিয়ে ভেঙেছি, দেড় বছরে কিছু করতে পারনি, সেখানে ছয়মাসে কি করবে জানা আছে আমার।

–ও তাহলে এখন আমাকে ছেড়ে চলে যাবে তাহলে অন্যের ঘরনী হয়ে?

–এ ছাড়া উপায় কি বলো

–সত্যি চলে যাবে পরী আমাকে ছেড়ে

–শোন আমার সময় হয়ে গেছে যাওয়ার, আপু ফোন দিয়েছে শপিং এ যেতে হবে। আর তুমি নিজেকে গুছিয়ে নাও, ভালো থেকো, বিয়ের কার্ড সময় মত পৌছে দিবো, বিয়েতে আসিও। ভালো থেকো।

–আমার প্রশ্নের উত্তর কিন্তু এটা ছিলো না পরী?

পরী কিছু না বলে চলে গেলো। পার্কের বেঞ্চ থেকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম। সময় কত স্বার্থপর, খুব সহজে মানুষ কে দুরে সরিয়ে দেয়।চলে গেলো আমাকে ছেড়ে। অবশ্য দোষ আমারও কম নয়, মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে আমি। পরিবারে আমরা তিনজন, বাবা অনেক বছর হলো আগত হয়েছে। মা আর ছোট একটা বোন আছে, এবার দশম শ্রেণীতে উঠেছে।
গ্রাম্য মফস্বল থেকে উঠে এসেছিলাম চাকরীর সন্ধানে, পাশাপাশি পড়াশোনা টা ও চালিয়ে নেওয়া। মা আগের মতো কাজ করতে পারেনা, তাই স্বপ্ন নিয়ে এসেছিলাম ইটপাথরের লোকারণ্যের ঢাকা শহরে। অনেক চেষ্টার পরও চাকরী নামে সোনার হরিণ টি পাওয়া হয়নি। ভার্চ্যুয়ালের এক ভাইয়ের মাধ্যমে স্থান হয় গাজীপুরে। জোগাড় হয় তিন টা টিউশনি। আগে ভাই করবো, উনি নাকি বিদেশ চলে যাবে অস্ট্রেলিয়া, স্কলারশিপ নিয়ে। তাই উনার টিউশনি গুলো আমাকে দিয়েছে।
মাস শেষে যা আসে নিজেকে কোনমতে চালিয়ে বাকী গুলো মায়ের কাছে পাঠিয়ে দিতাম।

আর পরীর সাথে পরিচয় হয়েছে আমার প্রথম ছাত্রী ইমার সুত্র ধরে,
একদিন ইমাকে পড়াতে এসে দেখি দুজন একসাথে বসে গল্প করছে

–ইমা পড়তে আসো

–স্যার চলে এসেছেন

–হুম বই খাতা নিয়ে আসো

–আজ পড়বো না স্যার

–কেন

–বাসায় আম্মু নেই

–তোমার আম্মু বাসায় নেই এর সাথে না পড়ার কি সম্পর্ক?

–ঐ আপনি এতো কথা বলেন কেন, ও পড়বে না বলেছে আজ পড়বে না ব্যস (অপরিচিত মেয়েটি)

–এক্সকিউজ মি আপনি কে

–স্যার ও আমার কাজিন পরী, আপনি আগে দেখেন নি কারণ আপু হোস্টেলে থাকে।

–আচ্ছা তুমি পড়তে আসো

–পড়বো বলছেনা ও (পরী নামে মেয়েটি)

–আচ্ছা আপনি ঝগড়াটে টাইপের নাকি কথার মাঝখানে জবাব কেন দেন বলেন তো?

–আপনাকে বলতে হবে সেটা।আর আপনি আজ চলে যান। ইমা পড়বে না, আর পড়তে চাইলে ও আমি দিবো না পড়তে, আপনি চলে যান তো,

এই বলে দুজনে আমাকে ঠেলতে ঠেলতে রুম থেকে বের করেই দরজা লাগিয়ে দিলো। কি আর করার বাধ্য হয়ে ম্যাসে চলে আসলাম।
পরের দিন ইমাকে পড়াতে গেলাম। ইমাকে পড়ানো শুরু করলাম, হঠাৎ ঘোমটা দেওয়া একটা মেয়ে আসলো নাস্তা নিয়ে, ইমাকে হাসতে দেখে বললাম

–কি আন্টি এখনো আসেনি তাই না

–জ্বী স্যার

–উনি কে নতুন কাজের মেয়ে

বলা দেরি তো ঘোমটা ফেলে রাগী মুড নিয়ে আগাতে দেরি নেই।
–কি আমি কাজের মেয়ে, আমাকে দেখে কি কাজের মেয়ে মনে হয়? (পরী)
–এই এই শান্ত হোন আপু
–তোর স্যার আমাকে কি বলেছে
–আপু তুমি আগে বসো, আর রাগ কমাও, স্যার তোমার মুখ দেখেনি তাই বলেছে, আগে ফুলি নাস্তা আনতো না, এনে দিতো আম্মু (ইমা)
–আচ্ছা বসলাম। (পরী

–স্যার নাস্তা নেন (ইমা)
–না আমি নাস্তা খাবো না
–কেন স্যার
–তোমার এই আপুর সাথে কালকে ও ঝগড়া হয়েছে, আজ ও হয়েছে, চায়ে কিছু মিশিয়ে দিতে পারে প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য।
(পরীর দিকে তাকিয়ে দেখি রাগে ফুলতেছে, শুধু পারছে না আমার ওপর আক্রমণ করতে -)

সেদিনের মতো পড়িয়ে চলে আসলাম। এভাবে প্রতিদিন কোন না কোন ভাবে পরীর সাথে দেখা হতো, পরী পরীর মতোইই সুন্দর, আগে খেয়াল করিনি, কি মায়াবী চেহারা, যদিও একটু জল্লাদ টাইপ, চোখের দিকে তাকালে যে কোন ছেলেই তার প্রেমে পড়তে বাধ্য হবে।
ইদানিং ইমাকে পড়ানোর সময় পরী দরজায় দাঁড়িয়ে থাকে, বিষয় টা অনেক দিন ধরে লক্ষ্য করেছি। মাঝে মাঝে চোখাচোখি ও হতো। চোখাচোখি হতেই পরী দরজা থেকে সরে যেতো। আগে আন্টি নাস্তা দিতো, এখনো প্রতিদিন নিয়ম করে পরী নাস্তা নিয়ে চলে আসে। আমি নাস্তা করার সময় এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে, ব্যপার টা আগে অস্বস্তি লাগলে ও এখন কেন জানি লাগেনা বরং ভালোই লাগে।

এভাবে দুমাস গেলো, হঠাৎ একদিন পড়িয়ে আসার সময় ইমা ডাক দিলো
–কিছু বলবে ইমা
–স্যার একটা কথা ছিলো
–কি বলো
–আমি না আপু বলবে
–কোন আপু
–পরী আপু
দরজার দিকে তাকিয়ে দেখলাম পরী মাথা নিচু করে তাকিয়ে আছে,
–স্যার আপনাকে আপু ভালোবাসে
–তো আমি করতে পারি
–আপনি কি করবেন মানে, আপনি ও আপু কে ভালোবাসবেন?
–এই পিচ্চি মেয়ে তুমি ভালোবাসার কি বুঝ
–স্যার আমাকে পিচ্চি বলবেন না, আমি নাইনে পড়ি, প্রেম কি জিনিস বুঝার মতো যথেষ্ট বয়স আমার হয়েছে হুম।
–আচ্ছা ঠিক আছে তুমি পেঁকে গেছো, তোমার আপুকে বলে দাও আমি উনার সাথে প্রেম করতে পারবো না?
–স্যার প্রেম না করলে আম্মুকে বলে দিবো?
–কি বলবে
–বলবো আপনি আমাকে (…………) পরী আপু না থাকলে …………………
–এতো বড় মিথ্যে কথা তুমি বলতে পারবে?
–কিছু করার নাই, আপনাকে রাজি হতে হবে।
–আচ্ছা আমি দুদিন ভেবে বলি
–ঠিক আছে বলিয়েন। তবে এই দুদিন পড়াতে আসবেন না, আম্মু কল দিলে বলবেন অসুস্থ আছেন।
–আচ্ছা ঠিক আছে

পরীর প্রেমে আমি পড়েছি কি না জানিনা, তবে ইমাকে পড়ানোর সময় পরীকে দরজায় না দেখলে আমারও কেমন জানি খারাপ লাগে, পরীকে মিস করি। তবে আমার মতো ছেলে কে পরীর মতো মেয়ের সাথে কখনো মানাবে না। কারণ পরীদের ফ্যামিলি স্ট্যাটাস আর আমাদের স্ট্যাটাস আকাশপাতাল তফাৎ।
কিন্তু ইমার কথা গুলো ভেবে কষ্ট লাগতেছে, ইমা যদি ওর আম্মুকে বলে দে তো মিথ্যে কথা গুলো তাহলে ওই ভাইয়ের মানসম্মান তো যাবেই সাথে আমার অবস্থা ও কাহিল হয়ে যাবে, কেননা ইমাকে পড়িয়ে মোটা অংকে টাকা পাই কিছু। যা দিয়ে আমার গ্রামের পরিবার টি চলে যায়।
অবশেষে ভেবে চিন্তে ডিসিশন নিলাম হ্যাঁ বলে দিবো। পরীর ও ভালো থাকা,, নিজেকে ও ভালো রাখা, কিন্তু জানিনা এই সম্পর্ক টা যদি করি তার ভবিষ্যৎ কি হবে।

রাতে খাওয়া শেষ করে শুয়ে ছিলাম, মোবাইল বেজে উঠলো, হাতে নিয়ে আননোন নাম্বার দেখে রিসিভ করলাম না। পরপর তিনবার বেজে উঠলো রিসিভ করে কানে দিতেই
–ওই ফোন রিসিভ করতে এতো সময় লাগে, কোন মেয়ের সাথে কথা বলতেছো?
–আশ্চর্য আপনি কে, আর এভাবে কথা বলছেন কেন?
–কে মানে ওই কয়টা মেয়ের সাথে কথা বলিস হ্যাঁ
–তুমি থেকে ডাইরেক্ট তুই
–এর থেকে বেশি কিছু থাকলে সেটাই বলতাম, বল রিসিভ করতে দেরি কেন হলো
–বলবো আগে বলেন আপনি কে? না হলে বলবো না কিছু
–আমি পরী (ভয়েস টা নরম সুর করে)
–ও আমার নাম্বার কোথায় ফেলেন?
–আমাকে আপনি করে বলতেছো কেন, নাম্বার ইমাকে দিয়ে চাচিআম্মুর কাজ থেকে নিয়েছি।
–ও কেমন আছেন
–আগে আপনি বলা বাদ দাও, দেখছো না আমি তুমি করে বলতেছি, যাতে সহজে বলতে পারো, আর আমার উত্তর কই।
–আচ্ছা ব্লাকমেইল টা উঠিয়ে নিলে হয় না?
–উঠালে কি হবে শুনি আমার উত্তর টা
— না ই হবে
–তাহলে উঠালাম না।
–এটা কিন্তু ঠিক না, আপনি আমার সম্পর্কে কতটুকু জানেন।
–যা জানার এই দুই মাসে জেনে নিয়েছি, আর একবার আপনি করে বললে কালকে ইমাকে পড়াতে আসলে সব চুল চিড়ে নিবো বললাম।
–না আর বলবো না, তুমি খুব ডেঞ্জারাস মেয়ে সেটা ভালো করেই বুঝেছি।
–হুম আমার উত্তর দাও
–হ্যাঁ ই দিলাম
–এবার প্রপোজ করো
–উইল ইউ মে রি মি পরী
–গাঁধা এটা বিয়ের প্রপোজাল প্রেমের নয়।
–প্রেমের ও একটা আছে নাকি?
–হুম আই লাভ ইউ শাওন
–ও আচ্ছা এটা, আলাভিউ পরী।
–ঠিক করে বলো
–আই লাভভ ইউ পরীইইইইইইই
–হুম লাভভ ইউ ঠু পাগল।

এভাবে দিন গুলো ভালোই চলতে ছিলো, পরী অনার্সে ভর্তি হলো। আমার অনার্স কম্প্লিট হলো। এর মধ্যে পরীর বিয়ের জন্য পাত্র দেখা শুরু করলো। ইনিয়েবিনিয়ে অনেক গুলো বিয়ে ভাঙলো।
আমাকে কিছু একটা করতে চাপ দিলো।
এর মধ্যে বাড়ি থেকে মা ফোন দিয়ে বললো ছোট বোন শ্রেয়ার টেস্ট পরীক্ষা সামনে, পরীক্ষার ফি দেওয়ার জন্য কিছু টাকা লাগবে, বোনটি কে কখনো ভালো কিছু দিতে পারিনি। তাই একসাথে পাঁচহাজার টাকা দিলাম। সামনে পরীক্ষা দিবে, ভালো দেখে জামা নিতে।
পরের দিন ই পরী বললো বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।
হাতে কোন টাকা নাই, রুমমেট জনির কথা শুনে ইট দেওয়ার প্লান টা করলাম। জনি ও নাকি ওর গার্লফ্রেন্ডের বিয়েতে এই কাজ টা করেছিলো।
আমি প্লান টা ব্যবহার করলাম কারণ পরী কে তো পাবোনা, ভালো কিছু উপহার দিয়ে নষ্ট করার দরকার কি, তারচেয়ে ভালো শয়তানি বুদ্ধি টা কাজে লাগাই,
পরে যা হবার হবে।
ঠিক তাইই হলো, ফোন দিয়ে হুমকি দিয়ে বললো পার্কে কালকে দেখা করতে।

পরীর কথা মতো পরীর দেওয়া নীল পাঞ্জাবি টা গায়ে দিয়ে পার্কের এক কোণে বসে আছি ছোট্ট একটা বেঞ্চিতে।
আমার সাথে আছে একটা খাম, পরীকি সারপ্রাইজ দিবো বলে বলিনি। পরে অবশ্য বিয়ের কথা শুনে আর বলি ও নি।
দুর থেকে লক্ষ্য করলাম সাদা গ্রাউন পরিহিতা একটা মেয়ে সামনের দিকে এগিয়ে আসতেছে। হাঁটার ভাব দেখে বুঝতে বাকি নেই যে এটাই পরী। কাছাকাছি আসতেই মনে হলো স্বর্ণ থেকে নেমে আসা এক রুপকথার অপ্সরী যেন।
আজও ডুবে যেতে ইচ্ছে করতেছে পরীর প্রেমে। তবে একটা কথা মাথায় কোন কিছুতেই ঢুকতেছেনা, পরী এখানে কিভাবে, আজ তো ওর বৌ ভাত।
পরী সামনে এসে আমার চারপাশে কয়েকটা চক্কর দিলো, তারপর বামপাশে বসলো।

–কি সাহেব এভাবে তাকিয়ে থাকলে হবে
–তুমি এতো সু……………
(পরোক্ষনে অন্যের বৌ কথা টা মনে পড়তেই পুরো কথা শেষ করলাম না)
—কি বলো
–না কিছুনা, সাথে আর কে আসছে তোমার বরকে নিয়ে এসেছো নিশ্চয়ই প্রাক্তন প্রেমিকের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য?
–মার ছিনো, আমি একাই এসেছি কেউ আসেনি।
–কিন্তু তুমি না এখন তোমার শ্বশুরবাড়িতে থাকার কথা?
–বিয়ে হলে তো শ্বশুরবাড়িতে থাকতাম
–মানে
–মানে হলো বিয়ে আমার না আমার কাজিনের হয়েছে, কেন তুমি কার্ড খুলে দেখোনি?
–না ফেলে দিয়েছি
–এই জন্য ই তোমাকে গাঁধা বলি।
শোন ছেলেটা দেখতে এসেছিলো আমাকে, যখন আমাদের একিই রুমে কথা বলতে দেওয়া হলো তখন উল্টাপাল্টা কথা বলে বিয়ে করতে নিষেধ করে দিই। আর তখন হুট করে আমার কাজিন রিয়া ডুকে যাগ আমার রুমে। ঐ ছেলেটা রিয়ালকে দেখেই পছন্দ করে ফেলে। আর কাল বিয়ে হয়েছে রিয়ার বুঝেছো এবার।
–হুম বুঝেছি, তা তুমি কি বলে বিয়েটা ভেঙেছো
–ছেলে টা কে বলেছি আমার চোখ একটা ত্যাড়া, উল্টো করে দেখাই ও, তারপর বলেছি তোমার সাথে আমার বিয়ে অনেক আগে হয়েছে, এমন কি আমাদের বেবি ও আছে একটা, বেবিটা তোমার কাছে আছে, আমি কলেজের নাম করে তোমার বাসা যাই বেবীর দেখাশোনা করি।
–আমাদের বেবী তো নাই মিথ্যে বললে কেন?
–গাধা তোমাকে এমনি এমনি বলি, বেবীর কথা না বললে বিয়ে ভাঙতো না।
–আচ্ছা পরী আমি কি সত্যি গাধা
-+যা দুষ্টুমি করলাম আমার পাগল টা অনেক ভালো, তা তুমি কেন ইট দিয়েছো আমাকে
–ও হ্যাঁ ভালো কথা, ফিতা আর গিফট পেপার মোড়ানো ত্রিশ টাকা খরচ গেছে, দিয়ে দিবে টাকা টা প্লিজ।
–কেউ গার্লফ্রেন্ডের বিয়েতে ইট উপহার দে
–দিয়েছে তো আমার রুমমেট জনি।
–হ্যাঁ ওকে পাই তারপর বুঝাবোনে কুবুদ্ধি দেওয়ার পরিনাম কি হয়।
–আচ্ছা পরী শোন একটা সারপ্রাইজ আছে
–কই দেখি
–এই টা খুলো (খাম টা এগিয়ে দিয়ে)
–জয়েন লেটার কিসের গো এটা
–একটা কেজি স্কুলে জব হয়েছে। ঐ দিন বলবো ভেবেছিলাম, তোমার বিয়ের কথা বলাতে আর বলতে পারিনি।এক তারিখে জয়েন দিবো।
–সত্যি (জড়িয়ে ধরে)
–হুম সত্যি
–লাভভ ইউ জাবু উম্মাহহহহহহহ

হয়েছে ছাড় এবার, ঐদিন ঠিক ই চলে গেছো ছেড়ে, তারপরে একটু ও খবর নাও নি? (অনেক টা অভিমান করে)
–কে বলেছে খবর নিই নি, তুমি জাহিদ কে জিজ্ঞেস করিও তো তোমার পাশের রুমমেট খবর নিয়েছি না কি না নিয়েছি
–ওয়েট ওয়েট তুমি জাহিদ কে কিভাবে ছিনো
–জাহিদ আমার ফুফাতো ভাই
–কিহহহহ আগে বলোনি কেন
–বললে কি আর তোমার সব খবর পেতাম বলো।
অনেক হয়েছে চলো এখন আইসক্রিম খাবো।
–আমার কাছে টাকা নাই যে
–আমি তোমাকে টাকার কথা বলেছি। আমার সাথে এসো। আর শোনো স্কুলে জয়েন করলে শিক্ষক মিলনায়তনে বেশীক্ষন থাকবে না, কোন মেডি ম্যাম থাকলে একদম ই না। আমি কিন্তু খবর রাখবো হু
–আচ্ছা বাবা রাখিও। আমার এমনিতে মেয়েদের সাথে কথা বলার জড়তা আছে।
–জানি জানি সুযোগ পেলে লুচু গিরী করতে সম নাও না যে
*-ছিছি এসব কি বলো।
–নাও খাও আমরা তিনমাস পর বিয়ে করছি ওকে
–তুমি যখন চাও হবে।
–হুম।
তারপর দিন চলতেছে দুজনের, অপেক্ষায় আছি কখন পরীকে নিজের করে পাবো। দুজনের স্বপ্ন গুলো কে বাস্তবে রুপান্তর করতে পারবো। এখন আমার ফ্যামিলির অবস্থা ও অনেক ভালো। ছোট বোন শ্রেয়া ইন্টারে পড়তেছে। মা অনেক ভালো আছে।

একবছর পর ……………………
–এই উঠো ঘুম থেকে
–না আর একটু ঘুমাতে দাও
–না আর ঘুমানো যাবেনা, তাড়াতাড়ি উঠো, মনে নাই আজ আম্মু আর শ্রেয়া আসবে। যাও বাজারে যাও বাজার করে নিয়ে আসো। (পরী)
–উফ বিরক্ত করো না ত, আসো তুমিও ঘুমাও একটু
(পরীকে একটানা দিয়ে বুকি নিয়ে)
–কি আমি বিরক্ত করি
–সরি জানু ঘুমের ঘোরে বলে ফেলেছি, আসো একটু রোমান্স করি
–আমার ওতো সময় নেই তোমার সাথে রোমান্স করার উঠো মা চলে আসবে তো।
–আচ্ছা সকালের পাওনা টা দিয়ে যাও তাহলে।
–দুষ্টুমি না করলে তোমার ভালো লাগে না তাই না। (বলেই ঠোঁটে একটা স্পর্শ দিলো)
–এই তো আমার বৌ টা কত লক্ষ্মী।
–এইইইই শোনোওওওওওও আসার সময় মনে করে কিন্তু আইসক্রিম নিয়ে আসবে। না আজ তোমার খাওয়া বন্ধ।

পাগলী টা বলেছিলো বিয়ের প্রথম রাতে যখন তার মনে যা চাইবে তাই দিতে হবে।
এই যেমন চাঁদনী রাতে একসাথে চাঁদ দেখা,রাতের বেলা ফুসকা খাওয়া, মাঝ রাতে আইসক্রিম চাইলে অবশ্যই আইসক্রিম এনে খাওয়ানো, খুব সকালে স্নিগ্ধ ভেজা শিশিরের ওপর খালি পায়ে হাট, হঠাৎ নিয়নের আলোই তাহার হাতটি ধরে হাটা, হাটার মধ্যে যখন বলবে কোলে নিতে হবে, সবশেষে সারাজীবন এক বুকে যেন আর কারো ঠাঁই না দেওয়া। এমন কি আমাদের বাচ্চা হলে ও না। জানিনা বাচ্চা হলে তারপর বড় হলে তারা কি বলবে।
যথাসাধ্য চেষ্টা করি পাগলীর চাওয়া গুলো পূরণ করার জন্য।
আর দুষ্টু মিষ্টি খুনসুটির মধ্য দিয়ে ই চলে যাচ্ছে আমাদের টুনাটুনির সংসার।
দোয়া করবেন যাতে সারা জীবন যেন একসাথে থাকতে পারি।

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত