পরি বউ

পরি বউ

>এই শুনছ??
>না শুনছি না।
>তাহলে কথা বলছ কীভাবে??
>চুপ করবে?? এই মধ্যরাতে তোমার কীসের এতো ডাকাডাকি??? হ্যাঁ??
>না মানে….ঘুম আসছিলো না।
>তো আমি কী করব?? তোমাকে ঘুম পারিয়ে দিব?
>না তাই কি বলেছি নাকি?
>চুপ,,,,একদম চুপ।
>এই পরি মাফ করে দেওয়া যায় না?
>হুহ,,,,ঢঙ দেখো। সন্ধেবেলা তো যাকে দেখছিলে তাকেই পরি বলছিলে। এখন আবার আমাকে বলা হচ্ছে।অসহ্য!!!

[এই আমার রাগী বউ।শুধু রাগী না প্রচুর রাগী।এই দেখেন না কেমন রেগে আছে।এই রাগ ভাঙ্গানোও দুঃসাধ্য।এই সন্ধেবেলা ওকে নিয়ে গিয়েছিলাম শপিংয়ে। সেখানে গিয়ে এদিক ওদিক তাকাচ্ছিলাম।কত পুরুষ রমণীর আনাগোনা। তাই দেখছিলাম।ও বলেছিলো এমন ভাবে মেয়েদের দিকে তাকাও কেনো??আমি প্রতিউত্তরে বলি-দেখছনা কত পরি,পরি তো দেখার জন্যই।এই হচ্ছে আমার দোষ।কেন এটা বললাম??একটা শারি কিনেছিলো তাও আমার হাতে দিয়ে চলে আসছিলো শপিং মল থেকে।কথা ছিলো ডিনার বাইরে করব।কিন্তু কিছুই হলো না। আমিই একটা নষ্টের গোড়া।কি দরকার ছিলো ওকে ক্ষেপানোর।ও কত প্লানিং করেছিলো,সব মাটি।রাগ করে আমার বাইক এও ওঠে নি।রিক্সা নিয়ে একা একা বাসায় এসেছে আর আমি পিছন পিছন।কতবার সরি বলেছি কিছুই কাজে দেয় নি।বাসায় এসে রান্নাও করেনি রাগে।না খেয়ে শুয়ে পড়েছে।আমিও পাশে শুয়ে পরেছি।কিন্তু কথা বলে না।অনেক্ষন ডাকার পর এই উত্তরটা দিলো—না শুনছি না।]

>আরে ওটা তো তোমাকে রাগানোর জন্য বলেছি।
>সে জন্যই তো রেগেছি।
>এ্যা……(তাই তো!!!! ওকে আমি রাগিয়েছি তাই ও রেগেছে।কী লজিক রে বাবা। এ মেয়ের সাথে পারা যায় না।)
আরে বাবা অন্যের বউ রাগলে স্বামীকে আরও বেশি আদর করে।আর তুমি??
>আর আমি যে তোমার বউ!!
(ওর কথা আর মাথায় ঢুকবে না। এখন আমি যা বলব তারই চটপটে উত্তরদিবে ও।)
>আচ্ছা বাদ দাও!! আমার খিদা লাগছে??
>যাও পরিগুলার কাছে যাও। ওরা আদর করে খাইয়ে দিবে।
> এই এই দিকে আসো না!!(ওকে কাছে টেনে নিলাম)
>শরীরটা ঝটকানি দিলো ঠিকই কিন্তু নিজেকে সরিয়ে নিলো না।আমি জানি—এতক্ষণ ওকে জরিয়ে ধরিনি বলে ওর ঘুম আসছিল না।
>আমাকে ছাড়া ঘুমাতে পারবেনা তো আবার রাগ দেখাও কেন?
>জড়িয়ে ধরতে দিয়েছি বলে ভেবো না পার পেয়ে যাবে!!শুধু অভ্যাস হয়ছে তো,তা না হলে তোমাকে ছাড়াই ঘুমাতে পারতাম,,হুহ।।(গলার কণ্ঠ নরম হয়ে গেছে)
>আচ্ছা পরিটা এতো রেগে ছিলো কেনো?
>জানোনা পরিটা নিজের প্রশংসা ছাড়া অন্য কারো প্রশংসা ওর পাগলটার মুখে শুনতে চায় না।
>পাগলটা দেখি বড্ড বেশি ভুল করেছে!!
>হুম্ম বড্ড না আরোও বেশি ভুল করেছে।(অভিমানী কণ্ঠে)
>পাগলটা কীভাবে ক্ষমা পাবে?
>এখন পরিটাকে আরও জোরে জড়িয়ে ধরতে হবে। তবেই পরিটা পাগল্টাকে মাফ করবে।
(কী করব, আরও শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম ওকে।)

কিছুক্ষন পর—-
>এই আমার যে ক্ষিদে পেয়েছে??
>কিছুই খেতে দিব না।এটা আমাকে রাগানোর ফল।
>তোমার খিদে লাগে নি?
>আমার অতো খিদে লাগে নি। আমি বিকেলে নাস্তা করেছি।
>তাহলে আমার কি হবে??
>একটা পাপ্পি খেতে দিব,তবে আর কিছু দিতে পারব না।
>উম্মাহ,,উম্মাহ,,উম্মাহ,লাগবেনা আর কিছু। এতেই পেট ভরবে।
>এই তোমাকে না বললাম একটা খেতে??
>কাল সকাল,কাল দুপুরও না খেয়ে থাকব।
>তাই বুঝি?সত্যি সত্যি খাবার বন্ধ করে দিব।
>এই না না,,,,এমনি বলেছি। আমার তো এখনই প্রচুর খিদে লাগছে।
>আমাকে জোরে জড়িয়ে ধরে ঘুমাও। খিদে লাগবে না।কাল সকালে খাব একসাথে। তোমাকে কিন্তু কাল অফিসে যেতে দিব না।
কিছু বলিনি। শুধু বউটাকে এবার বুকে নিলাম। না আর খিদে লাগছে না। পেটটা কেমন অদৃশ্য শক্তির মাধ্যমে ভরে গেলো।

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত