বাঁদর

বাঁদর

এই প্রথম কুমিল্লা যাচ্ছি আমার বাপের জন্মে ও কোনদিন যাইনাই ,আমার বাপ ও গেছে বলে মনে হয় না, আর যাবেই বা কেমনে ,আমার আবার খালা ফুফু কেউ নাই তাই একটা বন্ধুর বাসাই যাচ্ছি । বিশ মিনিট আগে বাসে চইরা বসে আছি । আর ভাবতাছি আহা কতই না গল্পে পরছি পাশে একটা সুন্দরী বসবে পুরা রাস্তা গল্প করতে করতে যামু । কিন্তু হঠাৎ সামনে তাকাইয়া দেখি হায় হায় কি ভাবলাম আর কী হইল । পুরাই ওল্টা পাল্টা ব্যাপার আটার বস্তার মত একটা মহিলা এই দিকেই আসতিছে । আমার মতো পাঁচটা পোলারে এক যায়গাই করলে ও ওই মহিলার মতো হইব না … আল্লাহ মনে হয় ওই মহিলার ওপরে সব রহমত ঢাইলা দিছে । আমারে তুমি রক্ষা করো হে খোদা । আমার সীটে যদি বসে আমি তো ভর্তা লাইগা যামু … মাত্র দুইটা সীট ফাঁকা আছে ।চোখ বন্ধ কইরা বইসা আছি আর আল্লারে ডাকতাছি । এর মধ্যে মানত ও কইরা ফেলছি এই মহিলা আমার সিটে না বসলে দশ টাকা মসজিদে দিমু । দূর কই বসবে বসে ও না তারাতারি সামনে কার সাথে জানি কথা বলতিছে , এই সব হাই কোয়ালিটি মোটা মানুষ দের জন্য বাস ভিন্ন করা দরকার ।

বাস ছারতে আর পনেরো মিনিট দেরি তাই গেলাম চকলেট কিনতে ,অন্তত পুরা রাস্তা মুখটা বন্ধ থাকবে না । আর ওই মহিলা কই বসবে আল্লাহ জানে ,আমার কপাল যেমন আমার ওই খানেই বসবে এসএসসি এক্সাম এর সময় ও একটা মোটা মেয়েই পাশে বসছিল কিন্তু এতো মোটা না সেই কষ্ট এখন ও ভুলি নাই , আল্লাহ মনে হয় সব মোটা আমার কপালেই রখছে । দোকানে গেলাম দোকানদারে কইলাম মামা একশটা চকলেট দাও তো । দোকানদার পুরাই অবাক মনে মনে ভাবছে আমি হইতো বাসের মধ্যে বিক্রি করমু। ভাবারই কথা, কিন্তু পরে পরলাম মহা বিপদে এত গুলা চকলেট কই রাখমু , কোন টেনশন নাই মিঃবিন এর থেকে ও আমার বুদ্দি বেশী তাই সব গুলা চকলেট পকেট এ ডুকাইতেছি । কিন্তু অবাক হলাম হাঁসির শব্দে তাও আবার মেয়ের হাঁসি । এদিক ওদিক তাকাইলাম কিন্তু কেও নাই । ও মা কে হাঁসে পরী টরি নইতো আবার হা হা হা ।এতো গুলো চকলেট পকেট এ ঢুকানো দেখে হয়তো কেউ হাসছে । দূর যে হাঁসে হাঁসুক আমার কী ? সব গুলা চকলেট পকেট এ ঢুকাইয়া পিছনে যেই তাকালাম ও মা এতো সত্যি সত্যি পরী।

আমার কাণ্ড দেখেই হাঁসছে , আমি ও তার দিকে চেয়ে হি হি করে হেঁসে দিলাম , মানে একটু তালমিলালাম আর কী ? আমার মাথাই আবার সব সময় দুষ্টুমি বুদ্দি বেশী আসে তাই ভাবলাম যেহেতু আর পাঁচ মিনিট আছি তাই মেয়েটারে একটু রাগাই দিয়া আসি । যেই ভাবা সেই কাজ , মেয়েটার কাছে গেলাম গিয়ে বল্লাম আচ্ছা একটু আগে আপনি হাসলেন তাই না । মেয়েঃ হ্যা কেন । আমি বল্লাম এমা ছিঃছিঃছিঃ এতো বিচ্ছিরী আপনার হাঁসি ,একদম পেত্নীরা যেমন করে হাঁসে ও রকম । মেয়েতো খালি রাগে ফুলতেছে । হা হা হা আমি তো বলেই সেই জোরে দৌড় দিছি কাছে থাকলে আমারে খাইয়া ফালাইতো । যাক তবু ও একটা ভালো করছি হা হা হা , কিন্তু ওই মহিলার কথা ভাবলেই মাথা ঘুইরা যাইতেছে। ওই সব ভাইবা লাভ নাই রাসেলরে ফোন দেই । ও হা রাসেল আমার সেই দোস্ত যার বাসাই যাইতেছি। ওই আবার আমার থেকে বড় হারামি ওর বাসাই গেলে দেখা যাবে কোন এক বড়লোকরে পটাইয়া তার বাসাই আছে … পুরাই হারামি একটা । ও রে ফোন দিতেই ফোন ধরল।

ওই তুই কই আর বলিসনারে পুরাই মোটা খানায় আটকা পড়ছিরে ভাই বাইছা থাকলে দেখা হইব বইলাই ফোনটা কাইটা দিলাম ।। হায় হায় মাইয়াটার কথা আবার মনে হইতিছে যাই হাঁসিটা কিন্তু ফাটাফাটি ছিল , দূর ওই সব ভাইবা কাজ নাই । বাস এ ও আর যাইতে মন চাইতিছে না । হায় হায় বাস তো ছাইরা দিছে ..বাসের পিছনে দৌড় দিলাম। চকলেট গুলো নিয়া দৌড়াতে ও পারছি । মনে মনে ভাবছি পেটের মধ্যে নিয়া কেমনে দৌড়াই । এইতো বাস এ উইঠা পরছি । সিটের কাছে যাইতেই একশো ভোল্ট এর ঝাটকা খাইলাম আমি পুরা অবাক ওই তো ওই মেয়েটাই যারে রাগাইয়া আসলাম। আমার সিটে বসে আছে একদম জানালার পাশে । ভয়ে ভয়ে বল্লাম ওইটা আমার সিট … হায় হায় মেয়ে তো কোন কথা কইতিছে না , বোবা হইয়া গেল নাকি । দূর আমিইতো ভয়ে জোরে বলতে পারিনি । এই বার সাহস করে বলে দিলাম ওইটা আমার সিট। মেয়ে আগুনময় দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকাইলো । আমিতো ভয়ে ভয়ে বলেই দিলাম না না ওইটা তো আপনারই সিট ।

এই যে এইটা আমার কত নরম ফুল ফুল সিট , বলেই বসে পরলাম । মেয়ে তো কোণই কথা বলছে না । দূর ক্যান যে রাগাইতে গেলাম যাইহোক একটা বুদ্দি বের করতেই হবে । কিন্তু মেয়েটারে দেখলেই তো ভয় লাগতিছে না না সাহরিয়া তুই একটা পোলা হইয়া মেয়ে মানুষরে ভয় করবি ক্যান । মেয়েটারে না হাঁসাইতে পারলে পুরা রাস্তা চকলেট খাইতে খাইতে যাওয়া লাগবে । আর পাসে বইসা ও কথা না বলতে পারলে পরুষ জাতীরে আমি কেমনে মুখ দেখামু। হাই আমি সাহরিয়া আমার কাছে অনেক গুলো চকলেট আছে এই যে দেখেন । মেয়ের মুখে কোন কথা নাই । দূর কোন কাজ হল না । আবার চেস্টা করি একটু এইদিকে তাকাবেন বলে দাঁত গুলো সব বের করে আছি । মেয়ে রাগী রাগী গলাই বলল কী ? না মানে আমার এই চকলেট গুলোর জামা কাপর একটু বাইরে ফেলে দিবেন । মেয়েঃ দান ফেলে দিচ্ছি । যাক তবু ও একটু রেগে বলল । না এই ভাবে আর হচ্ছে না । এই বার সোজাসুজি বলেই দিলাম । দেখেন আমি কিন্তু সত্যি খারাপ ছেলে না ,তখন একটু দুষ্টুমি করে না হয় বলছিলাম আপনার হাঁসি পেত্নি এর মতো ।

তাই বলে এত রাগ করে থাকা লাগবে ক্যান , আর আপনি আমাকে হাতি ,বাঁদর, গরু,ঘোড়া, মহিষ বললে ও আমি এত রাগ করতাম না । আর হ্যা আমি যদি বেশি ভুল করে থাকি তাহলে মাফ করে দিয়েন। আর হ্যা আপনি চাইলে আমি আপনাকে সত্তরটা চকলেট দিতে পারি তবু ও একটু কথা বলেন । সব কথা গুলো বল্লাম একদম মাথা নিচু করে ,আবার সেই হাঁসির শব্দ যাক প্লান সাক্সেস। আমি ও মাথা তুলে দাঁত বের করে হেঁসে ফেল্লাম । তার হাঁসি দেখে শরিফ এর একটা গান মনে পরে গেল (রুপের ওই মায়া জালে মন আমার কাইরা নিলে )কিন্তু আমি মনে মনে কইতাছি হাঁসির ওই মায়া জালে মন আমার কাইরা নিলে । যাক মেয়েটা হাসছে মানে কথা বলা যাবে । আচ্ছা আপনি কই যাবেন । আমি কুমিল্লা যাবো আপনি (মেয়ে)। আরে আমি ও তো কুমিল্লা যাচ্ছি আচ্ছা আপনি কুমিল্লা কই যাবেন । আমি বাদশামিয়া বাজার যাবো আপনি (মেয়ে)। আর এ আমি ও তো ওখানেই যাবো আমার বন্ধুর বাসাই । কিন্তু আপনি কই থাকবেন । আমার বাসা ওখানে বুজলেন (মেয়ে) ।

ও ও ও আচ্ছা আপনার নামটাই তো শোনা হল না আপনার নামটা কি …। তোহা …।দারুন নাম তো আপনার সাথে একদম মিলে গেছে । আচ্ছা আপনে কোন ক্লাস এ পরেন ..। আমি বারতে পড়ি আপনে (মেয়ে) । আর এ আমি ও তো তাহলে এখন তুমি করে বলি কেমন । আচ্ছা তুমি এত কথা বল কেন তোমার মুখ বাথা করে না (মেয়ে) । না মানে কথা বললেতো মুখ বাথা করে , আর না কথা বললে তো পেট ব্যাথা করে তাই এত কথা বলি …হা হা হা , তোহা ও হাসছে । কি সুন্দর মেয়েটার হাঁসি । কথা বলতে বলতে অনেকটা রাস্থা চলে আসছি । এইরে মনেই তো নাই চকলেট এর কথা । তোহা রে জিজ্ঞেস করি চকলেট কিনবে কি না । ওই তোহা একটা হেল্প করবা । হুমমমমমম বল ।। আমার চকলেট গুলো কিনে নিবা প্লিজ.. দেখ না কত কষ্টে আছি কোন ব্যাগ ও নাই আমার । তুমি নিলে তোমার ব্যাগ এ রাখতে পারবা ভাল না বল ,আচ্ছা যাও দশ % ছাড় দিলাম । আচ্ছা আচ্ছা দাও না হলে তো সারা রাস্থা ঘ্যান ঘ্যান করবা (তোহা) । হে হে হে এই নাও ওই ব্যাগ এর চেনটা খুলো । আর এ বাবা খুলছি তো দাঁড়াও ।

অনেক কথা ফাজলেমি হল । আর দশ মিনিট পর কুমিল্লা বাদশামিয়া বাজার পৌঁছে যাবো । একটু খারাপ ও লাগছে । আচ্ছা তোহা তিন ঘণ্টার মধ্যে কত পরিচিত হয়ে গেলাম তাই না । হুমমমমমমমম আচ্ছা সাহরিয়া আমাকে তো তুমি ভুলে যাবে তাই না । আরে দূর পাগলি তোমারে কেমনে ভুলমু হুমমমম । এই তো চলে আসছি চলো নেমে পড়ি । নেমেইতো আমার চোখ কপালে ওইঠা গেছে কারণ তোহারে নিতে চারটা গাড়ি আসছে ,আমি তোহা এর দিকে তাকালাম ।ওই সুধু আমার দিকে তাকাই মুচকি মুচকি হাঁসছে ।দূর কিছু বুজতেছি না । আচ্ছা তোহা তুমি তা হলে যাও আমি ও যাই । টাটা বলে সামনের দিকে যেতে লাগলাম মনটা ও একটু খারাপ হচ্ছে । না না সাহরিয়া তোর মন খারাপ করলে চলবে না । রাসেলরে ফোন দিতে যেই ফোন বের করলাম দেখলাম হায় হায় চল্লিশটা মিসকল তার মানে অনেক খন থেকে ওয়েট করছিলো । এখন ফোন দেই কিন্তু হায় হায় ফোন তো বন্ধ ।

দূর এখন কি করি আমি আবার কুমিল্লার কিচ্ছু চিনি না এত রাতে কই যামু । তোহার কথা ও ভাবছি মেয়েটা কে আসলো আমার সাথে বাস এ আর এখন এখনে চারটা কারগাড়ি তারে নিতে আসছে । কিচ্ছু মাথাই ঢুকছে না । ওই সব ভেবে আমার লাভ নাই আমি আর আমার বাবা এক সাথে থাকি মধ্যবিত্ত সংসার আমার আর বাবার । সারাদিন দুষ্টুমি করেই কাটে ।এই দিক দিয়ে আমরা অনেক বড়লোক। এই সব ভাবছি একটা ব্রেঞ্চে বসে বসে মাথা মাটি এর দিকে দিয়ে । হঠাৎ বুঝতে পারলাম আমার সামনে কেও দাড়িয়ে আছে । মাথাটা ওপরে তুললাম ও মা এটাতো তোহা । হ্যা সত্যি তোহা ওই তুমি এইখানে ক্যান বাসাই যাও নি । না তোমাকেই দেখছিলাম কি করো ,আমি জানতাম তোমার ফ্রেন্ড এত রাতে থাকবে না (তোহা) বলল । আচ্ছা তোহা তোমাকেই নিতে ওই গাড়ি গুলো আসছিল । হুমমমমমম এখন ও আছে , ওই ওঠো এখন আমার সাথে আমার বাসাই যাবে (তোহা) । যেতে পারি কিন্তু আগে বল তোমার বাবা কি করে আর এত গাড়ি কেন । আরে আমার বাবা কুমিল্লার মেয়র মনিরুলহক । কিইইইইইইই আগে বলবানা ।

তোহা হাসছে । কি মেয়েরে বাবা না না আমি যাবনা আমি তোমাদের বাসাই গেলে তুমি তোমার বাবার হাতে মাইর খাওয়াবা আমার ভয় ও লাগছে মেয়র এর মেয়ের সাথে কি সব করলাম। ওই যাবা না তাই না জাহিদ কাকু ওরে গারিতে ওটাও তো আমার কথা শুনছে না (তোহা) । ও রে বাবা কি হাতির মতো দুইটা মানুষ আমাকে তুলোর মতো করে গাড়িতে তুলল । সালা রাসেল কুত্তা তোর জন্য কি এক বিপদে পড়লাম ,না জানি বাসাই নিয়ে গিয়ে কি করে আল্লাহ জানে । ওই মোটা মহিলাটাই বসা ভালো ছিলতো । কি ফাজিল একদম ভদ্র হলে কেন খুবতো আসার সময় বক বক করছিলে তোহা । আচ্ছা তোহা আসার সময় আমি তোমার সাথে দুষ্টুমি করলাম তোমার বাবাকে বলে দিবা না তো । বলব না একটা সর্তে । আবার কি সর্ত ।আমার কাছে যেই চকলেট বিক্রি করছ তার টাকা যদি না নাও হা হা হা (তোহা ) । আচ্ছা আমি তোমার বাসাই যাচ্ছি তোমার বাবা কিছু বলবে না তো আবার । আর এ গাধা আমি বাবার এক মাত্র মেয়ে আমার জন্য বাবা সব করতে পারে বুঝলা (তোহা)।

হুমমমমম বুচ্চি কি কপাল আমার । ভয়ে ভয়ে তোহা দের বাসাই চলে আসলাম ওরে বাপরে কত বিশাল বাড়ি । তোহা এই প্রথম আমার হাত ধরে নিচে নামালো কি নরম হাত আহা । বাড়িতে ঢুকতেই দেখলাম তোহার বাবা বসে আছে । ওর বাবাকে দেখে তোহা তার বাবার কাছে গেল আর জড়াই ধরল । বাপ মেয়ে কি হাঁসাহাঁসি ।তখন ওর বাবা বলল তোহা মা ওই ছেলেটা কে । ওইটা আমার বেস্টফ্রেন্ড (তোহা)। আমি মনে মনে বললাম যাক বাবা চার ঘণ্টাই বেস্টফ্রেন্ড হয়ে গেলাম । তোহার বাবা বলল তোমার নাম কি আমি বললাম সাহরিয়া । তোমার বাসাই কে কে আছে । জী মানে আমি আর আমার বাবা থাকি । ওওও তোমার বাবা কি করে । আগে বাবা আর্মি এর কর্নেল ছিল এখন আমি আর বাবা বসে বসে খাই । আচ্ছা তোমার বাসা কই । মনে মনে বললাম ওনার মেয়ের বিয়ে দিবে হয়তো আমার সাথে .. এত কিছু ক্যান সোনা লাগবে দূর । আসলে মানে আঙ্কেল আমার বাবার বাসা নওগাতে কিন্তু আমি আমি আর বাবা এখন ঢাকাতে থাকি বাবা রান্না করে আর আমি খাই । তোহা হাঁসছে আহা কি সুন্দুর সেই হাঁসি ।

তারপর তোহার বাবা বলল যাও ফ্রেশ হয়ে খেতে আস তোহা মা তুই ও যা । যাক যা ভাবলাম তা না মানুষ না বড়লোক কিন্তু কোন অহংকার নাই । মেয়েটার মতই । হঠাৎ কে যেন বলল রাসেল ভাই তোমার বন্ধু কই ওই সকালে গেলা । তাৎক্ষনিক রাসেল আমারে ফোন দিয়ে বলল দোস্ত তুই কই । আমি বললাম হারামি তোর পিছনে তাকা । রাসেলতো অবাক হয়ে তাকাই আছে । ওই তুই কেমনে আসলি এখানে ।সাইট থেকে তোহা বলল ও আমর ফ্রেন্ড বুজলা । রাসেল বলল কিন্তু মেডাম ওই তো আমার ফ্রেন্ড । তোহা বলল থাক আর মাডাম বলা লাগবে না তুমি সাহরিয়া এর ফ্রেন্ড মানে আমার ও ফ্রেন্ড আজ থেকে বলে চলে গেল । রাসেল বলল কিরে ভাই তুইতো আমার থেকে ও বড় ধান্দাবাজ আমি ওর বাবারে পটাইয়া এই খানে আছি আর তুই ওনার মেয়েটারেই পটাই ফেললি । আমি বললাম হারামি তোহা না থাকলে আজ আমার কি হইত হুমমমম বলেই লাত্তি দিলাম । কই থেকে মনিরুল সাহেব এসে বলল রাসেল এইটাই তোমার ফ্রেন্ড , হুমমমমমম স্যার রাসেল বলল । যাও এখন ফ্রেশ হয়ে নাও । হ্যা আঙ্কেল আমি বল্লাম। ফ্রেশ হয়ে খেয়ে শুয়ে পড়লাম ।

অনেক সকালে তোহা এর ডাকে ঘুম ভাঙল ওই ওঠো …। কি হল বাবা এতো সকালে ডাকতিছ কেন । ওই আমি তোমার বাবা হুমমমমমম (তোহা) । এইরে ঘুমের মধ্যে তোহারে বাবা বলে ফেলছি । যাই হোক এতো সকালে ডাকছ কেন । তুমি আমারে শাপলা ফুল তুলে দিবা তাই । কিইইইইইইই আমি শাপলা ফুল কই পামু । আরে চলো না আগে । আচ্ছা চলো ..কিন্তু কই .। তোহা আমার হাত ধরে টেনে তুলে বাইরে নিয়ে গেল । ও মা গো আমি ভাবছিলাম কি আর এই সব হচ্ছে কি । কি সুন্দর নিরিবিলি একটা জাইগাই তাদের বাড়ি । তোহা আমারে খালি পায়ে বাইরে নিয়ে গেল শিশির ভেজা ঘাসের ওপরে হাঁটতে ভালই লাগছে । আমি আগে আমার গ্রামের বাড়িতে নাওগা থাকতে ফ্রেন্ড এর সাথে হাঁটতাম । তোহা একটা পুকুর পারে নিয়ে এসে আমাকে বলল যে ওই ফুল গুলো আমাকে এনে দাও না । কিইই মেয়েরে বাবা এখন ও বাচ্চা আছে মনে হয় । অনেক কষ্টে ফুলগুলো এনে দিলাম তার হাতে । মেয়ে তো দেখি আকাশের চাঁদ হাতে পাইছে এমন খুশি ।

আমি বল্লাম এত কষ্ট করে ফুল এনে দিলাম বিনিময়ে কিছু দিবা না হুমমমমমম । আচ্ছা কি নিবা বলো । না মানে তোমার বাবারে যদি বলে দাও। আরে বলব না বল । আচ্ছা বলছি সকালবেলা তো কিছু খাই নাই যদি একটা চুম্মা খওয়াইতে বলেই দৌড় দিলাম । কিছু দূরে যাওয়ার পর দেখলাম তোহার কাছে একটা গাড়ি দাঁড়াইল কি জানি বলল আর চলে গেল । দূর থেকে দেখলাম তোহা চোখ মুছতেছে । এই যা মেয়েটার আবার কি হল । তোহার কাছে যাইতেই ও আমারে জরাইধরে কান্না করছে । কি হল এইটা ..ওই পাগলী কাঁদছ কেন আচ্ছা বাবা সরি আমার ভুল হইছে এই কান ধরছি দেখ । আরো জোরে কাঁদছে আর বলছে সাহরিয়া ওই লোক গুলো কি বলে গেল জানো । আমি বললাম কি বলল । ওই লোক গুলো বলল যে ভাল ভাল এখান থেকে চলে যা না হলে তোর মায়ের মতো তোরে ও খুন করবে আকবর চাচা । আমি ভাবলাম এই আকবরটা আবার কে ।তারপরে বাসাই আসলাম তোহার বাবারে সব বললাম । তোহার বাবা তো অনেক রেগে গেল ।তারপর আমাকে বলল যে সাহরিয়া বাবা দেখ এই খানে আমার অনেক শত্রু । তাই আমার মেয়েটারে ঢাকাতে তাঁর ফুফুর বাসাই রাখি ।

আমি কি করব বাবা বল । আমি বললাম আঙ্কেল আপনি কোন চিন্তা করেন না । আপনি বললে তোহা আমাদের বাসাই থাকতে পারে ওখানে অনেক সেভ জাইগা । আমি আর বাবা ছাড়া কেও থাকে না । তোহার বাবা বলল তোমার বাবার নাম্বার দাও । ইয়ে মানে আঙ্কেল আমার বাবা পরিচিত নাম্বার ছারা ফোন ধরে না । তোহার বাবা কেন । আসলে সবাই আমার নালিশ করতেই ফোন করে তো তাই । তোহা দেখি আবার হাঁসছে । আর হাঁইসো না গো তোমার হাঁসিতে তো আমি পাগল হইয়া যামু । তোহার বাবা বলল কি হল ফোন দাও । হ্যা আঙ্কেল দিচ্ছি । কিরিং কিরিং হ্যালো বাবা কুমিল্লার মেয়র তোমার সাথে কথা বলবে । কিইইইই বললি আবার কি ঝামেলা পাকাইছিস । আরে দূর কিছু না কথা বলতে চাই কথা বল ব্যাস । আঙ্কেল ধরেন কথা বলেন । আচ্ছা তোমার বাবা নাম কি হাবিবুর রাহমান । আচ্ছা ঠিক আছে হাবিবুর সাহেব আমার বাসাই একবার আসতে পারবেন । কি জানি কি বলল বুঝতাছি না । তাঁরপরে বলল আচ্ছা আমি তাহলে গাড়ি পাঠাই দিচ্ছি । এই বলে ফোনটা রেখে দিলেন । আর আমাকে বলল তোহাকে নিয়ে যাতে বাইরে না যাই ।

আমি আর তোহা ঘরে গেলাম ফ্রেশ হলাম । খাইতে এসে দেখি তোহা রুবিক্স কিউব ঘুরাইতেছে উল্টাপাল্টা । আমি বললাম ওই ভাবে জিবনেও মিলবে না । আবার রেগে বলল তুমি আমার থেকে বেশি বুঝ হুমমমমম। আচ্ছা মেয়েরা এত বেশি বুঝে ক্যান বলতো । এমনিতে তো কোন কাজের না । দাও মিলাই দিতাছি ।এই বলে নিয়ে এক মিনিটে মিলাই দিলাম । তোহা তো একদম হা করে আছে ।বিকেল বেলা আমার বাবা আসলো এসেই তো আমারে সেই ঝারি । তোহা তো মুচকি মুচকি হাঁসছে খালি । এর মধ্যে মনিরুল সাহেব আসলেন । বাবাকে অন্য একটা ঘরে নিয়ে গিয়ে কি বলল আমি জানি না । তাঁর পরে আমাকে আর তোহাকে ডাকলেন আমিতো ভয়ে ভয়ে আছি কি না কি বলে তাই । তোহার বাবা আমাকে বলল কিইই এখনতো মনে হচ্ছে না এত ফাজিল তুমি । বাবা মনে হয় সব বইলা দিছিরে। কই থেকে জানি রাসেল ও আসলো বাবাকে দেখে সালাম দিলো । বাবা বলল রাসেল তুমি কই থেকে আসলা ।

তোমার বাসাই না সাহরিয়ার যাওয়ার কথা ছিল । আমি বাবাকে সব খুলে বললাম । আর বাবা বলল আমি জানতাম তুই এমন একটা কাণ্ড করবি । হঠাৎ মনিরুল সাহেব তোহাকে বলল তোহা মা সাহরিয়াকে তোর পছন্দ হয় । তোহা লজ্জাই নিচে তাকাই আছে ।আমি তো পুরা হা হয়ে আছি । কি হচ্ছে এই সব । তোহার বাবা আমাকে বলল সাহরিয়া আমি আর তোমার বাবা মিলে ঠিক করলাম তোমদের বিয়ে দিব । জানোতো বাবা আমার অনেক সত্রু কখন কি হয় বলতে পারি না । আমি তো খুশিতে শেষ । রাসেলরে তুই আমার আগের জন্মের বাপ ছিলিরে । তুই আসতে না কইলেতো আমি জীবনে ও আসতাম না । আর এই পরীটারে ও পাইতাম না (মনে মনে বললাম)। হঠাৎ তোহা বলল আমি রাজি আছি কিন্তু একটা সর্তে । আল্লাহ এই মেয়ে এত সর্ত দেই কেন । সবাই এক সাথে বলে উঠল কিইইইই । তোহা বলল ওই যেন আমাকে রুবিক্স কিউব মেলানো সেখাই আর সকালবেলা আমাকে শাপলা ফুল এনে দেয় । এহহহহহ যেন মামার বাড়ির আবদার । কিইইইইইই তা হলে আমি বিয়ে করব না ব্যাস (তোহা) । এই না না এনে দিবোতো বাবু । সবাই একসাথে হেঁসে উঠল ।

এর মধ্যে তোহার বাবা বলল তোমাদের এখানে থাকাটা নিরাপদ না । তোমরা কালকে ভোরবেলা ঢাকা যাবে ওখানেই তোমাদের বিয়ে হবে । আমি রাসেল আর তোমার বাবা তোমাদের যাওয়ার পরের দিন যাব । আমি বললাম ঠিক আছে আঙ্কেল না মানে বাবা । সকালবেলা সবাইরে বিদাই দিয়ে চলে আসলাম । আর রাসেল আমারে জড়াই ধরে বললো । আমি সুধু বাপরে পটাইলাম আর তুই বাপ মেয়ে দুইটারেই পটাই ফেললি, তুই আমার থেকে ও বড় হারামি । আবার সেই মাঠ এর মধ্যে দিয়ে যাইতেছি যেন কেউ বুঝতে না পারে । তোহা আমারে বলছে সাহরিয়া একটা গান গাও তো । আচ্ছা .. তোহা ..তোহা ..টাচ মি.. টাচ মি.।.তোহা.. তোহা.. কিচ মি.. কিচ মি । বলেই আমি তো দৌড় দিছি ।কি বললি শয়তান দাঁরা  আমি তো দৌড়াইতেছি তোহা ও আমার পিছন পিছন দৌড়াইতেছে ।

THE END

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত