কষ্ট দিব না

কষ্ট দিব না

বাসর ঘরে প্রবেশ করলাম খাটের দিকে এগুতেই সে এসে সালাম করতে আসল। আমি আর কিছু বললাম না। সালাম শেষে আমি আর ও খাটে গিয়ে বসলাম। তারপর আমি আর তার দিকে তাকাই নি। আর কথাও বলি নি। আমি খাটের একপাশে সুয়ে পড়লাম। কিছুক্ষন পর অনুভব করলাম, কেউ আমাকে স্পর্শ করছে। তখন বললাম, কে ‎আমি। ‎ওহ। কি বলছ? ‎আমাকে একা রেখেই ঘুমাচ্ছেন? ‎হুম। ত কি হয়েছে। ‎নতুন বউকে কেউ একা রেখে ঘুমায়? ‎কেউ না ঘুমালে আমি ঘুমাই। ‎আমাকে সাথে নিবেন না? ‎এই মেয়ে তোমার সমস্যা কি?(খুব রাগি ভাব নিয়ে বললাম) ‎(দেখি চোখে পানি এসেছে) ‎এম্নিতেই ত তুমি আমার ঘুমের বারোটা বেজে দিয়েছ, আবার সোহাগ নিতে আসতেছে এই কথা বলে আমি, অন্য পাশে সুয়ে পড়লাম। শুনতে পেলাম, ও ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্না করছে। আমি আর কিছু বললাম না।

কান্না তো করার কথায়, কোন মেয়েই ত বাসর ঘরে এই রকম ব্যবহার আশা করে না। তাই ও কান্না করছে।
আপ্নাদের ত পরিচয় দেওয়া দরকার। মাথা গরম থাকাই কিছুই বলা হয়ে ওঠে নি। আমি সিয়াম। আর তখন থেকে যাকে ও বলে বলছি, তার নাম হচ্ছে রিমা। উপরের লেখা পড়েই হয়ত বুঝতে পারছেন, আমাদের সম্পর্ক টা কি।
রাতে ঘুম ভেঙে গেল। দেখি রিমা তার জায়গায় ঘুটিসুটি হয়ে আছে। তার চেহারায় আছে মায়া। হয়ত আমি এই মায়াই ভালবেসে পড়েছিলাম। তবে আমি আমার সিদ্ধান্তই অটুট থাকব। পরের দিন, এই যে ঘুম থেকে ওঠেন?( রিমা) ‎কি হয়েছে, এত সকালে ডাকছ কেন? ‎সকাল ১০ টা বাজে ‎তা আমাকে কি করতে বলছেন? ‎না, বাইরে মেহমান আসছে ত, তাই আম্মু আপনাকে ডাক দিতে বলল। ‎হুম যান আসছি। তারপর ফ্রেশ হয়ে বাইরে গেলাম। সারাদিন অনেক খাটার পর বিকালে আমার ডাক পড়ল। আমাকে না কি শ্বশুর বাড়ি যেতে হবে। তো আর কি, গেলাম অরপা কে নিয়ে। সারাদিন মেয়েটা কে দেখলাম খুব হাসিখুশি।

যেন কেউ মনেই করবে না, আমাদের মাঝে কোনকিছু হয়েছে।রাতে আমাদের এক ঘরে থাকতে হল। এবার আর আমি খাটে সুয়ে পড়লাম না। আমি সোফায় গিয়ে লম্বা একটা ঘুম দিলাম। সকালে, এই যে উঠুন? ‎হুম চোখ মেলে আমি যা দেখলাম, তার জন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না। ভেজা চুলে ওকে অপ্সরীর মত লাগছে। বাবা মার পছন্দ করা মেয়েকেই বিয়ে করেছি। এখন বলতে ইচ্ছা করছে, আব্বু আম্মু পছন্দ সেই। এই সাত সকালে ওকে এই রুপে যেই দেখবে, সে তার প্রেম এ পড়ে যাবে। তাই আমিও প্রেমে পড়ে গেলাম।। তবে আমি আমার মনকে শক্ত করলাম। আমার সিদ্ধান্ত এ অটুট থাকতে হবে। তারপর আমি ফ্রেশ হয়ে খাবার খেয়ে নিলাম। তারপর ওদের বাড়ি ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখলাম। এই সময় আমার সাথে ছিল, আমার ছোট্ট কিউট শালি।

এইভাবে আমার সারাদিন কেটে গেল। আমি রাতে খাবার খেয়ে ঘরে গেলাম। ঘরে গিয়ে মোবাইল এ গুঁতোগুঁতি করতে লাগলাম। আজকাল মোবাইল টাও ভালভাবে কথা শুনছে না। এই সময় রিমা এসে গেল। আমি খাটের এক কোনায় গেলাম। আমি আর দেরি না করে সুয়ে গেলাম। কিন্তু চোখে ঘুম আসছে না। আমি এ পাশ থেকে অন্য পাশে ঘুরে গেলাম। তারপর রিমার দিকে চেয়ে দেখি, ও আমার পাশ হয়েই সুয়ে আছে। তারপর আমি চোখ বন্ধ করলাম। তবে ঘুম আসছে না। তবুও চোখ বন্ধ করে আছি। কিছুক্ষন পর লক্ষয করলাম রিমা আমার পায়ের উপর পা দিয়েছে। খুব রাগ হল আমার।কোন কিছু না বলেই দিলাম একটা চড় বসে।তারপর, এই কি পায়ছ আমাকে। কোলবালিশ মনে হয় আমাকে? ‎(চোখের কোণাই পানি এসেছে) ‎এই তুমি জান, এই কারনে আমি আমার, ছোট ভাইকে কাছে নিয়ে ঘুমাই না।

‎আর হবে না আমি আর কিছু বললাম না। কিছুক্ষন পর কান্নার শব্দ পেলাম।কাদুক তাতে আমার কি। এদিকে আমারো চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। মনে হল, আমি ওকে চড় মেরে আমায় চড় লেগেছে। আমি অন্য পাশে সুয়ে পড়লাম। চোখে আর ঘুম আসল না। ভোরে রিমার দিকে চেয়ে দেখি গাল লাল হয়েছে। আর চোখের নিচে কাল দাগ পড়েছে। তারপর আমি ওয়াসরুম এ গিয়ে ফ্রেশ হলাম। তারপর দেখি ও বাইরে গেছে। আমার মনটা খুব খারাপ হল।তারপর সকালের খাবার খেয়ে আমরা বাড়ির দিকে রওনা দিলাম। বাড়ি থেকে বেড়ুনোর সময় রিমার দাদি আমাকে বলল, কি দাদু, আজ রিমা ও তোমার চোখে কাল দাগ পড়েছে? ‎না এমনি ‎এমনি! আমি জানি ‎কি জানেন? ‎যা হয় আর কি। আর চুমা একটু কম করে খেও। চুমা খেয়ে একদম গাল লাল করে দিয়েছ।

আমি আর কিছু বললাম না। আমার হয়ত চুমা খাওয়ার কথা ছিল। উল্টো আমি তাকে চড় মারলাম। খুব অনুশচনা হচ্ছে আমার। মনে হল এই অভিনয় আমি আর করতে পারব না।  এখন আমাদের গাড়ি চলছে। আমি এক জানালায় আছি। আর অন্য জানালায় রিমা। মধ্যে আমাদের বেশ দুরুত্ব।  আমরা বাড়ি এসে পৌছালাম। তারপর আমি দোকানে গেলাম। কিছুসময় পর দোকান থেকে বের হলাম। পথে আমার পুরুনো বন্ধুদের সাথে দেখা হল। তাই আড্ডা দিতে শুরু করলাম। সময় যে কোনদিকে চলে গেল, আমি বুঝতেই পারলাম না। মোবাইল এ দেখি ১০ টা বেজে গেছে। বন্ধুদের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম।

বাড়িতে এসে দেখি, বাড়িটা নিস্তেজ হয়ে আছে, মানে প্রায় আলো বন্ধ। আমি গেট খুলে বাড়িতে গেলাম। দেখি রিমা আমার জন্য খাবার নিয়ে বসে আছে। এমনটা দেখে আমার মন জুরে গেল। আমি আর কিছু না বলে ফ্রেশ হয়ে টেবিল এ এসে খাওয়া শুরু করলাম। খেতে খেতে বললাম, তুমি খাইছ? ‎না। ‎কখন খাবে? ‎কিছুক্ষন পর? ‎না এখনই খেয়ে নাও ‎না। পরে খাব ‎আবার চড় খাবে ‎চুপ করে আছে ‎তাড়াতাড়ি খেতে বস ‎আচ্ছা তারপর খাওয়া শেষে ঘরে গেলাম। এইভাবে ৬ষ্ঠ ও ৭ম দিন এল।

পরের দিন,আমি দোকান থেকে বাড়ি আসার সময়, রিমার জন্য একগুচ্ছ ফুল নিয়ে আসলাম। মন আজ দারুন খুশি। আমি আমার সিদ্ধান্ত এ অটুট থাকতে পেরেছি। মনে মনে মনে বললাম, রিমা আমার এই কয়দিন কঠিন রুপ দেখেছে, এখন ভালবাসার রুপ দেখবে। আমি বাড়ি আসলাম। এসে দেখি রিমা রান্না করছে। আমি কিছু না বলে ওকে জরিয়ে ধরলাম। কি করছেন? (রিমা) ‎দেখছ না ‎আজ এমন ভালবাসা? ‎কারন আমি আমার মনের কথা অনুযায়ী কাজ করি নি। তবে এখন মনের মত করে কাজ করছি। ‎বুঝলাম না। ‎আমি শপথ নিছিলাম, বিয়ের পর বউকে সাতদিন চড়ম কষ্ট দিব। আর সেটাই করেছি। ‎তাই ‎হুম ‎আমাকে কষ্ট দিয়ে তুমি খুশি হয়েছে? ‎এই পাগলি তোমাকে কষ্ট দিয়ে আমি খুশি থাক্তে পারি। ‎জানি? ‎কি জান।

‎আপনি আমার আমার সংজ্ঞে মজা করছ। ‎না আমি সিরিয়াসলি ‎বিশ্বাস করি না। ‎চড় খাবে? ‎হুম মারেন, আরো কয়েক টা মারবেন, মারেন। রিমার ওর গাল আমার দিকে এগিয়ে দিল আমি চড় না মেরে ওকে একটা লম্বা লিপ কিছ দিলাম। লজ্জায় ও আমার বুকে মাথা লুকালো। ‎আমিও মনে মনে সবাই বললাম, আর কোনদিন কষ্ট দিব না।

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত