পা মিলিয়ে বৃষ্টিতে ভেজা

পা মিলিয়ে বৃষ্টিতে ভেজা

চারদিকে নির্মল হাওয়া, আকাশে মেঘ, চারদিকে তবু কেমন যেন ফাঁকা ফাঁকা। জীবনের প্রথম এমন একটা সময় কাটালাম। যা কখন ভাবতেও পারিনি, জীবনে এমন একটা সময় পাওয়া আসলেই ভাগ্যের ব্যাপার। যাই হোক আমার এমন একটা সময় এসেছিল। আমার কাছের তিন বন্ধুদের মধ্যে জিয়া একজন। আমরা দুই বন্ধু সাইফুর’স স্পোকেন ভর্তি হই।

এক দুই দিন ভালই ক্লাস করলাম, ভালোই লাগছিল। আমাদের সেই স্পোকেন ক্লাসে দুইটা মেয়ে ছিল কণিকা ও ইভা ওদের সাথে পরিচয় হয় নাই। তার পরেও কেমন যেন মনে হত অনেক পরিচিত । কারণ ওরা আমাদের দিকে তাকিয়ে কেমন যেন হাসত , ওদের হাসিটার মধ্যে অনেক কিছু বুঝতে পারতাম। যাই হোক ওরা ভালই, কিছু দিন পর আমি আর স্পোকেন ক্লাসে যাই না। কিন্তুু জিয়া ঠিক আগের ন্যায় ক্লাসে যেত, একদিন জিয়া ফোন দিয়ে বললো বন্ধু ওদের সাথে আমার পরিচয় হয়েছে সেই দিনেই ওদের নাম টা ও জানে। এই ভাবেই ও ক্লাস চালাতে থাকে আর আমি ক্লাস এর কথা তো ভুলেই গেছি।

হঠাৎ একদিন জিয়া ফোন দিলো ২৪ জুলাই রোজ বুধবার বিকাল ৫টার দিকে ও ফোন দিয়ে বলছে যে তুই কি ফ্রী আছিস? আমি বললাম হ্যা। কেন কি হয়েছে! কিছু না তুই নামায টা পড়েনে, তার পর আমি তোক ফোন দিলে তুই তাড়াতাড়ি চায়না বাঁধ চলে আসিস। আমি বললাম কি হয়ছে বলবি তো ও বল কিছু না, আমি বললাম ঠিক আছে, আমি নামায পড়লাম তার পরপরই ফোন দিয়ে ও বললো তুই তারাতারি চায়না বাধঁ চলে আয়। আমি ও তাড়াতাড়ি করে রিক্সা নিয়ে চলে গেলাম। জিয়া ধীরে ধীরে চায়না বাধেঁর অনেক টা ভিতরে গেছে। আমি একা একা হাঁটতে হাঁটতে ওর কাছে গিয়ে পৌছালাম। গিয়ে তো পুরাই অবাক!

দেখি কণিকা আর ইভা, নিজের কাছে নিজেকে কেমন যেন নার্ভাস লাগছিল,ওদের কি বলবো বুঝতে পারছিলাম না। তার পরেও ওদের কাছে গিয়ে আগে সালাম দিলাম, প্রথমে সালামের উত্তরে মাধ্যমে কথা শুরু তারপরে কেমন আছেন আপনি আর ক্লাসে আসেন না কেন প্রভৃতি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করল আমাকে । ঝাল মুড়ি খাইতে খাইতে কথা ও কি জে মজার সময়টা কাটছিল। চারদিকে হালকা বাতাস আকাশে মেঘ সাথে নতুন বান্ধবী ও জিয়া আর আমি রোমান্টিক একটা সময়। এর মধ্যে কণিকা ও ইভাদের একটা বান্ধবী আসলো। কিন্তুু ভাগ্যের পরিহাস তাকে দেখতে পারি নাই চোখ ছাড়া কিছু। যাই হোক আরও অনেক কথা ওরা অনেক ফ্রী মাইন্ডের মেয়ে ।

মাঝে মাঝে ইভা আমাকে বলে ভাইয়া একটা গান শুনান না,, কিন্তুু মজার বিষয় যে আমি তো গান গাইতেই পারি না। তার উপরে যে কন্ঠ আমার ,, কিন্তুু আমিও নাছর বান্দা আমি গান গায় নাই। এই ভাবে ভালোই সময় যাচ্ছিল, কিন্তুু বৃষ্টি পড়তে শুরু করলো, প্রথম মনে করছিলাম যে হয়তো বৃষ্টি আসবেনা কারণ হালকা বাতাস ছিল। কিন্তুু শেষ পর্যন্ত আল্লাহর রহমত আমাদের উপরেই পরলো। আশেপাশে দাঁড়ানোর মতো কোনো পরিস্থিতি ছিল না। তাহলে কি করার ভিজতেই হবে। আমারও ইচ্ছা ছিল ভিজতে। আমিও বাদামের দোকান থেকে একটা পলি নিলাম ফোন রক্ষা করার জন্য, বৃষ্টি ভালো জোরেই পড়তে লাগলো। , আমার আর জিয়ার ফোন পলি দিয়ে পকেটে রাখলাম।

চারদিকে বৃষ্টি দিয়ে কেমন যেন আনন্দপূর্ণ মনে হচ্ছিল । আমরা ইচ্ছা করলে বৃষ্টি থেকে বাঁচতে পারতাম। কিন্তুু ওরা কি করবে, এই জন্য কেউ বৃষ্টি থেকে রক্ষা পাবার বিন্দুমাত্র চেষ্টা করি নাই। সামনে এগিয়ে অনেক গুলো দোকান ছিল। কিন্তুু দোকান ভর্তি মানুষের ভিড় ছিল সেই জায়গায় তো দাঁড়ানোর মত কোন অবস্থা ছিল না। সবাই দোকানের ভিতরে। আর আমরা ৫ জন্য রাস্তা দিয়ে দিয়ে হাঁটছিলাম আর ভিজতে ছিলাম। মনের মধ্যে এতটা ভালো লাগছিল তা বলার মত না , নতুন বান্ধবীদের সাথে পা পা মিলিয়ে মিলিয়ে পথ চলা, মাথার উপরে মেঘের কাছ থেকে হাজার ভালবাসা। আসলেই সব কিছু মিলে জোশ একটা সময় কাটছিল।

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত