বোরকাওয়ালী মেয়ে

বোরকাওয়ালী মেয়ে

সকাল গড়িয়ে দুপুর ছুঁই ছুঁই!

একটু পরপর কানে সুড়সুড়ি অনুভব করছিলাম!কানের উপর পিলু চেপে ধরে ঠাই শুয়ে রইলাম!

নাহ আর বাঁচা গেলোনা এবার পায়ের তালুতে সুড়সুড়ি লাগছে!বুঝলাম মিপতি ছাড়া আর কেউ না,চোখ বন্ধের মধ্যেই উঠে বসলাম!

“বইন তুর লগে আমার কোন জনমের শত্রুতা ছিল ক তো..”?

“ভাইয়া তুমি এত্ত পঁচা…?সারাক্ষণ পঁচা পঁচা কথা বলো!জানো এখন কয়টা বাজে?/?আমি স্কুল থেকে এসে পড়লাম আর তুমি এখনো ঘুমাচ্ছ…?

“ওরে পাকনা বুড়িরে!এদিকে আয় আমার চুল টেনে দে তো একটু!”(আমি)

“ইইইহ!আমি চুল টেনে দেই আর তুমি আবারও ঘুমাই পড়বা তাইনা…?

“আচ্ছা লক্ষী বইন আমার, তুরে আইজকা এত্ত গুলা কিটকাট কিইনা দিমু!দে না বইন চুল গুলা টাইনা দে!

“তুমি এরকম পঁচা কথা বললে আমি দিব না”

“আচ্ছা সরি এই নে কান ধরলাম,এবার দে!

বোন আমার কত্ত ভাল চুল টেনে দিচ্ছে আর আমার চোখ বুজে আসছে”কিন্তু দুষ্টু বোন টা চোখের পাতা বন্ধ করতে দিচ্ছেনা এক হাত দিয়ে টেনে ধরে রাখছে সে”

(আমি অভি,একটা পাবলিক ভার্সিটি তে অনার্স ফাইনাল ইয়ারে পড়ি আর যার সাথে এতক্ষন কথা হচ্ছিল সে আমার দুষ্টু মিষ্টি একমাত্র বোন!মিপতি,বয়স-৫ বছর, নার্সারি তে পড়ে, ঘুমাতে খুব পছন্দ করি আর বন্ধু মহলে একটা নাম আছে আমার “ফ্লার্ট বয়😜 আচ্ছা আপনারাই বলুন, এই বয়সে না করে কখন করবো মজা..?,সব সুন্দরী মেয়েদেরকে ভালবাসতে মন চাই এতে আমার কি দোষ…?)

গ্রামে থাকায় তেমন ভার্সিটিতে যাওয়া হয়না!আর যাদের জন্য যাওয়া তারাতো আমার কন্টাক্ট লিস্টে আছেই😜
(এক গাধা সুন্দরী মেয়ের নাম্বার)সারাদিন বন্ধুদের সাথে আড্ডায় মেতে থাকি আমি

ভাইয়া আম্মু বেত নিয়ে আসতেছে”(মিপতি)

কিইইহহ…?(উমা এ যে সত্যি সত্যিই বেত নিয়ে আসছে আম্মু)

“আম্মু এসব কি করছো…?

“তোর জন্য প্রতিদিন তুর আব্বু আমায় বকে আজকে তোকে ——নাম খাটের উপর থেকে, নেমে আয়!

“বেত হাত থেকে রাখো মা,কি করছো এসব মিপতি দেখতেছে তো..?

“দিনের ১২টা পর্যন্ত যে ঘুম বাবু হয়ে সারা বিছানায় বিচরণ করিস তখন দেখেনা??

খাটের অপর পাশ দিয়ে নেমে পেছন দিক থেকে আম্মুর হাত থেকে বেত দখল করে নিলাম আর হে হে করে হাসছিলাম”

“.ভাইয়া তোমার দাঁত গুলো যা বাজে!
ছিঃ ভাইয়া কয়দিন ব্রাশ করোনাই আল্লাহই জানে”

“কিইইইইই বললি তুই…? এই বলে বেত টা নিয়ে তাকেই তাড়া শুরু করলাম!
আম্মু আমার সব রাগ ভুলে হেসে দিলো আমাদের কাণ্ড দেখে”

গ্রামের রাস্তার পাশে বন্ধুদের সাথে দাঁড়িয়ে আছি—

“দেখ একজন বোরকাওয়ালী কে দেখা যাচ্ছে”(ইমরান)

“ধুরর ব্যাটা, কোন গেয়ো ভুতনী হবে,নাহয় আজকাল কেউ বোরকা নেকাব পড়ে…?(আমি)

মেয়েটা খুব জড়োসড়ো হয়ে হাটছে
অবাক হওয়ার ব্যাপার এই গরমেও হাত মোজা পা মোজা পড়েছে”

আমাদের সামনে দিয়েই পাশ কাটিয়ে চলে যাচ্ছিল মেয়েটা,
আর অমনিই মিজান শিষ বাজালো,সাথে ইমরানও

সুহান গলা ছেড়ে বলছে”পড়েনা চোখের পলক কি তোমার রূপের ঝলক”

আমি পলকহীনভাবে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে আছি,কারন এত কিছুর পরও একবারও এদিকে চোখ তুলে তাকায়নি!!

আবার উলটো দিকে হাটছে মেয়েটা,
এদিকেই আসছে মানে আমাদের গ্রুপের দিকেই সোজা আমার সামনে এসে কিছু বুঝে উঠার আগেই আমার গালে প্রচণ্ড জোরে চড় বসিয়ে দিল! আবার বিপরীত দিকে হাটা দিলো!
এক পলক আমার চোখাচোখি হলো!কিছু বলতে যাব, কিন্তু আমি যেন বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেছি একটা কথাও মুখ দিয়ে বের হলোনা রাগ দেখাবো তো দূর

ঘটনার আকস্মিকতায় এখনো গালে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম,বুঝলাম

আমি সবার সামনে থাকাই, ভেবেছিল হয়ত আমিই এখানে দলনেতা,”

“শালা দাড়া তোদের কে আজকে জ্যান্ত পুঁতে ফেলমু,তোদের কারনেই এটা হলো”

“”আরে মামু ব্যাপার না, ভালবেসে আদর করে দিছে “এই বলে তিনজনই দিল ভৌ দৌড় ”

পিছু নিয়েও লাভ হলোনা!ততক্ষনে চম্পট দিয়েছে বান্দর গুলা”

আনমনে হাটছিলাম”বার বার মেয়েটার চোখ গুলো ভেসে উঠছে আমার চোখে, কিছুই বুঝতে পারছিনা”

আবার ভাবছি”আচ্ছা মেয়েটা একটা শব্দ কথাও বললোনা কেন??কোন গালাগালও দিল না”কেন…?

ভাবতে ভাবতেই একটা গাছের সাথে জুরে ধাক্কা খেলাম!মাথাটা যেন ঝিম করে উঠলো”

ধুরর”কি যে হয়েছে আমার!

বাড়ি গিয়েও আনমনে বসে ভাবছি,মেয়েটার চোখ দুটো যেন আমায় ঘায়েল করেছে!

মিপতি এসে কান টানছে,চুল টানছে,ঠোট গুলোও টানতেছে সাথে,আমার কোন ভ্রুক্ষেপ নাই সেদিকে!

“ভাইয়া কি হয়েছে তোমার…?আজকে এত চুপচাপ কেন…?আম্মু আম্মু ভাইয়াকে মনে হয় ভুতে ধরছে, দেখোনা আম্মু ভাইয়া আমার সাথে কথাই বলছেনা,এই বলে ভ্যা ভ্যা করে কাঁদতে লাগলো!

ওর অবস্থা দেখে আমার খুব হাসি পাচ্ছিল”আদর করে কোলে তুলে নিলাম”আর পকেট থেকে ৩টা কিটকাট বের করে দিলাম ওর হাতে”
আর সে খুশিতে একটা পাপ্পি দিয়ে কোল থেকে নেমে গেলো

আম্মু আম্মু ভাইয়ার কিচ্ছু হয়নি,দেখো আমার জন্য কত্ত চকলেট আনছে ভাইয়া”

আম্মু ওর কথা শুনে হাসতে লাগলো!

দুপুরে খেয়েদেয়ে আবার ঐ জায়গায় গিয়ে দাঁড়ালাম!
মেয়েটাকে যেতে হলে এই রাস্তা দিয়েই যেতে হবে,

প্রায় ২ঘন্টা ধরে আছি এই জায়গায়, একবার বসি আবার উঠি!নাহহ! আর অপেক্ষা করা যাচ্ছেনা পাও ব্যথা হয়ে গেছে!

চলে যাওয়ার চিন্তা করতেই দেখি মেয়েটা আসছে!
নিচের দিকে তাকিয়ে হেটে চলেছে,
আমি মনে মনে দোয়া করছি যাতে একবার এদিকে তাকায়!!

পলক ফেলছিনা,পলক ফেললেই মনে হচ্ছে ওর চাহনি টা মিস করব তাই”

যা-ই চেয়েছিলাম মনে মনে”মাত্র কয়েক সেকেন্ড এর জন্য তাকালো এদিকে তাতেই আমার হার্টবিট ফাস্ট হয়ে গেলো”
এবার আরও ভয়ার্ত পায়ে মেয়েটা গুটিসুটি হয়ে হাটছে’”

আমি আবারও বাকরুদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে রইলাম,মুখ দিয়ে কোন শব্দই বের হতে চাইছেনা!

মেয়েটা চলে গেলো,যাহহ!!বাবা!আমি কি হয়ে গেলাম!এত্ত এত্ত মেয়েদের সাথে কথা বলে আসছি কিন্তু এই মেয়ের বেলায় কেন এত কনফিউশন হচ্ছে কিছুই বুঝলাম না নিজের মাথায় নিজেই চড় দিলাম!

কি”রে মামু,ফোন দিতাছি ফোন ধরিস না ক্যান! আর এইখানে একা দাঁড়িয়ে কোন মায়াবতীরে দেহস…?(মিজান)

‘দোস্তো আমি মনে হয় প্রেমে পড়ে গেছি(আমি)

“আহ!হা!হা!এ আর নতুন কি..? এই পর্যন্ত লাখের উপরে ক্রাশ খেয়েছিস আর হাজারের উপরে প্রেম করেছিস!সেটা আর বলতে হয়..?(ইমরান)
আবারও সে শব্দ করে হাসে সাথে মিজানও তাল মিলায়”খসে একটা চড় দিলাম ইমরানের গালে”
শালা সিরিয়াস কথায়ও মজা ন্যাস!গনেশের বাচ্চা!

দুজন বেকুব বনে হা হয়ে আছে আমার দিকে!
মামু একটা চিমটি দ্যা দেহি(মিজান)

“উহহফ!!!অই তুই আমারে চিমটাইলি ক্যান হারামি…?(ইমরান এতই অবাক হয়েছে যে চিমটি কার গায়ে কাটতেছে সে নিজেও জানেনা,আমারেই চিমটি দিয়া দিলো তাও এত্ত জুরে)

শালারে বাস্তবে ফিরাই আনতে আরেকটা চড় মারতে হইলো😜

আমি সত্যিই মেয়েটার চোখের প্রেমে পড়ছি,এই পর্যন্ত, মিম,মৌমিতা,ফারিয়া আরও বেশ কয়েক জনে ফোন দিয়েছে,কিন্তু আমার কথা বলার ধরণ দেখে নিজে থেকেই লাইন কেটে দিয়েছে!

বুঝতে পারছিনা আমার কিচ্ছুই ভাল লাগছেনা, শুধু সময় গুনছি কখন সকাল হবে, মেয়েটার কয়েক সেকেন্ড এর এক পলক তাকানো টাকে দেখার জন্য সারাক্ষন বেকুল হয়ে থাকি,

এভাবে বেশ কিছুদিন কেটে যায়
এখনো একটা শব্দও কথা হয়নি মেয়েটির সাথে!
প্রতিবার কিছু বলতে চেয়েও পারিনা এতটুকু সাহস হয়না!

একদিন সকাল থেকেই প্রেক্টিস করে যাচ্ছি কিভাবে মেয়েটাকে ডাকা যায়!

পারলাম নাহহহ!বিকালেও গিয়ে দাঁড়ালাম, আমাকে আজকে কথা বলতেই হবে!

মেয়েটা যখন আমার এক হাত দুরত্বে অবস্থান করছে,তখনই”””

“শুনেন”(এটুকু বলতেই আমার হার্টবিট স্টপ হয়ে গেলো এক মুহুর্তের জন্য)

থমকে দাড়ালো মেয়েটা!নিচের দিকে তাকিয়েই খুব নিচু স্বরে বললো””বলুন”
একটু সাহস পেয়ে বললাম”আপনার নামটা কি জানতে পারি?”
“দেখুন এভাবে রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে থাকা কোন সুপুরুষের কাজ না,এভাবে কথা বলতে কেউ দেখলে অনেক খারাপ ভাববে(এই বলে মেয়েটা হাটা শুরু করলো”)

আমি অনেকটা উঁচু গলায় বললাম”ঠিক আছে আমি আর দাঁড়াবো না,কিন্তু নাম টা..?

সারাহ”(চাপা কন্ঠে বলল)

আমি তো খুশিতে আত্মহারা হয়ে পড়ি!!!
যতটা সুন্দর চোখ,তার চেয়ে সুন্দর ওর কন্ঠটা,তেমনি নামটাও!!

সত্যিই আমি পাগলই হয়ে যাব মনে হয়!আমার মেয়েটাকে চাই ই চাই!

পরদিন একটা চিঠি লিখলাম,

“সারাহ,যেদিন তোমার চোখে চোখ পড়ছিল সেদিনই আমি হারিয়ে ফেলেছি নিজেকে তোমার মাঝে,উঠতে বসতে শুধু তোমার চোখটাই ভেসে উঠে,আর যেদিন তুমি কয়েকটা কথা বলেছিলে সেদিন থেকে তো ঘুমই হয়না,শুধু কানে ভেসে আসে তোমার কোকিল কন্ঠ!সহজ ভাষায় বললে বলবো”আমি তোমাকে ভালবাসি “! উত্তরের আশায় রইলাম”(অভি)

যদিও রাস্তার পাশে যাওয়ার ইচ্ছা ছিল না,কিন্তু আমার এই কাগজটা ওর কাছে পৌছাতেই হবে”আবার ভাবলাম,যদি রাগ হয় আমাকে দেখে তাই”

মিপতির সাহায্য নিলাম,যদিও ওরে বুঝায়তে অনেক কষ্ট হলো যে এই কাগজ টা একটা মেয়েকে দিতে হবে!কিন্তু তার বিনিময় হিসেবে সে এত্তগুলো চকলেট দাবী করলো!তাতে কি এই কাজটার জন্য তো আমি চকলেটের গুডাউনও এনে দিতে পারি( যদিও পকেট বেশি ভারী থাকে নাহ!😜)

আমি দুর থেকে দেখছিলাম, মিপতি মেয়েটার কাছে গিয়েই কাগজটা বাড়িয়ে দিয়ে দৌড় দিল!সারাহ ডাকছিল”পিচ্ছি পিচ্ছি বলে!কিন্তু পিছনে ফিরে তাকায়ই নি সে”

পরদিন সেইম টাইমে বোনকে পাঠালাম,ওর থেকে উত্তরের আশায়!

খুব অস্থিরতায় আছি কি হবে..? ও কি আমার চিঠির উত্তর দিবে আদৌ..?তাই আর দুর থেকেও দেখতে গেলাম না”

একটু পর মিপতি চিৎকার দিয়ে বললো “ভাইয়া ভাইয়া তোমার —বলার আগেই মুখ চেপে ধরলাম”
ফিসফিসিয়ে বললাম”অই পাগলী আম্মু শুনবেতো!
কি হবে আম্মু শুনলে ভাইয়া??

তুই বুঝবিনা!যাহহ এবার তুই!

কাগজটা খুলতে খুব ভয় করছে(বুকে থুক দিয়ে নিলাম)—–

কাগজ টা খুললাম!ধুরু ধুরু বুকে পড়তে লাগলাম—

“দেখুন, প্রেম ভালবাসা হারাম!আমি চাইনা এসবে জড়াতে,,আর আমি যেই পরিবারে আছি কেউ যদি ঘুনাক্ষরেও জানতে পারে আমি কাউকে চিঠি লিখছি তাহলে আমাকে আস্ত রাখবেনা,,

শেষ কথা হলো,আপনার ভালবাসা যদি সত্যি হয়,আর আল্লাহ যদি চান,তাহলে আমাদের মাঝে প্রেম ভালবাসা সবই হবে আর সেটা বিয়ের পরই!

সারাহ

চোখ টা বন্ধ করে ফেললাম!আজকে প্রথম কিছু অনুভব করছি, একটা মেয়ে কতটা ভালো হতে পারে,…?

আমার সব কিছুর বিনিময়ে হলেও আমি ওকে চাই,তার জন্য আমার যা করা দরকার আমি তাই করবো!

ভাবছি আম্মুকে বলবো!যাই বলে দেখি—-কিন্তু কিভাবে বলবো,লজ্জাও লাগছে আবার ভয়ও!তবু গেলাম….

আম্মু রান্না ঘরে কাজ করছে,কি যেন কাটিকুটি করছে,কাছে গিয়ে একটা পিড়ি নিয়ে বসে পড়লাম”আম্মু আমিকি তোমাকে সাহায্য করতে পারি??”(আমি)
আম্মু অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো আমার দিকে(কারন সাহায্য তো দূর কোনদিন রান্নাঘরের ধারেকাছেও যাইনি)
কি ব্যাপার বাপ…?কিছু বলবি..?(আম্মু)
কই কি বলবো আমিতো তোমাকে হেল্প করতে আসলাম”
“মায়ের কাছে মিথ্যা বলতে নেই,কোন মতলব ছাড়া তুই রান্না ঘরে তাও আবার পিড়ি নিয়ে বসে পড়লি এ যে সামান্য কোন ব্যাপার না'(আম্মু)

জিভ কেটে মনে মনে ভাবছি আম্মু এত্ত চালাক! বুঝায় যাইনা!

“আম্মু!

“হা বলে ফেল কি বলবি,

“আম্মু তুমিকি বুঝতে পারছনা তোমার ছেলে এখন বড় হয়েছে🙊

“হুম সে তো আজকে হসনি!

“তাহলে তোমরা ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোন ডিসিশন নিচ্ছনা কেন বলতো?

“কি বলিস এগুলা..?(আম্মু)

“আম্মু!তোমার এখন বয়স হয়েছে কাজ করতে নিশ্চয় কষ্ট হয়,আর মিপতিও ত পিচ্ছি এখনো তোমাকে সাহায্য করতেও পারেনা,একটা মেয়ে আনলেও তো পার!(আমি)

“হ্যা রে ঠিক বলেছিস,তোর বাবাকেও বলছি এতদিন ধরে একটা কাজের মেয়ে ঠিক করে দিতে কিন্তু তোর বাবাতো শুনেইনা আমার কথা!(আম্মু)

(একি”??!!!আম্মাজান এসব কি বলে, বলছি বউয়ের কথা সে কয় কাজের বুয়ার কথা!ধুরর,!)

“আম্মু!(আমি)

“হ্যা বল…?(আম্মু)

“আম্মু কাজের মেয়ের কি দরকার..? তোমার ছেলেকে বিয়ে করায় দিলেও তো পার!(🙊🙊বলেই ফেললাম সাহস করে)
আম্মুতো হাসতে হাসতে শেষ “””
এই কথা বলতে এতক্ষণ..?আবারও হাসতে থাকে!

“তোরর মতো বেকার ছেলেকে কে মেয়ে দিবে শুনি..??(আম্মু)

“বেকার কই…?আব্বুতো সরকারি চাকরী করে উনার চাকরি তো আমি অবশ্যই পাবো (আমি)

“কিন্তু তোর বাবার রিটায়ার্ডমমেন্ট এর আরও এক বছর বাকি!

মন টা খারাপ করে রুমে চলে আসলাম

আমি আমার মাঝে সত্যিই অনেক পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি,এখন আর আড্ডায় যায়না,বন্ধুরা আগে মেয়েদের দেখে যে টিটকারি দিতো এখন ঐগুলো আমার উপর প্রয়োগ করে😂

‘কিররে মামা”বীরপুরুষ কাপুরুষ হইলো কবে থেইকা”???

“আরে মেয়েদের মত ঘর ধরলি ক্যান রে..?

“প্রেমের মরা জলে ডুবে না”
আমাকে দেখলেই এসব লাইন ছুড়ে দেয়,
কেন যেন এখন আর রাগ উঠেনা, শুধু নিজের অজান্তেই ঠোটের কোণে পাগলা টাইপ হাসির রেখা ফুটে উঠে”

৪দিন হয়ে গেছে রাস্তার পাশে যাইনি,
যদিও প্রচণ্ড রকমের ইচ্ছা মনকে বার বার নাড়া দিতো
মন বলতো,,,যাহহ,সারাহকে দেখে আয়,”
বিবেক বলতো”যাবিনা, তুকে দেখলে সারাহ রাগ হবে”

খুব অসহায় অসহায় লাগছিল নিজেকে এ কয়দিন,,নাহহহ আর মানতে পারব না ওর কথা আমাকে ওর সাথে আরেকটিবার কথা বলতেই হবে,যে কোন ভাবেই,নাহয় নির্ঘাত আমি পাগল হয়ে যাব”

অনেক দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্য দিয়ে গেলাম,

বিকালের টাইমে…..

একটু পর সারাহকে দেখা গেলো….
পথের মাঝখানটাই দাঁড়িয়ে রইলাম,

আজব মেয়ে নিচের দিকে তাকিয়েই হেটে চলেছে একবারও এদিকওদিক তাকানোর প্রয়োজন বোধ করছেনা!

আর কি..?হাটতে হাটতেই আমার সাথে ধাক্কা খেলো, আমি ইচ্ছে করেই সরে যাইনি,!
ও পুরো ভুত দেখার মত চমকে উঠে দ্রুত পিছনে সরে গেলো,

“আমি দুঃখিত সারাহ,তোমার কথা রাখতে পারিনি,কিভাবে রাখব,এই কয়দিন তোমাকে দেখতে না পেয়ে কত্তটা কষ্টে ছিলাম তুমি জানো…?(আমি)

“এসব পাগলামি নইকি…?আপনি দেখেননি কোনদিন,এমনও তো হতে পারে আমি দেখতে কুৎসিত!???(সারাহ)

“তুমি যেমনটাই হও আমার কিচ্ছু যায় আসেনা,দয়া করে আমাকে গ্রহন করে নাও,(আমি)

চোখ বলে দিচ্ছে ও হাসছে,যেটাকে তিরস্কারের হাসিই বলা যায়”

আপনার যদি ইচ্ছে হয় তাহলে আমার পরিবারের সাথে যোগাযোগ করতে পারেন”,আর যদি পারেন অন্তত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করার চেষ্টা করবেন,আল্লাহর কাছে মন থেকে কিছু চাইলে, তিনি কখনোই ফিরিয়ে দিবেন না,এটা আমার বিশ্বাস ”
আমাকে যেতে হবে কেউ দেখলে কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে”(এই বলে সারাহ হাটতে লাগলো)

কোন ঘোরের মধ্যে ছিলাম জানিনা আমি পেছনদিক থেকে হুট করে ওর হাত ধরে ফেললাম”
ও যেন কাউকে খুন করতে দেখছে এমন ভাবে ভয়ার্ত দৃষ্টিতে তাকালো আমার দিকে,
“সারাহ প্লিজ,আমাকে গ্রহন করে নাও নাহয় আমি সত্যিই মারা যাব,প্লিজ”(কখন যে চোখের কোণে পানি এসে জমা হয়েছে বুঝতেই পারিনি,)
ও ঝাঁকি দিয়ে হাত টা ছাড়িয়ে নিয়ে অনেকটা দৌড়ের গতিতে হাটতে লাগলো,হঠাৎ আমার চোখ আটকে গেলো,কোন এক আগন্তুকের উপর”খুব কড়া নজর দিয়ে তাকিয়ে রইলো এদিকে”

সারাহ নিশ্চয়ই উনাকে দেখেই হাত ছাড়িয়ে নিয়েছে,তার মানে উনিকি তাহলে সারাহর হাত ধরা অবস্থায়ই আমাদেরকে দেখে ফেলেছে…?

“উনিকি সারাহর আপন কেউ…?
এটা মনে আসতেই বুকের ভিতর জোরে ধাক্কা লাগলো!”””

যদি তাই ই হয়…?
হায় আল্লাহ আমি এটা কি করলাম
.??

এসব ভাবছি আর অস্থিরতায় এদিকওদিক হাটাহাটি করছি,

সেদিনটা কোনভাবে কাটালাম সারারাত ঘুমাতে পারিনি,,,,,,এভাবে প্রথম বারের মত নির্ঘুম রাত কাটিয়ে সকাল হতেই রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে রইলাম,,,,

অজানা আশংকায় বুক টা বার বার কেঁপে উঠছে!এক এক মিনিট যেন এক এক ঘন্টার মত লাগছে,দেখতে দেখতে ১১টা বেজে গেছে,,সারাহ আসলো না😖

একবার ভাবি ওর কোন বিপদ হলোনা তো….

আবার নিজেকে সান্তনা দিই………..,আজ হয়ত কোন কারনে আসেনি,হয়ত মাদ্রাসা বন্ধ!

এসব অগোছালো চিন্তা ভাবনা নিয়ে…..একদিন,দুইদিন……প্রতিদিন এভাবে ঘন্টারপর ঘন্টা বিরতিহীন ভাবে অপেক্ষা করে যাচ্ছি, কিন্তু অপেক্ষা, অপেক্ষায় রয়ে গেলো সারাহ আর আসলোই না,আমার মনের অবস্থা পাগল পাগল হতে চললো,…….

দিন দিন আমার অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছে,ইদানীং সব কিছুই বিষাদ লাগে,খাইতে,ঘুমাইতে,কারও সাথে কথা বলতে,…..

এভাবে মাস কয়েক কেটে যায়,প্রায় ভুলতে বসেছি সারাহকে….

আজকে কেন জানি সারাহকে দেখার প্রচণ্ড ইচ্ছা মাথা ঝাড়া দিয়ে উঠেছে!কিন্তু,ওকে পাবই বা কই নীরবে বসে ওর কথা ভাবতে গিয়ে,হঠাৎ মনে পড়লো ওর বলা একটা কথা,”আল্লাহর কাছে মন থেকে কিছু চাইলে উনি কখনোইই ফিরিয়ে দেনন না”

নতুন আশায় বুক বেঁধে সেদিন থেকে নামাজ পড়া আরম্ভ করলাম,যেদিন প্রথম মসজিদে গিয়ে সকালের নামাজ আদায় করলাম,মনে মধ্যে খুব প্রশান্তির ছোঁয়া পেলাম,যখন নামাজ পড়া শেষ হলো,মনে হচ্ছিল,এতদিন আমার নিশ্বাসও দূষিত ছিল,

নিজেকে এতটাই হাল্কা লাগছিল—-আমার মনে হচ্ছে আমি আবার নতুন জীবন ফিরে পেয়েছি….
আব্বু আম্মু বেশ অবাকই হয়েছেন,আমার এই পরিবর্তন দেখে কারন,আমি নামাজ তো দূর জুম্মার নামাজও পড়া হতোনা,

তবে বুঝতে পারি যে উনারা খুব খুশি!

বছর কেটে গেলো সারাহর আর দেখা মিললো না…..অনেক খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেছি কিন্তু কেউই কোন ইনফরমেশন দিতে পারলোনা,,

আমি নিজের উপর নিজেই অবাক হই!কেন যেন নিরাশ হওয়ার ব্যাপারটা আর আমার মাঝে বিরাজ করেনা!”মন শুধু একটাই কথা বলে,ধৈর্যের ফল মিষ্টি হয়”

আব্বুর রিটায়ার্ডমেন্ট,আমার চাকরীতে জয়ন!সব মিলিয়ে নিজেকে কিছুটা গুছিয়ে নিলাম!

একদিন বিকাল ৪টায়—

অফিস ছুটির পর,,বের হলাম,

বাহিরে বেশ ধমকা হাওয়া বইছে সাথে বৃষ্টি!

বৃষ্টি থামার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছি,,,,

বোরকা পরিহিতা একটা মেয়ে,সাথে ৯/১০বছরের একটা ছেলে,রাস্তার অই পাশে একটা ডাক্তারের চেম্বারে ডুকছে,

দেখেই বুকে বড়সড় ধাক্কা খেলাম
কেন যেন মন বলছে ওই-ই আমার সারাহ,বুকে হাত রেখে আল্লাহকে স্মরণ করছি,আল্লাহ যেন এটাই হয় আমার কাঙ্ক্ষিত মানুষটি…

বৃষ্টিকে উপেক্ষা করেই রাস্তা পার হলাম,
ভেতরে উঁকি দিতেই!থমকে গেলাম”

এই সেই চোখ যাকে খুঁজে বেড়াচ্ছি আমি,দেড় বছর যাবত!নিজেকে শান্ত রেখেই ভেতরে ডুকে পড়লাম…..আশেপাশে কয়েকজন রোগী, এদের মাঝে কিভাবে কথা বলবো…?

আবার বের হয়ে আসলাম!ওর বেরিয়ে আসার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছি…..

হায়রে কপাল!!সময় যেন ফুরাতেই চাইছেনা!

বৃষ্টি থেমে গেছে…ততক্ষণে

বেশ কিছুক্ষণ পর ও বের হলো—
বুকে থু থু দিয়ে এগিয়ে গেলাম…….

সারাহ…???

“জ্বী…?কিন্তু আপনি…?

“আমাকে চিনতে পারছোনা??আমি অভি..!

“কোন অভি…?সরি আমি অভি নামের কাউকে চিনিনা( এই বলে ও পাশ কাটিয়ে চলে গেল)

কথা টা শুনেই বুকে জোরে ধাক্কা লাগলো……..তবুও নিজেকে সামলে নিয়ে,,,,ওদের পিছু নিলাম….

ওদের মাঝে অনেকটা দুরত্ব রেখেই হাটতে লাগলাম,,,
যখন দেখলাম আশেপাশে কোন মানুষ দেখা যাচ্ছেনা,,সাহস করে দ্রুত হেটে ওর সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম…

“সারাহ,প্লিজ একটু শোনো…

আর কি চান আপনি…?আমার জীবনটাই তো নষ্ট করে দিয়েছেন আপনি!সেদিন আপনি আমার হাত ধরেছেন মামা দেখে ফেলেছেন সেই থেকে আমার লেখা পড়াই বন্ধ করে দিয়েছেন উনারা,(কথা গুলো বলতে গিয়ে কেঁদেই দিল মেয়েটা)

আমি সত্যিই দুঃখিত,আমি অপরাধী তোমার কাছে,,,,সব কিছুর জন্য আমিই দায়ী মানছি!আমাকে কি ক্ষমা করা যায়না???(আমি)

দেখুন,আমাদের পরিবার সম্বন্ধে আপনি জানেন না জানলে হয়ত এসব পাগলামি করতেন না(শান্ত কন্ঠে বললো)

আমি জানতে চাই

এত কথা এভাবে রাস্তায় দাঁড়িয়ে বলা সম্ভব না,ভালো থাকবেন(সারাহ)

তাহলে কাল একটু দেখা করো আমার সাথে প্লিজ যেকোন ভাবে,,,,,

সরি,আপনার সাথে দেখা করতে হলে আমাকে মিথ্যার আশ্রয় নিতে হবে , আর একটা সত্যকে লুকাতে ১০টা মিথ্যা বলতে হবে,আমার দ্বারা এসব হবেনা(এই বলে সারাহ হাটতে থাকে)

সারাহ শোনো শোনো প্লিজ,,,অন্তত তোমার ঠিকানাটা বলো প্লিজ(আমি)

কিছুই না বলে চলে গেলো 😖

আমি আর সামনে এগুলাম না, সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে তাই বাড়ির পথে পা বাড়ালাম—-

খুব অপরাধবোধ হচ্ছে!কি করলাম আমি এটা.? আমি আসলে খুব খারাপ,একটা মেয়ের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে দিলাম আমি, নিজেকে কখনো ক্ষমা করতে পারব না!

বাড়ি গিয়ে আম্মুকে সব খুলে বললাম,মা তো মা—ইইই!
মুচকি হেসে আশার বানী শুনালেন,,,,

কিন্তু বাবাকে কিভাবে কি বলবো মাথায় কাজ করছেনা!

নাহহ বাবার দিক টা পরে দেখা যাবে…..

ভাবছি কালকে নিজেই যাব একবার ওদের বাড়ি

রাতে কিছু নফল নামাজ মানত করে পড়লাম,

পরদিন

অফিস থেকে বেড়িয়ে ওদের বাড়ির দিকে রওনা হলাম…..যদিও জানিনা নির্দিষ্ট কোন জায়গায় ওদের ঘর!

খুঁজতেও বেশ বেগ পেতে হলো!
বেড়ায় ঘেরা একটা ছোটখাটো ঘর,একজন মধ্য বয়স্ক লোক বসে আছে খাটে—

–আসসালামু আলাইকুম (আমি)
–ওয়ালাইকুম সালাম….(বেশ গম্ভীর ভাবে উত্তর দিলেন)
–আমি অভি,আমি আপনার সাথে একটু কথা বলতে চায়,যদি এখানে কথা বলতে না পারেন তাহলে আমরা অন্য কোথাও গিয়ে কথা বলি…?

উনি কিছু না বলেই ঘর থেকে বেড়িয়ে আসলেন,,হাটতে হাটতে আমিই কথা শুরু করলাম—–

—আমি কি জানতে পারি সারাহ’র সাথে কি ঘটেছিল…?
—(উনি দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলতে লাগলেন)আমি একটা বেসরকারি স্কুলে সহকারী শিক্ষক হিসেবে কাজ করি,যা বেতন পায় পাঁচ জনের একটা পরিবারের চাহিদার তুলনায় খুব কম,,,দাখিল পরীক্ষায় বেশ ভালো রেজাল্ট করেছিল সারাহ কিন্তু আমার সামর্থ্য না থাকায় সিদ্ধান্ত নিই ওকে আর পড়াবোনা…..কিন্তু ওর মামা নিজেই আমাকে বুঝিয়ে ওকে নিয়ে যায় আর ওখানে একটা মহিলা মাদ্রাসায় আলিমে ভর্তি করায়….কিন্তু ৩মাস পার না হতেই ওর মামা ওকে নিয়ে আসে…
…সারাহ নাকি খারাপ হয়ে গেছে,, ও নাকি কোন এক ছেলের সাথে—–(বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন)
কি বলবো ভেবে পাচ্ছিলাম না আমি,….

নিজেকে সামলে নিয়ে…
উনি আবার বলতে থাকেন,,,

সারাহকে দেখতে আসে কয়েকটা পরিবার কিন্তু,,,আমার মেয়ে নাকি গেয়ো, আনস্মার্ট!(একটু তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বললেন)

দুনিয়ায় জড়তা আর অপরাধবোধ নিয়ে বলেই ফেললাম..

–আংকেল,আমি সারাহ কে বিয়ে করতে চাই

উনি আমার মুখের দিকে তাকিয়ে আছেন….

উনার হাতটা আমার হাতে নিয়ে বললাম—

–আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা দিয়ে সারাহকে খুশি রাখার চেষ্টা করবো,আপনি আমার উপর ভরসা রাখতে পারেন

উনি হয়ত এখনো ঘোরের মধ্যে আছেন কোন কথা বলছেন না.

আমি আবার বললাম—-

–আমি অতি সত্তর আমার পরিবারকে নিয়ে আসবো,..

ছলছল চোখে কিছুক্ষণ তাকিয়ে থেকে সাথে সাথেই উনি আমাকে জড়িয়ে নিলেন বুকে!

সেদিনের মত,,,, বাড়ি ফিরে গেলাম!

সোজা বাবার রুমে ডুকলাম–

–আব্বু আমি তোমাকে কিছু কথা বলার ছিল
–হ্যা বল,..?(আব্বু)
–আব্বু আমি একটা মেয়েকে পছন্দ করি,

আমার দিকে তাকিয়ে মুচকি হাসলেন—

–মেয়েটার বাবার প্রয়োজনের তুলনায় আয়ের পরিমাণ খুব কম…..আর আমি মেয়েটা কে কখনো দেখিনি কারন সে সবসময় পর্দা করে চলে,, সব মিলিয়ে হয়ত তোমার পছন্দ নাও হতে পারে… তোমার মতামত জানতে চায় আমি—

—অভি, যখন থেকে তুই কলেজে পা রেখেছিলি,তখন থেকেই তোকে নিয়ে অনেক অভিযোগ পেয়েছিলাম
গ্রামের মানুষ এর কাছ থেকে বাহিরেও অনেক কিছু শুনেছিলাম,…সেই থেকে তোর উপর কোন আশা করায় ছেড়ে দিয়েছিলাম!কিন্তু আমার ছেলে নিজেকে পরিবর্তন করে এখন সব বুঝতে শিখেছে…..এর থেকে বড় পাওয়া আমার কাছে আর কিছুই হতে পারেনা….

আমার ছেলের উপর এখন আমি পুরোপুরি ভাবে বিশ্বাস রাখতে পারি….

কারন যে সুষ্ঠু ভাবে নামাজ আদায় করে সে কখনো ভুল সিদ্ধান্ত নিবেনা!

–আব্বু আমি সুন্নতি বিয়ে করবো!মেয়ের বাড়িতে খাওয়া বা তাদের কাছ থেকে কিছু নেওয়া এসব চায়না আমি,,,তোমার কোন আপত্তি আছে???

এদিকে আয় অভি—

অনেক স্নেহ ভরে মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন আর বললেন “তুই যেভাবে চাস সেভাবেই হবে!

আমার এত্তটা ভালো লাগা কাজ করছিল তাড়াতাড়ি রুমে চলে আসলাম!!!সব
কিছু স্বপ্নের মত লাগছে আমার!মনটা পাগল পাগল হয়ে গেছে খুশিতে!

বিয়েটা ঠিক হয়েই গেলো!আব্বু আমাকে বলেছিলো মেয়েকে দেখতে চাই কিনা!একান্তে কথা বলতে চাই কিনা!আমি না করে দিয়েছি,এতদিন যখন দেখিইনি এখনও দেখব না!

আমার পছন্দের সব কিনেছি ওর জন্য তবে স্পেশাল গিফট হিসেবে সুন্দর একটা কালো বোরকা কিনেছি!

সামাজিকতার সাথে বিয়েটা সম্পন্ন হলো–পাড়া-প্রতিবেশী আর বন্ধু মহলের কয়েকজন কে দাওয়াত করেছি

আম্মু, মিপতি, ওরা নতুন বউকে নিয়ে মেতে আছে,,, পাড়াপড়শি সবাই এসছে””বন্ধুরাও ভাবী কে এক পলক দেখতে অস্থির—যেহেতু ধুমধাম করে কোন অনুষ্ঠান করিনি,তার উপর বোরকা পড়া অবস্থায় সারাহকে আনা হয়েছে!

ওদেরকে শান্তভাবে বুঝালাম”তোদের ভাবীর পারমিশন নিয়ে দেখতে পারলে দেখ গিয়ে”

“শালা,ন্যাকামো করিস না?পারমিশন তুই নিবি নাকি আমরা নিব!

“ঐ ব্যাটা আমি নিজেই তো দেখিনি ওকে,,….

সবাই অবাক হয়ে একজনের মুখের দিকে একজন তাকাচ্ছে!মনে হলো আমি ওদেরককে জোক্স শুনাচ্ছি”হু হু করে হেসে উঠলো সবাই”

হাসিস না দোস্ত!সত্যিই আমি ওকে দেখিনি(আমি)

“ঠিক আছে তাহলে আজকে আমরাও ভাবী কে দেখছিনা যেদিন পারমিশন দিবে সেদিনই বলিস,( এসে দেখে যাব!সবাই হাসতে লাগল)

এত ভালো হলি কবে থেইকা?(আমি)

একজন বলে উঠলো!”বুঝতে হবে না কার বন্ধু””???

অনেকদিন পর সবাই একসাথে হলাম তাই আড্ডা দিতে দিতে রাত ১২ টা বেজে! “””

সবাইকে বিদায় দিয়ে রুমে ডুকলাম,, খুব সুন্দর করে সাজানো হয়েছে ঘরটা

অপেক্ষা করতে করতে মেয়েটা ঘুমাই গেছে তাও আবার ইয়া লম্বা ঘোমটা পড়েই “এই মেয়ে পারেও বটে””

মনটা খুব অস্থির হয়ে আছে ওকে দেখার জন্য”

লাইটটা অফ করে দিলাম একটা মোমবাতি জালিয়ে দিলাম ঘরে এক কোণে, জানালা খুলে দিতেই চাঁদের আলোয় ঘরটা ভরে গেলো!

ধীর পায়ে বিছানায় বসলাম”
সাবধানে ওড়নার কিছু অংশ উপরে উঠিলাম”

এ!কি দেখছি আমি…?😱😱

এ যেন একটা ঘুমন্ত পরী,

যেন বেহেস্তের হুর নেমে এসেছে আমার ঘরে”
“শ্যামবর্ণের হুর পরী”
এযে আমার কল্পনার চাইতে হাজার গুণ বেশী সুন্দর”

আমি মুগ্ধ হয়ে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছি””গভীর ঘুমে অচেতন সারাহ,চাঁদের আলোয় যেন ওর সৌন্দর্যকে দ্বিগুণ করে দিয়েছে!

এত নিষ্পাপ একটা চেহারা!
ঘুমটা আর ভাঙলাম না”

থাক না ঘুমিয়েই থাক মেয়েটা”এখন তো আর হারানোর ভয় নেই,,,,,, আজকে আমার পরীটা কে দেখব আমি

সারারাত দুচোখ ভরে দেখবো”

এতদিন এই তৃষ্ণার্ত চোখ যে এই সময়টার অপেক্ষায়ই ছিলো”

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত