একটি শুরু না হওয়া প্রেমের গল্প!!!

একটি শুরু না হওয়া প্রেমের গল্প!!!

ইদানীং বিকেলে ছাদে উঠে ছোট বোনের সাথে খেলতে ভালই লাগে।আমরা এই বাসায় নতুন উঠেছি। বাবার চাকরির কারণে আমরা বেশিদিন কোথাও থাকতে পারিনা। আমি কলেজে ২য় বর্ষের ছাত্রী, আর আমার ছোটবোনকে এইখানে আনার পর প্লে’তে ভর্তি করিয়ে দেওয়া হয়েছে।একেতো নতুন বাসা তার উপর বাসায় আম্মু আর ছোটবোন ছাড়া আর কেউ না থাকায় ওর সাথেই সময় কাটাতে হয়।এর আগে আমরা কুমিল্লাতে ছিলাম,আমি ওইখান থেকেই পরীক্ষা দিব,তাই এখানে সারাদিন বাসাতেই থাকতে হয়,পড়াশুনা করি আর ছোটবোন মায়িশার সাথে সময় কাটাই।

আজ ছাদে উঠে মায়িশাকে ধরার জন্য দৌড়াচ্ছিলাম,মেয়েটা খুব দুষ্টু হয়েছে,ধরাই যাচ্ছেনা। হঠাৎ আমার নজর পড়ল পাশের বাসার ছাদের উপর,একটা ছেলে আনমনে ছাদের রেলিং এর উপর বসে আছে। বসে আছে ছেলেটা, অথচ আমার মনে হচ্ছে আমিই বসে আছি,আর কিছুক্ষণ থাকলেই হয়ত বাতাসে পড়ে যাব। ছেলেটার চেহারা খুব মায়াবী, প্রথম দেখাতেই আমার কাছে খুব ভালো লাগছে। হাফ হাতাওয়ালা একটা ব্লু কালারের টি-শার্টে আরো ভালো লাগছে ছেলেটাকে।
আচ্ছা ছেলেটা কি আমাকে দেখেছে…..
রাতে খাওয়ার পর বাবা বলল,কাল নাকি ঘুরতে নিয়ে যাবে আমাদের। এখানে আসার পর কোথাও যাওয়া হয়নি,বাবারও অফিসে অনেক কাজের চাপ ছিল।

আমি আর মায়িশাতো অনেক খুশি,ঘুরাঘুরি মানেই যেন আমাদের ঈদের দিন। এতো আনন্দের পরেও কেন জানি আমার বারবার ওই ছেলেটার কথাই মনে পড়ছিলো, ঐ মায়াবী চোখ,ঐ চাহনি, ঐ মুখ সব যেন আমার চোখের সামনে ভাসছে। বারবার ঐ মুখ থেকে মিষ্টি কথা শুনতে মন চাচ্ছিল..

রাতে ভালো করে ঘুম হয়নি,তাই সকালে আম্মু ডাকতে ডাকতে পরে বলল, থাক তুই! খালি ঘুম আর ঘুম! আজ এক জায়গায় ঘুরতে যাবে তাও মনে হয় কোনো মাথাব্যথা নেই! আমরাই যাচ্ছি, তুই ঘুমা!
তখন আমি একলাফে ঘুম থেকে উঠে দেখি ৮ টা বেজে গেছে।

ফ্রেশ হয়ে সবাই একসাথে নাস্তা করে নিলাম। আমি কোন ড্রেস পরব কিছুতেই ঠিক করতে পারছিলাম না,আসলে আমি কোনকিছুর ডিসিশন নিতে গেলে কনফিউজড হয়ে যাই কি করব! অনেক ভাবার পর আম্মুকে বললাম,আম্মু তখন আমাকে সাদারঙ এর ড্রেসটা পরতে বলল।

১০ টার দিকে আমরা বাসা থেকে বের হয়ে গেলাম। বাসা থেকে বের হতেই আমার নজর পড়ল পাশের বাসার গেটের দিকে,আরে এতো ঐ ছেলেটা! মনে হয় অফিসে যাচ্ছে।বাহ! আজকেও ওকে দারুণ লাগছে! আমিতো দেখছি ছেলেটার প্রেমে পড়ে যাচ্ছি! তবে চাকরি করলে ভালই হবে, বিয়েটা তাড়াতাড়িই হয়ে যাবে আর কোনো সমস্যাও হবেনা!
এসব ভাবতে ভাবতেই মা বলল গাড়িতে উঠতে। সারা রাস্তা আমি শুধু ছেলেটার কথাই ভাবছি,কি হ্যান্ডসাম আর স্মার্ট! কবে যে সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলতে পারব!

সারাদিন ঘুরাঘুরি করে বাসার সবাই খুব ক্লান্ত। রাতের খাবারটা বাইরে থেকেই খেয়ে এসেছি সবাই। আমি অবশ্য আজকে ঘুরাঘুরিটা ভালোমতো উপভোগ করতে পারিনি,কেন জানি বারবার ঐ ছেলেটার কথাই শুধু মনে পড়ছিল। আম্মু কিছুটা বুঝতে পেরেছে যে ঘুরাঘুরিতে আমি মজা পাচ্ছিনা,তবে কিছু বলেনি।

পরেরদিন সকালে আম্মু আমাকে বলল মায়িশাকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে আসতে, বাসায় দাদুরা আসবে,আম্মু রান্নাবান্না নিয়ে ব্যস্ত আছে। অনিচ্ছাসত্ত্বেও আমি মায়িশাকে নিয়ে চললাম স্কুলে। বাসা থেকে বের হতেই দেখলাম পাশের বাসা থেকে একটা পিচ্চি মেয়েও মায়িশার সাথে স্কুলে যাচ্ছে।

আরে! এটাতো ঐ ছেলেদের বাসা! তারমানে এই পিচ্চিটা ঐ ছেলের কিছু হয় নিশ্চয়ই! ভালই হলো একদিন যাওয়া যাবে পিচ্চিটার সাথে। পিচ্চির মায়ের সাথে একটু গল্পগুজব করে পরিচিত হয়ে নিলাম। উনি দেখতে যথেষ্ট সুন্দরী।
মাঝেমাঝেই ঐ পিচ্চিটা বিকেলের দিকে আমাদের বাসায় আসে মায়িশার সাথে খেলার জন্য। আমিও ওর সাথে ভাব জমিয়ে ফেললাম! ইদানীং আর ছেলেটাকে ছাদে আসতে দেখিনা। আজ হঠাৎ আবার ওকে ছাদে দেখে মনের মধ্যে এক অন্যরকম ভালোলাগা কাজ করছে। আচ্ছা ও কি হাসতে জানেনা! সব সময় মুখ কেমন গোমড়া করে থাকে!
আমি কথা বললে বলব হাসতে, হাসলে হয়ত ওকে আরো সুন্দর লাগবে!

আজ পিচ্চিটাকে বলেকয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত বাসায় আটকে রাখলাম,উদ্দেশ্য ওকে পৌঁছে দেওয়ার ছলে ওদের বাসায় গিয়ে ঐ ছেলেটাকে কাছ থেকে দেখা। ভাবতেই আমার ভালো লাগছে! ছেলেটা আমাকে দেখে নিশ্চয়ই অনেক খুশি হবে! আমাকে পছন্দ করবে! ভালো লাগবে!তারপর ভালবাসা!!!!

ওহ! এসব ভাবতে ভাবতেই মাগরিবের আজান দিয়ে দিলো। মেয়েটাকে আমি নিজ হাতে নুডলস রান্না করে খাওয়ালাম, তারপর ও বলল এখন বাসায় যাবে।

আমি মায়িশা আর ঐ পিচ্চিটাকে নিয়ে ওদের বাসায় চলে গেলাম। আমার কেন জানি খুব ভয় লাগছে, ছেলেটার সামনে গেলে কি হবে! দূর থেকে দেখেতো কতকিছু ভাবছি,সামনে গেলে কথা বলতে পারবতো!!

বাসায় গিয়ে কলিংবেল টিপতেই ঐ ছেলেটাই দরজা খুলে দিলো, আমিতো ওকে দেখে পুরাই হা হয়ে গেলাম! আসলেই ছেলেটা অনেক সুন্দর! সামনে থেকে দেখে লজ্জায় আমার মুখ লাল হয়ে গেল। কি বলব! কি করব! এসব ভাবতে ভাবতেই শুনতে পেলাম ঐ পিচ্চি মেয়েটা আব্বু বলে ডাকছে,আমি আশেপাশে তাকালাম ওর বাবাকে দেখার জন্য,কই কেউতো নেই! হঠাৎ আমাকে পুরো অবাক করে দিয়ে ঐ ছেলেটা পিচ্চিটাকে কোলে তুলে নিয়ে বলতে লাগল, ” এতক্ষণ কোথায় ছিলে মামণি!”
তখন আমি যেন ধপাস করে আকাশ থেকে মাটিতে পড়লাম! আরে এই ছেলেটাই এই পিচ্চির বাবা!!!
তার মানে ও বিবাহিত! শুধু তাই নয়,একটা মেয়েও আছে!!

উনি আমাদের ভেতরে যেতে বললেন,কিন্তু আমি কাজের বাহানা দিয়ে দ্রুত ওই বাসা থেকে বের হয়ে আসলাম! নিজেই নিজেকে ধিক্কার দিতে লাগলাম,ছিহ! শেষ পর্যন্ত একটা বাচ্চাওয়ালা লোকের প্রেমে পড়লাম!!!

নাহ! আর কখনো কাউকে না জেনেশুনে কিছু চিন্তা করব না!!! বাহির দেখে মানুষ চেনা যায়না!!! শেষ হয়ে গেলো একটি শুরু না হওয়া প্রেমের গল্প!!!

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত