অদ্ভুত ভালোবাসা

অদ্ভুত ভালোবাসা

সকাল বেলা একটু আরাম করে ঘুমাচ্ছিলাম, আর আমার আরামের ঘুম হারাম করে সিফাত একটার পর একটা কল দিয়েই যাচ্ছে, রিসিভ করতে ইচ্ছে করছে না একটু ও।

অনিচ্ছা থাকা সত্তে ও রিসিভ করলাম, না করেও উপায় নেই আমার, সিফাত যদি আমার সাথে কনো কারনে রাগ করে তাহলে গুনে গুনে ২ দিন কথা বলে না,আর তখন কন্ট্রাক্ট করার ও সুযোগ থাকে না, ভার্সিটিতে আসে না, ইমু থেকে শুরু করে সব অফ করে দেয়, এমনকি নিজের নাম্বার টাও।

তাই রিসিভ করলাম, রিসিভ করার সাথে সাথেই অনুভব করলাম এখনি সুনামি আসবে আমার উপর, এত্ত রেগে আছে।
—কিরে এত বেলা অবধি গাধার মতো পড়ে পড়ে ঘুমাচ্ছিস কেনো?
—আমি গাধা?
—তুই গাধা, গরু,ছাগল সব
—কাঁদবো কিন্তু
—তোকে কাঁদলে কার মতো লাগে জানিস?আমাদের পাশের বাড়ির পাগলির মতো
—কিহ?? যাহ কথা নাই আর
—এই না না না.. মজা করছিলাম আমি, রাগ করিস না
—করবো না কেনো? মুখে যা আসতেছে তাই বলছিস এতক্ষন
—সরি অনু….এত গুলো কল দিলাম, রিসিব করলি না কেন? মাথা ঠিক নেই, আজকে না ভার্সিটি তে একটা ফাংশন আছে আসবি না?
—হ্যা আসবো, ফাংশন শুরু হতে তো অনেক দেরি এখনো। এত তাড়াতাড়ি ফোন দিয়ে ঘুম ভাঙালি কেনো?
—আমার ঘুম ভেঙে গেছিলো রে তাই
—তোর ঘুম ভাঙলো তাই বলে আমাকেও ঘুমাতে দিবি না?
—না, যা ফ্রেশ হয়ে, খেয়ে নে,,আর তারপর রেডি হ
—ওক্কে স্যার
—হুম ম্যাডাম টাটা
—টাটা

বাধ্য মেয়ের মতো,ঘুম ঘুম চোখে ফ্রেশ হতে গেলাম
আম্মু আমাকে দেখে তো অবাক দৃষ্টি তে তাকিয়ে আছে। বুঝতে পারলাম না কেনো
আমিও দাঁড়িয়ে আছি, ভাবছি খারাপ কিছু করে বসলাম নাকি, কিন্তু নাহ খারাপ কিছু তো করি নি, ঘুম থেকে উঠলাম মাত্র।কিছুক্ষন পর, আম্মু আমায় জিজ্ঞাসা করলো কিরে অরণী আজ সুর্য কোন দিকে উঠলো? এই প্রশ্ন কেনো বুঝলাম না,কৌতুহলী হয়ে বললাম, প্রতিদিন যে দিকে উঠে।আম্মু তখন মুচকি হেসে বললো আমার যে মেয়ের ১০ টা না বাজলে সকাল হয় না, সেই মেয়ে আজ ৭ টায় আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে অবাক হবো না?

আমি ও হেসে বললাম এই ব্যাপার তাহলে..আজকে ঘুম টা ভেঙে গেছে আম্মু তাই উঠে গেছি, আম্মু চলে গেছে তার কাছে।আর আমি নিজেই নিজে ভাবছি আসলেই তো আজ অনেক তাড়াতাড়ি উঠে গেছি তাই অনেক অবাক হয়েছে,আর কিছু না ভেবে ফ্রেশ হয়ে রেডি হলাম,আম্মু ডাকছে নাস্তা করতে, তখনি আবার কল করা শুরু করে দিলো সিফাত

—হ্যা বল
—রেডি হয়েছিস?
—হ্যা
—নাস্তা করেছিস
—এইতো করবো এখন, আম্মু ডাকছে
—করিস না তাহলে
—মানে?উপোষ থাকবো নাকি?
—না রে পাগলি সব কথার খারাপ দিকটাই ভাবিস তুই, ভালো টা ভাবতে পারিস না?
—না এতো ভাবতে পারবো না, নাস্তা করবো না কেনো তাই বল
—তুই বাড়ি থেকে বের হ, আর আমিও আসছি, ভার্সিটি যাওয়ার পথে দুজনে নাস্তা করে নিবো
—না আমি বাসায় করবো
—এই অণু.. এমন করিস কেন আমিও না খেয়ে আছি তাড়াতাড়ি আয় না প্লিজ
—বলবি তো না খেয়ে আছিস। আসছি আমি
—হুম

সিফাত এর কথা মতো আর বাসায় নাস্তা করিনি, আম্মুকে বললাম দেরি হয়ে গেছে সময় নেই, আম্মু তো মানতেই চায় না, কনো রকম এই মিথ্যা টা বলে বের হয়ে আসি।
বাসার নিছে এসে যা দেখলাম তার জন্যে একদম প্রস্তুত ছিলাম না, সিফাত বাসার নিছে দাঁড়িয়ে আছে, আমাকে দেখেই বললো, এতক্ষন লাগে নিছে নামতে?
আমি আর কথা বাড়ালাম না, নিজের বাসার নিছে ওকে নিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে কথা বলা একদম সম্ভব নয়, যে কনো সময় দূর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে । মানে বাসার কেউ দেখে নিতে পারে। তাই আর কথা না বলে দ্রুত বেরিয়ে গেলাম।

সিফাত কে বললাম একটা রিক্সা নিতে, তাও নিলোনা বলে যে হেঁটে যাবে আজকে, আর ওর কথাই রইলো পুরোটা পথ হেঁটে হেঁটেই গেলাম।হেঁটে আমার পায়ের অবস্থা করুন হয়ে গেছে। তাও চুপ করে থাকলাম, অবশ্য আমি চুপ করে থাকলেও সিফাত বুঝে নিলো। দুজনে নাস্তা করলাম, নাস্তা শেষ করে ভার্সিটি আসলাম।

ভার্সিটি টা কে আজ খুব নতুন লাগছে, অনেক সুন্দর করে সাজিয়েছে ফাংশন এর উদ্দেশ্যে।
ভার্সিটি পৌছে আমি আর সিফাত আলাদা হয়ে গেলাম,সারাটা দিন খুব আনন্দ করলাম, নাচ গান সব কিছুতে একদম ডুবে ছিলাম সারাটা দিন। বিকেল ৪ টা বেজে গেছে আর থাকা সম্ভম নয়, এবার বাসায় যেতে হবে, না হয় বাসার সবাই দুর চিন্তা করবে।সবে রিক্সায় উঠবো, তখন সিফাত কোন দিক দিয়ে আমার সামনে হাজির,
—আমায় না বলে চলে যাচ্ছিস?
—তোকে খুঁজেছি ভিড়ের মধ্যে পাইনি
—তোর সাথে কথা আছে একটু আয়
—না রে, বাসায় যেতে হবে, কালকে বলিস কি বলবি
—আজকে না বলতে পারলে আর কখনো বলতে পারবো না কথাটা
—কি এমন কথা হুম?
–চল আগে,বলবো সব, ৫ মিনিট লাগবে
—কই যাবো
—ওইতো গাছ টা দেখছিস না, ওটার নিছেই যাই
—হুম চল
গাছটার নিচে এসে দাঁড়িয়ে সিফাত কে বললাম
বল এখন কি বলবি?
–ইয়ে মানে… ইইইয়ে
–ইয়ে ইয়ে কি, যা বলার বল তাড়াতাড়ি,বাসায় যেতে হবে
—বলবো?
—হুম বল নারে ভাল্লাগেনা
—বলছি কিন্তু
—বল
—তোকে একটা কথা বলার আছে
—তো বল কথাটা
—তোকে না আজকে….
—কি
—পেত্নীর মতো লেগেছে…
এই কথা বলেই দৌড়
আর আমি হাসবো না কাঁদবো বুঝতে পারলাম না, আমি আশা করেছি ও আজ আমায় ওর মনের কথা বলবে, প্রপোজ করবে ভালোবাসি বলবে, কিন্তু হলো না। উল্টে বলে গেলে আমায় নাকি পেত্নীর মতো লাগছে..মেজাজ টাই খারাপ হয়ে গেলো আমার। আমাদের তিন বছরের বন্ধুত্ব, একসাথে আছি দুজন তাও কেউ কাউকে ভালোবাসি বলি নাই, তবে মুখে না বললেও আমি বুঝতে পারি কতটা ভালোবাসে আমায়, আর আমিও অনেক ভালোবাসি পাগলটাকে নিজের থেকেও বেশি।

বাসায় এসে ভাবছি, সত্যিই কি সিফাত আমায় এটাই বলতে চেয়েছিলো, নাকি অন্য কিছু, এসব ভাবতে ভাবতে পাগলের মতো হয়ে গেছি। মাথায় আর কিছু কাজ করছিলো না।
রাতে খেয়ে ঘুমাতে আসছি, সিফাতের সাথে কথা বলতে মন কেমন করছে, কিন্তু এত রাতে ফোন দেওয়া ঠিক হবে না, এই ভেবে আর দিই নাই।ঘুমিয়ে পড়েছি।

পরদিন কলেজে গেলাম, গিয়ে দেখি সিফাত এখনো আসে নাই।ওর জন্যে অপেক্ষা করতে লাগলাম, একটু পর দেখি ও আসছে,তাড়াতাড়ি ওর কাছে গেলাম
—এই সিফাত দাঁড়া
—হুম বল
—কাল আমায় কি বলেছিস?
—কখন?
—বাসার যাওয়ার আগে?
—শুনিস নাই? এখন আবার বলবো?
—আমাকে দেখতে বুঝি পেত্নী র মতো লেগেছে?
—হ্যা একদম তাও আবার বুড়ি পেত্নী..
—এইইই
–কি
–রেগে যাবো
–রাগলে কিন্তু তোকে অনেক কিউট লাগে, রেগে যা না একটু..
—কিউট লাগে না..দেখাচ্ছি কিউট এই বলেই ওকে কয়েকটা দিতে লাগলাম.. আর ও হেসেই চলছে
—এইই অণু
—হ্যা
–মজা করেছি তোকে কালকে অনেক সুন্দর লেগেছে
—সুন্দর না ছাই, আমি জানি
—সত্যি, তোর মাথায় হাত দিয়ে বললাম
—হইছে আর হাত দিতে হবে না, ক্লাসে যাও
—আপনি কি করবেন শুনি?আপনিও যান
—হুম আমিও যাবো চল।

ওই দিন ভার্সিটি শেষে দুজনে একসাথে একসাথেই বাসার দিকে রওনা হলাম, মাঝ পথে ও ওদের বাসার দিকে গেলো আমিও আমাদের বাসার দিকে চলে হলাম।
বাসায় গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আম্মু কে বললাম খেতে দাও..
আমি খেয়ে রুমে এসে শুয়ে পড়েছি

আম্মু ও এসে আমার মাথার কাছে বসলো
—কিরে অরণী কি করিস?
—-এইতো শুয়ে আছি
—আজকে না ঘুমালে হয় না?
—হুম হয়, কি করতে হবে বলো
—টেবিলের উপর শাড়ী গয়না, রাখা আছে একটু পড়ে নে তো
—আমি শাড়ী পড়তে যাবো কেন?
—-কয়েক জন গেস্ট আসবে
—-আসলে আমার কি? পড়বো না
—-এত কথা বলে না মা,পড়ে নে

মনে মনে ভাবছি আজ হয়তো আমাকে দেখতে আসবে। কিন্তু আমি যে সিফাত কে ভালোবাসি,ওকে ছাড়া সারাটা জিবন থাকবো কি করে। অসম্ভব এটা, পারবো না, কিছুতেই না।কিন্তু সিফাত কে বুঝাবো কি করে? সে তো বুঝেই না কতটা ভালোবাসি। আমাকেও বুঝতে দেয় না ও কতটা ভালোবাসে । মায়ের কথা মতো শাড়ী গয়না পড়ে নিয়েছি গেস্ট রাও আসলো যথাসময়ে।ছেলের মা, বোন, আরো কয়েকজন এসেছে, ছেলে আসে নাই।
পরে আম্মুর থেকে শুনেছি ওনাদের নাকি আমাকে পছন্দ হয়েছে, আর ছেলে নাকি আমাকে দেখবে না, না দেখেই বিয়ে করবে।
এসব শুনে সারারাত একটু ও ঘুমাতে পারি নি, খুব কষ্ট হচ্ছিলো, ভেতর টা কুড়ে কুড়ে খাচ্ছিলো।
সকালে অনেক তাড়াতাড়িই ঘুম থেকে উঠেছি, উঠেই সিফাত কে ফোন দিয়েছি
—আমার সাথে দেখা করতে পারবি আজকে একটু?
—আজ হঠাৎ দেখা করার ইচ্ছে জাগলো কেন?
—এমনিতেই,পারবি কিনা বল
—-হুম পারবো, কোথায় আসতে হবে?
—ওই যে, ভার্সিটির পাশের ওই জায়গাটাতে, আমি ভার্সিটির কথা বলে বের হবো
—আচ্ছা যাবো আমি
—১০ টায় চলে আসবি দেরী করিস না প্লিজ
—ওকে ম্যাম

রেড়ি হয়ে আম্মুকে ভার্সিটির কথা বলে বের হয়েছি, আর ওখানে গিয়ে দেখি সিফাত এখনো আসে নাই, আমি কাঠের বেঞ্চ এর উপর বসে আছি।অনেকক্ষন বসে ছিলাম, তখনো আসে নাই, প্রায় ৪০ মিনিট পর আসছে

—এই তোর আসার সময় হলো?
—সরি রে, একটা কাজে আটকে গেছিলাম
—আমার থেকে তোর কাছে তোর কাজটাই বড় হলো?
—এসব কথা থাক এখন, কেনো ডেকেছিস তাই বল
—আমার বিয়ে
—সত্যি?
—-হুম
—উফফফ, অনেক খুশি লাগছে, তোকে বলার মতো নয়, তোর বিয়েতে জমিয়ে মজা করবো
—ব্যাপার টা মজা করার মতো নয় সিফাত, সিরিয়াসলি নে এবার বিষয় টা
—সিরিয়াসলির ই নিলাম
—সিফাত একটা কথা ভাব, আমাদের দুজনের মাঝে কি কিছুই নেই?
—নাহ কি থাকবে শুনি?
—আমাকে কি কিছুই বলার নেই তোর?
—না
—প্লিজ বল… পরে আর বলার মতো সময় থাকবে না
—কিছুই বলার নেই, আমাকে তোর বলার মতো কিছু আছে?
—না আমার ও নেই
—হুম ভালো
—আমাদের আর কথা বা দেখা হবে না
— আচ্ছা,
—চলে যাচ্ছি
—টাটা
—কিছুই কি বলবি না তুই আমাকে
—হ্যা বলবো
— প্লিজ বল, শুনতে চাই তো আমি..
—বিয়ের দিন বেশী সাজগোজ করিস না, তোকে এমনিতেই সুন্দর লাগে, সিম্পল সাজবি কেমন?
—এটা বলার ছিলো?
—হুম আর শোন, ভালো থাকবি

সিফাত এর থেকে এসব কথা শুনে সত্যিই আমার মাথায় যেনো আকাশ ভেঙে পড়লো,
আমি ভেবেছি আমার বিয়ের কথা শুনে, ও আমাকে ভালোবাসি কথাটা বলবে।তাহলে কি ও আমাকে ভালোবাসে না? আমি কি মিথ্যে মিথ্যেই ভেবেছি সিফাত আমায় ভালোবাসে।
ওর সাথে আর একটা কথাটা বলি নি, সোজা বাসায় চলে এসেছি।
আম্মু আমায় দেখে

—এত তাড়াতাড়ি চলে এসেছিস আজকে? ক্লাস করিস নি
—না, ভালো লাগছিলো না
—শরীর খারাপ?
—না আম্মু, আমি ঠিক আছি
—তোকে একটা কথা বলার ছিলো
—হ্যা বলো
—যার সাথে তোর বিয়ের কথা বার্তা চলছে, তাকে একবার ও দেখবি না?
—তুমি দেখছো, আব্বু দেখছে, আর কি
—তোর ও তো পছন্দ বলে একটা কথা আছে
—তোমাদের পছন্দ হয়েছে,আমার ও হবে
—শোন, তুই চাইলে তোরা দুজনে বাইরে গিয়ে দেখা করে আসতে পারিস
—করবো না বলছি তো
—আচ্ছা করিস না ফোনে কথা তো বল নে
—নাহ বলছি তো আমি, এক কথা এত বার কেনো বলছো?ভাল্লাগেনা

এই বলেই রুমে চলে আসি, আমি জানি ওই ছেলেটাকে আমার পছন্দ হবে না, আমি তো সিফাতকেই পছন্দ করে এসেছি, ভালোবেসে গেছি, কল্পনা করে গেছি ও ই হবে আমার সুখে দুখের সাথী,ওকেই আমি বিয়ে করবো।কিন্তু কল্পনা করে কি হবে, ও তো আমায় কখনো ভালোই বাসেনি। আমিও সিফাত কে দেখাতে চাই, আমিও ভালোবাসি না ওকে, অন্য একটা ছেলেকে বিয়ে করে ওকে ছাড়া আমিও ভালো আছি।

কয়েকদিনের মধ্যে আমার বিয়ের তারিখ ও পড়ে গেছে।আম্মু আব্বুর একটা মেয়ে,তাই চারদিক খুব সুন্দর করে সাজিয়েছে, আত্মীয়, পাড়ার লোকজন, সবাইকে দাওয়াত দিয়েছে।
চারদিকে মানুষ, লাইটের আলো, সবাই কতো কথা বার্তা বলছে, সব মিলিয়ে আর সহ্য করতে পারছি না, মনে হচ্ছে আমি একটা নরকে আছি। এখান থেকে পালাতে পারলেই বাঁচি। এতকিছুই পরেও কেনো জানি সিফাতকে ভুলতে পারছি না, বিয়ের সময় টা যত এগিয়ে আসছে, ততই কেমন জানি বুকটা হু হু করে কেঁদে উঠছে। ইচ্ছে করছে সব কিছু ছেড়ে সিফাত এর কাছে চলে যেতে।কিন্তু যাওয়ার ও উপায় নেই, ভালোই তো বাসেনা আমায়।

বিয়ের দিন সকালেই পার্লারের মেয়েরা এসে সাজাতে শুরু করলো আমায়,কিছুক্ষন কিছু না বলে থাকতে পারলেও আর পারছি না, বিরক্ত লাগছে। এত সাজগোজ অহস্য লাগে আমার।
কে শুনে কার কথা, আমাকে সাজিয়ে গুছিয়ে মূর্তির মতো বসিয়ে রেখেছে।হঠাৎ শুনতে পারলাম, সবাই মিলে বলাবলি করছে বর এসেছে…বর এসেছে..কথাটা শুনেই মন টা মোচড় দিয়ে উঠলো, সব এলোমেলো হয়ে যাবে একটু পর, যাকে এত ভালোবাসলাম। তাকে নয় বিয়ে করবো এখন অন্য একজনকে।

আম্মু এসে বসলো আমার কাছে…
—-আমার অরণী মা টা কে খুব সুন্দর লাগছে,
আমি আম্মুকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলাম, খুব কষ্ট হচ্ছিলো এতটাই হচ্ছিলো যে
ইচ্ছে করছে নিজেকে শেষ করে ফেলতে। কিন্তু করবো না। সিফাত কে তো দেখাতে হবে, ওকে ছাড়া ও আমি ভালো থাকতে পারি। হয়তো কখনোই পারবো না, অভিনয় তো করতে পারবো ভালো থাকার।

—অরণী তোকে একটা কথা বলতে এসেছি
—হ্যা আম্মু বলো
—একটু পর তোর বিয়ে, দেখবি না কার সাথে বিয়ে হচ্ছে
—একটু পর তো দেখবোই
—বিয়ের আগে একবার দেখে নেওয়া ভালো
—খারাপ ও তো হবে না, না দেখলে
—শোন অরণী,পাশের রুমে ও ওয়েট করছে যা দেখা করে আয়,
—থাক না মা
—থাকবে কেনো? যা তুই

আম্মু টানতে টানতে নিয়ে গেলো, রুমের ভেতর ডুকলাম
ওদিকে পিরে আছে।
কি বলবো বুঝতে পারছিলাম না…
ওদিক থেকে প্রশ্ন ভেসে আসলো

—না দেখেই বিয়ে করবেন আমায়
—আপনিও তো আমায় না দেখেই বিয়ে করছেন
—-আমি আপনাকে অনেকবার দেখেছি, অনেক ভাবে
—কে আপনি? আপনার কথা গুলো চেনা চেনা মনে হচ্ছে কেনো আমার
—কারো কথা মনে পড়ে গেছে?
—না
—মিথ্যে কথা
— মনে মনে অবাক হলাম, লোকটার আচরণ দেখে,, চুপ থাকলাম
—কি হলো মিথ্যে বলেছি আমি
—না
—আমাকে একবার ও দেখবেন না?

লোকটার কথা গুলে শুনে আর স্থির থাকতে পারলাম না, খুব চেনা মনে হচ্ছিলো
ওর সামনে গিয়ে দাঁড়াতেই চোখ কপালে উঠলো আমার, এ কি দেখছি আমি…!!স্বপ্ন নয় তো?এতো সিফাত দাঁড়িয়ে আছে আমার সামনে

—এই অণু,, অবাক হলি?
—তুই এখানে কি করে?
—আমি তোর বর
—একদম ফাজলামি করবিনা,আমাকে বোকা ফেয়েছিস
—হাহাহা
—হাসছিস কেনো?
—আসলেই তুই বোকা,কাকে বিয়ে করছিস একবার দেখলিও না।
—না দেখবো না, যা এখান থেকে আমার বর আসবে এখন
—এই পাগলি, আমিই তো তোর বর, এ সব কিছু আমার প্লান, তোকে সারপ্রাইজ দিবো বলে।
—কি?
—হুম

তখন আম্মু এসে আমায় সব বললো,আম্মু, আব্বু,সিফাত মিলেই এমন টা করেছে। আমাকে সারপ্রাইজ দিবে বলে, আমাকে কিছু না জানিয়ে।তাড়াতাড়ি বাইরে আয় বলে আম্মু চলে গেছ

—এই সিফাত
—বল
—আমাকে বিয়ে করছিস কেনো?
—কারন তোর আমাকে ছাড়া থাকতে কষ্ট হবে, তাই
—তোর হবে না?আমাকে ছাড়া থাকতে
—না রে, আমার হবে কেনো?
—আমাকে বিয়ে করতে হবে না তোর
—কেনো?
—আমি চাইনা তোর মতো একজনকে বিয়ে করতে,যে এত বছর হয়ে গেছে, এখনো আমায় প্রপোজ ই করতে পারলো না।
—আচ্ছা করবো, এখন তো চল দেরি হয়ে যাচ্ছে
—যাবো না,আগে প্রপোজ কর
—আগে বিয়ে তারপর
—না
—করতে হবে না, আমি বাইরে গিয়ে বলে দিচ্ছি, তুই বিয়ে করতে চাস না আমায়
—যাহ বল
—প্লিজ অণু, এমন করে না, প্রপোজ করবো বলছি তো
—সত্যি?
—হুম এখন চল

বিয়ের দিন রাতে রুমে বসে আছি… সিফাত আসলো
—এই অণু তোকে খুব সুন্দর লাগছে
—তোকেও লাগছে
–রুমটা সাজানো পছন্দ হয়েছে
—হুম অনেক,তুই কি করে জানলি? আমি স্বপ্ন দেখতাম আমার রুম টা এমন সাজানো হবে
—তোর ডায়েরী তে পড়েছি
—হুম
—এই শোন..
—বল
—তোকে না বলেছি সিম্পল সাজতে?চেনাই যাচ্ছে না তুই যে আমার অণু
—তখন কি আর জানতাম বিয়েটা তোর সাথেই হবে, জানলে তো সিম্পল ই সাজতাম
—এখন থেকে শুধু কাজল পড়বি আর কিছু না কেমন?
—একটা কথা ভুলে গেছিস তুই..
—কোন কথাটা
—আমাকে এখনো প্রপোজ করিস নাই তুই
—কপাল আমার..!! এখনো ভুলিস নাই কথাটা
—নাহ গো , ভুলছি না এত সহজে
—না করলে হয় না?
—আমি কিন্তু রুম থেকে বের হয়ে যাবো, না করলে
—এই না না , এত কষ্টে পাইছি, আর হারাতে পারবো না।

এই কথাটা বলেই সিফাত একগুচ্ছ কৃষ্ণচুড়া বের করে আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বললো..

ভালোবাসি অণুঅনেক….
আমিও ওকে জড়িয়ে ধরে বলতে লাগলাম ভালোবাসি নিজের থেকেও বেশী…

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত