প্রোপোজ করতে পারি না

প্রোপোজ করতে পারি না

এত বড় হইছিস তবু ও প্রোপোজ করতে পারিস না। ছি ছি ছি। এভাবে কেউ কাউকে প্রোপোজ করে নাকি। কথা গুলা বলে আমার হবু প্রেমিকা চলে গেল। ওনার কথা শুনে ক্যাবলার মত দাড়িয়ে আছে আমি। আর ভাবতেছি প্রিয়া তো ভুল কিছু বলে নি। এভাবে কেউ কাউকে প্রোপোজ করে নাকি। ধুর আমি যে আসলেই বলদ। প্রোপোজ টাও ঠিক ভাবে করতে পারি না। নাহ আমাকে দিয়ে মনে হয় কিছুই হবে  না। আমি শুভ্র।  পুরা নাম শুভ্রনীল বাপ্পি(Shuvro)। বর্তমানে আমি আমার বাবার হোটেলের নিয়মিত কাস্টমার। মানে এখনো বেকার। এতে আমার কি দোষ। দেশের যা অবস্থা তাতে লেখাপড়া শেষ করার সাথে সাথে চাকরি তো অমাবস্যার চাঁদের মতো। লেখাপড়া প্রায় মাস আটেক আগে শেষ করেছি। কিন্তু কপাল কোন চাকরি নেই মনে হয়। নিজেও তো কম চেষ্টা করলাম না।আর ওনি হচ্ছেন আমার হবু প্রেমিকা। হবু প্রেমিকা বলার কারন হচ্ছে প্রেমিকা হতে আর দেরি নেই। আমার ওনির নাম হচ্ছে প্রিয়া। পুরো নাম প্রিয়া আক্তার শুভ্র।  লেখাপড়ায় সে শেষ রকমের ভাল। ডাক্তারি পড়তেছে। আর বছর খানেক লাগবে তার লেখাপড়া শেষ করতে।

ওর সাথে আমার আরেকটা সম্পর্ক আছে। আর সেটা হলো আমি আর ও মামাতো- ফুফাতো ভাইবোন। আমার মা আর ওর বাবা আপন চাচাতো ভাইবোন।  মায়ের কাছে শুনেছি ছোট বেলায় যখন নানা-নানি মারা যায় তখন তার চাচা মানে প্রিয়ার দাদা নাকি আমার মা কে বড় করে তুলেছেন। আমার মা এর কোন ভাইবোন ছিল না। তাই প্রিয়ার দাদা, আব্বু আমার মা কে খুব ভালবাসতো। আমাদের সাথে তাদের খুব ভাল সম্পর্ক বিদ্রমান। ফিরে কথা,,,সকাল সকাল ঘুমিয়ে আছি।হঠাং করে আমার কানের কাছে জোরে কিছু একটার আওয়াজ হলো। মনে হলো কানের কাছে বোম টোম কিছু একটা ফাটলো।আমি ও মা গো বলে বিছানা থেকে উঠে পড়লাম।  কিন্তু পরক্ষনে একটা হাসির শব্দ শুনতে পেলাম। পিছন থেকে কে যেন আমার পিঠে হাত দিল। আমি ভয় পেয়ে জোরে জোরে বলতে লাগলাম ও মা ভুত ভুত।

_অই কুত্তা আমি ভুত না। পিছনে ফিরে দেখি প্রিয়া খিল খিল করে হাসছে। আমার চিৎকার শুনে মা বাবা দুজনেই ছুটে আসলো।
_কিরে কি হয়েছে।(মা)
_কিছু না ফুফু। অনেক বেলা শুভ্রনীল হয়ে গেল তাই ভাবলাম আবার ও উপরে চলে গেল নাকি। তাই আর কি পরিক্ষা করার জন্য ওর কানের কাছে একটা বেলুন ফাটালাম। (প্রিয়া) আবার খিল খিল করে হাসতে লাগলো। মা বাবা হাসতে হাসতে চলে গেল। মা বাবা চলে যাওয়ার পর,

_অই তুই আমাদের বাড়িতে কি ভাবে আসলি।(আমি)
_কেন গাড়িতে আসলাম।(প্রিয়া)
_ কথা পেচাস কেন।
_কথা আবার পেচানো যাই নাকি।
_বেশি কথা না বলে কবে আইছিস সেটা বল।
_কেন। কাল কে তুই আমাকে আনলি  না। হঠাং মনে পড়লো আমি কাল ওকে আমাদের বাসায় আনলাম।
_অহ মনে নেই।
_কবে না জানি নিজেকে তুই ভুলে  যাস। বিকাল বেলা প্রিয়া ছাদে বসে আছে  আমি গেলাম ওর পাশে বসলাম।

_কিরে কি খবর. (আমি)
_ভাল। তোর। (প্রিয়া)
_এইতো ভাল। কি করছিস এখন।
_হাওয়া খাচ্ছি। আমি একটু দুস্টামী করার জন্য বললাম,
_ফকির নাকি রে তুই কিছু খাবার এনে দিবো।
_চুপ করতো?
_ওকে।
_দেখ কত সুন্দর একটা পরিবেশ। কি নিরিবিলি পরিবেশ।  কি সুন্দর আকাশ।
_ হুম।

প্রিয়া আকাশ দেখায় ব্যস্ত। আর আমি প্রিয়া কে দেখায় ব্যস্ত।কি সুন্দর চেহারা।  অপরুপ সৌন্দর্যময় রুপ। প্রিয়া কে দেখেই প্রেমে পড়ে গেলাম। হঠাৎ প্রিয়া এর কথাই আমার ধ্যান ভাঙলো।

_কিরে এমন করে তাকিয়ে আছিস কেন?

_কই না তো।
_আমি খেয়াল করেছি তুই আমাকে দেখছিস।
_ধুর তোর মত পেত্নিকে আমি কেন দেখবো।
_কি আমি পেত্নি।
_কোন সন্দেহ ছাড়া।

ব্যস তারপর ফ্রি তে কিছু মার খাওয়া হলো। অতঃপর সকালে ওরে প্রোপোজ করেছি।কিন্তু আমি তো কোন দিন প্রোপোজ করি নাই।তাই কিভাবে প্রোপোজ করতে হয় সেটা জানি না। আর তাই প্রিয়া রাগ করে চলে গেল। এখন আমি চিন্তা করতেছি কিভাবে প্রোপোজ করবো। আমি ভাবলাম এটা বন্ধুদের সাথে শেয়ার করব। কিন্তু যদি শেয়ার করি তাহলে তো ওই সালা রা আমাকে এটা নিয়ে পচাবে। যাইহোক নিজেই প্রোপোজ করা শিখতে হবে। দুই দিন হলো কারোর সাথে ঠিক মত কথা বলি না। সারাদিন ঘরে বসে মুভি দেখি আর শিখি কিভাবে নায়ক নায়িকা কে প্রোপোজ করে। কিন্তু এসব দিয়ে তো কাজ হবে না মনে হচ্ছে। বিকালবেলা মা বলল

_অই রুম থেকে বের হ।
_কেন।
_তোর মামার বাড়ি যাবো।
_তো।
_তুই যাবি আমাদের সাথে।
_কেন
_প্রিয়ার সাথে তোর বিয়ে কাল।
_সত্যি।
_হুম
_তুমি যাও আমি আসছি।

লুঙ্গি ড্যান্স দিতে মন চাইতেছে। মেঘ না চাইতেই জল। যাক বাঁচলাম প্রিয়ার সাথে বিয়ে হলে ওকে আর প্রোপোজ করা লাগবে না। মাথা থেকে প্রোপোজ করার টেনশন  টা তো দুর হলো। রেডি হয়ে মামা বাড়ির উদ্দেশ্য সহপরিবারে যাত্রা শুরু করলাম। আমি এখন বিয়ের আসরে বসে আছি। কাজি সাহেব আমাকে কবুল বলতে বলার আগেই আমি কবুল বলে ফেললাম । ব্যস সবাই আমাকে নিয়ে হাসাহাসি শুরু করে দিল। কি আর করবো সবার হাসির পাত্র হয়ে গেলাম। যাই হোক বিয়ে টা ভাল ভাবেই হয়ে গেল। বাসর ঘরে ঢুকার কিছুক্ষন পর প্রিয়া আমাকে একটা গোলাপ ফুল হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল,

_নাও এবার প্রোপোজ করো।
_মানে।
_মানে বোঝো না। আমাকে প্রোপোজ করতে বলছি।
_কিন্তু
_কোন কিন্তু নয়। তুমি কি ভেবেছো বিয়ে হয়ে গেলে প্রোপোজ করা লাগবে না। চান্দু প্রোপোজ না করে তোমার রক্ষা  নাই।

_কিন্তু আমি তো করতে পারি না।
_পারিস না মানে। তুই এই দুই তিন দিন ধরে কি শিখলি।এত মুভি দেখলি তারপরেও কিছু শিখতে পারলি না।
_আমি মুভি দেখি তোমাকে কে বলল?
_আমি সব জানি।
_ওহ।মনে করেছিলাম বিয়ে হয়ে গেলে প্রোপোজ করা লাগবে না।
_এসব কিছু বুঝি না প্রোপোজ করতেই হবে।
_আচ্ছা।
_কর তাড়াতাড়ি।
_ওই পেত্নি তুই কি আমার মত ভুতের বউ হবি।আমার ছেলের বউ এর ছেলের দাদি হবি?

_এই প্রথম আমার জিবনে এমন প্রোপোজ দেখলাম।
এটা একটু অন্য রকম তাই প্রোপোজ টা গ্রহন করলাম। হাজার হলেও তুমি আমার জান্টুস হ্যবলা বর।

সমাপ্ত

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত