ব্যাচেলারের জীবনে প্রেম

ব্যাচেলারের জীবনে প্রেম

হ্যালো জানু “” কেমন আছো?????(আমি) ভাল। (রিফা) আমাকে জিঙ্গাস করলে না আমি কেমন আছি??? না! কেন?????? আমার ইচ্ছা তাই। ওহ ভাল। এতো রাতে ফোন দিয়েছো কেন???? বারে আমার গালফেন্ডকে আমি ফোন দিতে পারি না। না পারো না। কেন পারি না??? জানি না। বাই! কথাটা বলার সাথে সাথে ফোনটা কেটে দিল রিফা। রিফার সাথে আমার ২ বছরের সম্পর্ক।রিফার সাথে আমার প্রতম দেখা হয়েছিল পার্কে। রিফাকে প্রথম দেখাতেই আমি ভালবাসে ফেলি! রিফা যে রাস্তা দিয়ে কলেজে যেত আমি প্রতিদিন সেই রাস্তায় দারিয়ে থাকতাম!রিফা আমাকে দেখে মুচকি হাসি দিয়ে চলে যেত এভাবে বেশ কিছু দিন চলার পর আমি রিফাকে প্রপস করি আর রিফায় সেটা একসেপ্ট করতে সময় নেয় নি! শুরু হয় আমাদের নতুন পথ চলা।

আমি পরের দিন রাতে আবার রিফাকে ফোন করলাম। বার বার ফোন করেও ফোনটা বাস্ত পাচ্ছিলাম।অনেক ক্ষণ ফোন করার পর ফোনটা রিসিব করলো রিফা। এতো ফোন দিচ্ছ কেন???? তোমার সাথে কথা বলার জন্য। কি বলবে তাড়াতাড়ি বলো???? তোমার ফোনটা বার বার ব্যাস্ত পাচ্ছিলাম কেন???? আব্বু ফোন করেছিল আব্বুর সাথে কথা বললাম। তুমি কি কালকে আমার সাথে দেখা করতে পারবে??? না! কেন???? কালকে আমার অতিরিক্ত ক্লাস আছে। তাহলে পরশু দিন! তাও পারবো না! আবার কি হলো??? পরশুদিন আমরা নানুর বাড়িতে বেড়াতে যাব! তাহলে কবে দেখা করবে??? অন্য একদিন! আমার খুব ঘুম পাচ্ছে বাই! ওপাশ থেকে টুংটুং শদ্বে ফোনটা কেটে দিল রিফা।

জানি না রিফার কি হয়েছে! যপ মেয়েটা আমার সাথে কথা না বলে থাকতেই পারতো না সেই মেয়েটাই আর আমার সাথে কথা বলতে চায় না। আমার সাথে দেখা করতেও চায় না। আমার কিছুই ভাল লাগতেছে না।রাত তখন৩ টা বাজে আমার ঘুম আসছিল না তাই আমি আবার রিফাকে ফোন করলাম রিফার ফোনটা তখনো ব্যাস্ত পাচ্ছিলাম। এতো।রাতে পার সাথে কথা বলছে রিফা ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পরেছি আমি নিজেও জানি না। সকালে ঘুমথেকে উঠে ফ্রেস হয়তেছি তখন আমার ফোনটা বেড়ে উঠলো স্কিনে দেখি রিফার নামটা ভেসে উঠেছে আমি ফোনটা রিসিভ করলাম। তুমি আমাকে ভুলে যাও। (রিফা) কেন??? আমি আর তোমাকে ভালবাসি না। আমার দোসটা জানতে পারি??? তোমার কোন দোস নেই। তাহলে! তাহলে তুৃমি এতোদিন আমার সাথে ভালবাসার অভিনয় করলে কেন???? তোমার সাথে আমার সাড়া জীবন কাটানো সম্ভব না। ভালো থেকো বাই।

ফোনটা কেটে দিল রিফা।সেদিনের পর থেকে আর কখনো আমার কথা হয়নি রিফার সাথে।শুনেছি রিফা তার নতুন বয়ফেন্ডকে নিয়ে সুখেই আছে!তাই আর আমিও রিফাকে কখনো ফোন করি নি। কেটে গেল বেশ কয়েকটা মাস! আমি রিফাকে প্রায় ভুলেই গেছি।আমাদের কলেজে ভর্তি হলো একটি নতুন মেয়েটার নাম নুসরাত। নুসরাত বড়লোক বাবা মায়ের একমাত্র মেয়ে। চেহারাটা দেখলে মনে হয় যেন পরি আকাশ থেকে মাটিতে নেমে এসেছে।আমি প্রথম দেখাতেই ক্রাস খেয়ে গেলাম ওর উপর।আমি নুসরাতকে দেখার আগে তেমনটা ক্লাস করতাম না। কিন্তুু নুসরাত কলেজে ভর্তি হওয়ার পর থেকে আমি নিয়মিত ক্লাস করত শুরু করি নুসরাতকে একটি বার দেখার জন্য। ওর দিকে তাকালেই মনে হয় যেন পৃথিবীর সব সুখ ওর মাঝে পাই।মেয়েটার জন্য রোজ কলেজ গেটে দাড়িয়ে থাকতাম এবং মেয়েটা আসলে তার পিছু পিছু চলে যেতাম। কিন্তুু নুসরাত আমাকে ওর পিছু পিছু দেখলে খুবই রাগ করতো। কিন্তুু তবুও আমি রোজ নুসরাতের পিছু পিছু ক্লাসে আসতাম কেটে গেল বপশ কয়েকটা দিন আমি ভাবলাম আমার মনের কথা নুসরাতকে বলে দেব। প্রতিদিনের মতো আমি আজও কলেজ গেটে দাড়িয়ে আছি তবে খালি হাতে না একটা লাল গোলাপ ফুল হাতে। নুসরাত কলেজে আসতেই আমি নুসরাতকে প্রপস করলাম।

নুসরাত একটু মুচকি হেসে পিছনে ফিরে একটা টাস করে থাপ্পর মারলো আমার গালে!আমি থমকে গেলাম গালে হাত দিয়ে দাড়িয়ে থাকলাম। নুসরাত বললো “””তোর মতো একটা একটা ছোট লোকের বাচ্চা কিনা ভালবাসে আমাকে আমার ভাবতেও ঋৃনা হচ্ছে আয়নায় কখনো নিজের চেহারাটা দেখেছিস আর কখনো আমার সামনে আসবি না যতসব। কথাটা বলেই চলে গেল নুসরাত! আমি নুসরাতের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলাম। আমি পার্কে একা বসে আছি। নিজেকে নিজের কাছে খুবই ছোট মনে হচ্ছে।হঠাৎ করে পিছন থেকে একটা মেয়ে ডাক দিল আমাকে আমি পিছনে ফিরে তাকালাম। আপনি শাকিল না! জ্বি। আপনাকে তো ঠিক চিনলাম না। আমি আপনার বন্ধু রাশেদুলের মামাতো বোন। ওহ””আপনি আমাকে চিনলেন কিভাবে??? রাশেদুল ভাইয়ার মুখে আপনার অনেক প্রসংসা শুনেছি।

ভালো। আমি আপনাকে ভালবাসি। কি???? আপনি কি কানে কম শোনেন??? না তাহলে??? আমি কারো ভালবাসা পাওয়ার যোগ্য না। অতীতকে ভূলে যান। বর্তমানকে আমরা নতুন করে গড়ে তুলবো। আমি পারবো না। আপনার ফোনটা দিন। কেন??????? আমি চাইছি তাই। আমি দেব না! দিন নয়লে। নয়লে????? এমন মারর মারবো ৮/১০ দিন হাসপাতালে ভর্তি থাকতে হবে। ফোনটা দিন( একটু ঝারি মেরে) বাধ্য ছেলের মতো ফোনটা দিলাম। রাতে ফোন দেব। কথা বলবো যদি ফোনটা না ধরেন তবে আপনার খবর আছে। মেয়েটা চলে গেলল আমি আবাক চোখে তাকিয়ে রইলাম মেয়েটার দিকে।রাতে আমি খাওয়া দাওয়া শেষ করে ডায়রি হাতে নিয়েছি একটা গল্প লিখবো বলে। তখন আমার ফোনটা বেজে উঠলো স্কিনে সুন্দর করে শাহেলা নামটা ভেসে উঠলো তখন জানতে পারলাম মেয়েটার নাম শাহেলা। প্রথম বার ফোনটা ধরতে ধরতে কেটে গেল।দ্বিতীয় বার ফোনটা রিসিভ করলাম।

আসসালামু আলাইকুম। ওলাইকুম আসসালাম। কেমন আছেন???? ভাল। আপনি??? ভাল কি কররেন??? শুয়ে আছি, আপনি,??? গল্প লিখতেছি। ও তাই। হু গল্পটা যেন আমার নাম দিয়ে লেখা হয়। আপনার নাম দিয়ে লিখবো কেন???? আমি আপনার GF.তাই। আমি তো আপনাকে ভাল বাসি না। আপনার আমাকে ভালবাসতেই হবে! হ্যা হয় এবং সেটা আমি করবো। ফোনটা কেটে দিল শাহেলা। আমার শাহেলার সাথে রোজ ফোনে কথা হতো।মেয়েটার সাথে কথা বলতে আমার ভালই লাগে। আমি কখন যে মেয়েটাকে ভালবেসে ফেলেছি নিজেও জানি না। মেয়েটা প্রতিদিেরর মতো আজও আমাকে ফোন করল আমি ফোনটা রিসিভ করলাম। আচ্ছা তুমি কি আমাকে সত্যি ভালবাসো না। না ওকে থাকো তুমি আর কখনো আমি তোমাকে দিসটাভ করব না। ওই রাগ করো কেন??? আমার রাগ করার মতো কোন মানুষ আছে নাকি???? তুমি কি কালকে আমার সাথে দেকা করতে পারবে??? কোথায়??? সেই পার্কে।

আমি লাল জামা পড়ে আসবো তুমিও লাল শাড়ি পড়ে আসবে কেমন! ওকে। আমি পরেরদিন সকালে ঘুম থেকে উটে ফ্রেশ হয়ে সোজা চলে গেলাম পার্কে।দেখি সেখানে আমার সব বন্ধুরা হোই চই করছে আমি সামনে গিয়ে জিঙ্গাস করলাম :- কি রে তোরা এখানে???(আমি) কালকে আমাকে শাহেলা ফোন দিয়ে সব বলেছে আমার বোনের সাথে প্রেম করছিস আর আমাকেই বলিস নি। না দোস্ত আমি তোকে একটু পরে জানাতে চেয়েছিলাম। ওকে ফুল আসনসছ কি??? না রে দোস্ত এতো সকালে ফুলের দোকান খোলা পাইনি। এই যে নে ফুল যা ওকে প্রপস কর যা।

আমি একটু সামনে এগিয়ে যেতেই দেখি একটা লাল শাড়ি পরা একজন দাড়িয়ে আছে মাথায় ঘোমটা দিয়ে আমি সমনে গিয়ে দাড়াতেই আমার চোখটা কপালে উটে গেল। দেখি আমার বন্ধু নাজমুল শাড়ি পরে সেখানে দাড়িয়ে আছে।আমার সব বন্ধুরা একসাথে হেসে উঠলো। আমার আর বুঝতে বাকি রইলো নানযে আমার বন্ধু রাশেদুল তার মামাতো বোনকে দিয়ে আমার সাথে প্রেমের আভিনয় করিয়ে ছে। আমি বাড়িতে চলে এসে দড়জা বন্ধ করে একটা ঘরে শুয়ে শুয়ে ভাবছি।।।আমি আর শাহেলার সাথে কথা বলতে পারবো না ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি আমি নিজেও জানি না। দড়জার ঠকঠক শব্দে আমার ঘুম ভাংলো।আমি দড়জাটা খুলেই দেখি শাহেলা দাড়িয়ে আছে।

তুমি এখানে??(আমি) হ্যা।(শাহেলা) তুমি এখানে কি করতে এসেছো। নিজের ভুল সংসোধন করতে। মানে??? তোমার সাথে অভিনয় করতে করতে আমি কখন যে তোমাকে ভালবেসে ফেলেছি আমি নিজেও জানি না। কিন্তুু আমি তো আর তোমাকে ভালবাসি না। প্লিজ আমাকে ফিরিয়ে দিও না। কথাটা বলেই শাহেলা আমাকে জরিয়ে ধরলো আর আমিও শাহেলাকে জরিয়ে ধরলাম।

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত