ঝাড়ি

ঝাড়ি

পার্কের ভেতর বেঞ্চিতে মায়া অপেক্ষা করছে! একটা ভদ্র ছেলে মেঘ এর জন্য!

মায়া প্রচন্ড রকম রাগী, জেদি, একরোখা মেয়ে! সেদিকে মেঘ সহজ সাদামাটা ছেলে!!

রিলেশন যেন সবসময় জ্বলজ্বল করে! কারন একজন বকে অন্যজন শোনে!! তাই প্রতিবাদ যেহেতু নেই তাই ঝামেলাও নেই!!

মায়া অপেক্ষা করছে প্রায় ৩০ মিনিটস হতে গেলো _ মেঘ এর কোন পাত্তাই নেই… ৪৫ মিনিটস পর যখন মেঘ এলো!

মায়া তখন রাগে গজগজ করছিল….—

মায়া— এতো দেরি করলে কেন??

মেঘ– একটা কাজে আটকে গেছিলাম! স্যরি…

মায়া– স্যরি বললেই সব ঠিক হয়ে যায়??

মেঘ– তাহলে কি করতে হবে?? ( রাগ দেখিয়ে)

মায়া– আজকাল কথায় উগ্রতা লক্ষ করছি! মূল ব্যাপার কি??

মেঘ — কোন ব্যাপার নেই… ইচ্ছা করেছে তাই এভাবে কথা বলছি!

মায়া– তো নতুন গফের সাথে দেখা করতেগেছিলে নাকি??

মেঘ– তোর রুচিতেই প্রবলেম!! সন্দেহ করা তোমার নেশা…

মায়া– কি বললে?? ও আজকাল খুব পাখনা গজিয়েছে তাইনা??

মেঘ– হ্যা গজিয়েছে!! আর কিছু বলবে??মায়া– তুমি কি ব্রেকাপ চাও??

মেঘ– মনের মাঝে না রেখে মুখে বললেই পাড়তে!!

মায়া– ( রাগের ইমুজি হবে) বলেছি ব্রেকাপ হলে তুমি হ্যাপি??

মেঘ– আমার ব্যাপার বাদ দাও!! তুমি যদি মনে করো ব্রেকাপ করলে তুমি শান্তি পাবা তাহলে করো, আমার কিছু বলার নেই!!

মায়া– বাহ!! গাধাটা আজকাল খুব কথা শিখেছে মনে হচ্ছে!! গোপনে কার সাথে মেলামেশা হচ্ছে??

মেঘ– আমিও চাচ্ছি!! তোমার মুক্ত দেওয়া প্রয়োজন! কারন তোমার সাথে আমার যায়না! তোমার মন-মানুষিকতা আমার সাথে খাপ খায়না!

তাই তোমাকে স্বাধীন করতে চাই…

মায়া– আমিও এটাই ভাবছি!! আচ্ছা আমাদের একটা ব্রেক দরকার!! আচ্ছা আজ থেকে এখন থেকে ব্রেকাপ…

—–বলেই মায়া হনহন করে চলে গেলো!! মায়া কে আমি ২ বছরভর চিনেছি!! রাতেই বলবে স্যরি মাফ করে দাও!!

কারন আমাদের রিলেশন যেই পরিমান ব্রেকাপ হয়েছে সেই পরিমান লোডশেডিং ও বাংলাদেশে হয়নি!!

জেদি মেয়েরা জিদ আটকে রাখতে পারেনা বলে মুখের উপর যা ইচ্ছা তাই বলে দেই… জানিনা এতে কি আনন্দ পায়!!

নাকি এটাই ওদের কাছে সুখ… এখন অপেক্ষা রাতের! রাতে স্যরি বলতে হবে তারপর যেন সব ঠিক!

কিন্তু রাত আসতে এখনো অনেক বাকি!! তাই মাথায়একটা দুষ্টুমি চাপলো…—

আমি– হ্যালো.. আচ্ছা শোনো- আমি হাত কেটেছি এখনো রক্ত পড়ছে – মনচাইলে আসো না চাইলে থাক…

মায়া– হ্যালো

আমি– টুট টুট…..(লাইন কেটে দিলাম)….

——কিছুক্ষণ পর মায়া এলো, কারন প্রতিদিন আমাকে প্যারা দাও দেখো আজকে কেমন লাগে!!

এসে আমার হাতের দিকে তাকিয়ে বুঝলো চাপা মেরেছি!

তখন রাগ আটকে রাখতে না পেরে যখন নিজের হাত কাটার জন্যচুলের ক্লিপটা খুলছিল আমি বুঝেই তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম… এ

ত শক্ত করে জেনো মারাই যাবে মেয়েটি!! আমার ভালবাসায় মায়াকে আর জিদ করতে দেইনি!!

মায়াও আমাকে জড়িয়ে রেখেছে কেউ কোন কথা বলছিনা…

এবার তার কোপালে একটা চুমু একে দিলাম!! মায়া হাল্কা লজ্জা পেলো!! যখন ঠোটে দিবো তখুনি দূরে চলে গেলো!!–

মায়া– কি হচ্ছে এসব??

মেঘ– ভালবাসি তাই!!

মায়া– কাকে??

মেঘ– আমার পাগলী কে!!

মায়া– ভাল না কচু বাসো!! আমাকে কষ্ট দেয় আবার ভালোবাসা….

—-সেদিন আবার এসব বলে ফিরে আসি! রিলেশন আবার আগের মতো!!

আমিও খুবখুশি.. মায়া কে ছাড়া মেঘ বাচতে পারবেনা এটা জানতে কেউ বাকি নেই!!

ভালোবাসা যেন কানায় কানায় পূর্ণতা পায় মায়া এলে আর না এলে ফুশ!!

—–একদিন শুনেছিলাম মায়া জ্বরে অসুস্থ.. সেদিন কতটা কষ্টে সারাদিন পার করেছিলাম মনে আছে আজও!!

সারাদিন না খেয়ে ছিলাম!! আমি যে শুধুই মায়াকে ভালোবাসি!!

আর মায়া রাগী হলেও আমাকেই ভালোবাসে কারন যেই ভালোবাসায় রাগ, অভিমান, জিদ নেই সেই ভালোবাসা কেমন কেমন যেন!!

সন্দেহ তাকেই করা যায় যাকে ভালোবাসা হয়!!—তারপরেরদিন আমি একটা বিশেষ কাজের জন্য মায়াকে কল দিতে ভুলে গেছিলাম!!

রাতে যখন ফ্রি হয়ে কল দিলাম মায়া তখন ৪২০ ভোল্টের মেজাজ ছুরে মারলো!!.

আমি– জানু কেমন আছো?? কি করো??

মায়া- কেন কল দিছো??

আমি– বাহ রে! আমার বউ আর আমি কল দিবো নাহ??

মায়া — ঐ হারামী সারাদিন কই ছিলি?? তোর বেশি বাড় বেড়েছে তাই না?? এখন কেন কল দিলি??

আমি– স্যরি জান! আমি ব্যস্ত ছিলাম তো!!

মায়া– তো ব্যস্তোই থাকতি এখন কেন কল দিলি?? আজাইরা পিরিত দেখাস তাইনা… তুই আমার সাথে আর কথা বলবিনা!!

আমি– প্লিজ মাফ করে দাও! আর এমন হবেনা!! প্লিজ প্লিজ!!

মায়া– কাল দেখা করবি সকালে!! এখন রাখছি!!

—মায়া বেশি রেগে গেলে কথা বলতে পারেনা!! আর ঠিক তখুনি তুই করে বলে যখন খুব রেগে যায়!!

রাগলে দেখতে খুব সুশ্রী লাগে!! যগতের সব নারীই রাগলে মায়াবী লাগে!! মায়া কিন্তু আহামরি সুন্দীয় না!! আমার শাদা লাউ পছন্দ নাহ!!

একটু ফর্শা হলেই হলো! কিন্তু টাকে সেই মাপের পরিষ্কার হতে হবে!! আর পরিচ্ছন্ন মনের অধিকারী!! তা না হলে ফুশ!!,

পরেরদিন সকালে আমি তার কথামতো দারিয়ে আছি পার্কে!! (তামান্না পার্ক ঝিনাইদহ)…

— মায়া কে দেখেই বুঝলাম আজকে আমার ২৪টা বাজাবে!!

GF থাকলে এক প্যারা আর না থাকলে এক প্যারা!! তবে থাকাটাই বেটার কারন থাকলে সবকিছু শেয়ার করা যায়! সাপোর্ট পাওয়া যায়!

সবমিলিয়ে ভাল কিছু সময় কাটে!! আমার রুমে থাকা ছেলের জন্য গফ খুব জরুরী!! তবে অবাক হয়!!

আমার মত ঢেঁড়স মার্কা ছেলেকে মায়া কেন পছন্দ করে!! না আছে রুপ না আছে টাকা বা যোগ্যতা….

ভাবনার টনক নড়লো মায়া আসাতে…….

মায়া– আমি আর পারবোনা…

আমি– তাহলে বিয়ে করি চল!!

মায়া– ঐ তোর বয়স কইদিন?? মাত্র ২০ এখুনি বিয়ে বিয়ে!! খাওয়াবি কি??

আমি– তুমিই না বললে আর পারতেছোনা তাই বললাম!!

মায়া– কান ধর…

আমি– কি করলাম কেন??

মায়া– ধরবি না আমাকে হারাবি??

আমি– প্লিজ জানু!!

মায়া– তুই কান ধরবি?? ( রাগের ইমু হবে?)

আমি– আচ্ছা এই যে, ধরলাম ছাড়বো কখন??

মায়া– ডান হাত সামনে নিয়ে শপথ কর!!

আমি– কি কও?? আমি কি হাইস্কুলের ছেলে যে শপথ করব??

মায়া– করবিনা আমাকে হারাবি??

আমি– বাহ ভালোই ব্লাকমেইল শিখেছ!! বলো কি শপথ??

মায়া– বলো যে+- আমি মায়াকে আর ভালোবাসতে পারবোনা!! আমার নারীর নেশা লাগছে প্রাণে!! তাই মায়ার সাথে ব্রেকাপ করলাম…

আমি– এসব কি কও!! আমি কোন মেয়ের দিকে জীবনে তাকাইনা!! তোমার চুলের দিব্যি!!

মায়া– তোরে আমি চিনি!! সুন্দরি মেয়ে দেখলে তুই একটা ঘাবরে যাস কেন?? লাইন মারার ধান্ধা।

আমি— ঐ তুমি আমার থেকে ২ বছরের ছোট আবার আমাকে কান ধরাও!! আবার তুই করে বলো?? তোমাকে আমি বিয়ে করবোনা যাও…

মায়া– তুই বিয়ে করবি!! তোর দাদা বিয়ে করবে!!

আমি– তাহলে দাদাকে রাতের টিকিটে পাঠিয়ে দিবো আমি যায়!!

মায়া— খাইয়ালামু এসব বললে!!

আমি– আচ্ছা জান তুমি আমারে সত্যি ভালোবাসো??

মায়া– ভালোই বাসিনা আবার সত্যি কিসের!!

আমি– তাহলে অন্য মেয়ের দিকে তাকালে তোমার পুড়ে কেন??

মায়া– ছিঃ মুখের কি ভাষা….———–রাগ হলে মায়া আমাকে জড়িয়ে ধরবেই!! আর মেয়েদের রাগ কমে সামনে গেলে!!

ফেবু/কলে রাগ বাড়ে!! তাই সামনে যান স্যরি বলুন সব মাটি!!—-

আমি– জানু একটা বুদ্ধি পাইছি!!মায়া– কিসের বুদ্ধি?? মেয়ে পটানোর??

আমি– ঐ ছেড়ি আমি কি সবসময় মেয়ে নিয়ে থাকি?? যে কিছু হলেই সেটা মেয়ে হতে হবে??

মায়া– আমার জামাই দেখি রাগও করে!! তো কি প্লান জামাই??

আমি– জানু প্লান বাদ দাও!! আবার জামাই কও না একবার!!

মায়া– দূর হ!! প্লান বলো!!

আমি– তোমার একটা কাজিন আছেনা মিমি?? ওর সাথে আমি কাব্যের লাইন ক্লিয়ার করব ভেবেছি!!

মায়া– কিহ?? মিমির কথা বাদ দাও!! আমি নিজেই লাইন মারবো কিনা ভাবছি!!

আমি– ওয়াও দারুণ!! আমি তাহলে মিমির সাথে ঝিংকু….

মায়া– ওরে লুইচ্চার লুইচ্চা!! আমি বেচে থাকতে তোর অন্য মেয়েরসাথে রিলেশন করা আর হবেনা রে!! আমি মরে গেলেও তোরে ভূত হয়ে জ্বালাবো!!

আমি– এ আসছে ভূত হয়ে জ্বালাবে!! উনি প্রেম করবে আর আমি করলে দোষ!! কচু করবে!!

মায়া– মাইর খাবি??

আমি– কিস খাবো!!

মায়া– তুই একটা পচা!!

আমি– তুমি একটা মিষ্টি জানু!!

মায়া– হেট ইয়্যু…

আমি-; লাভ ইয়্যু!!

মায়া– নির্লজ্জ ছোট বেহায়া ইতোর!! যা তা…

আমি– ভালোবাসি ভালোবাসি ( রবীদার গানের সুরে)

মায়া– হিহিহি!!! ভালোবাসি টু জানু….

—-আজকালকার অধিকাংশ ভালোবাসা সামান্য কারনে ভেঙ্গে যায়!! এতটা সামান্য কারনে যে ভাবতেও খারাপ লাগে!!

ভালোবাসা তো যত্নের জিনিস অবহেলা এরা নিতে পারেনা!! মানুষ না খেয়ে থাকতে পারে অবহেলা সহ্য করতে পারেনা!!

যদি ভালবাসতে না পারেন তাহলে মিথ্যা স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন?? ভালোবাসা স্বর্গীয় তাকে পুষে রাখতে হয়….

—–সবাই ফ্রেশ মন নিয়ে ভালবাসুন! দেখবেন সবকিছু ঠিক হয়ে আছে!!

আরে ভাই- সমস্যা তো হবেই! তাই বলে কি ভেঙ্গে পড়তে হবে??

তা শক্ত হাতে মোকাবেলা করার মতো মানুষিকতা থাকতে হবে… ভাল থাকুক সবার ভালোবাসা….

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক
DMCA.com Protection Status
loading...

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত