দুইটি অবুঝ মনের গল্প

দুইটি অবুঝ মনের গল্প

গল্পটা একটি বোকা ছেলে সাগর (কাল্পনিক) আর একটি সুন্দরী মেয়ে আদিবা (কাল্পনিক) কে নিয়ে।এরা দুজন প্রতিবেশি।সাগর পড়ে ১০ম শ্রেনীতে আর আদিবা ৮ম শ্রেনীতে।সাগর সারাক্ষন এটা ওটা নিয়ে ব্যস্ত থাকতো।যেমন,খেলা ধুলা,পড়া-লেখা,কম্পিউটার-মোবাইল ইত্যাদি ইত্যাদি।তাই কখনো তার মন মেয়েদের দিকে যেতো না।কিন্তু ঐ দিকে আদিবা প্রতিদিন সাগরকে লক্ষ করতো।তার দিকে তাকিয়ে থাকতো।কেন তাকাতো তা নিজেও জানে না। ধীরে ধীরে তারা বড় হতে থাকে আর তারা উপরের ক্লাসে যেতে থাকে।

আদিবা এখন অনেকটাই বুঝতে শিখেছে।সে মনে মনে সাগরকে পছন্দ করতে শুরু করেছে।কিন্তু সাগর তা বুঝতেই পারে না।কিছুক্ষন পর পর নানা বাহানা করে আদিবা সাগরের বাসায় আসতো কিন্তু সাগর তার দিকে তাকাতো না পর্যন্ত।আদিবা তা সত্বেও তার পিছনে পাগল ছিল।আদিবা এখন আরও বড় হয়েছে কলেজে পড়ে।আর সে এখন সিদ্ধান্ত নেয় যে,সাগরকে প্রপোজ করবে।কিন্তু অনেক ভয় পায়।কি করবে বুঝতে পারে না।একটা চিঠি লিখে নিয়ে যায় সাগরের কাছে। সাগর শোনো..।(আদিবা) হ্যা বলো। তোমাকে একটা কথা বলার ছিল। হ্যা বলো। না মানে।লজ্জা করতেছে। oh আচ্ছা তুমি লজ্জা পাও আমি যাই। এই শোন কই যাও।

তোমার না লজ্জা লাগতেছে।তো লজ্জা করো আমি যাই। আরে তা নয়।আচ্ছা চোখ বন্ধ করো। কি??কেন? বলছি তো করো। আচ্ছা ঠিক আছে। ভাল ছেলে,এবার হাত আগে করো। করছি। চোখ খুলবে না বলে দিলাম।এবার যা দিলাম নিয়ে যাবে পড়বে আর  এর উত্তর আমায় দিবে। কি এটা? না না না এখন না।ঘরে বসে একা পড়বে। এই বলেই দেয় দৌড়।সাগর যা ছিল জামার পকেটে রেখে দেয়।তারপর দিন আদিবা আসে সাগরের কাছে, কি হলো আমার উত্তর কই?(আদিবা) কিসের উত্তর?(সাগর) কিসের উত্তর মানে?কালকে একটা চিঠি দিয়েছিলাম না?ঐটার উত্তর।

ওওওওহ ঐটা?ঐটা তো নাই। নাই মানে? নাই মানে নাই। নাই কেন?কোথায় গেল?হাত পা আছে নাকি ঐটার। আরে রাগ করতেছো কেন?কালকে তুমি যখন ঐটা দিলা তখন আমি আমার জামার পকেটে রেখেছিলাম।আর তার কিছুক্ষন পর একটা ছোট ছেলে পুকুরে পরে যায়।তাকে বাচাতে পুকুরে নেমে পরি।আর পরে যখন। মনে পরে তোমার ঐটার কথা তখন তার ৮৬ টুকরা হয়ে গেছে। ওহ তো এখন কেমন আছে সে? হমম ভাল।তা চিঠিতে কি লিখা ছিল? একটু রেগে বলে,বাজার করার লিস্ট।তোমার তাতে কি।যাও সবাইকে বাচাও গিয়া। এত রেগে যাচ্ছ কেন।আজব এই বলে চলে যায়।তার কিছুক্ষন পর সাগরের ফোনে একটা কল আসে অপরিচিত নাম্বার থেকে।

হ্যালো,কে বলছেন?(সাগর) আমি।(একটি মেয়ে) আমি টা কে? তোমার জান। হাইলা,,আজরাইল তো না আপনি? হু হু হু।তাই মনে করেন। আগে জানতাম না তো আজরাইল কোন মেয়ে। কেন,হতে পারে না? জানিনা,এবার সত্যি বলেন। বললাম তো আপনার জান।যে আপনাকে অনেক ভালবাসে। ওইমা,নিউ স্টরি?এইটা কই থেকে আইলো আবার।সত্যি বলবেন না? বললে রাগ করবেন। না বললেও রাগ করবো। তবে বলবো না। ঠিক আছে,টাটা বলে কল কেটে দেয় সাগর।অনেক বার কল করা সত্যেও সাগর ফোন রিসিভ করে না।তারপর কিছুদিন চলে যায়।আদিবা অনেক কিছু বলে বুঝাতে চেষ্টা করে যে সে তাকে ভালবাসে।কিন্তু সাগর বুঝতে চেষ্টা করে না।তারপর হঠাৎ একদিন সিদ্ধান্ত নেয় আদিবা আজ সব বলেই ছাড়বে।

এই সাগর শোনো..।(আদিবা) Oh God…প্রতিদিন তোমার কি হয়?কাছে আস কি বলবা বলবা কিন্তুতু কিছু না বলে এটা ওটা কি বলো?(সাগর) তুমি বুঝতে কেন পারো না? কারন,তুমি বলতে পারো না। তুমি না সত্যি একটা গাধা। আমার মা আমায় তাহলে মিথ্যা বলেছিল???কি হবে এখন?আমি গাধা!!! আহ…কি বলবো তোমায়।একটু সিরিয়াস হও। হ্যা হইছি বলো। আমি সারাক্ষন তোমার কথা ভাবি,তোমার পিছে পিছে গুরি,তুমি তা বুঝতে পারো না কেন? তাই,আগে জানতাম নাতো।কেন করো এসব? কেন বুঝো না তুমি? হমমম মনে করতে দাও।তোমার কাছ থেকে কি টাকা ধার নিয়েছিলাম? না তা নয়।তবে কেন? ধ্যাত।।তোমাকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না। এই বলে চলে যায়।সাগর নিজের মতো হাসি মজা করতে থাকে।

কিছুক্ষন পর বাসায় আসে।আর দেখে তার মা বাসায় নাই।তাই সে আদিবা দের বাসায় যায় মাকে খুজতে।সেখানে গিয়ে ডাকতে থাকে আন্টি।কারও সাড়া শব্দ পায় না।ডাকতে ডাকতে সাগর আদিবার রূমে চলে যায়।আর দেখে আদিবা কাদতেছে,কি হয়েছে তোমার?কাদতেছ কেন?(সাগর)  তুমি এখানে?কেন এসেছো?(আদিবা) আম্মুকে দেখতে না পেয়ে তাই।তুমি কাদতেছ কেন? তাতে তোমার কি?তুমি যাও তুমি কখনো বুঝবে না এসব। কি হয়েছে বলবে তো। কিচ্ছু হয়নি।যাও…! এই বলে আদিবা কাদতে থাকে।সাগর চলে আসে বাসা থেকে।তারপর বাইরে এক গাছের নিচে বসে থাকে।কিছুক্ষন পর আদিবা সেখানে আসে, সরি।(আদিবা) হমম,,(সাগর) রাগ করছো? নাতো। একটা গল্প শোনবা? হ্যা বলো। একটি মেয়ে ছিল।যে তার প্রতিবেশি একটি ছেলেকে সেই ছোট থেকে ভালবাসে।কিন্তু কখনো মোখ ফুটে বলতে পারেনি।আর ছেলেটি এত বোকা যে তার ভালবাসা কখনো চোখেই পরেনি। হমম,তুমি একটা গল্প শোনবে? হ্যা বলো।

ঐ ছেলেটা মেয়েকে অনেক আগে থেকে ভালবাসে যখন থেকে মেয়েটি তাকে ভালবাসে।কিন্তু সে কখনো তার কাছে যাবার চেষ্টা করেনি মেয়েটির পরিবার আর মেয়েটির ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে। যখন মেয়েটি বড় হয়েছে আর বুঝতে শিখেছে তখন ছেলেটি সিদ্ধান্ত নেয় তাকে প্রপোজ করবে।কিন্তু ঠিক সেই সময় ছেলেটি জানতে পারে তার মরন ব্যাধি রোগ আছে।যার কোন নির্দিষ্ট সময় নেই। যেকোন সময় তার মৃত্যু হতে পারে।এটা যেনে তার পায়ের মাটি সরে যায়।কিন্তু সে ভেংগে পড়লে মা-বাবা তাদের কে সামলাবে?আর মেয়েটিকে কি জবাব দিবে?

তাই ছেলেটি ইচ্ছে করে মেয়েটিকে Avoid করতে থাকে।সেদিন  চিঠিটা পেয়ে ছেলেটি অনেক কান্না করছে।কেন আল্লাহ তার সময় কেরে নিলো?কিন্তু সব ভুলে সে মেয়েটির কথা চিন্তা করে সব সাধারন ভাবে থাকতে থাকে।কিন্তু দেখা যায় মেয়েটি তাকে বড্ড বেশি ভালবাসে তাই সব তাকে বলে দিল। আদিবা এসব শোনে কাদতে কাদতে চোখ বাসিয়ে ফেলে।সাগরকে জরিয়ে ধরে বলে,তোমার কিচ্ছু হবে না।ডাক্তার কিছু জানে না।চলো আমরা বিয়ে করবো।সাগর,আরে পাগলি এসব বলে লাভ নেই।এটাকে মেনে নিতেই হবে।তোমাকে যা বলি তাই শোন।আমাকে ভুলার চেষ্টা করো।জানি হয়তো কষ্ট হবে কিন্তু অসম্ভব নয়।আদিবা,আবার এসব বললে তোমার আগে আমি মারা যাবো।চলো আমার সাথে।

এই বলে সাগরকে বাসায় নিয়ে যায় সাগরের।সাগরের মা-বাবাকে বলে,আন্টি আমি আপনার ছেলের বউ হতে চাই।জানি আমি কি বলতেছি।তা সত্যেও আমি সারাজীবন সাগরের বউ হয়ে বাচতে চাই। !তারপর সব কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।যদিও খুব জলদি সব কিছু হয়ে যায় তা সত্বেও বিয়ে হয়ে যায়।আর তার কয়েক মাস পর সাগর মারা যায়। সকলেই অনেক কান্না করে।আদিবা অনেক কান্না করে আর জ্ঞ্যান হারিয়ে ফেলে।ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে জানতে পারে সে মা হতে চলেছে।দুঃখের মাঝে সুখের প্রদীপ হয়ে আসে সকলের ছোট সাগর।

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত