অ্যাংরি ওয়াইফ

অ্যাংরি ওয়াইফ

নিহা:বাবা তুমি কি তোমার মেয়েকে নিয়ে কখনো সিরিয়াস হবে না?
রহমান সাহেব:আমি যেটা করছি তোর ভালোর জন্যই করছিরে মা।(ইতির বাবা)
নিহা:তাই বলে এমন একটা ছেলের সাথে আমাকে বিয়ে দিয়ে দেবে?যে ছেলে কিনা চাকরী না করে বাবার টাকায় বসে বসে খায়?
রহমান সাহেব:চাকরী করে নাতো কি হয়েছে?ওদের টাকাতো আর কম নেই।সারাজীবন বসে বসে খাওয়ার টাকা ওদেত আছে।
নিহা:কিন্তু বাবা…..
রহমান সাহেব:এ নিয়ে আমি আর কথা বাড়াতে চাইনা,নিজের ঘরে যা।
নিহা আর কোনো কথা না বলে নিজের রুমে চলে এলো।

###বিয়েরদিন###
কাজি সাহেব:কি হলো মেয়ে কবুল বলে না কেন?
নিহার বেস্টু অধরা নিহাকে বলতে লাগলো……
অধরা:বোঝার চেষ্টা কর নিহা।আংকেল যা করছেন তোর ভালোর জন্যই করছে।তাছাড়া ভাগ্যে যা থাকে তাতো হবেই।ভাগ্য কেউ বদলাতে পারেনা।
নিহা:তাই বলে এই ছেলে……(বলার আগেই অধরা নিহাকে থামিয়ে দিলো)
অধরা: বিয়েটা না হয় করে নে।তারপর তোর স্বামীকে তুই না হয় নিজের মতো করে খুছিয়ে নিস।এখন কোনো রকম ঝামেলা করিস না।শুধু শুধু তোর বাবা-মার নাক, কান কাটা যাবে।
মিলি:অধরা আপু ঠিকই বলছে বিয়েটা করে নে তারপর সব ঠিক হয়ে যাবে।(নিহার ছোট বোন)
অতঃপর নিহা কবুল বলল।

বিয়ে হয়ে যাবার পর নিহা কে নিয়ে বর পক্ষের সবাই বরের বাসার দিকে রওয়ানা দেয়।
বাসর ঘরে সাধারণত বউ বরের জন্য অপেক্ষা করে।কিন্তু আবির এবং নিহার বেলায় সবটাই উল্টা।
আবির খাটের উপর পা তুলে বসে বসে নিহার জন্য অপেক্ষা করছে।রাত প্রায় ১২ টা বাজতে চলল,কিন্তু নিহা এখনো রুমে এলোনা।
আবির—–কি মেয়েরে বাপ!!!তার কি বাসর রাত করার কোনো ইচ্ছা নাই নাকি?আমারে ঘরে রেখে কই আছে আল্লাহই জানে।

কিছুক্ষণ পর নিহা এক পা দু পা করে রুমে প্রবেশ করলো।
আবির:আপনার এতক্ষণ লাগে রুমে আসতে?সেই কখন থেকে একা একা বসে আছি।
নিহা:আপনার ভাবির সাথে গল্প করছিলাম।আপনার কি পছন্দ না পছন্দ সব শুনতেছিলাম।আর আপনি কি দেখে বেশি ভয় পান সেটাও জেনে এলাম।
আবির:আমার ভয় পাওয়া দিয়ে আপনি কি করবেন?
নিহা:এখন বলা যাবেনা।সরুন বসতে দিন।(নিহা খাটের এক কোনায় বসে পড়লো।)
আবির:চলুন তাহলে শুরু করা যাক।
নিহা:কি শুরুর কথা বলছেন?
আবির:কেন বাসর রাতে স্বামী স্ত্রী যা করে আমরাও তাই শুরু করব।
নিহা:আপনার সাথে বাসর রাত!!!! ইম্পসিবল।
আবির:কেন?(আবির নিহার দিকে এগুতে লাগলো)
নিহা:খবরদার আমার কাছে আসার চেষ্টা করবেন না।(পিছন থেকে একটা ছুরি বের করে আবির এর দিকে ধরলো।)
আবির:(হাত দুটি উপরে উঠিয়ে)আরে আরে একি করছেন মেরে ফেলবেন নাকি আমাকে?
নিহা:আমার কাছে আসার চেষ্টা করলে তাই করব।এখন ওই সোফায় গিয়ে শুয়ে পড়েনতো যান।
আবির:সোফায় শুবো!!!!! মায়ের দিব্বি আজ পর্যন্ত কোনোদিন সোফায় শুইনি।প্লিজ আমাকে এই খাটে শুতে দেন।
নিহা:আমাকে কি দেখে পাগল মনে হয় নাকি?আপনাকে আমার পাশে শুতে দেয় আর আপনি আমার তেরোটা বাজান তখন।
আবির:সত্যি বলছি কোনো ক্ষতি করব না প্লিজ।
নিহা:ভাবিয়া করিও কাজ করিয়া ভাবিও না।আপনাকে যেটা বলছি সেটা করেন।না হলে কিন্তু এই ছুরি……..
আবির(নিহাকে থামিয়ে দিয়ে)যাচ্ছি যাচ্ছি।বালিশ টাতো দেন।
নিহা বালিশ আবিরের দিকে ছুড়ে দিলো।
আবির:আপু কোলবালিশ টা দেন না প্লিজ।
নিহা:ওই শালা আমি তোর কোন জন্মের আপুরে?????
আবির:আপু নয়তো কি?
নিহা:আমি তোর বিয়ে করা বউ।????
আবির:বিয়ে করা বউ হলেতো আমাকে আর সোফায় শুতে হতো না।এখন কোলবালিশ টা দেনতো।
নিহা:ভাগেন কোলবালিশ দিলে আমি ঘুমাতে পারবো না।আর একটা কথা বলবেন তো পেটুর ভিতর এই ঢুকিয়ে দেব।(ছুরি দেখিয়ে)
আর হা রাতে যদি কোনো উলটা পাল্টা কাজ করার চেষ্টা করেন তো খবর আছে।।
আবির তাড়াতাড়ি করে সোফায় গিয়ে শুয়ে পড়লো।

নিহা—–বাহ এই না হলে আমার বর।খুব লাজুক একটা বর পেয়েছি।দেখতেউতো অনেক সুন্দর।কিন্তু বরটা যে বেকার।তাছাড়া দেখেতে কেমন কেমন জানি মনে হয়।
সমস্যা নাই আমি আমার স্বামীকে ঠিক বুঝে নেব।যতদিন না সে নিজের পায়ে দারাচ্ছে ততদিন আমি তার সংস্পর্শে যাব না।
এক মনে শুয়ে শুয়ে এসব ভাবছিল নিহা।হঠাৎ তার চোখ দুটিতে ঘুম নেমে আসে।
আর অন্যদিকে আবির নিহার চৌদ্দ গুষ্টি উদ্ধার করে ফেলতে ফেলতে ঘুমিয়ে গেছে।

ফজরের আযানের সময় নিহা ঘুম থেকে উঠে,গোসল করে নামাজ পড়ে নেয়।
তারপর আবিরকে ডেকে তুলতে ব্যস্ত হয়ে যায়।
নিহা:এই যে মি. বেকার ম্যান শুনছেন?জলদি ওঠেন অনেক বেলা হয়ে গেছে।
আবির:রাতে তো ভালোভাবে ঘুমাতে দিলেন না, এখন আবার শুরু করছেন?
নিহা:উঠবেন নাকি ছুরিটা আনবো?
আবির:আরে উঠছিতো এতো ভয় দেখানোর কি আছে?
নিহা:ভাল কথা কাল রাতে কি হয়েছিল সেটা যেন কেউ জানতে বা পারে।
আবির:আচ্ছা ঠিক আছে।

আবির উঠে ফ্রেশ হতে চলে গেল।আর নিহা সোজা নিচে চলে গেল রান্না ঘরে।
আবিরের মা:আরে বৌমা তুমি এতো সকাল সকাল উঠছ কেন?তাও আবার রান্না ঘরেও চলে এসেছ।যাও রুমে যাও।নতুন বউ কি রান্না ঘরে আসে নাকি?
নিহা:নতুন বউ তাতে কি হয়েছে?আমি তো আপনার মেয়ের মতো তাইনা?
মা:মেয়ের মতো না তুই আমারই মেয়ে আজ থেকে।
নিহা:হুম।মেয়ে বলে যখন মেনে নিয়েছেন তাহলে মেয়ের দায়িত্ব টা পালন করতে দেন।কি কি কাজ আছে বলুন আমি সাহায্য করছি?
মা:আচ্ছা ঠিক আছে।
অদ্রিতা:দেখতে হবে না কার বোন।(আবিরের ভাবি)
অদ্রিতা এবং নিহা দুই বোন।অদ্রিতার বিয়ে হয়েছে আবিরের বড় ভাইয়ের সাথে।আর নিহার হলো আবিরের সাথে।
নিহা:হুম আপু।
রান্না প্রায় শেষ।
মা:নিহা তুমি আবির কে খাবার টেবিলে ডাকো। আমি আর অদ্রিতা এদিকটা দেখছি।
নিহা:ঠিক আছে মা।

অতঃপর নিহা আবির কে ডাকতে চলে গেল।
নিহা রুমের মধ্যে ঢুকতে আবির একটা চিৎকার দিলো।
নিহা:(চোখ ঢেকে)আরে আমি কিছু দেখিনি।জলদি চেঞ্জ করে নিচে আসেন।
নিহা মুচকি মুচকি হেসে আবার নিচে বলে গেল।
আবিরের চিৎকারের কারন এখন বলি।আবির ফ্রেশ হয়ে শুধু একটা তেওয়াল পড়ে বের হয়ে ছিল।প্যান্ট পড়ার জন্য যখন তেওয়াল খুলতে যাচ্ছিল ঠিক তখনি নিহা রুমে ঢুকে।তারপর যা হলো সেটাতো পড়লেনই।

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত