পাগল ছেলের মিষ্টি ভালোবাসা

পাগল ছেলের মিষ্টি ভালোবাসা

সেদিন ফেসবুকে ঢুকে একটা রোমান্টিক গল্প পড়ছিল ছেলেটি। গল্প পড়া শেষে কমেন্ট করতে গিয়েদেখলো “নীল অপরাজিতা” নামেএকটা আইডি থেকে কমেন্ট করেছে:: আমি প্রেম করেনি আর করবো না! প্রেমকে খুব ভয় পায়।

কমেন্ট টা দেখে কনক ওই আইডি এর প্রোফাইল চেক করলো। মনে হল এইটা কোন মেয়ের আইডি! কনক তাকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট না দিয়ে শুধু তার আইডি কোডটি জেনে নিয়ে সেভ করে রাখলো। কনকও টুকিটাকি লেখা-লেখি করতো তাই একটা গল্প লিখলো, এবং পরদিন সেটা ফেসবুকে পোস্ট করে “নীল অপরাজিতা” সেই মেয়েটিকে মেনশন করলো। গল্পটির টপিক্স ছিল বর্তমান ফালতু ভেজাল প্রেম-ভালবাসা না করে ! খাঁটি ভালবাসা অথাৎ মা-বাবাকে ভালবাসা প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার কথা। গল্পটি পড়ে মেয়েটির খুব ভাল লাগে। তাই সে তার মাকে ও গল্পটি পড়ে শোনায় তার মা ও গল্পটির প্রশংসা করে।

মেয়েটি এইবার কনককে ইনবক্স করে আপনি তো খুব ভাল লিখেন!! আরে না! লেখার চেস্টা করি কেমন হয় জানিনা! আচ্ছা তাইলে কি আমি মিথ্যা বলছি? সেটাও না! তাইলে? আচ্ছা ধন্যবাদ। আপনার নামটি জানা যাবে? হুম..আমার নাম মিতু। খুব সুন্দর নাম তো! Thanks .. আপনার নামটিও খুব সুন্দর। Thanks & Welcome. হায়..হায় ..ভুলে ই গেছি কেমন আছেন? ভাল। আপনি? ভাল। কি করেন? একটু বিজি আছি। বাই পরে কথা হবে! ওকে,,বাই। মিতুর কিছুটা রাগ হল। ছেলেটি একটু ভাব নিল নাকি তার সাথে? নেই নিক! আমার কি? তাই বলে ফেসবুক থেকে রের হয়ে গেল মিতু। পরদিন মিতু ফেসবুকে ঢুকে ই কনকের ফ্রেড রিকুয়েস্ট পেল,আর সাথে সাথে একসেপ্ট করলো করলো।

আর ওপাশ থেকে কনক নক করলো: Thanks এতে Thanks এর কি আছে? আপনি রিকুয়েস্ট না দিলে আমিই আজ দিতাম! ও! আচ্ছা তাই? জ্বী তো ভাল! আচ্ছা একটা গল্প পড়বেন? আপনার লেখা? হুম! আচ্ছা,,লিংক দেন। ওকে! মিতু গল্পটা পড়ে কোথায় যেন হারিয়ে গিয়েছেল। কারন কনক রোমান্টিক গল্প মোটামুটি ভাল লিখতো। আর মিতুর গল্পটা অনেক ভাল লেগেছিল! মিতু এইবার কনককে মেসেজ করলো: ঘটনা কি সত্যি? কোন ঘটনা? গল্পটি? আরে না!! আমি প্রেম-ট্রেম করিনি! সব ই কাল্পনিক। ও! আমি ভাবলাম আপনার নিজের জীবনের গল্প! আচ্ছা! কেমন হয়েছে লেখা? এক কথায় অসাধারন! জানি! একটু বেশি বলেছেন! তবুও ধন্যবাদ ।

আপনি কি!! বলেন তো? কেন? থাক! বললো না কেন? জানিনা! আচ্ছা আপনার ব্লড গ্রুপ কি? এ+। কেন ব্লড কার লাগবে? কারো না! আমারও এ+। তাই নাকি? হুম! তারপর মিতু আর কনক অনেক সময় ফেসবুকে চ্যাটিং করে। আর ওরা,কিছুটা দু’জন-ই অবাক হয়ে যায়! কারন একে অপরের মাঝে তারা স্বভাব-চরিত্র এর অনেক মিল খুজে পাই। যাইহোক সেদিনকার মত বিদায় জানিয়ে মিতু’ ঘুমিয়ে পড়ে। পরদিন সকাল ঘুম থেকে উঠে ফেসবুকে ঢুকে দেখে কনক “শুভ সকাল মিতু” লেখা একটা ছবি দিয়েছে। আর একটা লিংক দিয়েছে, মিতু লিংকে গিয়ে দেখে একটা গল্প! মিতুর গল্প পড়লে খুব ভাল লাগে তারপর যদি কেও স্পেশাল ভাবে দেয় তাইলে তো কথায় নেই! কনক রোমান্টিক গল্প বেশি লিখতো, তাই মিতুকে পড়তে দিল।

গল্প পড়া শেষ হলে মিতু কনককে মেসেজ করে আবার শুরু হয়ে যায় তাদের ফেসবুক চ্যাটিং। তারা যত পরিচিত হতে লাগলো ততই অবাক হচ্ছিল! কেও কাওকে চিনে-ই না তারপরও এত মিল কি ভাবে সম্ভাব? কনকের পছন্দ গুলো মিতুরও পছন্দ লাগে। তারপর মিতুর যে গুলো অপছন্দ কনকেরও সেই গুলো অপছন্দ। চেহারাতেও অনেক মিল আছে, দু’জনের ভাগ্যও একি রকম! সবকিছু মিলে প্রায় তাদের ৯০% মিল। তাই তাদেরকে একে অপরের কার্বন কপি বললে ভাল হয়। যাইহোক এইভাবে চলছিল বেশি কয়েকদিন:: কনক প্রতিদিন সকালে একটি করে গল্প মিতুকে দিতো আর মিতু গল্পটি পড়ে যেন গল্পের মাঝে হারিয়ে যেত।

প্রতিদিন সকাল-বিকাল তাদের চ্যাট হয় দ’জনের মধ্যে কিসের? যেন একটা টান জন্ম নিয়েছে! তারপর স্বাভাবিক যেটা হল সেটায় হল কনক মিতুর ফোন নাম্বার নিল। এবং তাকে ফোন করলো কনক মিতুর কন্ঠটা শুনে কিছুটা ক্রাস খেল! খুব মিষ্টি মিষ্টি কন্ঠ তার আর ছোট ছোট করে কথা বলে শুনতে খুব ভাল লাগে। আর সেই থেকে ফোন আলাপন শুরু হয় তাদের। ফেসবুক চ্যাটিং আর ফোন কথা বলে ভাল-ই দিন কাটাতে লাগলো দু’জনের। কেও কারো সাথে না বলে একদিন থাকতে পারতো না! বোঝায় যায় যে তারা প্রেমে পড়েছে,কিন্তু কনক আবার কিছুটা কনফিউজড ছিল! কারন সে মিতুকে সামনা-সামনি দেখেনি কখনো! আর কাওকে না দেখে ভালবাসাটি তার কাছে ঠিক মনে হচ্ছিল না। এদিকে ৬ মাসের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চলছে তাদের। অনেক দুর্বল হয়ে পড়েছে কনক মিতুর প্রতি।

মিতুরও একি অবস্থা কি জানি ভেবে কনক মিতুকে ফোন দিল মিতু তোমাকে আমার খুব দেখতে ইচ্ছা করছে! আমারও তো তোমাকে খুব দেখতে ইচ্ছা করছে কার্বন কপি। তাইলে! কবে দেখা করবে? আচ্ছা তুমি আমাদের কলেজে চলে এসো কালকে। আচ্ছা! কার্বন কপি। তাই বলে ফোনটা কেটে দিল কনক,কেমন যেন একটা অনন্দ লাগছিল তার কাল মিতুর সাথে দেখা হবে ভেবে। সেদিন রাতে ঘুমাতে পারলো না কনক সে খালি মিতুর কথা ভাবছিল!! অতঃপর কনক আর তার বন্ধু তানভির দাড়িয়ে আছে মিতুর কলেজ গেটের সামনে। কনক আজ একটা কালো শার্ট পড়ে এসেছে,নিজের থেকে নয়! মিতু তাকে কালো শার্ট পড়ে আসতে বলেছে। আর কনক মিতুকে গোলাপি ড্রেস পড়ে আসতে বলেছে।

হঠাৎ মিতুর ফোন আসলো কনক তুমি কই? এইতো কলেজ গেটে! আরে! কলেজ ক্যাম্পাসে আসো!  ক্যাম্পাসে? হুম..তারাতারি এসো! আচ্ছা..মিতু আসতেছি আমি একটা গাছের নিচে বসে আছি! হুম কনক কলেজ ক্যাম্পাসে ঢুকে দুরে একটি গাছের নিচে গোলাপি ড্রেস পড়া একটা মেয়েকে দেখতে পেল। বুঝতে আর বাকি থাকলো না যে ওই মেয়েটি মিতু সেইটা! কিন্তু কনকের কেমন যেন লাগছে,, একটু ভয় আর লজ্জা লাগছিল মিতুর সামনে যাবে এইটা ভেবে। ওদিকে মিতু কলো শার্ট পড়া ছেলেকে দুর থেকে চিনতে পেরে হাতের ইশারা দিয়ে ডাকছে। তানভির কনকের ব্যাপারটি বুঝতে পেরে ওর হাত ধরে মিতুর সামনে নিয়ে গেল। আর বলল::পাগলামি করলে কিন্তু খবর আছে আজ কনক তোর! কনক মিতুকে দেখে তো অবাক! এতু সুন্দর মেয়ে হবে সেটা ভাবে নাই সে। তার তাকিয়ে আছে দেওয়ানার মত মিতুর দিকে!

কি মিষ্টার কনক্যা ? ব কি হল? ক্রাস খায়ছি!! ক্যামনে বাবু? ময়না পাখি..তোমারে দেইখা! ও..মা! আমি আবার কি করলাম? ওই তুমি এতু সুন্দর ক্যান? তাই বুঝি? হুম কনক্যা তুমি এতু পাম দেওয়া কবে শিখলা? পাম নারে! সত্যি থাক..থাক…আর বলতে হবে না! এখন চল আমাকে আইস-ক্রিম খাওয়াবে?:D আচ্ছা মায়না পাখি। কনক আর মিতু অনেক জায়গায় ঘুরলো। আইস-ক্রিম,ফুসকা-চটপটি আর যা যা ভাল লাগে,, সবকিছু তারা একসাথে বসে খেলো। বিকাল ৩ টা বেজে গেছে তাই মিতার এইবার বাড়ি ফেরার পালা। কিন্তু মিতুর বাড়ি যেতে যেন ইচ্ছা করছিল না! এক দিনে অনেক ভাল লেগে গেছে কনককে। কেমন যেন হাবা মার্কা ছেলেটি তবুও কেন জানি একটা মায়া জন্মে যাচ্ছে তার উপর মিতুর। এদিকে কনক আবার কোথায় যেন গেছে! কি কিনতে?

হঠাৎ কনক এসে হাজির পিছনে কি যেন লুকিয়ে রাখছে! কনক্যা তোমার পিছনে কি? কই? কিছু না! আচ্ছা আমি তোমার কি? কার্বন কপি! তাইলে যা বলবা…বলে দেও,,আর যা আনছো দাও! কিছু না তো! কনক্যা কি! মাইর খাইবা? মানে হচ্ছে কি! কি? আমি তো তোমারে আমারে কি? রাগ করবে না তো? ওই!! দিমু না কানের নিচে একটা! বলে ফেলাও সোনাপাখি! ভালবাইসা ফেলেছি এইটা বলতে এত সময় লাগলো? হুম আর পিছনের জিনিস গুলা দেও! কনক পিছন থেকে ২ টা গোলাপ ফুল বের করলো। ১ টি লাল আর ১টি হলুদ গোলাপ। প্রথমে কনক মিতুকে হলুদ গোলাপ দিল,আর পরে লাল গোলাপ। মিতুও তার হাত থেকে আংটি খুলে কনককে দিল।

অতঃপর কিছু কিল আত ঘুসি! মিতু আস্তে! ব্যাথা লাগছে তো কিসের আস্তে! হুম? তুমি এই কথাটা বললে এত দেরি করলে কেন? আমি ভাবছিলাম তুমি হয়ত এই কথা বললে আমার উপর রাগ করবা! তাই বলিনি। বলে দেখতে পারতে তো! আচ্ছা ময়না পাখি সরি। এইবার হাতটা একটু দেও! না দিবো না! কেন? দিতে পারি তবে একটা প্রমিজ করতে হবে।

কি? হাতটা আর কখনো ছাড়তে পারবে না! ওই..আমি কি! হাত ছাড়ার জন্য ধরবো নাকি? হুম তারপর কি আর হবে মিতু কনকের বাহু ডরে চলে আসলো কনকও শক্ত করে জড়িয়ে ধরে আছে মিতুকে। আর মিতু কোন অজানা সুখে কাঁদছে। ওই পাগলী কাঁদছো কেন? জানিনা! আচ্ছা ..তোমাকে বাসায় পৌঁছে দিয়ে আসি চল? চল। কনক মিতুকে বাসায় দিয়ে চলে আসলো। অল্পসময়ে অনেক ভাল লেগে গেছে মিতুকে তার। কেমন যেন ছাড়তে ইচ্ছা করছিল না আজ মিতুকে!…

সমাপ্ত

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত