কাছে আসার গল্প

কাছে আসার গল্প

রাত ১২টা। আমার জন্যে এমন কোন রাত না—বলা যেতে পারে রজনীর শুরু। The night has only started. কিন্তু ঢাকা শহরের মানুষগুলি আমার মত না। রাত ১২টা তাদের কাছে অনেক রাত। বেশির ভাগ মানুষই শুয়ে পড়েছে। যাদের সামনে SSC, HSC বা এ জাতীয় পরীক্ষা তারা বই সামনে নিয়ে ঝিমুচ্ছে। নব বিবাহিতদের কথা আলাদা—তারা জেগে আছে। একে অন্যকে নানান ভঙ্গিমায় অভিভূত করার চেষ্টা করছে।

আমি হাঁটছি। বলা যেতে পারে হন হন করে হাঁটছি।তবে আমার হন হন করে হাঁটার পেছনে একটা কারণ আছে। প্রচণ্ড খিদে পেয়েছে। কিছু হোটেল-রেস্টুরেন্ট এখনো খোলা। কড়কড়া ভাত, টক হয়ে যাওয়া বিরিয়ানী হয়তবা পাওয়া যাবে। তবে খেতে হবে নগদ পয়সায়। নিশিরাতের খদ্দেরকে কোন হোটেলেওয়ালা বিনা পয়সায় খাওয়ায় না(উপরের অংশটুকু হুমায়ন আহম্মদের উপন্যাস থেকে নেওয়া)। আমি হুসাইন।অনার্স ১ম বর্ষের ছাএ।আজ হোষ্টেলে রান্না হয়নি।রান্না না হবারই কথা -কারণ ঈদের আগের দিন তেমন কেউ হোষ্টেলে থাকেনা।আমরা মাএ ৩ জন আছি।২ জন এতিম।ওদের যাওয়ার মত জায়গা নেই তাই হোষ্টেলেই থেকে গিয়েছে।আপনারা ভাবছেন আমি কেনো বাড়িতে যায়নি?আমার বাবা আছে কিন্তু মা নেই।

আমি যখন ৯ম শ্রেণীতে পড়ি তখন আমার আম্মু মারা যায়।এরপর আব্বু আরেকটা বিয়ে করে।সৎ মা আমাকে একটুও দেখতে পারেনা তাই বাসায় যাইনা।আব্বু মাঝে মাঝে ফোন করে খোঁজখবর নেয়।আর প্রতি মাসে আমার খরচ বাবদ টাকা পাঠায়।হোষ্টেলের খালা ছুঁটিতে গেছে তাই সবাইকে বাইরেই খেতে হচ্ছে। আপনাদের আবার প্রশ্ন ভাগছে তাই বলে রাত বারোটার সময় কেনো খেতে হবে তাইনা?আসলে হয়েছে কী ভাবলাম যদি বেশি রাত করে খেতে যাই তাহলে সকালে না খেলেও হবে।যেসব ছাএছাএী হোষ্টেল বা মেসে থাকে তাঁদের খুব হিসেব নিকেস করে চলতে হয়।কারণ বাড়ি থেকে মাসের প্রথমে একবারই টাকা দেয়। ফোনের শব্দে পকেট ভারি হয়ে ওঠলো।এতরাতে ইশিতা ছাড়া আর কেউ ফোন দেয়না।মেয়েটার সাথে মাএ ১১ দিনের সম্পর্ক।এই ১১ দিনেই আমাকে অনেক আপন করে নিয়েছে।আমার মত অগোছালো ছেলেকে কেনো ও পছন্দ করলো সেটা আমার এই ছোট মাথায় এখনো আনতে পারিনি। পকেট থেকে ফোন বের করে রিচিভ করলাম-

:-কী করো?(ইশিতা)
:-রেস্টুরেন্টে খেতে যাচ্ছি।(আমি)
:-কী???তুমি না সন্ধায় বললে খেয়েছো?

ও শিট!ধ্যাত ধরা খেয়ে গেলাম।ভালো করে মিথ্যা বলা শিখতে হবে।কেউ যদি মিথ্যা বলার সঠিক প্রশিক্ষণ দিতো তাহলে ওখানকার প্রথম ছাএ আমি হতাম।কারণ প্রায় সময় ইশিতাকে মিথ্যা বলতে হয়।

:-আরে খেয়েছিলাম।আবার খুদা পেয়েছে তাই খেতে যাচ্ছি।
:-তাই বলো।আমার বাসার সামনে আসতে পারবে?
:-এতরাতে?
:-তাতে কী হয়েছে।আসোনা একটু।
:-খেয়ে তারপর আসছি।
:-না এখনি আসো।
:-ওকে

ওপাশ থেকে ফোন কেটে গেলো।আমি কেনো জানি ইশিতার কোন কথায় না করতে পারিনা।আমার কেনো জানি মনে হয়ে মেয়েটার সব কথায় জাদু মাখানো আছে-তা নাহলে ওর কোন কথায় না করতে পারিনা কেনো।আবার পিছন দিকে হাঁটা শুরু করলাম।ইশিতাদের বাসা বেশি দুরে নয়।১৫ মিনিটে পৌঁছে গেলাম।আমি গিয়ে দেখি ইশিতা গেটের সামনে দাড়িয়ে আছে।সম্ভবত দাড়োয়ান বেটা ঘুমোচ্ছে। ইশিতার দিকে তাঁকিয়ে দেখলাম ও হাল্কা সেঁজেছে।চাঁদের আলোয় ইশিতাকে কোন পরীর সাথে তুলনা করতে ইচ্ছা করছে।না থাক পরীদের সাথে তুলনা করবোনা।পরীদের পাখনা থাকে কিন্তু ওর পাখনা নেই তাই তুলনা বাদ।সব মেয়ের বিএফই সুযোগ পেলে তাঁদের জিএফ এর হাজারটা প্রশংসা করে।আমার কেনো জানি ইশিতার রুপের কোন প্রশংসা করতে ইচ্ছা করেনা।

:-এত রাতে ডাকলে যে?(আমি)
:-কেনো ভয় পেয়েছো নাকি?(ইশিতা)
:-তুমি কোন ভুত না পেত্নী যে তোমাকে ভয় পাবো?
:-পেতেও পারো।
:-না পায়নি।
:-আচ্ছা বাদ দাও।এইটা হোষ্টেলে নিয়ে গিয়ে খেয়ে নিও।(একটা টিফিন বাটি)
:-কী আছে এর মধ্যে?
:-বিরিয়ানি।আম্মু আজ বিরিয়ানি রান্না করেছিলো।আমি সন্ধায় খায়নি তাই আমার জন্য রেখে দিয়েছিলো।
:-তোমার খাবার আমাকে দিচ্ছো তুমি খাবে কী?
:-আমি সন্ধার আগে খেয়েছিলাম এখন আর খাবোনা।আর যদি খিদে লেগেও থাকে তাহলে ফ্রিজ থেকে কিছু খেয়ে নিবো। আমি কোনকিছু বলার ভাষা খুজে পাচ্ছিনা।এক দৃষ্টিতে ইশিতার দিকে তাঁকিয়ে আছি।
:-তোমাকে কিন্তু খাবার ফ্রিতে দিচ্ছিনা।এখন হোটেল থেকে খেলে তোমার যে টাকা খরচ হতো সেটা বাঁচিয়ে দিলাম বিনিময়ে আমাকে কিছু দিবেনা সেটাতো হতে পারেনা।(ইশিতা) বলে কী এই মেয়ে। ভালবাসার মানুষকে কিছু দিচ্ছে আবার তার প্রতিদানও চাচ্ছে।
:-কী চাও?(আমি)
:-এখন ভালবেসে আমাকে একবার জরিয়ে ধরলেই হবে। কী অদ্ভুদ আবদার।এরকম কোন আবদার কোন মেয়ে তাঁর ভালোবাসার মানুষকে করে বলে মনে হয়না।আমাকে চুপ করে থাকতে দেখে ইশিতা আবার বললো
:-কীহলো ধরবেনা?

আমি হাত বাড়িয়ে দিলাম।ইশিতা আমার বুকের মাঝে চলে এলো।অদ্ভুদ এক অনুভতি আমার শরীলে ঢেও খেলে গেলো।ইশিতার নিঃশাসের শব্দ আমি অনুভব করতে পারছিলাম।প্রথম কাউকে এভাবে জরিয়ে ধরা আমার কেমন জানি লাগছিলো।
“”‘ইশিতা,ইশিতা”””

বাড়ির ভিতর থেকে মহিলা কন্ঠ ভেসে আসলো।সম্ভবত ইশিতার আম্মু।ইশিতা আমাকে ছেড়ে দিলো।

:-আম্মু ডাকছে আমি যাই।হোষ্টেলে গিয়ে খেয়ে তারপর আমাকে ফোন দিও (ইশিতা) ইশিতা আমার উওরের অপেক্ষা না করে ভিতরে চলে গেলো।কিছু কিছু সময় সবকিছুর উওর না জানলেও চলে।আমি হোষ্টেলের দিকে হাঁটা শুরু করলাম।রাস্তা এখন প্রায় জনশূন্য। মাঝে মাঝে দুএকটা গাড়ি চলাচল করছে।হোষ্টেলে এসে টিফিন ক্যারিয়ার খুলে খাওয়া শুরু করলাম।একটু খেতেই আম্মুর রান্না করা বিরিয়ানির কথা মনে পড়ে গেলো।আম্মুর হাতের বিরিয়ানি আমার খুব ভালো লাগতো।আম্মু আমাকে সবসময় নিজ হাতে খাওয়ায়ে দিতো।চোখ দিয়ে দুফোটা নোনা জল গড়িয়ে পড়লো।আমাদের জীবনে কিছু মানুষ থাকে যাদের কথা মনে পড়তেই চোখ দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে।খাওয়া শেষ করে ইশিতাকে ফোন দিলাম।প্রথমবার রিং হতেই রিচিভ হলো সম্ভবত আমার ফোনের অপেক্ষাতেই ছিলো।এতরাতে কেউ আমার জন্য জেগে থাকে এটা মনে হতেই অনেকটা ভালো লাগা কাজ করে।

:-খেয়েছো?(ইশিতা)
:-হ্যা।(আমি)
:-কী করো এখন?
:-বসে আছি।জানো আজ আম্মুর কথা খুব মনে পড়ছে।আম্মুকে খুব মিস করছি।
:-এই দেখো তুমি কিন্তু এখন একদম কাঁদবেনা।

আপনারা ভাবছেন ইশিতা হঠাৎ করে কান্নার কথা কেনো বলছে?আসলে আম্মুর কথা মনে পড়লেই আমি অনেক কান্না করি ইশিতা সেটা জানে তাই আমাকে কথাটা বললো।এই পৃথিবীতে যার আম্মু নেই একমাএ সেই বোঝে আম্মুর গুরুত্ব।

:-একটা গান শুনাবে?(আমি)
:-আচ্ছা শুনাচ্ছি।তুমি শুয়ে ফোন কানের কাছে ধরো আমি গান বলে তোমাকে ঘুম পাড়িয়ে দিচ্ছি।

আমি ইশিতার কথা মত শুয়ে পড়লাম।আম্মু যখন ছিলো তখন আমার মন খারাপ কিংবা আমি অসুস্থ থাকতাম আম্মু তখন আমাকে গান শুনিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিতো।এর আগে ইশিতাও একদিন গান বলে ঘুম পাড়িয়ে দিয়েছিলো।ওর কন্ঠটা খুব সুন্দর।

:-গান শুনতে শুনতে ঘুমিয়ে পড়বে বুঝেছো?(ইশিতা)
:-আচ্ছা(আমি)
:-ভালোবাসি বড় ভালোবাসি এর বেশি ভালোবাসা ভালোবাসা যায়না ও আমার প্রান পাখি ময়না ওপাশ থেকে সুন্দর কন্ঠে গান ভেষে আসছে।আমি মুগ্ধ হয়ে শুনছি। টিং টিং টিং ফোনের শব্দে ঘুম ভাঙ্গলো।ঘড়ির দিকে তাঁকিয়ে দেখি সকাল ৬টা বাজে।রাতে কখন ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম জানিনা।ফোন হাতে নিয়ে কিছুটা অবাক হলাম।আব্বু ফোন দিয়েছে।আব্বু সাধারণত এত সকালে ফোন দেয়না

:-আসসালামু আলাইকুম(আমি)
:-ওয়াইকুমআসসালাম।কেমন আছিস?(আব্বু)
:-এইতো ভালো।তোমার শরীল কেমন?
:-ভালো।ঈদে বাড়িতে আসলিনা?
:-বাড়িতে গিয়ে অযথা তোমাদের ঝামেলা বাড়াতে চাইনা।এখানে থাকতে আমার কোন সমস্যা হচ্ছেনা।
:-নিজের বাড়িতে আসবি তাতে সমস্যা হবার কি আছে?
:-এই বিষয়টা বাদ দাও।আম্মুরা সবাই কেমন আছে?নিলয় কেমন আছে?(আমার সৎ মায়ের ছেলে)
:-সবাই ভালো আছে। আজ বাড়িতে চলে আয়।
:-না আব্বু।আমি চাইনা ছোট মা তোমার উপর রাগ দেখাক।আমি এখন ওঠে ফ্রেশ হবো।পরে ফোন দিও।
:-আচ্ছা।

আমার এখন অনেক খারাপ লাগছে তাই মিথ্যা বাহানা দিয়ে ফোন রেখে দিলাম।আম্মুর কথা খুব মনে পড়ছে।আগে ঈদের দিনে কত মজা করতাম।আম্মুর হাতের সেমাই খেতাম।আমার মাঝে মাঝে ইচ্ছা করে আম্মুর কাছে চলে যাই।মাঝে মাঝে এই পৃথিবীটা খুব অসহ্য লাগে। বাইরে থেকে দরজায় কেউ শব্দ করছে।চোখ মুছে বিছানা থেকে ওঠে গিয়ে দরজা খুলে দিলাম।বাইরে প্যাকেট হাতে ইশিতার ছোট ভাই দাঁড়িয়ে আছে।

:-আরে রিহান তুমি এত সকালে।(আমি)
:-আপু আমাকে এই জিনিসগুলো দিয়ে পাঠালো আপনাকে দেওয়ার জন্য।(রিহান)
:-ভিতরে আসো।
:-আমার আরো কাজ আছে।আপনি এগুলো রাখুন আমি চলে যাবো।
:-তোমার যেহেতু কাজ আছে সেহেতু আটকাবোনা।তবে পরে আবার কিন্তু এসো।
:-আচ্ছা আসবো।

রিহান আমার হাতে প্যাকেটগুলো ধরিয়ে দিয়ে চলে গেলো।ইশিতার ভাইটা অনেক কিউট।বয়স ১১ কী ১২ হবে।আমি যদি মেয়ে হতাম তাহলে এই ছেলের সাথেই রিলেশন করতাম কিন্তু আফসুস। রুমের মধ্যে গিয়ে প্যাকেটগুলো খুললাম।একটাতে পানজাবি।পানজাবিটা অনেক সুন্দর।আরেকটা প্যাকেট খুলে দেখলাম সেটাতে শার্ট আর প্যান্ট।সবকিছু দেখা শেষ হলে আমি ইশিতাকে ফোন দিলাম।প্রথমবার ধরলো না পরেরবার ধরলো

:-এসব পাঠানোর দরকার কী ছিলো?(আমি)
:-আমার ইচ্ছা হয়েছে তাই পাঠিয়েছি।কেনো তোমার পছন্দ হয়নি?(ইশিতা)
:-পছন্দ হবেনা কেনো।হয়েছে।এতকিছু না পাঠালেও পারতে।
:-আমার ছোট্র বরটার জন্য ঈদে কিছু না দিলে হয়।ঈদের নামাজ পড়ে লেকের ধারে চলে এসো।আমারা যেখানে সবসময় দেখা করি।আসার সময় পানজাবি পড়ে এসো।আম্মুর সাথে কাজ করছি পরে কথা বলবো।
:-আচ্ছা।

ফোন রেখে দিলাম।নিজেকে এখন ছোট ছোট লাগছে।ইশিতা আমাকে ঈদের গিফট করলো অথচ আমি ওকে কিছুই দিতে পারলাম না।মনটা আরো বেশি খারাপ হয়ে গেলো। ঈদের নামাজ পড়ে লেকের ধারে চলে গেলাম।আমার মত অনেক মানুষই এখানে বেড়াতে এসেছে।সবার পড়নেই আজ নতুন পোশাক।আজকের দিনে প্রায় সবাই তাঁদের পরিবারের লোকজনের সাথে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিচ্ছে।কেবলমাএ আমার মত কিছু অভাগা মনের কষ্ট নিয়ে পরিবার থেকে দুরে আছে।আমার মনে হয় এই পৃথিবীতে যার মা নেই সে সবথেকে দুখি মানুষ।আমার কাধে কারো হাতের স্পর্শ পেলাম।পিছন ফিরে দেখি এক পরী দাঁড়িয়ে আছে। লাল শাড়িতে মেয়েটাকে ভয়ঙ্কর সুন্দর লাগছে।

:-এভাবে কি দেখো?আমার বুঝি লজ্জা লাগেনা।(আমার পাশে বসতে বসতে বললো ইশিতা)
–তুমি সুন্দর তাই চেয়ে থাকি

আমার অজান্তেই মুখ থেকে কথাটা বের হয়ে গেলো।আমার কথা শুনে ইশিতা মনে হয় অনেক লজ্জা পেলো।মেয়েরা লজ্জা পেলে আরো বেশি সুন্দর লাগে সেটা আগে শুধু শুনেছি আর আজ সেটা দেখার সৌভাগ্য হলো।

:-সকালে কিছু খেয়েছিলে?(ইশিতা)
:-না।(আমি)

ইশিতা ওর কাছে থাকা ব্যাগ থেকে ২টা বাটি বের করে আমার দিকে এগিয়ে দিলো।আমি হাত বাড়িয়ে নিলাম।

:-কী এগুলো?(আমি)
:-একটাতে ডিম ভাত আরেকটাতে সেমাই।(ইশিতা)
:-আচ্ছা ইশিতা তুমি আমাকে এত ভালোবাসো কেনো?
:-এই প্রশ্নটার উওর বাসর রাতে পাবে।
:-বাসর রাতে কেনো?
:-এতদিন ধরে ভাববো তারপর বলবো।হি হি হি হি

ইশিতা হাঁসতে শুরু করলো।সুন্দরী মেয়েরা হাঁসলে সব সময়ই সুন্দর লাগে।আর সেটা যদি হয় ভালোবাসার মানুষ তাহলেতো কথাই নেই।আমি মুগ্ধ হয়ে তাঁকিয়ে আছি।ইশিতা হাঁসি থামিয়ে বললো

:-কীহলো খাওয়া শুরু করো।
:-তুমি খাওয়ায়ে দাও।
:-আচ্ছা দিচ্ছি।

ইশিতা আমার হাত থেকে বাটি নিয়ে নিজ হাতে আমকে খাওয়ায়ে দেওয়া শুরু করলো।ইশিতা আমাকে খাওয়ায়ে দিচ্ছে আর আমি এক দৃষ্টিতে ওর দিকে তাঁকিয়ে আছি। খাওয়া শেষ হলে

:-আজ বাসায় অনেক মেহমান আসবে আমাকে যেতে হবে।(ইশিতা)
:-আরেকটু থাকলে হয়না?(আমি)
:-রাগ করোনা লক্ষিটি।কাল সারাদিন তোমায় নিয়ে ঘুরবো।এখন যাই।
:-আচ্ছা।

দুজন একসাথে ওঠে রাস্তায় এলাম।ইশিতাকে একটা রিক্সা ঠিক করে দিলাম। ইশিতা চলে গেলো।আমিও আরেকটা রিক্সা ঠিক করে হোষ্টেলের দিকে রওনা দিলাম।

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত