প্রেমের গল্প

প্রেমের গল্প

– ঠাস,,,
– মারলি কেন, তোকে আমি কি করলাম।
– তোর মত কুলাংগার,লুচ্চা ছেলে কে এই ভাবেই মারা উচিৎ।
– কথা না পেচায় সোজা বল আমি কি করেছি। এমনিতে ছোট হয়ে বড় কে মেরেছিস, মাথা গরম আছে।
– আগে বল তোকে আমার বান্ধুবিকে propose করতে কে বলেছে।
– আমার পছন্দ হয়েছে তাই ওকে propose করেছি। তাতে তোর এতো ফাটতেছে কেন।

– আমার ফাটতেছে কেন,, (রেগে গিয়ে)। তুই আর পৃথিবীতে মেয়ে পাইলি না প্রেম করার জন্য, আমার বান্ধুবিকে পাইলি।সে তোর উপর সেই লেবেলের রাগ হইছিল। অন্য কেউ হইলে তোকে থাপড়াইয়া দাত ফেলাই দিত। কিন্তু আমার ভাই হইস দেখে তোকে মারে নাই। তাই ওর মাইরটা আমি দিলাম।

– তুই মাইর দেয়ার কে, আর ওকে প্রপোজ করছি ওর ভাল লাগলে accept করবে না লাগলে করবে না। এতে থাপড়ানোর কি আছে।
– তোকে মাইর দিছি এই জন্যে যে তুই যেনো পরের বার আমার যেন কোন বান্ধুবির দিকে না তাকাইস। পারলে অন্য মেয়ের দিকে তাকাইস।আমার বান্ধুবির দিকে তাকালে চোখ তুলে নিব,লুচ্চা কোথাকার।
– ইসস,, মহারানী আইছে, আমাকে হুকুম করতেছে। আর হে মনে রাখিস তোর এই থাপ্পড় এর প্রতিশোধ আমি শুধে আসলে উঠায় নিব। আজ তোকে ছেড়ে দিলাম।
– আরে যা ফকিন্নি , তোর ক্ষমতা আছে আমাকে মারার।
– ক্ষমতা আছে কি নাই সেটা পরে বুঝাব।

আসলে আমার ক্ষমতা নাই প্রতিশোধ নেয়ার। এখন আসি পরিচয় পালা। এতক্ষন যার সাথে ঝগড়া করলাম সে আমার চাচাতো ছোট বোন রাইশা আর আমি নিলয়। সে আমার জীবনের সর্ব প্রথম ক্রাস বল্লেও চলে।দেখতে একদম ডানা কাটা পরি। কিন্তু তার সাথে কখনো আমার মিল হয় না, কুত্তার মতো ঝগরা চলতেই থাকে আমাদের। আর ঝগরা করার সময় মারামারি হলে মাইরটা আমি বেশি খাই। কারন ওকে আবার মারলে বাপ এসে আমাকে পেদানি দেয়।আমার বাবা-মা ওকে বেশি support দেয়। আমার বাবারা আবার দুই ভাই,, বোন নাই। আমার বাবা বড়। তারা দুই ভাই একই সাথে চাকরি করে।

আমি হলাম গিয়ে আমার বাবার একমাত্র ছেলে, বোন নাই। আর আমার চাচার একমাত্র মেয়ে, ছেলে নাই।তাই মেয়ে হিসেবে দুই পরিবারের আদর টা একটু বেশি পায়। আমরা যৌথ ও মধ্যবিত্ত পরিবার। আমি ছেলে হিসেবে বাবা-মার থেকে চাচা চাচির আদর বেশি পাই। আমি অনার্স 2য় বর্ষ। আর ও ইন্টার ২য় বর্ষ তে পরে। আমাদের রেজাল্ট সচারাচর সব সময় ভাল হয়। কিন্তু সমস্যা হল আমরা কখনও মিল হতে পারি না। তাই বাধ্য হয়ে বাইরের মেয়ে পেটানোর চেষ্টা করতেছি সেখানেও এই মেয়ে সমস্য করে। মেজাজ টাই বিগড়ে দেয়। কিন্তু প্রতিশোধ নেয়ার সুযোগ পেলে ছারি না।

সুযোগটা যে এতো তারা তারি আবার আসবে সেটা আর জানতাম না। হটাত আমার মামার বিয়ে ঠিক হল। তাই বিয়ের আগের দিন মা, আর চাচি কে যেতে হল আর বাবা ও চাচা তো আগেই অফিসের কাজে ১সপ্তাহের জন্যে বাইরে গেছেন।কিন্তু রাইশার পরিক্ষার জন্য আমাকে আর তাকে যেতে দেয়া হল না মামার বাড়ি। কথা হলো তার কাল পরিক্ষা শেষ হওয়ার পর দুই জনে একসাথে যাওয়া। কিন্তু আমার মন খুব খারাপ, তাদের সাথে যাওয়ার খুব ইচ্ছা ছিল। কিন্তু এক দিয়ে মন ভাল হল একে আজকে ইচ্ছা মত ধোলাই দিব। এমন ধোলাই দিব যাতে পরের দিন পরিক্ষায় দিতে না পারে।কেও দেখবেও না কেও আটকাবেও না। বিকেলের দিক সবাই চলে গেছে, এখন পযন্ত কিছু করি নাই তাই ভাবতেছি রাতের বেলা ধোলাইটা দিব। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হল দেখতেছি বই পরতেছে। কত সুন্দর ভাবে বই পরতেছে দেখে মনটা ভাল হয়ে গেল, তাই আর কিছু করলাম না। এক সময় খাওয়ার জন্য ডাক দিলাম, দুই জনেই চুপ করে খেয়ে নিলাম। কেউ কোন কথা বললাম না। আমি আমার রুমে এসে ঘুমায় গেলাম। সে বই পরতেছে।  রাতের বেলার দিক মোটামুটি আকারের একটা ঝর আসল, কিন্তু আমি টের পাই নাই।

মাঝ রাতে কারও নিস্বাসের বাতাস আমার মুখে পরার কারনে ঘুম ভাংলো। তার পর অনুভব করলাম আমাকে কেউ জড়িয়ে ধরে আছে। চারদিক অন্ধকার, আমার পাশে তাকাতেই দেখলাম এক ছায়া মুর্তি। প্রচন্ড রকম ভয় পেয়ে গেলাম, কলিজায় আমার পানি নাই। আমি আবার অতো সাহসী না। মনে মনে ভাবতেছি কোন ভুতের আবার ভয় লাগল যে আমার পাশে এসে সুইতে হলো।  মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট টা অন করতেই জানে পানি এলো। এটা ওই লেডিস হারামি, মনে হয় রাতে ভয় খাইছে। কত সুন্দর ভাবে ঘুমাচ্ছে। দেখতেই ইচ্ছা করতেছে ঠোঁটে একটা চুমু দেই।  যেই ভাবা সেই কাজ, আস্তে করে দিলাম ঠোঁটে। চুমু দিতেই ঘুম ভেংগে গেল তার। সাথে সাথে reaction শুরু,

– অই তুই আমার ঠোঁট চুমু দিলি কেন। আমি কি তোর বিয়ে করা বউ যে ইচ্ছা হল চুমু দিলি তাও আবার ঠোঁটে।
তোর লজ্জা করে না।
– আগে বল তুই আমার বিছানায় কেন।
– আমার ভয় লাগছে তাই আসছি। কিন্তু তুই আমাকে চুমু দিলি কেন সেইটা বল,,,,,( অনেক রেগে গেছে)
– তুই আমার অনুমতি না নিয়ে আমার বিছানায় শুয়েছিলি, তাই আমিও অনুমতি না নিয়ে চুমু দিছি। সমান সমান।
– লুচ্চা তোর বিছানায় শুইতে তোর অনুমতি নেয়ার লাগবে। রাম ছাগল,ভেরা, কুত্তা কোথাকার,,
– পেত্নি,ভিতু আমার সাথে ঝগড়া করিস আবার আমার বিছানায় আইছস সুইতে লজ্জা করে না।
– কি আমি পেত্নি,,,,

এভাবে তর্কাতর্কি করতে লেগে গেল ৩য় বিশ্ব যুদ্ধ। সেই রকমের মারা মারি হল, দুজনেই সমান সমান মারামারি করলাম। কিছুক্ষন পর মারামারি থামল আমাদের আমি বিছানার এ পাশে এই মুখ করে আর ও বিছানার ও পাশে ওই মুখ হয়ে শুয়ে আছে। আবার কথা কাটা কাটি শুরু হল আমাদের,,,,

– তুই তো খুব সাহসী, আজ আবার একা থাকতে পারছিস না । ইসস, ঢং কত।
– বাসায় কেউ নাইতো তাই তেজ বেরে গেছে তোর,তাই না।
– আমি বলেছিলাম না শুধে আসলে প্রতিশোধ নিব, এবার নেয়া হয়ে গেল।
-(রাগে কট মট করে) আরে বড় আব্বুকে শুধু আসতে দেনা তার পর দেখাব তোর কি হাল হয়। কত ধানে কত চাল সেটা দেখাব।
– কি করবি রে, কি করবি, রেগে গিয়ে পাছায় একটা ক্যাত করে লাথি মারলাম, সে বিছানা থেকে ধপাস করে পরে গেল।
– লাথি মারলি কেন রে,লাথি মারলি কেন, তোকে আমি মারছি।
– তুই বাবার কথা বললি কেন তাই লাথি মারছি।
-তাই বলে তুই আমাকে লাথি মারবি,,,,

এবার লেগে গেল ৪র্থ বিশ্ব যুদ্ধ। এ যুদ্ধ আর বেশিক্ষণ চলল না। আমি আর চলতে দেই নাই। কারন আজ ওর পরিক্ষা। তাই কিছু একটা হয়ে যাক এটা আমি চাই না তাই নিজেকে কন্ট্রোল করে তাকেও কন্ট্রোল করলাম।
ও ওই মুখ করে শুয়ে কান্না করতেছে।

– এই একদম কাদবি না কান্না আমার ভাল লাগে না।
-চুপ করতে বলছি না।
– এবার কাদলে, হাত পা বেধে, মুখে টেপ মেরে , ওই কোনার ঘরে রেখে আসব।
– এবার চুপ হইছে। আসলে ওই কোনার ঘরের পাশে কয়েকটা কবর স্থান আছে, তাই একটু ভয় করে ওই ঘর টাকে।
– দুজনেই নিঃশব্দে শুয়ে আছি। সেই বিচ্ছানার ও পাশে মুখ করে সুয়ে আছে, আমি তার দিকে মুখ করে।

এখন ভাবতেছি অনেক ভুল করেছি এভাবে ঝগড়া, মারা- মারি করে। আমি তো ওকে ভালবাসি সে না বুঝলেও আমি তো বুঝি। না এবার ক্ষমা চেয়ে নিতে হবে। তাই এবার আমি বললাম,,,,

– এ আমার দিকে তাকা।
-৷ ,,,,,,,,,
– বললাম না আমার দিকে তাকা।
-এবার আমার দিকে ঘুরে তাকালো। চোখ দিয়ে নিঃশব্দে পানি পরে যাচ্ছে।
-আমার অনেক খারাপ লাগতেছে এখন। এভাবে ঝগড়া – মারামারি করা উচিত হয় নাই। আমি দুই হাত দিয়ে দুই চোখের পানি মুছে দিলাম।
– খুব লেগেছে তাই না?
– কোন কথা বলতেছে না। শুধু দুজনেই দুজনের চোখের দিকে তাকিয়ে আছি। ঘরটা শুধু মোবাইলের ফ্ল্যাশ লাইটের আলোতে আলোকিত।
– আমাকে মাফ করে দে না এবারের মতো। আর কখনো এমন টা করব না।

কিরে কিছু তো বল,,, বোবা হলি নাকি,, অনেক্ষন পর আমি তার হাত দুটো দু হাত দিয়ে ধরে বললাম,,,একটা কথা বলব,,,,,(আজ মনের কথা গুলো তাকে বলতেই হবে,,বুকে সাহস নিয়ে বলা শুরু করলাম)

-,,,,,,,,,,
– তোকে অনেক ভালবাসি রে, নিজের থেকেও বেশি।

তুই হবি কি আমার সারাজীবন এর সঙ্গী?আমাদের এই ছোট্ট বাড়িতে। থাকব দুজন মিলে।দুজনের বাবা- মা সব সময় আমাদেরই পাশেই থাকবে।দুজনই ভালবাসা দিয়ে ভরিয়ে তুলব এই ছোট বাড়ি টাকে। মাঝে মাঝে ঝগড়া ঝাটি করব তুমি আর আমি মিলে। বাড়ি টাকে সাজিয়ে তুলব নিজেদের মতো করে। তোকে আমি অনেক ভালবাসি রে। যখন থেকে ভালবাসা কি জিনিস, বুঝেছি তখন থেকে তোকেই কল্পনা করেছি আর ভালোবেসেছি ।তোর সাথে এত ঝগড়া আর মারামারি করার পরেও তোর মুখ দেখলে সব ভুলে যাই। ভালবাসবি আমায়। তুই হবি কি আমার রাজ কুমারী। রানীর মতো রাখব এ বুকে। কি হবি,,?

একটানে কথা গুলো বললাম আমি। কিন্তু তার তো কোন অনুভুতি দেখতেছি না। সে শুধু আমার চোখের দিকে তাকিয়ে আছে, চোখের পাতাও ফেলতেছে না। মনে হচ্ছে আমার পাশে রোবট শুয়ে আছে আর আমি তার সাথে কথা বলছি।ভাবাগো ভাবা এ কেমন মেয়েরে এত গুলা কথা বললাম কোন প্রতিক্রিয়ায় নাই। ভাবলাম অন্য কিছু হলো নাকি আবার। তাই এবার আমি তাকে ঝাকালাম।সে শুধু ও পাশ ঘুরে শুলো। কোন কথা বলল না। কিরে কিছুতো বল হ্য অথবা না। কথা না বলবি ঠিক আছে, আমিও আর বলবনা যা, ।

মনে হয় না এই মেয়ের সাথে আমার ইয়ে হবে। এর যা ভাব সাব। তাই, না টাই ধরে নিলাম।মন টাই খারাপ হয়ে গেল। এটাও ফেল হয়ে গেল, এখন আবার অন্য মেয়ে খুজতে হবে। আরে আজকে তো মামার বিয়ে নিশ্চিই অনেক মেয়ে আসবে ওখানে একটাকে পটাতে হবে। হটাত কেন জানি ভয় লাগা শুরু করল। আজকে যা যা হল যদি এইসব কথা বাবাকে বলে, বাবা তো আমাকে মরে কবরে ঢুকার আগে, মারতে মারতে কবরে ঢুকাবে।আরও বলবে প্রেম করার শখ জাগছে না।আয় বাবা তোর প্রেম বের করতেছি। বাল সব জায়গাতে ফাসি, এখানে আর ছাড়া পাব বলে মনে হয় না। এ নিশ্চিত ফাসাবে, এই মেয়ের গেরান্টি নাই ।ধুর এত টেনশন নিয়ে বাচা যায় নাকি।

আর কিছুক্ষণের মধ্য সকাল হবে তাই আর ঘুমালাম না। সে ঘুমিয়ে পরেছে কিনা জানি না কিন্তু তার চোখ বন্ধ। কি মায়াবি লাগতেছে তাকে। একটু ভোর হতেই, উঠে টুকিটাকি কাজ করতে লাগলাম।  সে ঘুম থেকে উঠে, মুখ ধুয়ে, বই পরতে বসল। আমি চা বানালাম, চা আর নাস্তা বানিয়ে তার কাছে নিয়ে গেলাম। তার দিকে তাকাতেই দেখলাম, মুখের কিছু অংশ লাল হয়ছে আর হাতের কিছু অংশ। এগুলো নিশ্চিই মারের দাগ।
আমারও গায়ে দেখলাম কিছু আছে। আমি আর দেরি না করে আমার ঘর থেকে মেরিল আনলাম। মেরিল বের করে তার যেই গালে লাগাতে যাব। অমনি মুখটা ভেংচি কেটে ও পাশে মুখ ঘুরাল। মনে হয় পাগলিটা রাগ করেছে। আমি আর কম কিসে।

– বেশি রাগ দেখাবি তো আবার,,,,
– আবার কি , মারবি মার।
– অলে বাবুটা আমার রাগ করেছে,,,
– অলে বাবুটা আমার রাগ করেছে,,,
– অই চুপ। আর একটা কথা বলবি না একদম চুপ।
– (এবার চুপ হল)

আমি এবার সুন্দর করে লাল লাল জায়গা গুলোতে মেরিল লাগিয়ে দিলাম। কোন কথা বলতেছে না শুধু আমার দিকে তাকিয়ে আছে।

– অই আমার দিকে এতো তাকাইস না।
– আমি লুচ্চা ছেলেদের দিকে তাকাই না।
– আমি কি লুচ্চামি করলাম আবার।
-এত দিন আমার ফ্রেন্ড দের সাথে লুচ্চামি করছিস আজ আমার সাথে করলি। আবার বলছিস আমি কি লুচ্চামি করছি।
– সকাল সকাল আবার মারামারি করার ইচ্ছা করতেছে।
– তোর সাথে মারামারি করতে আমার বয়ে গেছে
– বেশি কথা বলিস না এইসব নাস্তা আর চা খেয়ে পরতে বস।
– তোর চা আর নাস্তা আমি খাব না।

এত বকর বকর করিস না তো কিছুক্ষন পর পরিক্ষা, ভাল করে খেয়ে বই পর পেত্নি কোথাকার, বলেই পালিয়ে আসলাম। আজ মনে হয় না চা আর নাস্তা গিলবে । সামনে পেলেতো আমাকেই গিলবে। ধুর আর ভাল লাগে না। কিছুক্ষন পর ডাকলাম, কিরে রেডি হইছিস পরিক্ষা দিতে যাবি না,না কি।

-কোন কথা নাই।
– দরজায় নক করতে বেরিয়ে এলো। কিরে নবাবজাদি হইছে।
– পরিক্ষার আগে মাথা গরম করাইস না।
– আচ্ছা ঠিক আছে করব না।নাস্তা খাইছিস।
– খাইছি, কুকুরও এসব চা খায় না ছি ।।।।
– (বালডা আবার রাগ ভাসাচ্ছে, নিজেকে সামলে নিয়ে বললাম)তোর কাপরের ব্যাগ দে, ওই দিক দিয়া মামার বাড়ি যাব।
– এই নে।
– চল
-বাড়িতে তালা দিলাম।সামনেই কলেজ। দুই জনে হাটতেছি কেউ কোন কথা নেই।
-হটাত আমি বললাম সকালের উত্তর টা তো দিলি না।
– কোনটা
– ওইটা
– ওইটা কোনটা।
– মনে হয় পাগলি , বোঝেনা।( আমি রেগে গিয়ে) তুই যদি আমার সাথে না করিস, বলে দে। তাহলে আবার আজকে মামার বিয়েতে অন্য মেয়ে দেখতে হবে। ( কথাটা বলেই মুখে হাত দিলাম এটা কেন বললাম আমি।সেও সাথে সাথে আমার দিকে তাকাল)

– আগেই কইছিলাম তুই একটা লুচ্চা। এখন তো আরও ভালভাবে বুঝলাম। লুচ্চা সারা জীবন লুচ্চাই থাকে।
– আমার মুখে আর জবাব দেয়ার মতো আর কোন কথা পেলাম না পুরাই থ হয়ে গেলাম।

নিজের ভুল নিজেই করলাম। অতঃপর নিঃশব্দে বাকিটা পথ চললাম।  সে পরিক্ষা দিতে কলেজের ভিতরে ঢুকলো। আর আমি বাইরে গার্জিয়ানদের ওয়েটিং রুমে বসে আছি। বাল এসব আর ভাল লাগে না জীবনে কি একটাও গার্লফ্রেন্ড জুটবে না। ভাবা যায় এগলা। ৩ ঘন্টা বসে থাকতে হবে। ৩ ঘন্টা পর,  কিরে পরিক্ষা শেষ ।

– হুম
– চল তাহলে।
– চল।

একটা রিকশায় দুই জন বসে যাচ্ছি। আবার দুজনে নিঃশব্দে বসে আছি। কথা বলার তো কোন কথা খুজে পাচ্ছি না তাই। যা বলার ছিল সব তো শেষ হয়ে গেছে। হটাত সে প্রশ্ন করল।

– সত্যি ভালবাসিস আমায়।
– হুম ( কিছুটা অবাক হয়ে ভাবিনি এরকম প্রশ্ন করবে)
_ কত টুকু ভালবাসিস আমায়।
– যত টুকু ভালবাসলে ভালবাসা জন্মায়।
– এ কেমন উত্তর।
– যেমন প্রশ্ন তেমন উত্তর।
– ও আচ্ছা। কিন্তু আমার তো বয় ফ্রেন্ড আছে।
– কই কোন দিন তো বলিস নি।
– তোকে বলার যোগ্য মনে করিনি।
– ও আচ্ছা।

( মনটা আবার খারাপ হয়ে গেল, বালডা আবার কবে থেকে প্রেম করা শুরু করেছে। শুধু আমি একা রয়ে গেলাম।এত দিনের সপ্ন চুরমার করে দিল,বালডা )

-তুই তার চেয়ে বিয়ে বাড়িতে মেয়ে দেখ পাইস কিনা।
– ঠিক বলেছিস ( প্রুচুর ভাব নিচ্ছে এখন)

বিয়ে বাড়িতে পৌছানোর পর সবার সাথে দেখা করে, মেয়ে দেখতে শুরু করলাম, না একটাও ভাল পেলাম না। ধুর মেজাজ টাই খারাপ হয়ে গেল। তাই ভাবতেছি খেয়ে দেয়ে বাড়ি যাব এখানে ভাল লাগতেছে না।তাই রাতের বেলা মাকে বলে বাড়ি আসতে যাব, ঠিক তখনি রাইশা বলল সেও নাকি যাবে। কালকেও নাকি তার পরীক্ষা আছে তাই নিয়ে আসতে বাধ্য হলাম। যদিও কোন ইচ্ছা ছিল না। আর মা আর চাচি নাকি আজকেও থাকবে। রিকশায় বসে দুজনে আসতেছি।সে বলতেছে

– কিরে মেয়ে পাইলি
-না
– ওহ কত বড় দুঃখ বাবু টার
– যা মজা করিস না তো। ( বাল, মজা করার সুযোগ পেলে কেউ ছারে না)
– আচ্ছা করব না।

বাড়ি এসেও ভাল লাগতেছে না তাই ছাদে গেলাম। পকেট থেকে সেন্টার ফ্রুট বের করে খেতে খেতে চাঁদ দেখতে লাগলাম। আমার আবার বাজে নেশা নাই। পিছন থেকে হটাত করে রাইশা বলল।

– কিরে বেচেলার, কি করিস।
– আমি কি করি না করি তোর কি। তুই যা, গিয়ে বই পর। ( বালডা আইছে দরদ দেখাতে)
– আমার পরিক্ষা থাকলে না আমি বই পরব।
– পরিক্ষা নাই তা আসলি কেন।
– আমার বর বাড়িতে একাই আসবে,একাই থাকবে সেটা আবার হয় নাকি।
– তোর আবার বর কে,?
– আমার বরের নাম নিলয়। অনেক পুরোনো প্রেমিক আমার। যাকে ছাড়া একটা দিনও কাটে না আমার।
– ফাজলামি করার আর যায়গা পাইলি না।এবার মাথা গরম করলে কিন্তু আর ছাড় দিবনা।
– ও তাই বুঝি (এবার খুব কাছে এসে দুই হাত দিয়ে আমার দুই হাত শক্ত করে ধরে বললঃ)
-ভালোবাসা নিবি না আমার? রাজ রানী বানাবি না আমাকে? বুকের মঝে রাখবিনা আমকে?সকালে ভালবাসার কথা বলে এখন আবার তাড়িয়ে দিচ্ছিস।
-তাহলে সকালে ওরকম করলি কেন। কোন কথা বললি না। আবার তুই বললি তোর আবার বয়ফ্রেন্ড আছে।
– তুই বিশ্বাস করবি না,

তুই যখন সকালে আমাকে ভালবাসার কথা বলেছিলি আমি কতটা আত্মহারা হয়ে গিয়ে ছিলাম। মুখে কোন কথা আসছিল না। আমি শুধু ভাবছিলাম আমি সপ্ন দেখতেছি না তো।আমি বাথরুমে গিয়ে অনেক কেদেছি, সুখের কান্না তোকে পাওয়ার কান্না। আর আমি বললাম আমার বয়ফ্রেন্ড আছে সেটা তো তুই রে পাগল।আমিও তোকে অনেক ভালোবাসিরে, কিন্ত তোকে বলার সাহস পাইনি। এখন না হয় বললাম ভালবাসি। ভালবাসবি আমায়?

– (বুকে টেনে নিয়ে) অবশ্যই বাসবো আমার পাগলিটাকে।

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত