কিশোর বাসর

কিশোর বাসর

প্রথম প্রথম অারশিকে অামার একদমি সহ্য হত না।ভাবতাম ওর জন্যই অামার সব সাজানো গুছানো স্বপ্ন ধুলোচাপা পড়েছে।পরে তাকে না চাইতেই ভালোবেসে ফেলি।অামার বয়স যখন ষোল তখন ওকে নিজের অগোছালো জীবনের সাথে জড়িয়েছিলাম। রাতে ঘুমালে সকালে ঠিকমত লুঙ্গির অাগামাথা খুঁজে পেতামনা।অার সেই অামিই নাকি করেছিলাম সংসার।কাটিয়েছিলাম বাসর রাত।সেদিন বাসর রাতের গল্পটা নাহয় অন্য একদিন সময় করে বলি।

অামার অার অারশির বিয়েটা হয়েছিল একদম অস্বাভাবিকভাবে।বিয়ের দুদিন অাগেও জানতাম না যে, দুইদিন পর অামি বিয়ে করব।অামাদের নোংরামির কথা সমাজে পাঁচকান হওয়ায় অাগেই পরিবারের লোকজন অামাদের বিয়ের পিড়িতে বসিয়ে দেয়।বাবার মুখের উপর কিছু বলার সাহস পাইনি তখন।কারন দোষটা অামারই ছিল।তা- নাহলে কোন ছেলেকে তার বাবা-মা এত অল্প বয়সে কি অার বিয়ে করিয়ে দেয়।

অামাদের বিয়েটা অন্য বিয়ের মত অতটা অাড়ম্বরপূর্ন হয়নি।বিরাট বড় শীততাপনিয়ন্ত্রীত কোন কমিনিউটি সেন্টারেও বিয়েটা হয়নি।কবজি ডুবিয়ে খেতেও পারেনি অনেকেই।পাড়ার ছোট ভাইগুলোও অাতস বাজি ফুটাতে পারেনি অামার বিয়েতে।না জানি নানা জনের নানা অাশায় কত জল ঢেলেছি অামি।একটা ছোট নাট মন্দিরে ব্রাহ্মন ঠাকুরের সাথে মন্ত্র উচ্চারণ করেছিলাম-
” যদিদং হৃদয়ং মম
তদস্ত হৃদয়ং তব।”

সংস্কৃত এ মন্ত্রটার বাংলা হচ্ছে- “অামার হৃদয় হোক তোমার।অার তোমার হৃদয় হোক অামার।”অর্থ্যাৎ হৃদয়ের বিনিময়।সারাদিন উপোস করে মন্ত্রটা মুখ দিয়ে বের করতে কষ্ট হচ্ছিল।শেষরাতে মাল্যদান হল।অারশির সিঁথিতে পড়িয়ে দিলাম সিঁদুর।তখন থেকেই মনে হচ্ছিল সময়গুলো যেন থমকে থমকে যাচ্ছিল।বিয়েতে অামি রাজি ছিলামনা।অারশিও তাই।ভোরের অালো যখন একটু একটু ফুটতে শুরু করল তখন নতুন বৌ নিয়ে বাড়ি অাসার পালা।

অারশি ওর মাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদল খুব।ওর কান্না দেখে ছোট বাচ্চাটাও কান্না শুরু করে দিল।বাচ্চাটার মুখ একেবারে শুকিয়ে গিয়েছে।মাঝরাতে একবার চোখের দেখা দেখেছিলাম এরপর এখন দেখলাম।বাকিসময় কোথায় ছিল জানিনা।হয়ত কারো সাথে কোথাও ছিল।তারপর বৌ নিয়ে অামি অাগে অাগে বাড়ি চলে অাসলাম।অাত্মীয়-স্বজনরা সব যে যার মত চলে গেল।অাত্মীয়-স্বজন অার কতজন হবে।দুই পরিবার মিলে মোট বার জন।

অারশি অামার প্রায় সমবয়সী।অামরা একসাথে বড় হয়েছি।একসাথে খেলেছি।একসাথে পড়েছি।অামাদের ঘরের দুইঘর পরেই ওদের ঘর।গত কয়েকবছর যাবত মিশতে মিশতে অামাদের মাঝে গোপন কোনকিছু ছিলনা।সদ্য ক্লাস টেনে উঠে আমরা উত্তর পাড়ার একটা স্যার ধরেছিলাম।অামরা থাকতাম পশ্চিম পাড়ায়।ওনি সন্ধ্যার সময় অামাদের পড়াতেন।

অারশির মা প্রথমে ওই স্যারের কাছে তার মেয়েকে পড়াতে রাজি ছিলেন না।মেয়েটা এ পাড়ার রাস্তা ভেঙ্গে ও পাড়ায় পড়তে যাবে তাও অাবার সন্ধ্যার সময় ফিরতে ফিরতে রাত কটা বাজে তার হিসেব নেই।পরে যখন অামিসহ যাব বলেছি তখন হ্যাঁ বলেছিল।ঠিক সেদিন থেকেই অামাদের গল্পটা নোংরামির দিক ধাবিত হতে শুরু করে।কারন হিসেবে ছিল অারশির উত্তপ্ত যৌবন।যে কোন পুরুষই তাকে বাহুডোরে অাবদ্ধ করতে চাইবে।তাহলে অামি কেন বাদ যাব।

রাতে প্রাইভেট শেষে বাড়ি ফেরার সময় রাতের অাঁধারে অামি অারশির শরীরে হাত দিতাম।ও কিছু বলতনা।শুধু চুপ করে থাকত।বুঝেছি নিরবতা সম্মতির লক্ষন।ওর চুপ থাকাতে অামি অারো সুযোগ পেয়ে গেলাম।একবার ভাবলাম যেটা করছি সেটা মোটেও ঠিক করছিনা।নিজেকে সংবরন করার অনেক করার চেষ্টা করলাম।অবুঝ বয়সটা তখন কিছুতেই অাটকে রাখতে পারছিলামনা।

দিন যত পার হচ্ছে অামাদের অবৈধতা তত বাড়তে থাকে।একরাতে সংযমহীন হয়ে অামরা নিজেদের শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে ফেলি।খুবই অামোদ হয় সে রাতে।মজা লুটেছিলাম দুজনেই।সেই রাতের সেই ছোট্ট ভুলের মাসুল এত বড় হবে ভাবিনি অাগে।নিরাপত্তার কথা মাথায় ছিলনা অামাদের।অারশি বাচ্চা কনসেভ করে নিল। অামাকে জানায়নি কিছু।পরে যখন জানতে পারলাম তখন অামার বাচ্চা পাঁচ মাসের।

বলেছিলাম বাচ্চা নষ্ট করে দাও।কিন্তু ও সেটা করেনি।কেন করেনি তাও জানিনা।অামার প্রতিটা মুহুর্ত ভয়ে ভয়ে কাটতে শুরু করে।এই বুঝি অামাদের নোংরামির পর্দা ফাঁস হয়ে গেল।একদিন হলোও তাই।যখন খবরটা শুনলাম গলা শুকিয়ে এল।এই বুঝি অারশির বাবা অামার নামে থানায় ডায়রি করে দিল।সেদিন ঘর থেকে বের হওয়ার সাহস পেলামনা অার।এমনিতেই তখন বয়স ছিল অল্প।ভয় না পেয়ে উপায় নেই।

মাসখানেক পর অারশি একটু সুস্হ হল।এরমধ্যে অামার ছেলেটাকে একবার দেখতে গিয়েছিলাম।কেউ কেউ বলছে ছেলের গায়ের রং মায়ের মত হয়েছে।চোখ দুটো পেয়েছে বাবার।নাক পেয়েছে দাদুর।প্রথমবার ছেলেটাকে কোলে নিয়ে হৃদয়টা শীতল হয়ে গেল।এ বুঝি বাবা বলে ডাকল অামায়।তারপর দুই পরিবারের সম্মতিতে অামাদের বিয়েটা সম্পন্ন হল।সম্পর্কটা বৈধ হল।

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত