বিবাহিত ব্যাচেলর

বিবাহিত ব্যাচেলর

-‘আপনারা বাপ-ব্যাটা মিলে আমায় এভাবে জোর করে তুলে এনেছেন লজ্জা করে না আপনাদের?’
চোখে মুখে ক্রোধ আর রাগের আগুন নিয়ে কথা টা বলল জিদনি।
ঠোঁটে এক চিলতে হাসি ফুটিয়ে রুহুল সাহেব বলল,
-‘মুখ সামলে কথা বলো জিদনি।’
-‘আপনাদের মানুষের সাথে আর কিভাবে কথা বলবো? আপনাদের মত জগন্য মানুষ পৃথিবীতে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না।’
এ পর্যায়ে চুপ করে থাকতে পারলো না তূর্য। জিদনি কে উদ্দেশ্য করে রাহুল সাহেব কে বলল,
-‘আব্বা অরে কিন্তু চুপ থাকতে কন। অয় বেশী কথা কয়।’
রাহুল সাহেব ঠান্ডা গলায় বলল,
-‘আহ্ বাজান! সব সময় মাথা গরম করলে কি চলে? মেয়েটা বিয়ের সাজ সাজতে পার্লারে আসলো সেখান থেকে আমরা তুলে নিয়ে আসলাম। রাগে তো দুই একটা কথা বলতেই পারে।’
জিদনি বিনয়ের সুরে বলল,
-‘প্লীজ আংকেল আমায় যেতে দিন। আজকে যদি বরপক্ষ এসে ফিরে যায় আমার আব্বার মান-সম্মান শেষ হয়ে যাবে।’
তূর্য বলল,

-‘মান-সম্মান তোর আব্বার একলা আছে আমাগো নাই তাই না? তোর আব্বার কাছে আমার আব্বা সাতাশ বার বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে গেছে। প্রত্যেক বার ই তোর আব্বা আমার আব্বা কে অপমান করছে। হ মানছি আমি গুন্ডা মারামারি করি,সিগারেট খাই, যা ইচ্ছা তাই করি। কিন্তু আমি তো তোকে মন থেকে ভালোবাসি। বুঝ হওয়ার পর থেকে তোরে ভালোবাসি। তুই যদি একবার আমার হাত টা ধরতি আমার ভালো হইয়া যাইতাম। তা না কইরা তুই আর তোর ফ্যামিলি আমাগো শুধু ঘৃন্যই করেই যাস।’
রাহুল সাহেব বললেন,

-‘তূর্য এখন এসব কথা রাখ। কাজী সাহেবের কাছে ফোন দে ওই ব্যাটা এখনও আসছে না কেন?’
দুই চোখ দিয়ে আষাঢ়ের ধারায় জলস্রোত প্রবাহিত হচ্ছে জিদনির। আর কতক্ষন পর বর পক্ষ আসবে। হয়ত বাবা-মা এখন খুঁজতে শুরু করে দিয়েছে। বর পক্ষ এসে যদি কনে না পায় বাবার মান-সম্মান থাকবে না। সমাজে মুখ দেখাতে পারবে না।
জিদনির কান্না দেখে রাহুল সাহেব বলল,

-‘জিদনি মা কাইন্দো না। তোমার আব্বা রে আমি কালকেও বলছি মেয়ে টার বিয়ে অন্য জায়গায় দিয়েন না। আমার পোলায় অনেক ভালোবাসে আপনার মাইয়ারে। আপনার মাইয়ার অন্য কোথায়ও বিয়ে হয়ে গেলে আমার পোলা ডা বাঁচবো না। কিন্তু তোমার আব্বা আমার কথার দামই দিলো না।’
জিদনি চোখ মুছে এবার বলল,

-‘আপনারা আমায় ভালোয় ভালোয় যেতে দেন নয়ত কিন্তু আমি পুলিশে দিবো আপনাদের।’
রাহুল সাহেব বলল,

-‘জিদনি তুমি ভুলে যাচ্ছো আমি এই এলাকার চেয়ারম্যান। পুলিশ আমায় কি করবে বলো? আমরা যে তোমায় তুলে এনেছি এর কোন প্রমান নেই।’

-‘হ্যাঁ এটাই আমার দুর্ভাগ্য যে আপনার মত মানুষ চেয়ারম্যান।’
তূর্য চেঁচিয়ে বলল,

-‘জিদনি মুখ সামলে কথা বল কিন্তু।’
রাহুল সাহেব বলল,
-‘তূর্য ওকে বলতে দে।’

কিছুক্ষন পর রাহুল সাহেব আবার বলল,
-‘তূর্য কাজী সাহেব এখনও আসছে না কেন? এখানে বেশীক্ষন থাকা ঠিক হবে না।’
-‘আর পাঁচ মিনিট পর আসবে।’
তূর্য জিদনির দিকে তাকিয়ে বলল,
-‘তোর আব্বার সাথে চ্যালেঞ্জ করছিলাম না তোকে বিয়ে করবই। এবার তো দেখলি আমরা কি পারি?’
-‘অমানুষ রা সব ই পারে।’
-‘বেশী চটাং চটাং কথা বলতে শিখছোস না?’
জিদনি রাহুল সাহেবের দিকে তাকিয়ে বলল,
-‘আংকেল অনেক হয়েছে এবার আমায় যেতে দিন। আপনাদের কি সামান্য বিবেক-বিবেচনা নেই? একটা মেয়ের বিয়ে ভেঙে দিচ্ছেন এভাবে।’
-‘বিয়ে ভেঙে দিলাম কই? তোমায় আমার ছেলের সাথে বিয়ে দিতেই তো এখানে আনলাম। আর তোমার বাবা যে ছেলের সাথে তোমার বিয়ের আয়োজন করেছে তাঁদের থেকে আমাদের টাকা-পয়সা,আভিজাত্য কোন দিক থেকে কম নেই বরংচ বেশী।’
-‘শুধু টাকা-পয়সা থাকলেই হয় না আংকেল।’
তূর্য বলল,
-‘তো আর কি থাকা লাগে?’
চুপ করে বসে আছে জিদনি কি করবে বুঝতে পারছে না।
কাজী সাহেব মাত্র আসলেন। রাহুল সাহেব উঠে হ্যান্ড শেক করে বললেন,
-‘আসতে এত লেট করলেন যে?’
-‘একটু কাজ ছিলো চেয়ারম্যান সাহেব।’
-‘আচ্ছা তাড়াতাড়ি বিয়ের কাজ শেষ করুন।’
জিদনি এবার চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালো। বলল,
-‘আপনি এ বিয়ে পড়াবেন না। উনারা আমায় জোর করে ধরে এনেছে।’
তূর্য বলল,
-‘আপনি ওর কথা শুনেন না তো তাড়াতাড়ি বিয়ে পড়ান।’
চেয়ারম্যানের কথা অগ্রাহ্য করার ক্ষমতা কাজী সাহেবের নেই।
জিদনি চেঁচিয়ে বলল,
-‘মরে গেলেও কবুল বলবো না।’
রাহুল সাহেব শান্ত কন্ঠে বলল,
-‘জিদনি পাগলামী করো না । তুমি যদি উল্টা-পাল্টা কিছু বলো তোমার মা-বাবার অবস্থা খারাপ হবে।’
নিরুপয় হয়ে বসে রইল জিদনি। রাহুল সাহেব কে জিদনি ছোট বেলা থেকে চিনে। লোকটা সব করতে পারে।

বর পক্ষ অনেক আগে এসে পড়েছে। জিদনি কে পাগলের মত খুঁজছে সবাই। পার্লার থেকে সেজে বের হওয়ার সময় তুলে নিয়ে যায় জিদনি কে। কোথায় নিয়েছে বা কে নিয়েছে তা কেউ বলতে পারে না। জিদনির বাবার ধারনা তূর্য ছাড়া এ কাজ কে করবে। কিন্তু তূর্যের বাবা তো বলল তূর্য দেশের বাইরে চলে গেছে। কিছুই ভাবতে পারছে না উনি। মেয়ের বিয়ে সময় এমন ঘটনা মান-সম্মান এবার আর থাকলো না । বর পক্ষ কে কি বলবে।

নাকি জিদনি কে কেউ কিডনাপ করেছে। জিদনির সাথে 17 ভরি গহনা ছিলো। নাকি সন্ত্রাসী রা নিয়ে গেছে জিদনি কে । কিছুই ভাবতে পারছে না। কাজী সাহেব রাহুল সাহেবের দিকে তাকিয়ে বিরক্তির সুরে বলল,
-‘এ মেয়ে তো কবুল বলছে না।’
রাহুল সাহেব একটু নড়চড়ে বসে বলল,

-‘কাজী সাহেব আপনি তো জানেন আমাদের বংশে একটা এতিহ্যবাহী প্রথা আছে। আমাদের কাছে কেউ মেয়ে বিয়ে দিতে চায় না।আমার চৌদ্দ পুরুষ এভাবে মেয়ে তুলে এনে জোর করে বিয়ে করেছে। এই যে দেখেন তূর্যের আম্মু কেও আমি কলেজ থেকে তুলে নিয়ে এসে বিয়ে করি।পূর্বপুরুষের কাছে শোনা, সবাই ই নাকি কবুল বলতে চায় নি। কবুল বলাতে আধাঘন্টা সময় লেগেছে কিন্তু এই মেয়ে এলরেডী পয়ত্রিশ মিনিট পার করে ফেলছে।’

কাজী সাহেব গভীর মনযোগ দিয়ে রাহুল সাহেবের কথা শুনছে। লোকটা কত সাবলীল ভাবে কথা গুলো বলছে।
এভাবে কবুল বলানোর জন্য বসে থাকতে থাকতে অসহ্য হয়ে গেছে তূর্য। রাহুল সাহেব কে উদ্দেশ্য করে বলল,
-‘আব্বা অয় এত সহজে কবুল বলবে না। যা করার তাই করতে হবে।’
রাহুল সাহেব জিদনির দিকে আড় চোখে তাকিয়ে তূর্য কে বলল,

-‘আর একটু অপেক্ষা কর না বাপ। এত তাড়াহুড়া করলে চলে। ছোট বেলা থেকেই তো আমরা দেখে আসছি জিদনি খুব জেদী,একঘেয়ি। আর পাঁচ মিনিটের মধ্যে যদি ও কবুল না বলে তারপর যা হবার হবে।’
চমকে জিদনি বলে,

-‘কি করবেন কি আপনারা? মেরে ফেলবেন আমায়? আচ্ছা মারুন।’
রাহুল সাহেব বলল,
-‘তুমি আমার বাড়ির হবু পুত্রবধূ তোমায় মারব এটা কি হয় বলো? যা করার তাই করব।’

চারদিকে লোক পাঠিয়ে জিদনি কে খুঁজছে ওর বাবা-মা । বর পক্ষ কে অনেক অনুরোধ করে বসিয়ে রেখেছে। পারা-প্রতিবেশী এক এক জন এক এক রকম কথা বলছে। জিদনির মা কাঁদতে কাঁদতে জিদনির বাবা উদ্দেশ্য বলল,
-‘তুমি একবার চেয়ারম্যান বাড়ি খোঁজ নিয়ে দেখো। আমার তো মনে হচ্ছে উনারা জিদনি কে তুলে নিয়ে গেছে।’
-‘নিয়ে গেলেও কি ওরা জিদনি কে বাসায় রেখেছে? আর আমার মনে হয় অন্য কেউ। তূর্য তো কয়েক দিন আগে দেশের বাইরে গেলো।’

কান্নায় ভেঙে পড়ছে জিদনির মা। জিদনির বাবা চশমার ফাঁক দিয়ে চোখ মুছে বলল,
-‘কেঁদো না তুমি। টেনশন করো না হার্টের প্রোবলেম টা বাড়বে তাহলে।’
-‘আমার একটাই মেয়ে আমি কি করবো? আমার মেয়ে টা পাচ্ছি না। কার এমন শত্রুতা আমাদের সাথে?’
জিদনির বাবা কিছুক্ষন চুপ থেকে বলল,

-‘এমনও তো হতে পারে তোমার মেয়ের সাথে কারো সম্পর্ক ছিলো। তাঁর সাথে পালিয়ে গেছে।’
-‘কি আবল তাবল বকছো?’
-‘কে এমন হয় না? হতে পারে না? আমি কাকে দোষারপ করব বলো?’
চারদিকে যত লোক পাঠিয়েছে কেউই খুঁজে পায় নি জিদনি কে । হতাশ হয়ে বসে রইল জিদনির বাবা। আত্মীয়-স্বজনের মান-সম্মান সব শেষ হয়ে গেলো।
-‘আমি নিজে যাবো জিদনি কে খুঁজতে।’
জিদনির মা বলল,
-‘বাসা ভরা মেহমান তাঁর ভেতর তুমি কোথায় যাবা?’
-‘আচ্ছা চেয়ারম্যান দের তো দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। উনারা কি এসেছে?’
-‘চেয়ারম্যান কে তো তুমি কম অপমান করো নি। তোমার কি মনে হয় উনি আসবে? আর তূর্য জিদনি কে শুধু ভালোবাসত কখনো রাস্তা-ঘাটে বিরক্ত করে নি ।’
জিদনির বাবা বিরক্ত হয়ে বলল,
-‘কি বলতে চাও তুমি? ওরকম একটা লাফাঙ্গা ছেলের কাছে আমার মেয়ে বিয়ে দিবো?’

বরের বাবা এসে জিদনির বাবা কে বলল,
-‘আর কতক্ষন বসে থাকবো?আপনাদের প্রোবলেম কি বলুন? এরকম শুরু করেছেন কেন? এতক্ষন এভাবে বসে থাকা বেমানান ব্যাপার।’
বরপক্ষ আসার পর কিছু খেতেও দেয় নি। খালি মুখে এতক্ষন বসিয়ে রেখেছে। এরকম দুঃচিন্তার মধ্যে এতসব কারই বা খেয়াল থাকে। জিদনির বাবা বিনয়ের শুরু বলল,
-‘আর একটু ওয়েট করেন প্লীজ।’
-‘আপনাদের প্রোবলেম কি বলেন তো?’
-‘না তেমন কোন প্রোবলেম নেই। আপনারা আর দশ মিনিট ওয়েট করুন।’
-‘দেখুন এভাবে ওয়েট করা বেমানান। আপনাদের প্রোবলেম কি বলেন?’
জিদনির মা শান্ত গলায় বলল,
-‘জিদনি কে কারা যেন তুলে নিয়ে গেছে।’
বরের বাবা থ গেছে কথাটা শুনে। জিদনির বাবা জিদনির মায়ের দিকে চোখ লাল করে তাকাচ্ছে যায় মানে উনাকে এখন এটা বলছে কেন?
এভাবে উনাদের ওয়েট করানোর মানে খুঁজে পায় না জিদনির মা। আর সত্যি না বলেই বা উপায় কি? বরের বাবা বলল,
-‘কি বলেন এসব? এরকম হলে আমার মান-সম্মান সব যাবে । লোকে আমায় কি বলবে? কত আয়োজন কত টাকা খরচ হয়েছে।’
এক নাগাড়ে কথা গুলো বলে যাচ্ছে বরের বাবা। লোক টা পাগলের মত আচরন করছে।
জিদনির বাবা বলল,
-‘দেখেন আমার একটাই মেয়ে ছেলে টা তো ছোট। আমায় মেয়ে পাচ্ছি না। কত টা কষ্ট,দুঃচিন্তায় আছি আমরা। চারদিকে লোক পাঠিয়েছি। আমরা আপনাদের ব্যাপার টা বুঝতে পারছি কিন্তু আমরা তো নিরুপয়। আমার মেয়েটা কারা তুলে নিয়েছে,কেন নিয়েছে কিছুই জানি না।’
-‘মেয়ে তুলে নিয়ে গেছে নাকি মেয়ে কারো সাথে চলে গেছে?’
-‘মুখ সামলে কথা বলুন। আমাদের মেয়ে নিখোঁজ আগে আমার মেয়ে টা বাঁচুক তারপর বিয়ে। আপনারা ওয়েট করতে না পারলে চলে যান। অযথা চেঁচাবেন না।’
বরপক্ষের সবাই এক জায়গায় জড়ো হয়েছে। এক এক জন এক এক রকম কথা বলছে। সব শুনেও না শোনার ভান করছে জিদনির বাবা।
বরপক্ষের সবাই রীতিমত চিল্লা-পাল্লা শুরু করছে। জিদনির বাবা কে বলছে,
-‘এটা কোন ধরনের ভদ্রতা? এভাবে আমাদের অপমান করলেন কেন?’
জিদনির বাবা মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে এঁদের কিছু বলে লাভ নেই।
শেষে অধৈর্য হয়ে বলল,
-‘আপনারা চলে যান।’
-‘আপনাদের পুলিশে দিবো,মানহানি মামলা করবো।’
এবার আর চুপ থাকতে পারলো না জিদনির মা। বলল,
-‘মূর্খ মানুষের মত কথা না বলে এক্ষুনি আমার বাসা থেকে বের হয়ে যান। আমাদের মেয়ে পাচ্ছি না আর উনারা আমাদের পুলিশে দিতে আসছে যা পারেন করেন।’

লোক জনের কথায় অতিষ্ট হয়ে যাচ্ছে জিদনির মা-বাবা।
কথা না শুনে উপায় নেই। চুপ-চাপ সবার কথা শুনে যাচ্ছে। বর পক্ষের লোকজন আস্তে আস্তে চলে যাচ্ছে। যাওয়ার আগে বরের বাবা বলল,
-‘কাজটা ভালো করলেন না। আমাদের সব খরচ দিতে হবে। নয়ত থানায় যাবো।’

ঘন্টা পেরিয়ে গেলো জিদনি কবুল বলছে না। তূর্য বলল,
-‘বাবা কবুল ছাড়া বিয়ে করা যায় না। সব বিয়েয় যে কবুল বলতে হবে এমন তো কোন কথা নেই।’
কাজী সাহেব হাসবে না কাঁদবে বুঝতে পারছে না।
রাহুল সাহেব ধমক দিয়ে বলল,
-‘তূর্য ইডিয়টের মত কথা বলিস না বাপ।’
কাজী সাহেব অধৈর্য হয়ে বলল,
-‘কি করব বলেন? আর কতক্ষন বসে থাকবো।’
এর ভেতর রাহুল সাহেবের ফোন বেজে উঠে। তূর্যের মা সম্পা বেগমের ফোন। চেয়ার থেকে উঠে বারান্দায় গিয়ে ফোন রিসিভ করলো রাহুল সাহেব । ফোন রিসিভ করতেই ওপাশ থেকে বলল,
-‘তুমি আর তূর্য কোথায়? তূর্যের তো আরও আগে বাংলাদেশে আসার কথা। ও এখনও বাসায় আসে নি । ফোনও রিসিভ করছে না। আর সত্যি কথা বলো তোমরা কি জিদনির খবর জানো?’
এপাশ থেকে রাহুল সাহেব বলল,
-‘আরে সম্পা এক নিঃশ্বাসে এত কথা বলা ঠিক নয়। এক ধীরে সুস্থে কথা বলো ।এত উদ্বিগ্ন হচ্ছো কেন?’
-‘আমার মনে হচ্ছে তোমরা বাপ-ছেলে মিলে জিদনি কে তুলে নিয়ে গেছো।’
-‘এভাবে বলতে নেই বাজে শুনায় তো। আর আমি জিদনির খবর জানি না। পাগলের মত কথা বলো না।’
-‘ফাজলামি রাখো। জিদনি কোথায় সেটা বলো? অনেক বয়স হয়েছে এবার ভালো হয়ে যাও।’
-‘সম্পা উল্টা-পাল্টা বকো না। আমি কিছু জানি না। আমি অফিসে। ইমপরটেন্ট মিটিং চলছে রাখলাম।’
সম্পা বেগম কে আর কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে ফোন কেটে দিলো।
এসব কাজে ঘোর বিরোধী সম্পা বেগম। তাই উনাকে আপতত এসব জানাতে চাচ্ছে না।
কথা বলা শেষে বারান্দা থেকে এসে রাহুল সাহেব বলল,
-‘তূর্য অনেক হয়েছে এবার তুই গিয়ে ওর মা-বাবার সাথে দেখা করে আয়।’
জিদনি বলল,
-‘আংকেল বাবা-মায়ের কোন ক্ষতি করবেন না পায়ে ধরি।’
-‘পায়ে হাতে ধরতে হবে না কবুল বলো।’
তূর্য উঠে রওয়ানা হলো। জিদনি যেন নিরুপয় হয়ে গেলো। হেচকি দিয়ে কাঁদতে লাগলো ।বুক ফাটা আর্তনাতের মত মুখ থেকে অস্ফূট স্বরে বলল কবুল। তূর্যের চোখ মুখ খুশিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠল ।
কাজী সাহেব বলল,
-‘আরে মা তিন বার কবুল বলতে হয়।’
তূর্য বলল,
-‘থাক একবার বলাও যা। তিন বার বলাও তা।’
কাজী সাহেব ফিক করে হেসে দিলো । রাহুল সাহেব বলল,
-‘তূর্য এত পাগল হলে চলে?’
জিদনি তিন বার কবুল বলল।
কাজী সাহেব বলল,
-‘তূর্য তুমি কবুল বলবা না?’
তূর্য দাঁত ক্যালিয়ে বলল,
-‘কবুল,কবুল,কবুল।’
রাহুল সাহেব বলল,
-‘আরে বাজান একটু ধীরে সুস্থে বল। একটু ফরমালিটি আছে না।’
চলবে,,,,,,,

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত