পাগলীর ভালবাসা

পাগলীর ভালবাসা

এস এস সি পাশ করে সবে মাত্র কলেজে ভর্তি হলাম। তাও আবার প্রাইভেট কলেজে। নিয়মিত ক্লাস করে বিরক্ত হয়ে যাচ্ছিলাম। মোটামুটি ভালই চলছিল।দেখতে দেখতে ১ম সেমিস্টার ও শেষ হয়ে গেল। ফলাফল প্রকাশের দিন অডিটোরিয়াম রুমে ঢুকেই মাথা নড়ে উঠল। একি অডিটোরিয়াম ভর্তি মেয়ে। তাও আবার আমার কলেজে। যাক জীবনের প্রথম মেয়েদের সাথে একই রুমে বসলাম।ফলাফল ঘোষনা দিল, ভালো ফলাফল ও করলাম।

আজ অনেকদিন পর বাড়িতে যাব তাই রেডি হচ্ছি। প্রায় ২ ঘন্টা অতিক্রম করার পর বাড়িতে আসলাম। মা তো অনেক খুশি। অতঃপর মোবাইল টা নিলাম( আমাদের হোস্টেলে মোবাইল নিষিদ্ধ ছিল)। ফেবুতে লগইন করেই দেখি স্বপ্নের রাজকুমারী নামে একটি আইডি থেকে রিকু। accept করলাম। ওই প্রথম হাই দিল তারপরে আমিও রিপ্লে দিলাম। নাম জানতে চাইলাম। reply আসল তানজিনা। ওহ আমার পরিচয়তো দেওয়াই হলো না। আমি নাজমুল। ইন্টার ফাস্ট ইয়ার। তানজিনা ও আমার সাথে পড়ে একই কলেজে কিন্তু ছেলে মেয়ে আলাদা হওয়ার কারনে দেখিনি। এভাবেই আমাদের কথা হতো। ও মেয়েদের হোস্টেলে থাকতো। একই নিয়ম মোবাইল নিষিদ্ধ। কলেজ চলাকালীন কথা হতো না। বন্ধের সময় বাড়িতে গেলে কথা হতো। একদিন ও নিজে থেকেই আমাকে ওর পিক দিল। দেখতে ভালই ছিল। কিন্তু কোনো সম্পর্কে জড়ানোর ইচ্ছা ছিলনা। এভাবেই কথা চলত।

রমজানের ছুটিতে বাড়িতে যাওয়ার পর এক রাতে আমার মোবাইল নাম্বার চাইলো। আমিও বন্ধু ভেবে দিয়ে দিলাম। রাতে প্রতিদিন ই কথা হতো। আমি অনুভব করলাম ওর সাথে যতই কথা বলি ততই যেন দুর্বল হয়ে যাচ্ছি। এভাবে প্রায় দুই মাসের মতো কথা বললাম। একদিন রাতে ও আমাকে হঠাৎই আমাকে তুমি সম্বোধন করে কথা বলতে থাকে আমি কিছুই বুঝলাম না। একসময় ও আমাকে তার মনের কথা বলে ফেললো। কিন্তু আমি বুঝতে পারিনি কারন এত দ্রুত বলছিল যেন রকেট গেছিলো। আমি আবার জিগাসা করলাম কি বলেছো। ও বললো তুমি কি সত্যিই শুনো নাই। আমি বললাম না। ও এবার স্পষ্ট করে বলল আমি তোমাকে ভালোবাসি। আমি কি বলব কিছুই বুঝতে পারতেছিনা। তারপরে আমিও হ্যা বলে দিলাম। তারপরে দুজনেই তুমি করে বলতাম। রাত কেটে যেত কিন্তু কথা শেষ হতো না। দুজন দুজনের মনের কথা গুলো বললাম। দুজনের জীবনের গল্প গুলোও শেয়ার করলাম। এভাবে আমাদের রিলেশনের ৪ মাস হলো। কিন্তু পিক ছাড়া ওকে দেখিনি। খুব দেখতে ইচ্ছে করছিল কিন্তু বলতে পারছিনা। এভাবে আরো চার মাস কেটে গেল। একদিন সেই মুখ্য সুযোগ আসলো।ওদের ক্লাস আমাদের ১ ঘন্টা আগে শেষ হয়ে যেত। ও আমাকে বলল ও আমার জন্য অপেক্ষা করবে আমি যেন আসি, আমি ক্লাস শেষ করে আসলাম। লোকেশন অনুযায়ী খুজে বের করলাম কিন্তু তার মুখোশ ছিল এত যেটার জন্য অপেক্ষা করছিলাম তা হলো। মনটা খারাপ হয়ে গেল, সে মনে হয় বুঝতে পেরেছিল। তখন বলল কি দেখতে ইচ্ছে করছে? আমি শুধু মাথা নেড়ে হ্যা বললাম। ও আমার হাতটি ধরে হাটতে লাগল। এই প্রথম কোনো মেয়ের হাত ধরলাম।

কিছুক্ষন হাটার পর বললাম কোথায় যাব? সে বলল তুমি যেখানে নিয়ে যাও। আমি বললাম তোমার মুখোশটা কি খোলা যাবে?? সে কিছু বলল না আমি একটি রিকশা নিয়ে দুজনে ওঠে বসলাম। আমার খুব অস্বস্তি লাগছিল কিন্ত মনের মানুষের সাথে বসতে আবার ইচ্ছাও করছিল। তারপর ও মুখোশটা নিজেই খুললো আমি অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলাম। ও ডাকে বাস্তবে ফিরে এলাম। ও আমার ডান বাহুতে জরিয়ে ধরে জানতে চাইল,আমি কেমন তাতো বললে না??!!

আমি কি উত্তর দিব বুঝতে পারছিলাম না তবে বললাম আমার বাহুকি সারাজীবন ধরে রাখবে??? সে হ্যা বলল।তারপরে সে তার মাথাটি আমার কাঁধে রাখল। একসময় তার বাসার সামনে চলে আসলাম এবং তাকে বিদায় দিয়ে চলে আসলাম। এভাবে চলে গেল আরও মোট দুটি বছর তার মাঝে অনেক স্মৃতিময় মুহূর্তগুলো রয়ে গেছে।এখনও দুজন দুজনকে পাগলের মতো ভালোবাসি। তবে আগের মতো রিকশায় বসা, হাতে হাত রেখে কথা বলা হয় না কারন দুজন দুই শহরে চলে গেছি। এই দুরত্ব আমাদের ভালোবাসাকে আরো বাড়িয়ে দিয়ছে দুজন দুজনে খেয়াল রাখি ঠিক আগের মতই। খুব ভালবাসি আমি আমার পাগলীটাকে। পাগলীটা চিরজীবন এইভাবেই ভালোবেসে যেতে চাই।

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত