রাগী বর

রাগী বর

আজকে অপ্সরার বিয়ে।তাও আবার ওর বাবার বন্ধুর ছেলের সাথে।ছেলের নাম আকাশ।ও একটা বড় ব্যবসায়ী।আর অনেক রাগী টাইপের।সবসময় ঘুমড়ো‌ মুখো থাকে।আর অপ্সরা কলেজে পড়ে।ইন্টার প্রথম বর্ষে।অনেক শান্তশিষ্ট একটা মেয়ে।সবার সাথে একটূ কম কথা বলে। বিয়ের সময় হয়ে গেছে।বিয়ে সম্পূর্ন হয়ে গেছে।এখন ওকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।অনেক কান্না করছে বেচারি।ও ওর মা বাবা ভাইদের ছেড়ে থাকতে পারবে না। ওদের বাড়ি পৌছে গেছে।অপ্সরা একলা একা রুমে বসে আছে।একটু পরে আকাশ আসল।কিন্তু একটাও কথা বলল না।রুমে এসেই সোফায় বসে পড়ল।আর ল্যাপটপটা বের করলো।আর কাজ করতে লাগল।এমন মুখ করে বসে রয়েছে অপ্সরা ভয় পেয়ে গেছে।

একটু পর একজনকে কল করলো।তার সাথে কথা বলা শুরু করলো। ম্যানেজার।তোমাদের শুধু আরাম করার জন্য মাইনে দিই।কাজ করার জন্য।একটা কাজও ঠিক মত কর না ঠিকমত কাজ না করলে বের করে দেওয়া হবে।তোমাদের জন্য আমার বিজনরসে লস হচ্ছে।এক মাসের মধ্যে লাভ না হলে তোমাদের ছাড়া হবে না।আশা করি বুঝেছ। Yes sir. এই কথাগুলো শুনে অপ্সরা বসা অবস্থা থেকে শুয়ে পড়লো।এমন রাগী কোথাও দেখে নি আগে।ওরই কপালে জুটেছে এমন রাগী বর।এখন আকাশ অপ্সরাকে বলতে লাগল, এই যে আপনার নাম,,অপ্সরা। জ্বি বলুন।(ওর গলা শুকাচ্ছে) আপনার সমস্যা হলে বলতে পারেন।লাইটের আলোতে। কোন সমস্যা হচ্ছে না। মিথ্যা বলবেন না।মিথ্যাবাদীকে আমি পছন্দ করি না। সমস্যা হচ্ছে ঘুমুতে পারছি না। এই কথাটা বলতে পারতেন।এই কথাটা বললে কি কোন ক্ষতি হত।আমি লাইট অফ করে দিচ্ছি।

জ্বি। এত রাগী।যেই ভাবে ওর সাথে কথা বলছিল ওর হার্ট অ্যাটাক এসে যাচ্ছিল।বোধ হয় আজকেই মারা যেত।তবে একটু ভালো আছে।ওর কষ্ট টা বুঝতে ত পেরেছে। অপ্সরার খুব সকালে ঘুম ভাঙ্গল।সকালে ঘুম থেকে ওঠে দেখে আকাশ ওর পাশে শুয়ে রয়েছে।আকাশ শুয়ে থাকলে আকাশকে মোটেও রাগী মনে হয় না।অপ্সরা আকাশের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে।ও ফ্রেশ হতে চলে গেল।ফ্রেশ হয়ে এসে দেখে আকাশ রুমে নেই।বোধ হয় জগিং করতে গেছে।ও বাইরে গেল।ওকে বাইরে দেখে ওর শ্বাশুরি মা ওকে বলতে লাগল, মা তুমি বাইরে এসেছ কেন। আমি বাইরে আসতে পারবো না। পারবে কিন্তু আজকে তোমার নিজের ঘরের বাইরে আসার দরকার নেই। কেন। নতুন নতুন বিয়ে হয়েছে।আর আজকে বৌভাত।তাই নিজের ঘরের বাইরে বের না হওয়া ভালো। ও। নীলিমা ওই নীলিমা। জ্বি মা। যা তর ভাবীর সাথে থাক।দেখ কখন কি লাগে। ঠিক আছে। চল ভাবী। হুম চল। নীলিমা অপ্সরার ননদ।ওরা রুমে চলে আসল।ওরা দুইজন গল্প করতে লাগল।

আচ্ছা ভাবী। কি। ভাইয়া অনেক রাগী তাই না। হুম। সারাটা খন রাগী ভাব নিয়ে থাকে। কালকে ম্যানেজারের সাথে যেভাবে কথা বলল।আমি ত একদম ভয় পেয়ে গেছিলাম। ও। আকাশ আসল।আর ওদের গল্প করা দেখে রাগতে লাগল।বিশেষ করে নীলিমা এই ঘরে আরও রেগে গেল।তাই বলতে লাগল, নীলিমা তুই এইখানে কি করছিস। ভাইয়া।মা আসতে বলছে তাই।যদি ভাবীর কিছু লাগে। তুই এক্ষুনি এইখান থেকে যা বলছি। যাচ্ছি। নীলিমা এক দৌড়ে চলে গেল।অপ্সরার খুব খারাপ লাগল।নিজের ছোট বোনের সাথে রাগীভাবে কথা বলে।এত রাগ ভালো না।তাই অপ্সরা আকাশকে বলতে লাগল, এইভাবে নীলিমাকে যেতে বলা উচিৎ হয়নি। আমার গল্প করা ভালো লাগে না।তাই যেতে বলেছি। তবুও। আমি আপনার কাছে কোন পরামর্শ চাই নি।আমি কার সাথে কিভাবে কথা বলল আপনার কাছে শুনতে চাইনি। একটু পরে অপ্সরার শ্বাশুরির মা আসল।আর বলতে লাগল, আকাশ বাইরে যা। কেন।

বউমাকে সাজাতে এসেছে। কেন। আজকে বউভাত। ও। তুই যা। আচ্ছা। আর শোন আমার রুমে পান্জাবি রাখা আছে ওইটা পরে নিস। ঠিক আছে।(আকাশ চলে গেল) অপ্সরা কি হয়েছে।তর চোখে পানি কেন। মা ওনি এত রাগী কেন।আর এইভাবে কথা কেন বলে। কেন তকে কি কিছু বলেছে। আমি শুধু বলেছি নীলিমার সাথে এইভাবে ঘর থেকে বের করে দেওয়া ঠিক হয়নি।ওনি বলে আমি কার সাথে কিভাবে কথা বলবো আপনার কাছ থেকে শুনতে হবে।এইভাবে রাগী হয়ে কেউ থাকে।কালকে যখন আমার মনের কথা বুঝে গেছিলো আমি ভেবেছিলাম ওনি অনেক ভালো।কিন্তু আজকে মনে হচ্ছে ওনি,,,, ও যতই রাগী থাকুক না কেন ওর মনটা অনেক ভালো।আর তুই আকাশকে ভালোবাসিস। আমি ভালোবাসলে কি হবে।ওনি ত কোনদিন ওনার এইসব ব্যবহার বন্ধ করবে না। তুই কাদিস না।আপনারা আসুন আমার বউমাকে সাজান।

ওনারা এসে অপ্সরাকে সাজাতে লাগল।কিন্তু ওর চোখে কাজল দিতে গেলে যত সমস্যা।চোখ দিয়ে পানি চলে আসে।সাজানো শেষ।অনেকেই দেখতে আসল।অপ্সরার পরিবাররা আসল।পরে অপ্সরা আর আকাশকে নিয়ে গেল।ওদের দুইজনকে এক গাড়ি দেওয়া হল।আকাশ গাড়িতে বসে ফোনে কথা বলছে।আর রাগী গলায় কথা বলছে।অপ্সরার এইসব আর ভালো লাগছে না।ও মন খারাপ করে বসে রয়েছে।ওর কিছুই ভালো লাগছে না।ওরা অপ্সরার বাড়িতে চলে আসল।ওরা ভিতরে গেল। চলবে।

আকাশ আর অপ্সরা ঘরে বসে রয়েছে।আকাশ ত ওর কাজ নিয়েই পরে রয়েছে।অপ্সরার এইগুলো আর ভালো লাগছে না।চোখ দিয়ে আপনাআপনি পানি চলে আসছে।ও বাইরে চলে আসলো।ওর মা ওকে বলতে লাগল, তুই বাইরে কেন।যা ভিতরে যা। কেন। যা দেখ জামাইয়ের কোন কিছু লাগে কি না। যাচ্ছি। ও আবার ঘরে চলে আসল।আকাশকে কোন কিছু জিজ্ঞাসা করতে গেলে ভয় করছে ওর।যদি ওল্টা পাল্টা কিছু বলে।তাও সাহস করে জিজ্ঞাসা করল, আপনার কি কিছু লাগবে। আমি কি তোমার কাছে কিছু চাইছি। আপনি এইভাবে কেন কথা বলছেন। আমি যেইভাবে কথা বলি তোমার কাছে ত শিখব না।

অপ্সরা কান্না করতে করতে বাইরে চলে গেল।ওর মার সাথে ধাক্কা খেল।ওর মা ওকে কান্না করতে দেখে বলতে লাগল, কি রে তুই কাদছিস কেন। ত আর কি করবো।‌এইভাবে কথা বলে।এমনকি আজকে সকালেও এইভাবে কথা বলেছিল।এখন আবার।এইভাবে আর কতদিন সহ্য করবো। কিছু করার ত নেই।এর সাথে এইভাবে সারাজীবন থাকতে হবে আর ভালোবেসেই যেতে হবে। মা। মাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করতে লাগল।ও ওর রুমে যেয়ে শুয়ে পরলো।ওর ঘুমই আসছে না শুধু কান্নাই করছে।সকাল হয়ে গেছে।ও ওঠে বাইরে চলে গেল।ওর বাবা ওকে জিজ্ঞাসা করতে লাগল, কি রে তর চোখ এমন কেন লাগছে ঘুম হয়নি নাকি। হুম। আর জামাই ওঠেছে। না। ডাক দে। পারবো না।মন চাইলে ওঠুক আর না মন চাইলে ওঠুক। কি বলছিস।আরে জামাই এসে গেছে। গুড মর্নিং। আজকে কিন্তু বাজার করতে হবে। বাজার। হ্যা। ঠিক আছে।

অপ্সরা শুধু ভাবছে।মা বাবার সাথে কত ভালোভাবে কথা বলল আর আমার সাথে রাগীভাবে।রুডলি।দুপুর বেলা আকাশের বাড়ির সবাই‌ আসল ওদেরকে নিতে।বিকাল বেলা ওদেরকে নিয়ে চলে গেল।ওরা আবার গাড়িতে বসে রয়েছে।সেই কাজ আকাশের।এই বার অপ্সরার কান্নার সাথে সাথে রাগ ওঠতে লাগল।একটা মিনিটও ওকে সময় দেই না।আর কথা বলতে গেল রুডলি ভাবে কথা বলে।এর এত রাগ কিসের।এত রাগ থাকা ভাল না।ওরা বাসাই চলে আসল।অনেক রাতও হয়ে গেছে।রাতের খাবার খেয়ে যে যার রুমে চলে গেল।ওরাও‌ চলে গেল।ঘরেও এসে এত কাজ।একটা বারও অপ্সরার দিকে তাকানোর প্রয়োজনও‌ মনে করে না।ওর চোখ দিয়ে শুধু পানি পরতে লাগল।বার বার মনে হচ্ছে যেয়ে বলে দিই এত রাগ কিসের।বুঝেন না ভালোবাসি।বলতেই পারছে না।এক দৃষ্টিতে আকাশের দিকে তাকিয়ে রয়েছে।ওই দিকে ঘুরে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কান্না করছে।পিছনে মনে হল কে যেন হাত রাখল।পিছনে ঘুরে দেখে আকাশ।

আপনি। হুম।কান্না করছেন কেন। কই। আমি স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি আপনি কান্না করছেন।কেন। কই কান্না করছি। আমি বলি।আমার কথাগুলো শুনে।আমায় ভালোবাসেন বলে। কি করে বুঝলেন। আপনি যখন সকালে বাবাকে বলছিলেন মন চাইলে ওঠুক মন চাইলে না ওঠুক।এই কথাটা শুনেই বুঝেছিলাম।আর সরি।একটা কারনে খুব রেগেছিলাম। কি কারন। আমার বিজনেসে লস হচ্ছিল।আর একজন আমার নাম করে আমার টাকা নিয়ে যাচ্ছিল। কে। আমার বন্ধু।মাফ করবেন বেশি রাগ করে কথা বলে ফেলেছি।আপনাকে একটা জিনিস দিতে চাই। কি জিনিস।

চোখ বন্ধ করুন। হুম। অপ্সরার হাত সামনে এগিয়ে নিল।কি জান দিল। এইবার চোখ খুলুন। জ্বুি।কি সুন্দর হিরের আংন্টি। আই লাভ ইউ। এএএ লাভ ইউ। লাভ ইউ টু। দুইজন দুইজনকে জড়িয়ে ধরলো।চাদের আলো ওদের সারা শরীরে ছড়িয়ে গেল।দেখতে অনেক সুন্দর লাগছে দুইজনকে।

সমাপ্ত

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত