কাছে আসো

কাছে আসো

-মা আমি বেরুচ্ছি,,
-ঠিক আছে বাবা একটু তারাতারি ফিরিস,

এত রাত করে কেন যে বাহিরে বেরুস বুজিনা, রাত ১১.৪৫ বাসা থেকে বেরিয়ে পড়লাম, কেনো জানি রাতে শহর টা দেখতে আমার খুব ভালো লাগে, তাই প্রতিদিন এই সময়টায় আমি হাঠতে বেরুই ওহ আমার পরিচয় তো দেয়া হলো না,, আমি ফারাবি বাবা মার এক মাত্র ছেলে, মাস্টার্স শেষ করে এখন বাবার কম্পানিটা দেখা শুনা করছি,

প্রায় ১২.০০ টা বাজতে চল্লো, আমি হাঠছি, কানে ইয়ার ফোন, রাস্তার দুপাশে লেম্প পোস্টের আলো জ্বলছে, শহরের কোলাহল অনেকটাইকমে এসেছে, হালকা বাতাস আমার হাঠতে খুবভালোই লাকছে, আমি হাঠছি এক মনে, এই পরিবেশ টা সারা দিনের অবসাধকে দূর করে দেয়, মনটা একনিমিশেই ফুর ফুরে করে দেয়, হাঠতে হাঠতে বাসা থেকে অনেক টা দূর চলে এসেছি, একটা গলির মুখ ধরে হাঠছি জায়গা টা অনেকটা নির্জন মনে হচ্ছে, এভাবে আরো কিছু দূর এগিয়ে গেলাম, হঠাৎ খেয়াল করলাম সামনে ৩ জন মহিলা দড়িয়েআছে, মহিলা বললে ভুল হবে ২ জন মধ্য বয়সি অনুমানিক ৩০ হবে, আর একটা মেয়ে ২০/২২ বছরহবে, এত রাতে এমন একটা নির্জন রাস্তায় এরা কি করছে, আমি আরো একটু এগিয়ে গেলাম, দেখাম মহিলা ২ জন কি নিয়ে জেনো কথা বলছে আর আর মেয়েটা নিচের দিকে তাকিয়ে আছে, আমি মেয়েটার দিকে তাকিয়ে স্তব্ধ হয়েগেলেম, মনে হচ্ছিলো কোনো রাত পরী জেনো আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে, এই আবছা অন্ধকারো জেনো মেয়েটার রুপ কমাতে পারেনি, অসম্ভব সুন্দর লাকছিলো,, আমাকে দেখে মাহিলা গুলো কথা বন্ধ করে দিলো,

– কি বাবু এভাবে কি দেখছিচ লাগবে নাকি….??
-মানে (আমি)
-মানে বুজিস না, এভাবে দেখলে কি হবে পয়সা দে সব পাবি, আমি এতক্ষনে বুজলাম এরা কারা, আর কেনোই বা দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু মেয়েটা এখনো মুখ তুলে তাকায় নি, আর কোনো কথাও বলছে না,
-আপনারা যা ভাবছেন আমি আসলে তেমন নই, (আমি)
-কেনো এত ভনিতা করছিচ, পছন্দ হলে টাকা দিয়ে নিয়ে যা,

তোর ভাগ্য ভালো এইটা কিন্তু নতুন, আজকেই প্রথম, আমি কিছু না বলে পাশ কাটিয়ে চলে আসছিলাম, হঠাৎ কি মনে করে জেনো আবার ওদের কাছে ফিরে আসলাম, ওদের কিছু টাকা দিয়ে বললাম,

-এই নেও টাকা, আমি মেয়ে টার সাথে একটু কথা বলতে চাই (আমি)
– শুধুই কি কথা বলবি আর কিছু না,
-আমি চুপ করে রইলাম,
-এই চল আমাদের হয়ে গেছে, ওদের একা ছেড়ে দে,

এই বলে ওরা মেয়ে টাকে রেখে চলে গেলো,, আমি মেয়ে টার দিকে তাকিয়ে আছি, একটা মানুষ এত সুন্দর হয় কি করে, কি মায়াবি চেহারা, লেম্প পোস্টের হালকা আলোয় মেয়েটাকে সত্যি অপ্সরির মত লাকছে, মেয়েটা এখনো নিচের দিকে তাকিয়ে আছে,

-আমি কি আপনার সাথে একটু কথা বলতে পারি?? (আমি) মেয়েটা একটু করে মাথা নাড়লো,,
-আপনার নামটা জানতে পারি……?? (আমি)
-নিশি (ছোট্ট করে জবাব দিলো)
-কবে থেকে এই কাজ করছেন, আর কেনো…..?? (আমি) মেয়ে টা একটা দির্ঘ নিঃশ্বস ছেড়ে বলতে লাগলো,
-আমি গ্রামের মেয়ে, আমার বাবা মা কেউ নেই,

ছোট বেলা থেকে এক মামার কাছে বড় হয়েছি, একটা ভালো কাজের খোজে মামা আমাকে এইখানে তার দূর সম্পর্কের এক লোকের কাছে পাঠিয়েছে, কিন্তু ভাগ্য এতই খারাফ যে ওই লোকটা আমাকে টাকার বিনিময় এইখানে কাল বিক্রি করে আমাকে টাকার বিনিময় এইখানে কাল বিক্রি করে দেয়,আর আসকেই আমাকে এইখানআর আসকেই আমাকে এইখানে এই বলে মেয়েটা থামলো, আমি খেয়াল করলাম মেয়েটা কাদঁছে ওর কথা শুনে আমার খুব খারাফ লাগলো, কিন্তু আমার কেনো জানি ওর কান্না দেখে মনে হচ্ছিলো রাত পরীর চোখ থেকে মুক্ত ঝরছে, আমার কেনো জানি ওর প্রতি খুব মায়া জন্মে গেলো, আমি বললাম,

-আমার সাথে যাবে……?? (আমি) মেয়েটা আমার দিকে চোখ তুলে তাকিয়ে বল্লো,
-কোথায়…….??
– কেনো আমার বাসায় (আমি)
– আমি আবার বললাম,
-আমার বাসায় আমার বাবা,

মা আর আমি থাকি, আমার মনে হয় তোমার কোনো সমস্যা হবে না, মেয়েটা এখনো আমার দিকে এক দৃস্টিতে তাকিয়ে আছে, আমি মেয়েটার হাত ধরে বললাম আরে চলো তো,, এই বলে মেয়েটাকে নিয়ে হাঠতে শুরু করলাম, (নিয়েতো যাচ্ছি পরে আবার কোনো ভেজালে না পরি, আর বাসায় গিয়ে মাকে কি বলবো তাই ভাবছি) মেয়েটাকে নিয়ে বাসায় চলে এলাম, টিং টং, টিং টং

-কে………??
-মা আমি দরজা খুলো, মা দরজা খুলে আমাদের দেখে হা করে তাকিয়ে আছেন,
-কিরে তুই এত রাতে কাকে সাথে করে নিয়ে এলি??
-মা তোমাকে সব বলছি আগেতো বাসায় ঢুকতে দিবা নাকি,,
-ঠিক আছে আয়, কিন্তু এইটা কে?? (মাকে এখন কি বলি, সত্যিটা তো কোনো ভাবেই বলা যাবে না, এখন কি দিয়ে বুজ দেই)

-মা আসলে হয়েছে কি, ও গ্রাম থেকে আসছে, পথ ঘাট কিছুই চিনে না, তার উপরে সাথে যা ছিলো সব ছিনতাই কারি চুরি করে নিয়ে গেছে, এখন কোথায় যাবে সেই ঠিকানা টা পর্যন্ত নেই, আমি বাসায় আসার পথে দেখলাম, রাস্তার একপাশে দাঁড়িয়ে কাদঁছে কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করে শুনি এই ঘটনা, তাই সাথে করে নিয়ে এলাম, (মিথ্যা বললাম)

-মা এখন তুমিই বলো আমি কি কোনো ভুল করলাম?? মা ওর দিকে তাকিয়ে বললো
-না কোনো ভুল করিস নি, তুই তো জানিস শহরের কি অবস্থা এত সুন্দর পরী টা কে সাথে করে নিয়ে এসে ভালোই করেছি, যত দিন না ওর কোনো ঠিকানা খুজে পাচ্ছিস, ও এখানেই থাক,,(মার মুখে পরী কথা টা শুনে নিশি একটু লজ্জাই পেলো)

-এইতো আমার মার মত কথা, আর মা তুমি আব্বাকে একটু মেনেজ করে নিয়ো, (আমি)
-ঠিক আছে আমি তোর আব্বাকে বুজিয়ে বলবো,
-ঠিক আছে মা আমি আমার রুমে গেলাম, তুমি ওর থাকার রুম দেখিয়ে দেও,
-আচ্ছা আমি দেখছি তুই যা,,

(মা যে এই জিনিস টাকে এত সহজে মেনে নিবে ভাবতে পারিনি) খুব ক্লান্ত লাকছে তাই রুমে এসে ফ্রেশ হয়ে শুয়ে পড়লাম,

-এইজে উঠে পড়ুন অনেক বেলা হয়েগেছে,, (ঘুমের মাঝে মার হাতটাকে জড়িয়ে ধরে)
-উম এত সকালে ডাকছো কেনো মা, আর একটু ঘুমাতে দেও,,
-এই এই কি করছেন ছাড়ুন আমি আপনার মা নই,, ঘুম ঘুম চোখে তাকিয়া দেখি নিশি দাঁড়িয়ে আছে ভেজা চুল মনেহয় গোসল করেছে, মার একটা শাড়ি পরা, আমি দেখেই তারাতারি ওর হাত ছেড়ে দিলাম,,
-সরি সরি আমি আসলে বুজতে পারিনি, আপনি কিছু মনে করবেন না প্লিজ…..,, (নিশি নিচের দিকে তাকিয়ে থেকে বললো,)
-না ঠিক আছে, আমি কিছু মনে করিনি, আপনার জন্য খাবার টেবিলে সবাই অপেক্ষা করছে, আসুন
-আচ্ছা আপনি জান আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি,,

ও ছোট্ট করে মাথা নেড়ে রুম থেকে বেরিয়ে গেলো, আমি তারাতারি ফ্রেশ হয়ে খাবার টেবিলে গেলাম, গিয়ে দেখি বাবা মা বসে আছে সাথে নিশিও, বাবা কে দেখে শান্তই মনে হলো তার মানে মা বাবাকে মেনেজ করে নিয়েছে, খেতে খেতে বিভিন্ন কথা হলো,, আমি তারাতারি খেয়ে অফিসের জন্য বের হবো, এমন সময় মা বললো,

-আরাবি আসকে একটু অফিস থেকে তারাতারি ফিরিস বাবা,,
-কেনো মা,
-মেয়ে টাকে যে নিয়ে এলি সাথে তো কিছুই নাই, বাসায় যে থাকবে জামা কাপড় তো লাগবে নাকি তাই বলছিলাম বাবা তারাতারি অফিস থেকে ফিরে ওকে নিয়ে একটু শপিং এ বেরুতি,
-আচ্ছা মা তুমি চিন্তা করো না, আমি ঠিক সময়ে চলে আসবো,

এই বলে বেরিয়ে পড়লাম, অফিসে এসে একটা মিটিং ছিলো, আর বিভিন্ন কাজ করতে করতে বিকেল হয়ে গেলো,, মার কথা মনে পড়তেই সব কিছু গুছিয়ে অফিস থেকে বেরিয়ে পড়লাম,, বাসায় ফিরে ফ্রেশ হয়ে নিজের রুমে বসে আছি, হঠাৎ নিশি আমার রুমে এলো,

-আপনার কিছু লাগবে, মা বলছিলো, আপনাকে জিজ্ঞেস করতে,,
-না না তেমন কিছু লাগবেনা,, শুধু আপনি আমার জন্য এক কাপ চা করে আনতে পারবেন?
-আচ্ছা আপনি বসুন আমি আনছি, (কিছুক্ষন পর)
-এইজে নিন আপনার চা,,
-ওহ আচ্ছা ধন্যবাদ ,,

আমি চায়ে কাপে চুমুক দিলাম, বাহ চা টা তো খুব ভালো হয়েছে, নিশি মাথা নিচু করে আমার সামনেদাঁড়িয়ে আছে, আমি বললাম আপনি রেডি হয়ে নিন আপনাকে নিয়ে সন্ধ্যায় একটু শপিং এ জাবো, ও আস্তে করে মাথা নেড়ে চলে গেলো,, আমিও চা শেষ করে রেড়ি হয়ে নিলাম, তারপর মাকে বলে ওকে নিয়ে বেরিয়ে পাড়লাম, আজকে ইচ্ছা করেই গাড়ি বের করলাম না, রিক্সা নিয়ে আমি আর নিশি রিক্সায় উঠে পরলাম, ওর পাশে বসে আমার একটু আনইজি লাকছিলো, ওর পাশে বসে আমার একটু আনইজি লাকছিলো, তাই আমি যতটা সম্ভব সেফলি বসার চেস্টা করছি, তারপরো ঝাকুনিতে ওর গায়ের সাথে আমার গা লেগে যাচ্ছিলো, আর আমার এই অবস্থা দেখে ও মিটি মিটি হাসছিলো, আমি খেয়াল করলাম, হাসলে মেয়েটার গালে টোল পড়ে, আর বাতাসে ওর চুল গুলো উড়ছে, খুব সুন্দর অপরুপ লাকছিলো ওকে দেকতে,, আমি ওকে নিয়ে একটা শপিং মলে নামলাম,

-আপনার যা যা লাগবে পছন্দ করুন, আমি ও দিকটায় আছি,
-আচ্ছা ও জামা কাপড় দেকছে, আমি এমনি এটা ওটা দেখছিলাম, হঠাৎ একটা সবুজ শাড়ির উপর চোখআটকে গেলো, (এই শাড়িটা নিশিকে পড়লে খুব সুন্দর লাগবে মনে মনে ভাবলাম)
-এইজে ভাইয়া শাড়িটা প্যাক করেন তো,
-ভাইয়া নিন (দোকান দার) (কিছুক্ষন পর)
-এইজে আমার হয়ে গেছে, আমি নিশির দিকে শাড়িটা বাড়িয়ে দিয়ে বললাম এইটা আপনার জন্য, ও আমার দিকে তাকিয়ে আছে, আমিও ওর চোখের দিকে তাকালাম তখনি ও চোখ সরিয়ে পেললো, নিচের দিকে তাকিয়ে বলছে,

-কি দরকার ছিলো, আমি মুচকি হেসে বললাম
-আচ্ছা চলুন, ও আস্তে করে মাথা নাড়লো, আমি কেস কাউন্টারে টাকা দিচ্ছিলাম, তখন খেয়াল করলাম ও একটা পায়েল ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখছে,
-কি এইটা নিবেন……??
-না না আমি এমনি দেখছিলাম,
-ওও আচ্ছা চলুন তাহলে,
-হুম…….,, দোকান থেকে বেরিয়ে একটু হাটার পর কি মনে করে জেনো আমি বললাম,
-আপনি এখানে একটু দাড়ান আমি আসছি, এই বলে আমি দোকান টাতে ফিরে এসে ও যে পায়েল টা দেখছিলো আমি ওটা কিনে নিজের কাছে রেখে দিলাম,,

-ওকে চলুন তাহলে,
-কোথায় গিয়েছিলেন…-কোথায় গিয়েছিলেন….??
-একটু কাজ ছিলো,,
-ওও তারপর ওকে নিয়ে হাঠছি,
-ফুচকা খাবেন (আমি)
-না না (এমনি না বললে কি হবে মুখ দেখে মনে হচ্ছিলো খাবে) তাই আমি বললাম
-আরে চলুন সমস্যা নেই, আমার খেতে ইচ্ছাকরছে,,
-আচ্ছা চলুন,

খাওয়া শেষ করে ওকে নিয়ে বাসায় চলে এলাম, নিশি আমাদের বাসায় আছে বেশ কিছু দিন হলো, ও কিভাবে জেনো বাবা মার মন জয় করেনিয়েছে, মা বাবা তো এখন ওকে মেয়ের মতদেখে, ও মার সব কাজে সাহায্য করে, বাবার কখনকি লাগবে সব দেখা শুনা করে,আর আমি মেয়েটাকে যতই দেখি ততই মায়ায় পড়েযাচ্ছি, আর ওর আচার আচরন দেখে মনে হয় ও আমাকেপছন্দ করে, কত টুকু করে জানি না, তবে একটু হলেও করে,কারন আমি ওর কয়েক দিনের আচরনে বুজতে পারছি দেখছি আমার প্রতি খুব কেয়ারিং, যেমন আমি অফিস থেকে ফিরলে ও সবার আগে দরজা খুলেদিবে, আমার সব জিনিস গুছিয়ে রাখা, শার্ট পেন্ট আয়রন করে দেয়া, আর যতক্ষন বাসায় থাকি আমার আসে পাশে ঘুর ঘুর করা,,আর আমার কখন কি লাগবে ওইটা নিয়ে তো ও খুব সচেতন, অনেক দিন তো হলো ভাবছি মনের কথা টা ওকে বলেই দিবো,, রাত ৯ টা বাজে রুমে বসে থাকতে ভালো লাকছেনা, তাই রুম থেকে বেরিয়ে নিশির রুমে একটু উঁকিদিলাম দেখি ও খাটের উপর বসে জেনো কিকরছে, আমি দরজায় টোকা দিলাম,

-আসতে পারি…?? (ও আমাকে দেখে বসা থেকে দাড়িয়ে গেলো)
-আরে আপনি আসুন আসুন, আমি গিয়ে ওর খাটের উপর বসলাম,
– কি হলো দাঁড়িয়ে আছো কেনো বসো?? (সরি তুমি বলে পেললাম)
-এই না না ঠিক আছে, আপনি আমাকে তুমি করেই বইলেন,
-আচ্ছা ঠিক আছে, তো এখন বসো,
-না আমি দাঁড়িয়ে ঠিক আছি, আপনি বলুন,
-তুমি বসবে নাকি আমি চলে যাবো,
-এই না কি বলছেন, আচ্ছা ঠিক আছে বসছি, (ও আমার পাশে বসে নিচের দিকে তাকিয়ে বললো)

-এবার হয়েছে…??
-হুম, তো কি করছিলা….??
-এই তো এমনি কিছু না, আপনি হঠাৎ এই রুমে, কিছু লাগবে?
-কেনো এমনি আসতে পারি না,
-না না তা বলি নাই, কখনো আসেন না তো তাই, কিছু বলবেন…..??
-হুম, আচ্ছা অই দিন যে তোমাকে একটা শাড়ি গিফট করে ছিলাম, কই আমাকে তো একবার ও পরে দেখাইলা না, (ও আমার কথা শুনে কিছুটা ভেবা চেকা খেয়ে আমার দিকে তাকিয়ে বললো)

-আসলে আমি আমি মানে,,,
-হইছে থাক আর মানে মানে করতে হবে না, আজকে না অনেক সুন্দর চাঁদ উঠছে, ছাদে যাবে…..??
-আচ্ছা আপনি জান আমি আসছি,
-আচ্ছা আসো আমি যাচ্ছি,

অনেক্ষন হয়ে গেলো মেয়েটা আসছেই না, দূর একা একা ভালো লাগে নাকি,, এবার মনে হলো নেমে যাই, পরে দেখি সিড়ি দিয়ে কেউ আসার আওয়াজ আসছে, কিছুক্ষন পর নিশি এলো, আমার দেয়া সবুজ শাড়িটা পরে, আমি তো ওকে দেখে পুরো হা হয়ে গেলাম, চোখে কাজল দেয়া, কপালে ছোট একটা টিপ, ঠোঁটে হালকা লিপিস্টিক, মেয়েটাকে পুরো অপরুপ লাকছে, আমি তো চোখি সরাতে পারছিলাম না, ও আমাকে এভাবে হা করে তাকিয়ে থাকতে দেখে বললো,,

-এহেম, সরি আসতে একটু দেরি হয়ে গেছে,

আমি আপনার জন্য একটু কফি করছিলাম তো তাই একটু লেট হয়ে গেছে, তারপর আমার দিকে একটা কফির মজ বাড়িয়ে দিলো, তারপর বললো,

-আমাকে কেমন লাকছে-আমাকে কেমন লাকছে……??
-অপরুপ, পরীর মত, এইটা বললেও মনে হয়  যথেস্ট হবে না, (ও মনে হয় আমার কথা শুনে কিছুটা লজ্জা পেলো,দেখলাম ওর গাল গুলো কেমন লাল হয়ে যাচ্ছে)তারপর অন্য দিকে মুখ করে বললাম ইসস যদি এই রাত পরীটাকে সারা জিবনের জন্য নিজের করে পেতে পারতাম (কথাটা খুব আস্তেই বলেছিলাম কিন্তু ও মনে হয় শুনতে পেয়েছে) দেখলাম ও ভিশন লজ্জা পেয়ে প্রায় দৌরে চলে যাচ্ছিলো আমি তখন পিছন থেকে হাত ধরে বললাম,

-রাত পরী কোথায় যাচ্ছো……??
-আমাকে ছাড়ুন নিচে -আমাকে ছাড়ুন নিচে যাবো,

(কিন্তু নিজেকে ছাড়ানোর কোনো চেস্টাইকরছেনা)আমি তখন ওকে টান দিয়ে নিজের কাছে নিয়েএলাম, পিছন থেকে জড়িয়ে ধরে, ওর চুলের ঘ্রাননিচ্ছিলাম, ওর চুলার ঘ্রান আমাকে পাগল করে দিচ্ছিলো, তারপর আস্তে করে আমার মুখটা ওর কানের কাছে নিয়ে বললাম,

-রাত পরী তোমাকে ভিশন ভালোবাসি যে দিন তোমাকে প্রথম দেখেছিলাম সেই দিন থেকে, ও আস্তে করে আমার দিকে ঘুরলো দেখলাম ওর চোখ দুটো ছল ছল করছে,

-এই কথাটা বলতে এত দিন লাগলো…..??
-কেনো খুব কি দেরি হয়ে গেছে…..??
ও কিছু বললো না আমি ওকে ছেড়ে দিয়ে বললাম,
-দেখি তোমার পা টা দেখি,
-এই কি করছেন আপনি আমার পায়ে হাত দিচ্ছেন কেনো??
-আরে এত কথা বলো কেন, দেখি পা টা কই, (ওর পা টা জোর করে ধরে আমার হাটুর উপর রেখে পকেট থেকে পায়েল টা বের করে পরিয়ে দিলাম)
-আরে আপনি সেই দিনের পায়েল টা আমার জন্য
-হুম তোমাকে বুজাতে হবেনা কতটা ভালোবাসি,

তারপর দেখলাম ও আমার দিকে গভির চোখে তাকিয়ে আছে, আমি ওর দিকে তাকিয়ে ওর কাছে আসতে লাগলাম যেই জড়িয়ে ধরতে জাবো তখনি আমাকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিলো, আমি দেখলা ও মিটি মিটি হাসছে, তখন আমি বললাম

-কাছে আসো..

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক
DMCA.com Protection Status
loading...

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত