অনুভূতির অপর নাম

অনুভূতির অপর নাম

অফিস ছুটি হওয়ার ঠিক দশ মিনিট আগে আমি আর সাকিল বের হলাম। দুজন কে পার্টি অফিস যেতে হবে। তাই রিক্সায় উঠলাম। সেখানে কাজ সেরে নাহয় যার যার বাসা চলে যাবো। কিন্তু রিক্সা চালক আঙ্কেল যেভাবে রিক্সা চালাচ্ছে মনে তো হয় না ঠিক সময়ে সেখানে পৌঁছাবো। কিছু বলতেও পারছি না আবার বড্ড খারাপও লাগছে। একটু খেয়াল করে দেখলাম আঙ্কেলকে বড্ড মনমরা মনে হচ্ছে। একবার মনে হলো জিজ্ঞেস করি কিছু হয়েছে কিনা?? কিন্তু পরেক্ষণে কোনোএক সংকোচে বলতে পারলাম না। চাচা আপনার কি কিছু হয়েছে? আপনাকে অমন মনমরা লাগছে কেনো??

সাকিল আঙ্কেল কে জিজ্ঞেস করলেন। যেকথা আমি মনের সংকোচের কারনে বলতে পারলাম না সাকিল খুব সহজে তা বলে ফেললো। আঙ্কেল পিছন ফিরে আমাদের দুজনের দিকে একবার তাকিয়ে নিলেন। হঠ্যাৎ খেয়াল করলাম ভদ্রলোক কাঁদছেন। তিনি গলায় রাখা গামছা দিয়ে নিজের চোখের পানি মুছে নিলেন। দীর্ঘ শ্বাস নিয়ে বললেন, বাবা দুপুরবেলা আমার মেয়ে গোসলখানায় পা পিছলে পড়ে গেছে। মাথাটা অনেকটা ফেটে গেছে। খানিক টাকাকড়ি ছিলো ওটা দিয়ে যা করার করেছি । অল্প ঔষধ ছিলো তা শেষ হতে চলেছে। ঔষধের বেশ দাম আর টাকাও হাতে নেই। তাই বাকি ঔষধ এখনো কিনতে পারিনি।

ভদ্রলোক কথা বলতে বলতে আবার কেঁদে ফেললেন। আমার বড্ড মায়া হচ্ছিল। বুড়ো একটা লোক, হয়তো টাকার জোগাড় করতে মেয়েকে ওভাবে ফেলে রেখে রিক্সা চালাচ্ছে। সাকিলের দিকে তাকিয়ে দেখি ও কাঁদোকাঁদো হয়ে গেছে। সাকিল মানিব্যাগ বের করলো। চেক করে দেখলো দুটো একশো টাকার নোট। আমার কাছে তার থেকেও কম টাকা আছে। মাসের শেষ তাই বড্ড চিপায় আছি। সাকিল ভদ্রলোক কে মন খারাপ করে বললেন, আপনার ঠিক কত টাকার মতো লাগবে??

ভদ্রলোক: একটু ভেবে- মেয়েটা বহুত দুর্বল হয়ে গেছে। একটু ভালোমন্দ তো খাওয়াতে হবে । নিহাত হাজারখানেক টাকা লাগবে!

ভদ্রলোকের কথা শুনে মনটা আরো খারাপ হয়ে গেলো। আমাদের দুজনের কাছে এতো টাকা হবে না। হঠ্যাৎ সাকিল ঘড়ির দিকে তাকালো। সাকিল আঙ্কেল কে অফিস ফিরে যেতে বললেন। আমি কিছুটা অবাক হলাম। কিছুক্ষণের মধ্যে অফিসের সামনে পৌঁছে গেলাম। সাকিল জলদি রিক্সা থেকে নেমে আমাকে বলল, অফিসেরছুটি হওয়ার এখনো দুচার মিনিট আছে। দেখি কিছু করা যায় কিনা।

সাকিল আমার অপেক্ষা না করে দৌড়ে অফিসের দিক গেলো। আমি আঙ্কেলকে অপেক্ষা করতে বলে সাথেসাথে সাকিলের পিছুপিছু গেলাম। সাকিল অফিসের সবার কাছ থেকে টাকা উঠাতে লাগলো। কিন্তু আমি খেয়াল করে দেখলাম কেউ টাকা দিচ্ছে কেউ দিচ্ছেনা। এভাবে বেশি টাকা হওয়ার কথা না। পাচঁ দশ টাকা করে দিলে কত আর দু-তিনশো টাকার মত হবে। আস্তে আস্তে সাকিলকে ভেঙ্গে পড়তে দেখলাম। সাকিল যতো ভেবেছিলো আশানুরূপ সে পরিমাণ টাকা উঠেনি। আমাকে কিছু একটা করতে হবে। চোখের সামনে বন্ধুর মন ভাঙ্গতে দিতে পারিনা। আর আঙ্কেলের কান্না করা মুখ আর দেখতে মন করছে না। তাই আমার কিছু একটা হলেও করতে হবে!

হঠ্যাৎ মাথায় আমার একটা কথা খেয়াল হলো। আমি জোরে জোরে বললাম, যারা যারা এখন টাকা দিবে আমি বেতন পেলে তাদের সবার টাকা সম্মানের সহিত ফেরত দিবো। আর ট্রিট হিসেবে সব্বাইকে কাচ্চি বিরিয়ানি খাওয়াবো!
আমার কথায় অনেকের চোখ দেখলাম বিরিয়ানির অফার পেয়ে চিকচিক করছে। সাকিল আমার দিকে কৃতজ্ঞতার দৃষ্টিতে তাকিয়ে আছে। শালা শুধু তুই পারিস নাকি! সাকিল খুশিখুশি মুখে টাকা নিচ্ছে। আর যারা এবার টাকা দিচ্ছে আমি তাদের নাম লিখে নিচ্ছি। আমাদের পার্টি অফিস যাওয়ার জন্য লেট হয়ে যাচ্ছে। তাই অফিস থেকে টাকা উঠিয়ে চটজলদি বেরিয়ে পড়লাম। বাহিরে গিয়ে দেখি আঙ্কেল গম্ভীর মুখে রিক্সায় বসে আছেন। আর একটু পরপর চোখেরজল মুছে নিচ্ছেন।

আরে কাঁদবেন না! টাকা ম্যানেজ হয়ে গেছে তো! সাকিলের কথায় ভদ্রলোকের কান্না করা আরো বেড়ে। কিন্তু এ কান্না খুশির তা দেখে বুঝতে দেরি হলো না। সাকিল উনার হাতে টাকা দিয়ে বাসা যেতে বললেন। সাকিল বড্ড বুঝালো কিন্তু ভদ্রলোক মানলে তো। রিক্সা চলছে আপন গতিতে। আঙ্কেল কে এখন বেশ ফুরফুরে লাগছে। কিছুসময় আগে উনার মুখে যে গম্ভীর ভাব ছিলো তা এখন নেই। আঙ্কেলকে এভাবে দেখে মন ভালো হয়ে গেলো। দোস্তো! সত্যি করে বলতো তুই কি নাশেহা কে ভালবাসিস?? ফিল করিস ওকে নিয়ে কিছু??? আমি সাকিল এর কথায় চুপ করে থাকলাম। ওর কাছে আমি মিথ্যে কথা বলতে পারবো না। আবার সত্য কথা বলতেও আমি পারবোনা। নাশেহা সাকিলের ছোটবোন।

বন্ধুত্ব হওয়ার শুরু থেকে আমার ওদের বাসায় যাওয়াআসা লেগে থাকতো। সাকিলের আবার বাবা নেই। তাই সব দায়দায়িত্ব সাকিলকে পালন করতে হতো। আর একজন বন্ধু হিসেবে সবসময় ওর পাশে থাকার চেষ্টা করতাম।
আর তখন থেকে আমি সাকিলের বাসার সবার সাথে অনেক ক্লোজড হয়ে যাই। প্রতিটি কাজে আমার ইনভল্বমেন্ট দেখার মতো ছিলো। একসময় খেয়াল করি নাশেহা আমার দিকে তাকিয়ে কেমনকেমন জানি এক্সপ্রেশন দেয়। কখনোবা আবার মুচকি হেসে ফেলে। আমি কোনোএক অঘটনের আভাস পাচ্ছিলাম। আচমকা একদিন নাশেহা আমার হাতে একটা চিরকুট দিয়ে পালিয়ে যায়। আমার ভয়টা যে এতো জলদি বাস্তবে রুপ নিবে আমি ভাবতেও পারিনি তখন। নাশেহা সেসময় ইন্টারে পড়ে। এসময় কমবেশি আবেগপ্রবণ সবাই হয়। তাই নাশেহার একাজ বেশি সিরিয়াসলি নেইনি। কিন্তু সাকিলদের বাসা আসাযাওয়া কমিয়ে দেই।

এরপর হঠ্যাৎ সাকিলদের বাসায় গেলে দেখতাম নাশেহা আমার সাথে আগের মত আর কথা বলেনা। আমার কাছ থেকে এড়িয়ে চলে। নাশেহা যে লুকিয়ে আমাকে দেখতো আমি বুঝতাম। ওর মুখে এক অজানা ভাব দেখতাম তখন। হয়তো তা অভিমান। তাহলে কি সত্যি মেয়েটা আমাকে ভালবাসে??? এটাই তো চেয়েছিলাম যাতে নাশেহা আমাকে ঘৃণা করে এড়িয়ে চলুক। কিন্তু একপর্যায়ে আমার কেনো জানি কষ্ট হতে শুরু করলো। বারংবার নাশেহার হাসিমাখা মুখটা চোখের সামনে ভেসে উঠে। তখন এক নতুন আমাকে আবিষ্কার করে ফেলি। আমার কাছে সাকিলের বন্ধুত্বের চেয়ে কোনকিছু বড় ছিলোনা। সাকিল আমার অনুভূতির অপর নাম। ওর বন্ধুত্ব আমাকে হাসতে শিখিয়েছে। হাজারো অসফলতার মাঝেও শিক্ষা নিয়ে আগে চলার অনুপ্রেরণা ওর কাছ থেকে পেয়েছি। কিন্তু তবু মনের জন্ম নেয়া অজানাএক অনুভূতিটাকে অগ্রাহ্য করতে পারিনি। তাই সাকিলের বাসায় যাওয়া একদম ছেড়ে দেই।

নাশেহা এখন ভার্সিটি তে পড়ে। এতদিনেও নাশেহার মুখোমুখি আমি হতে পারিনি। কেন পারিনি তার উত্তর আমার জানা নেই। কিন্তু নাশেহার হাসিমাখা মুখ এখনো আমার চোখের সামনে। মেয়েটার লাজুক মাখা কথাবার্তা আজো কানে গুনগুন করে। আমার মন ভালো করার স্মৃতি সেগুলো। তোর চুপ করে থাকায় আমি কিন্তু আমার উত্তর পেয়ে গেছি। আচ্ছা অভ্র তুই এমন কেন বলতো! সাকিল কথায় মনটা আমার কেপে উঠলো। আমি কখনো চাইনি আমাদের বন্ধুত্বে ফাটল ধরুক। সাকিল আমাকে ভুল বুঝবে না তো আবার?? বাবা কিছু মনে না করলে একটা কথা বলবো?? আঙ্কেলের কথায় সাকিল উনার দিকে তাকিয়ে বলল, আচ্ছা বলুন। এমন করে বলছেন কেন!

আঙ্কেল: অভ্র বাবার দিক থেকে দেখলে কিন্তু ওহ ভুল কিছু করেনি। ওহ যে তোমাকে বড্ড ভালবাসে এটা তার ই প্রমাণ! আঙ্কেলের কথায় সাকিল নিস্তব্ধ হয়ে গেলো। মন খারাপ করে বলল, অভ্র আমার জন্য ওর ভালবাসাকে মনে চেপে রেখেছে। কিন্তু আমি ওর কাছের বন্ধুও হয়েও মনে না বলা কথা বুঝতে পারিনি। সত্যি আমি ওর বন্ধু হতে পারলাম না! আজ নাশেহা আমাকে না জানালে কখনো জানতে পারতাম না।

আঙ্কেল: হেসে- আরে বাবা এতে মন খারাপের তো কিছু নেই। এখন দুটি মন এক করে নিজের দায়িত্ব পালন কর না হয়। ছেলেটাকে তো তুমি ভালো করে চিনো। তোমার বোন কষ্ট দেওয়ার মত ছেলে নিশ্চয় অভ্র বাবা নয়! পরিস্থিতি অনেক ইমোশনাল হয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপার নিয়ে আরো ঘাটাঘাটি করলে সাকিল শুধু নিজেকে দোষারোপ করবে আর কষ্ট পাবে। তাই কথা কাটানোর জন্য আমি বলল, সাকিল আমাদের পার্টি অফিস যাওয়া কি ঠিক হবে??

সাকিল: রাহাত ভাই এতো করে বলল তাই না করতে পারিনি। ওরা যাই করুক আমরা ঠিক থাকলে হলো। উনি তো বড় ভাইয়ের মত তাই না করতে পারিনি। ছেলেটা এমনি। কখনো কারো মুখের উপর না বলতে পারেনা। কিছু করে যদি অন্যের মুখে হাসি ফোটানো যায় তাহলে সাকিল কখনো পিছু হটে না।

কিছুক্ষণ পর…

আঙ্কেল আমাদের পার্টি অফিসের সামনে নামিয়ে দিলো। সাকিল আঙ্কেলকে ভাড়া দেয়ার জন্য টাকা বের করতে যাবে তখনি আঙ্কেল থামিয়ে দিলো। একটু হেসে বলল, আজ থেকে যতদিন পর্যন্ত টাকা শোধ করতে পারছি না তোমাদের আমি রিক্সায় নিয়ে যাওয়াআসা করবো। সাকিল তো আঙ্কেলের কথা মানতে নারাজ। কিন্তু ভদ্রলোকের আত্মসম্মানবোধ দেখে সত্যি আমি অবাক হলো। আঙ্কেল যে সাকিলের কথা শুনবে না আমি তা বুঝে গেলাম। আমি সাকিলকে থামিয়ে দিয়ে বললাম, আচ্ছা ঠিকাছে। আমাদের তো আবার বাসা যে হবে তা কখন আসছেন??? আঙ্কেল আমার কথায় হেসে ফেললেন। তিনি আমার কথায় খুশি হয়েছেন তা দেখে বুঝা যাচ্ছে। আঙ্কেল আমাদের কাছে ঘন্টাখানিক সময় নিয়ে চলে গেলেন। ততক্ষণে সাকিলও সবকিছু বুঝে গেছে। আত্মসম্মানবোধ জিনিসটা মানুষকে কখনো হারতে দেয়না। আগে নিজেকে নিজে সম্মান করতে হয়। নিজের মুল্য বুঝলে তবে অন্যজন সম্মান করবে। এ মানুষগুলো কখনো খারাপ হতে পারেনা!

পার্টি অফিসে অনেকক্ষণ বসে আছি দুজনে কিন্তু রাহাত ভাইয়ের কোন খবর নেই। এখানকার আবহাওয়াও আমাকে ভালো লাগছে। কিছু ছেলেপেলে দেখছি পায়চারী করছে। তাদের চালচলন ভালো মনে হচ্ছে না। মুখগুলো কেমন জানি ফ্যাকাসে লাগছে। সাকিলকে একবার বললাম চলে যাই কিন্তু ওহ আমার কথা শুনলো না। কিছুক্ষণ পর রাহাত ভাই পার্টি অফিসে আসলো। আমাদের কাছে টুকটাক কথাবার্তা বলল। আর চা না খেয়ে যেতে নিষেধ করলো। একটু পর একটি ছেলে এসে চা দিলো। আমি চায়ের কাপে চুমুক দিলাম। ছেলেটি তখনো দাঁড়িয়ে আছে। সাকিল ছেলেটিকে বলল, ভাইয়া কিছু বলবে??

ছেলেটি: ভয়ার্ত কন্ঠে- বলছিলাম কি ভাইয়া এখানে একটু পর ঝামেলা হবে। আপনাদের দেখে আমার ভালো মনে হচ্ছে তাই বলছি যতো তাড়াতাড়ি সম্ভব চলে যান। একথা শোনামাত্র সাকিলকে ফিরে যেতে বললাম কিন্তু ওহ শুনলে তো। সাকিল আমাকে বলল, ঝামেলায় নিশ্চয় হাতাহাতিও হবে। আমাদের তা আটকানো দরকার। এই বদ ছেলে কখনো নিজের কথা ভাববে না। এখানে বিপদ থাকা সত্ত্বেও অন্যের কথা ভাবছে। সাকিল ছেলেটিকে বলল, আচ্ছা বলতো কেমন ঝামেলা??

ছেলেটি: সামনে নির্বাচন তো। দল থেকে যাদের উপর নির্বাচনী কাজের দায়ভার পড়ে তাদের পকেট গরম হতে সময় লাগে না। আর এজন্য রাহাত ভাইয়ের গ্রুপ আর অন্য গ্রুপের মধ্যে ঝামেলা চলছে কিছুদিন ধরে। আর আজ এখানে মিটমাট হবে। কিন্তু আমি রাহাত ভাইয়াকে ভালো করে চিনি উনি মিটমাট করার মত ছেলে না। আমি ছেলেটির কথায় অবাক না হয়ে পারলাম না। তারা একি দলে কাজ করে। মিলেমিশে থাকলে তো হয়। ঝামেলা করার কি দরকার?? কিন্তু তখনো আমার মাথায় ঢুকছে না রাহাত ভাই সাকিল আর আমাকে ডাকলো কেন? কি ভাইয়া?? আপনাদের কেন ডাকা হয়েছে তাই ভাবছেন তো? এই ছেলেটি আমার মনের কথা জানলো কেমন করে। আমি কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে বললাম, তুমি জানলে কেমন করে?

ছেলেটি: মুচকি হেসে- কেন জানি মনে হলো। আর ভাইয়া এসব ঝামেলায় যাদের জনবল বেশি থাকে তাদের ফায়দা বেশি। একটু পর রাহাত ভাইয়া ঠিকি দেখবেন আপনাদের ভুলভাল বুঝিয়ে ফেলেছে।

আমি ছেলেটির কথা যতো শুনিতেছি ততো অবাক হচ্ছি। এসব কথা আমার মাথায় আসলো না কেন যে রাহাত ভাই যখন ডেকেছে তখন কোনো না কোনো ঝামেলা হবে। সাকিলের দিকে তাকিয়ে দেখি ওহ কাকে যেন কল করছে। আমি ওকে বললাম, কিরে কাকে কল দিচ্ছিস???

সাকিল: পুলিশকে। আমার চোখের সামনে খুনাখুনি হবে আমি তা হতে দিবো না। সাকিলের কথায় ছেলেটি একটু জোরে হেসে ফেললো। হাসতে হাসতে বলল, ওরা সব্বাই একই গোয়ালের গরু। কোন লাভ হবে না।

সাকিল আর আমি কেউ ছেলেটির কথা বুঝলাম না। একটু পর দেখলাম রাহাত ভাই আমাদের দিকে আসছে। তা খেয়াল করে ছেলেটি চলে গেলো। বলছি কি সাকিল আমাদের আশেপাশের সব্বাই কিন্তু মানুষ নয়! কিছু অমানুষও রয়েছে! যেমন বেটা তুইই! একথা কথা ওই বেটা রাহাতকে বলতে গিয়েও বলতে পারলাম না। আমি অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছিলাম বেটা কি খিচুরি পাকায়! আমাদের চুপ থাকা দেখে রাহাত ভাই আবার বলল, জানিস তো কিছুকিছু মানুষ আছে যারা শুধু নিজের কথা চিন্তা করে। এতে অন্যের জীবন নষ্ট হলেও তারা পরওয়া করেনা। আজ এমনি এক এ অমানুষকে শায়েস্তা করবো। কি তোরা আমার পাশে থাকবি তো?

আমি: সেই অমানুষ কি করেছে শুনি?

রাহাত মনে হয় এরকম প্রশ্ন আশা করেনি। বদ পোলা কি যেন ভাবতে লাগলো। হয়তো কোনো কাহিনী তৈরি করছে। কিছুক্ষণ চুপ করে থাকার পর রাহাত ভাই বলল, দেখছিস আজকাল ছাত্র ছেলেপেলেদের কিছু অমানুষ রাজনীতি নামক কুরুচি পূর্ণ জিনিষে জড়িয়ে ফেলছে । পরে সেই সেই ছেলেপেলে গুলো নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে। আর তখনি অমানুষগুলো তাদের কাজ হাসিল করে নিচ্ছে। আজ সেই অমানুষ গুলোকে শায়েস্তা করবো। আমি জানি তোরা আমার পাশে থাকবি! একথা বলে রাহাত ভাই চলে গেলো। কেউ বলতে পারবে যে মানুষটি এরকম বড় বড় কথা বলে গেলো সে নিজে একটা অমানুষ। এনার তো অমানুষ হওয়ার যোগ্যতা পর্যন্ত নেই! কিছুক্ষণের মধ্যে অফিসের সামনেকার পরিবেশ থমথমে হয়ে গেলো। রাহাত ভাই যাদের কথা বলছিল তারা এসে গেছে। কথাবার্তার এক পর্যায়ে ঝামেলা বেধে গেলো। অনেকে তো লাঠিসোঁটা বের করে মারা শুরু করলো।
পুলিশ এখনো আসছে না।

যে ছেলেটা চা দিয়েছিল তার কথা এখন আমি ঠিকি বুঝতে পারছিলাম। সাকিলকে অনেক কষ্টে আটকিয়ে রেখেছি। কিন্তু সাকিল বড্ড ছটফট করছে। আমারো যে খারাপ লাগছে তা নয়। যারা মারামারি করছে সব্বাই কমবয়সী ছাত্র মানুষ। অন্যের ইশারায় পুতুলনাচ করছে। কিন্তু আমরা দুজন বা কি করতে পারি? এটা তো কোনো একশন ফিল্ম নয় যে দুচার জনকে মেরে বাকিদের চুপ করিয়ে দিবো! অভ্র! এ ছেলেগুলো যদি তোর ছোটো ভাই হতো তখন তুই কি করতিস শুনি?? আর আটকাতে পারলাম না সাকিলকে। ওহ গিয়ে সব্বাইকে থামাতে লাগলো। কাউকে আবার বুঝাতে লাগলো। কিছুক্ষণ পর আমিও সাকিলের সাথে যোগ হলাম। পরিস্থিতি কিছুটা আয়ত্তে আসতে লাগলো। তখনি গোলাগুলি করার শব্দ শুনতে পেলাম। সাকিল আমার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল। হঠ্যাৎ আমার সামনে এসে কেনো দাঁড়ালো বুঝতে পারলাম না!

সাকিল মাটিতে পড়ে গেলো। ওর বুকের বাম দিক থেকে রক্ত পড়ছে। আমার শার্টে সাকিলের রক্তের ছিটেফোঁটা লেগেছে। আমি মাটিতে বসে সাকিলের মাথা কোলে রাখলাম। আমি শব্দ করে কাঁদতে লাগলাম। কিছু ছেলে আমাদের ঘিরে ধরেছে। তারা আর মারামারি করছে না। সাকিলকে হসপিটাল নিয়ে যেতে হবে। রাহাত ভাইয়ার গাড়ি দেখতে পাচ্ছি। কিছু বলতে যাবো তার আগে রাহাত ভাই গাড়ি স্টার্ট দিয়ে সেখান চলে গেলো! আঙ্কেল উনার রিক্সা নিয়ে পার্টি অফিস পৌঁছে গেছেন। কিছু সময়ের মধ্যে পরিচয় হওয়া মানুষটাও সাকিলের এমন অবস্থা দেখে কাঁদছেন। সাকিলের বড্ড কষ্ট হচ্ছে। চোখদুটো যেন ঘুমাতে চাচ্ছে। তা দেখে আমি বললাম, এই দোস্তো চোখ খোল। তোর কিচ্ছু হবে না। এখনি তোকে হসপিটাল নিয়ে যাচ্ছি।

সাকিল: মুচকি হেসে- আমার হাতে সময় নেই দোস্তো!

আমি: কপট রেগে- এমন করে বলছিস কেন?? তুই চলে গেলে সাজেদা মার কি হবে? নাশেহার কি হবে??

সাকিল: তুই আছিস না! আমি জানি তুই আম্মা আর নাশেহার কিচ্ছু হতে দিবি না। দোস্তো আমার বড্ড ঘুম পাচ্ছে রে।

আমি জোরেশোরে সাকিলকে ডাকছি। কিন্তু ওহ চোখ খুলছে না। আশেপাশে কোনো গাড়ি নেই। আঙ্কেলের রিক্সা ছাড়া আর কোনো উপায় দেখছি না। আঙ্কেল সাকিল কোলে উঠাতে যাবে তখনি চেক করে বলল, অভ্র বাবা সাকিল আর আমাদের মাঝে নেই। আমার আঙ্কেলের কথা কিছুতে বিশ্বাস হচ্ছিল না। কিছুক্ষণ পর পুলিশের সাথে এ্যাম্বুলেন্স এসে হাজির হলো। ডাক্তার সাকিলের পালস্ চেক করে একি কথা বললেন!

কিছুদিন পর….

দুনিয়ার আজিব এক নিয়ম আছে! তা হলো দুনিয়া মানুষকে কখনো গ্রহণ করে না। গ্রহণ করে তার কর্ম। তাই তো মানুষ দুনিয়ার মোহ ছেড়ে চলে গেলেও তার কর্ম থেকে যায়। তার কর্ম দিয়ে মানুষ তাকে যুগের পর যুগ স্মরণ করে! আজ যখন সাকিল আমার পাশে নেই তখন একথা হারে হারে বুঝতে পারছি। কিরে কেমন আছিস? একি হাল হয়েছে তোর??

আমার কেন জানি মনে হলো সাকিল আমাকে কিছু বলেছে। কিন্তু এ কেমন করে সম্ভব! আমি তো সাকিলের কবরের সামনে বসে আছি। আর আশেপাশে এমন কাউকে দেখছি না যে আমার সাথে ফাজলামো করবে। তাহলে? আমি কি ভুল শুনলাম? ঠিক ভেবেছিস! আমি তোর সাকিল বলছি। সাকিল একথা বলে আমার পাশে বসলো। আমার নিজের বিশ্বাস হচ্ছে না ওহ আমার সামনে বসে আছে। আমি থতমত খেয়ে বললাম, তুই কিরে বুঝলি আমি কি ভাবছি??? আমার কথায় সাকিল হেসে ফেলল। একটু চুপ করে থেকে বলল, নাশেহার ব্যাপারে একবার তোর মনের কথা আমি বুঝতে পারিনি। যেদিন একথা জানলাম আমি বুঝতে পেরেছি তোর অনুভূতি জিনিসটার ঠিক কতোটা জায়গা জুড়ে আমি রয়েছি। আমি তোর সেই অনুভূতি বলছি রে দোস্ত!

আমি: মন খারাপ করে- তো আমাকে ছেড়ে চলে গেলি কেন??

সাকিল: মুচকি হেসে- পৃথিবী বেচে থাকা মানে পাপের কোঠা বাড়ানো। আর ভেবে দেখ কোন একদিন তোর বিয়ে গেলো। আর তুই তখনো আমাকে আগের মত ভালবাসিস। তাহলে তোর বউ কতোটা রাগ করতো বলতো!

আমি: নরম সুরে- ফাজলামো করছিস দোস্ত। তুই বুঝবি নারে আমাকে। আমি যখন ফেইল করার ভয়ে কেঁদে মরতাম তুই কোথা থেকে জানি সাজেশন ম্যানেজ করে দিতি। আমি প্রথম যখন ছ্যাকা খেলাম তুই আমার ঘাড়ে হাত চাপড়ে বলেছিলি মেয়েটা হীরাকে চিনলো না। জীবন প্রত্যেক মোড়ে যখন তোকে ছায়ার মত পেয়েছি তখন তোকে ভালবেসে যাওয়ার কোন কারন দেখাতে পারিস? আমার কথা শুনে সাকিল হাসতে হাসতে বলল, তাইতো তোর অনুভূতি অপর নাম আমি!

কি ভাইজান! বাসা যাবেন না?? একা একা কি কথা বলছেন? আমি বয়স্ক লোকের কথায় তাজ্জব হয়ে গেলাম। উনি কি সাকিল কে দেখতে পারছেন না। উনার মাথা গেছে নাকি!দোস্ত! শুধু তুই আমাকে দেখতে পারিস রে। আমি আসলে কিছুনা। শুধুমাত্র তোর মনের আয়রব। তোর মনের অনুভূতির অপর পৃষ্ঠা! আমি কিছু বলতে যাবো ঠিক তখনি আমার ফোন বেজে উঠলো। ফোনে যা শুনলাম তাতে আমার মন কেপে উঠলো। সাকিল তা বুঝতে পেরে বলল, কি হয়েছে দোস্ত??

আমি: যারা তোকে মেরেছে সেই অমানুষ গুলোর নামে কেস করেছি। আর কেস উইথড্র করার জন্য তোদের বাসায় ঝামেলা করছে। আমাকে যেতে হবে দোস্ত।

সাকিল: শোন একাই যাস না। রাজা, শুভ, আকাশদের ফোন দিয়ে আসতে বল।

কিছুক্ষণ পর…..

সব্বাইকে নিয়ে সাকিলদের বাসায় হাজির হয়েছি। নাশেহা আমাকে দেখামাত্র দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরলো। সাজেদা মা এককোণে দাঁড়িয়ে কাঁদছে। ছেলেপেলে সবাই পালিয়ে গেছে। সাজেদামা আর নাশেহাকে আর এখানে রাখা যাবে না। এদের কিছু হয়ে গেলো আমি সহ্য করতে পারবো। কি জবাব দিবো আমি সাকিল কে?? নাশেহা আর সাজেদা মাকে আমাদের বাসায় নিয়ে এসেছি। রাতে ছাদে বসে স্মোক করছিলাম। ঠিক তখনি সাকিল এসে আমার পাশে বসে পড়লো। কপট স্বরে বলল, কুত্তা সিগারেট ফেল দিবি তুই! সাকিলের কুত্তা ডাকটা শুনে কতোটা যে শান্তি পেলাম বুঝাতে পারবো না। কতদিন শালার গালি শুনি না। সিগারেট ফেল দিয়ে বললাম, তো মিঃ অনুভূতি মনের মধ্যে আমার কেমন দিনকাল চলছে?

সাকিল: মুখ বাকিয়ে- তুই আমাকে নিয়ে বড্ড ভাবিস রে। আমি তো চলে গেছি। আর আমাকে নিয়ে এতো ভাববি না কেমন। কে বলেছে তোকে পুরনো সব স্মৃতি মনে করে মন খারাপ করতে! সাকিলের কথায় না হেসে পারলাম না। মুচকি হেসে বললাম, দোস্ত মনে আছে একবার আমার কামরাঙা খেতে মন করছিল। তুই শোনার সাথে সাথে জামিল দাদার গাছ থেকে আনতে গেছিলি। কিন্তু জামিল দাদা তা করতে দেয়নি। তখন যে তুই যে কি রাগ হয়েছিলি মনে আছে। তারপর তুই যা করলি আমি স্বপ্নেও ভাবতে পারিনি।

সাকিল: ঠিকি করেছি। রাতের বেলা যখন সব্বাই ঘুমিয়ে পড়েছিল টুপ করে পুরো গাছ কেটে ফেলেছিলাম। সাহস কতো তুই কামরাঙ্গা খেতে চেয়েছিস আর উনি কিনা তা হতে দিলো না!

আমি: তাহলে বল এ স্মৃতির পাতাগুলো কি ছেড়া যায়?? এগুলো তো বেচে থাকার অবলম্বন! সাকিল আর কিছু বলল না। চুপ করে রইলো। আমি ওকে বললাম, কাল একটা বড্ড বড় কাজ করবো। পাশে থাকবি তো?

সাকিল: দৃঢ় সুরে- ছায়ার মতো। সাকিল একথা না বললেও আমি জানি ওহ আমার পাশে থাকবে। ওর রক্তেগড়া শরীর শুধু আমার সাথে নেই। কিন্তু আমি ওকে ফিল করি। এই তো আমার পাশে বসে আছে!

পরেরদিন…..

রাহাত ভাই আমার সামনে পায়ের উপর পা তুলে বসে আছে। ঠিক পিছনে সাকিল বারংবার বলে যাচ্ছে এখান থেকে ফিরে চল ফিরে চল। কিন্তু এবার আমি ওর কথা শুনবো না। এই অমানুষটাকে অনেককিছু বলার আছে আমার। তো অভ্র সাহেব! কি মনে করে??

রাহাত ভাই এর কথা শুনে জবাব দেয়ার জন্য মানসিক প্রস্তুতি নিলাম। দীর্ঘ এক নিঃশ্বাস নিয়ে বললাম, আপনার জন্য ঠিক কতগুলো মায়ের স্বপ্ন ধুলিসাৎ হয়ে গেছে আপনি জানেন। সায়েন্সে পড়া একটা ছাত্র কে আপনি যখন রাজনীতিতে প্রবেশ করান তার মা তখন স্বপ্ন দেখে আমার ছেলে ডাক্তার হবে। আপনার নিজের প্রতিটা স্বার্থ হাসিল করার পরপর সেই মায়ের স্বপ্ন দম ছেড়ে দেয়। আর সেই মায়ের স্বপ্ন তখনি মরে যায় যখন আপনি তার ছেলেকে মাদকাসক্তে জড়ান। বিশ্বাস করেন ভাই স্বপ্ন ভাঙ্গার ঠিক কতোটা কষ্ট আপনি বুঝবেন না।
রাহাত ভাই: তাচ্ছিল্যের সুরে- তুমি এগুলো কথা আমাকে বলছো কেনো? নিজের সময় নষ্ট করছো মাত্র!

কিছু বলতে যাবো তার আগে পুলিশ আসলো। আকাশ, রাজা নিজেদের কাজ ঠিকি করেছে। আমি রাহাত ভাই এর দিকে তাকিয়ে বললাম, আপনি যখন সেদিন সাকিল ওরকম অবস্থায় দেখে পালিয়ে গেছিলেন আমি মোটে অবাক হয়নি। কেননা আপনাদের মত কেউ নিজের স্বার্থ ছাড়া কিছু বুঝে না তা আমি জানি। এ কথা গুলো কেন বলছি জানেন?? আপনাকে এটা বুঝিয়ে দিতে রাজনীতিতে সব্বাই খেলনা মাত্র। আপনি যাদের জন্য কাজ করেন তারাই পুলিশ পাঠিয়েছে। জানেন তো আমার বন্ধুদের আপনার দলীয় ভাইকে বেশি কিছু বুঝাতে হয়নি। শুধু এতোটুকু উনার কানে ঢুকিয়েছে আপনি আর কোনো কাজের না। ব্যাস আপনি উনাদের জন্য কালসাপ হয়ে গেলেন। রাজনীতির মাঠে কেউ কারো আপন নয়। সব্বাই খেলনা মাত্র! যান জেলে আপনার রাইভাল অপেক্ষা করছে। উনার সাথে তো সেদিন আপনার ঝামেলা ছিলো তাই না।

কিছুদিন পর….

ছাদে বসে আছি। সাকিল আমার পাশে বসে আছে। দুজনে চুপ করে আছি। সাকিল যাদের জন্য আজ আমার পাশে থেকেও নেই তাদের শাস্তি আমি দিতে পেরেছি। আগামীকাল নানুর বাড়ি চলে যাবো। ওখান থেকে নাহয় বাকী জীবনটুকু কাটানো যাবে! নাশেহা কখন যে ছাদে এসেছে খেয়ালী করিনি। ওর কথায় পিছনে ফিরে তাকালাম। নাশেহা আমার দিকে এক পলকে তাকিয়ে আছে। হয়তো আমি ওকে আটকাবো এজন্য চেয়ে আছে। কিন্তু আমি কেন জানি তা পারছি না। কোনোএক বাধা আমাকে তা করতে দিচ্ছে না।

নাশেহা কিছুক্ষণ পর চলে যাওয়ার জন্য পিছন ফিরে হাটতে লাগলো। সাকিল পাশ থেকে নাশেহাকে আটকাতে বলে চলেছে। কিন্তু আমি নির্বাক। সাকিল একটু চুপ করে আবার বলল, যারা তোকে ভালবাসে তাদের চলে যেতে দিতে নেই। আটকাতে হয়। নাহলে দেখবি আমার হাওয়ায় মিশে যাবে। শুধু অনুভূতি হয়ে মনে রয়ে যাবে!

হঠ্যাৎ করে মন চলাৎ করে উঠলো। নাশেহার চলে যাওয়ার দিকে তাকিয়ে আমি বললাম, বাকী জীবনটুকু আমার সাথে কাটানো যায় না?? নাশেহা আর হাটছে না। থেমে গেছে। একটু পর দৌড়ে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরলো। মেয়েটা কাঁদছে। কাঁদলে কেঁদে নিক। আর কাঁদতে দিবো না। পাশে সাকিল মুচকি হাসছে। জানি তুই আমার পাশে থাকবি আজীবন যতদিন আমার অনুভূতি আছে। কারন তুই আমার অনুভূতির অপর নাম!

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত