সাহসী হতে শিখ

সাহসী হতে শিখ

রিকশা নিয়ে চারুদের বাসার সামনে আসতেই চারুকে দেখতে পেলাম। ছাতা মাথায় দাঁড়িয়ে আছে। আমাকে দেখা মাত্র রিকশায় উঠে এল। ছাতা বন্ধ করে পলিথিন পায়ের উপর দিয়ে বসল। ঘেঁষা ঘেঁষি করে। চারুর শরীরের ছোঁয়া পেতেই মনে হল যেন হাজার ভোল্টের ঝটকা খেলাম। হৃৎকম্পন বেড়ে গেল। বাকশক্তি হারিয়ে গেল। রিকশায় উঠার পর থেকে চারু একের পর এক কথা বলেই যাচ্ছে। আমি হুম আর না তে জবাব দিচ্ছি।

চারু আমার বেস্ট ফ্রেন্ড। তবে আমার কাছে তার থেকেও বেশি কিছু। বন্ধুত্বের প্রথম দিন থেকেই ভালবাসি। বন্ধুত্ব নষ্ট হওয়ার ভয়ে বলা হয়ে উঠেনি। সকাল থেকে বৃষ্টি হচ্ছে। এখন বিকাল তবুও বৃষ্টি থামার নামই নেই। ঘুমাচ্ছিলাম এমন সময় চারু কল দিয়ে বলল, রিকশা করে বৃষ্টিময় শহর ঘুরবে। তাই রিকশা নিয়ে ওদের বাসার সামনে আসতে।

রিকশা সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। চারু তার হাত ফোঁটায় ফোঁটায় পড়তে থাকা বৃষ্টির পানিতে রাখছে। কিছুটা পানি হাতে জমা হলে সেটা আমার মুখে ছুঁড়ে মারছে। আর অভিনব কায়দায় হাসছে। চারুর চঞ্চলতা যেন কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। আমার দুচোখ শুধু চারকে দেখে যাচ্ছে। বাতাসে ভেসে আসছে মাতাল করা চুলের সুভাস। মায়াবী চোখে তাকিয়ে আছে সামনের দিকে। ঠোঁট দুটো কাঁপছে। ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে আছি।

আমি তাকিয়ে আছি। এইটা বুঝতে পেরে আমার দিকে তাকালো। হাতে জমে থাকা পানিটুকু আমার মুখে ছুঁড়ে মারল। এবং বলল।
– ভ্যাবলার মতো চেয়ে আছিস কেনো?
উত্তরে কিছু বললাম না। অন্যদিকে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিলাম। কিছু সময় আমার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর সে আবার তার খেলায় মনোযোগ দিল। আমি আবারো চারুকে দেখায় মনোযোগ দিলাম। আমকে বারবার চুম্বকের মতো টানছে। ফর্সা নরম গালে চুমু এঁকে বলি, ভালবাসি তোকে! তুমি বলার অধিকার টুকু আমায় দিবি? শুধু এই কথা ঘুরেফিরে বারবার মনে আসছে। কিন্তু বলতে পারছি না। আমাকে নিরব থাকতে দেখে চারু বলল।
– আজ এমন চুপ মেরে আছিস কেনো? অন্যদিন তো তোর কথার জ্বালায় থাকা মুশকিল হয়ে পরে।
উত্তরে বললাম।
– বৃষ্টি আর রূপ দুটোই নিরব থেকে উপভোগ করতে হয়, তাই!

চারু কিছু বলল না। শুধু মুচকি হাসল। আমার দিক থেকে দৃষ্টি সরিয়ে সামনের দিকে তাকাল। সন্ধ্যা হয়ে এল। বৃষ্টি এখনো থামে নি। টিপটিপ করে বৃষ্টি পড়ছে। রিকশাওয়ালাকে বাসার দিকে যেতে বললাম। রিকশা ঘুরে বাসার পথে চলা শুরু করল।
চারুদের বাসার কাছাকাছি চলে আসছি। হঠাৎ করে চারু আমার দিকে তাকাল। গম্ভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। একজন আরেকজনকে গম্ভীর ভাবে তাকিয়ে আছি। কেউ কোন কথা বলছে না। আবারো আমার হৃৎকম্পন বেড়ে গেল। বাকশক্তিও হারিয়ে গেছে।

চারু আমার দিকে এগিয়ে এল। স্পষ্ট দেখতে পেলাম ওর ঠোঁট দুটো কাঁপছে। চোখের মণি স্থির। আমাকে অবাক করে দিয়ে আচমকা আমার ঠোঁটে চুমু খেল। গভীরভাবে। রিকশা যখন বাসার সামনে এসে দাঁড়াল। তখন ছাড়ল। অবাক নয়নে চারুর দিকে তাকিয়ে রইলাম। এই মুহূর্তে কি বলবো বুঝতে পারছি না। চারু একবার আমার দিকে তাকাল। তারপর রিকশা থেকে নেমে গেল।
– সাহসী হতে শিখ। ভালবাসিস কথাটি যেদিন বলতে পারবি সেদিন আমার সামনে আসবি। তার আগে ভুলেও আমার সামনে আসবি না।

বলে চারু গেইটের ভিতরে চলে গেল। আমি বোকার মতো রিকশায় বসে আছি। অনেকটা সময় এইভাবে বসে রইলাম। রিকশাওয়ালার ডাকে চেতনা ফিরে পেলাম। আধো বৃষ্টির মাঝে নেমে পড়লাম। রিকশা ভাড়া মিটিয়ে হাটা শুরু করলাম। আশেপাশের কোন কিছু কানে পৌঁছাচ্ছে না। কানে শুধু চারুর কথাটি বাজছে।
” সাহসী হতে শিখ। ভালবাসিস কথাটি যেদিন বলতে পারবি সেদিন আমার সামনে আসবি। তার আগে ভুলেও আমার সামনে আসবি না। “

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত