তোমার ভালোবাসায়

তোমার ভালোবাসায়

– হ্যালো, আকাশ।
– বলো, লীনা।
– তুমি কোথায়?
– আমি একটু দূরে আছি,তোমার সাথে একটু পরে কথা বলি।

এই বলে আকাশ ফোন রেখে দিল। লীনা মন খারাপ করে আর ক্লাস ও করলোনা। বাসায় গিয়ে চুপচাপ শুয়েথাকলো। কিছুক্ষণ পরআকাশ ফোন করলো কিন্তু লীনা আর ফোন রিসিভ করে না। আকাশ একটা মেসেজ্ পাঠালো” sorry honey, i was little bit bz.” লীনা আবার ফোন ব্যাক করলো:

– তুমি আজ দেখা করলেনা কেন?
– শোন লীনা, আমি তো সারাজীবন তোমারি আছি। একদিন না হয় দেখা হলোনা।
– আকাশ, আমি কখনো তোমাকে চোখের আড়ালহতে দেবোনা।
– আরে, পাগলি- চোখের আড়াল হবো কেন?
– আমার কেমন জানি ভয় হয়। আমার একটা কথা রাখবা?
– বলো
– তুমি বাইক চালাইয়োনা, প্লিজ।

– আরে, আমার কিচ্ছু হবেনা। আমি সাবধানেতো চালাই। তাছাড়া, তোমার ভালোবাসা আর তোমার দোয়া আমার সাথেই আছেই।

আর কিছু না বলে লাইনটা কেটে দিল লীনা। আকাশ লীনাকে অনেক বেশী ভালোবাসে কিন্তু তা ওভাবে কখনো প্রকাশ করেনা। তাই লীনা আকাশকে মাঝে মাঝে রোবট বলে ক্ষেপায়। আকাশ বলে, তোমার জন্য সব ভালোবাসা রাখা আছে।

আমাদের জীবনটা অনেক অদ্ভূত। আমরা যা চায় তার বেশীর ভাগই আমরা পাইনা। কোথা যেন পড়েছিলাম “তুমি যা চাও। মনের গভীর থেকে একমনে চাও, তাহলে তোমার চাওয়া পূর্ণ হবে”। জানিনা, কথাটা কতটুকু সত্য। তারপরও লীনা এই কথাটা মানে।

একদিন লীনা আকাশের সাথে দেখা করতে গেল। লীনা জানত না, এটাই তাদের জীবনে শেষ দেখা হবে। চুপচাপ দূ’জনে পাশাপাশি বসেছিল। আকাশ বললো, “আজকের বিকেলটা অনেক সুন্দর, তাইনা?” লীনা বলে ” সুন্দর না ছাই। মেঘলা আকাশ। আর, বৃষ্টি আমার পছন্দ না। বৃষ্টি হলে কোথাও বের হতে পারিনা, রাস্তায় কাদা।” আকাশ বলে, “বৃষ্টিতেপাকা রাস্তায় খালিপায়ে হাটতে অনেক ভালো লাগে আর ঘুম… ওফ্, কি যে ভালো লাগে, এক কাপ চা আর রবীন্দ্রসংগীত।” কথা শেষ হতে না হতে লীনা বলল ” তোমার আর আমার ভালো লাগা কখনো মিলেনা।” আর কিছু না বলে আকাশ মুচকি হাসলো এবং লীনা’র দিকে তাকিয়েরইল। এভাবে কিছুক্ষণ থাকার পর হঠাৎ আকাশের ফোন আসলো। তার বন্ধু ফোন করছিল।

লীনা- তুমি কি এখন চলে যাবা?
আকাশ- না আরো কিছুক্ষণ আছি।
লীনা- আচ্ছা, তুমি কি আমাকে ভালোবাস?

আকাশ- এটা কোন ধরনেরপ্রশ্ন! আমি তোমাকে অনেক বেশী ভালোবাসি।
লীনা- কেন জানি, তোমাকে নিয়ে আমার ভয় হয়। একদিন আমি তোমার আকাশে লীন হয়ে যাবো।
আকাশ- শোন পাগলি, আমাকে নিয়ে ভয় পাবার কিছু নেই। এই যে আমি তোমার হাত ধরে আছি। আমি সারাজীবন তোমার সাথে থাকবো। আর আমাকে এত বেশী ভালোবাস বলে তোমার মনে এই ভয়।

লীনা- জানিনা আকাশ, তোমার মাঝে এমন কি আছে যে তোমাকে ছাড়া আমি কিছুই ভাবতে পারছিনা।

লীনা’র চোখে পানিতে টলমল করছিল। আকাশেরবুকে মাথা রেখে লীনা বলল,”আকাশ,তুমি আমাকে সারাজীবন তোমার ভালোবাসায় আমাকে আগলে রেখো”
আকাশের চোখেও পানি চলে আসলো, কিন্তু লীনাকে বুঝতে দিলনা।

বিকেল হয়ে এলো। আকাশ লীনা কে বললো”চলো,এইবার উঠা যাক্,” এই বলে আকাশ লীনাকে একটা গোলাপ ফুল দিল। লীনাকে রিক্সায় উঠিয়ে দিয়ে আকাশ বাইক নিয়ে বন্ধুদের সাথে দেখা করতে গেল।

ঘন্টা দু’য়েক পর আকাশের এক বন্ধু লীনাকে ফোন করে বললো ” লীনা, তুমি একটু ঢাকা মেডিকেলেআস, আকাশ অপেক্ষা করছে।” লীনা কিছুই বুঝতে পারলোনা, ঘন্টা দু’য়েক আগে তো তার সাথে দেখা হলো। লীনা বলল ” আকাশ কেমন আছে? আকাশের কিছু হয়নিতো?” আকাশের বন্ধু কিছুই উত্তর দিতে পারলোনা। শুধুবলল, লীনা, একটু তাড়াতাড়ি এসো। লীনা একটা সিএনজি নিয়ে ঢাকা মেডিকেলে গেলো, আকাশের বন্ধু লীনাকে আকাশের কেবিনে নিয়ে গেল। লীনা আকাশকে দেখে নিস্তব্দ হয়ে গেল।আকাশকে চেনা যাচ্ছেনা। বাইক এক্সিডেন্ট এ আকাশের চেহারা চেনার উপায় যে ছিলনা। লীনা আকাশেরবুকে মাথা রেখে কান্না করতে লাগলো আর বলতে লাগলো “তুমি বলেছিলে,আমাকে সারাজীবন তোমার ভালোবাসায় আগলিয়ে রাখবে, কেন বলেছিলে আকাশ, কেন? আমাকে একা রেখে কেন চলে গেলে?”

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত