অন্তরালে রহস্য

অন্তরালে রহস্য

অরুন আমার সামনে বসে গিটার বাজাচ্ছে আর আমি পদ্ম পুকুর রহস্য নামে একটা বই পড়ছি। আমি বরাবরি রহস্য গল্পের একটা ফ্যান। গল্প যখন রহস্যে প্রবেশ করে তখন গল্পের শেষ না হওয়া পর্যন্ত আমি গল্প ছেড়ে কোথাও যাই না।অরুনের গিটারের আওয়াজে একটু ডিস্টার্ব হচ্ছে তবুও ওরে কিছু বলছি না। হঠাৎ অরুন গিটার বাজানো থামিয়ে দিয়ে আমার দিকে তাকালো। তারপর বলল…

— রাজ দা চলো কোথাও থেকে ঘুরে আসি? অনেক দিন বাসায় বসে বসে বোরিং হয়ে যাচ্ছি।
— কোথায় যাবি বল?
— চলো আমরা…

অরুনের কথা বলা থেমে গেল কারন আমার ফোনটা বেজে উঠলো। অরুন আমার মোবাইলের দিকে তাকিয়ে মোবাইলের স্কিনে আমার অফিসের নাম দেখে আমায় বলল…

— দেখো হয়ত তোমার ডাক পরেছে।

আমি অরুনের কথায় জবাব না দিয়ে একটা মুচকি হাসি দিয়ে ফোনটা হাতে নিলাম।

— হ্যালো স্যার বলেন।
— রাজ আজকাল টিভি দেখো নাকি না তাও বন্ধ করে দিছো।
— আসলে স্যার গত ১ সপ্তাহ একটা বিয়ে বাড়িতে কাটিয়েছি তাই টিভি দেখার সময় হয় নি।
— ভাল কিন্তু আমি ভাবলাম তুমি হয়ত আগে আমায় ফোন দিয়ে নতুন কাজটা তুমি নিবে।
— কেন স্যার নতুন কাজটা বুঝি স্পেশাল?
— রাজ এটা স্পেশাল বললেও ভুল হবে কারন এটা অনেক স্পেশাল আর রহস্যে ঘেরা।
— বাহ্ স্যার একটু বুঝিয়ে বলেন তো।

— টানা তিনজন বুদ্ধিজীবী খুন। একটু আগে ৩য় জনের খুন হলো। প্রথম ২ জনের খুনটা হওয়ার পর তেমন কোন কিছু হয় নি। কিন্তু একটু আগে আরেকটা খুন হওয়ায় বুঝা গেল এটা সিরিয়াল মার্ডার আর সামনে আরও বুদ্ধিজীবী হুমকির মুখে আছে।

— স্যার ৩য় নাম্বার খুনটা যে হলো ওই লাশটা কি দাফন করা হয়ে গেছে? আর ৩য় খুনটা কোথায় হয়েছে?
— আগ্রাবাদে আর ৩০ মিনিট আগে মারা গেছে। এখনও লাশ নিয়ে যাওয়া হয় নি।
— স্যার আমি এই রহস্যের ভার নিতে চাই।
— বুঝে শুনে পা ফেলো রাজ। এটা কিন্তু খুব সহজ না।
— যেই রহস্য মাঝে মজা নেই সেই রহস্যে রাজ যায় না স্যার আপনে একটু ওদের বাসায় বলে রাখেন আমি আসবো

আর এই খুনের সম্পর্কে যা যা রিপোর্ট তৈরি হয়েছে তার ছবি গুলো আমায় মেইল করে দেন। আমি ৩০ মিনিটের মাঝে আগ্রাবাদের উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছি।

— ওকে আর রাজ এবার তোমার সাথে কেউ কি যাবে নাকি তুমি একা?
— এবার যাবে অরুন। (অরুনের দিকে তাকিয়ে বললাম)
— ওকে শুভ কামনা রইলো।

আমি ফোনটা কেটে দেওয়ার সাথে সাথে অরুন আমার দিকে তাকিয়ে আছে। আমি বললাম…

— হা করে তাকিয়ে থাকার কিছু হয় নি। তারাতারি ব্যাগ ঘুছিয়ে নে। নয়ত চট্টগ্রামের ট্রেন ধরতে পারবো না।
— তুমি কি জানো এখন চট্টগ্রামের ট্রেন আছে?

— আর ১ ঘন্টা পর ট্রেন আছে বলেই তো বললাম ৩০ মিনিট পর রওনা দিবো। আর তুই খুব ভাল করেই জানিস আমি সময় মেনে চলি।

— রাজ দা আমি তোমার সাথে ঘুরতে যেতে চাইছি। তাই বলে কোন রহস্য ভেদ করতে না।।
— আরে চল তো। খুব ভাল লাগবে ঘুরতে আর অন্যদের বাসার আদর খেতে।
— হুমম আদর দিবে নাকি বকা দিবে আমার জানা আছে।
— অরুন…
— আমার ব্যাগ ঘুছানো রেডি। কারন সকালেই তো বাসা থেকে রাগ করে ব্যাগে জামা কাপড় নিয়ে বেড়িয়ে আসছি।
— ওকে আমি আসছি।

আমি ওয়াশ রুমে চলে গেলাম আর ফ্রেশ হয়ে ব্যাগে জামা কাপড় নিয়ে অরুনকে নিয়ে বেড়িয়ে পরলাম। যেহেতু আগে থেকে টিকিট কাটা ছিল না তাই সম্পূর্ণ ভাড়া দেওয়া শর্তেও দাঁড়িয়ে যেতে লাগলাম।

দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে স্যারের পাঠানো মেইল গুলো চেক করে নিলাম। বুঝতে পারছি না রহস্য টা কিভাবে শেষ করবো। কারন যেখানে যাচ্ছি ওনি নাকি গাড়ী চালাতে গিয়ে এক্সিডেন্ট করছে। আর ওনার নামটা হলো নিহান। নিহান সাহেবের নামে আমি আগে অনেক শুনেছি আর ওনার লেখা কয়েকটা বইও পড়েছি। কিন্তু কি কারনে এক্সিডেন্ট হলো? সব যেন প্যাঁচ লেগে যাচ্ছে।

প্রায় সাড়ে ৫ ঘন্টা পর আমি চট্টগ্রাম এসে নামলাম। আর অরুন হয়ত মনে মনে আমায় গালি দিচ্ছে। কারন সাড়ে ৫ ঘন্টাই ওরে দাঁড় করিয়ে নিয়ে আনছি। তারপর স্টেশন থেকে একটা রিকশা নিয়ে বাস স্টেশনে চলে গেলাম আর ওইখান থেকে আগ্রাবাদের বাসে করে সোজা আগ্রাবাদে চলে গেলাম। তারপর বুদ্ধিজীবি নিহান সাহেবের বাসা খুঁজে পেতে কোন সমস্যা হয় নি। কিন্তু এসেই দেখি ওনাকে নাকি দাফন দেওয়ার জন্য বেড়িয়ে গেছে। তাই আমি কবর স্থানের ঠিকানা নিয়ে সোজা রিকশা নিয়ে বেড়িয়ে পরলাম। আর আমি স্যারকে ফোন দিলাম…

— হ্যালো রাজ তুমি কি চলে গেছো?
— হুমম স্যার কিন্তু একটু সমস্যা হলো নিহান সাহেবকে কবর দেওয়ার জন্য নিয়ে গেছে।
— তো এখন কি করবে?
— আপনি এক্ষুণি এখানের থানায় ফোন দিয়ে দাফন আটকান আর ময়না তদন্তে পাঠানোর ব্যবস্থা করো।
— হুমম ওকে তুমি কবর স্থানে যাও আর আমি পুলিশ পাঠাচ্ছি।
— ওকে

আমি যেতে প্রায় ২০ মিনিটের মত লেগে গেল। কারন এমনি অনেক রাত হয়ে গেছে আর রিকশা পেতেও সময় লাগছে। আমরা যেতেই দেখি পুলিশ দাফন আটকিয়ে দিয়েছে। এদিকে নিহান সাহেবের ছেলে পুলিশের সাথে ঝগড়া লেগে গেছে। তারপর আমি ওদের সামনে গেলাম।

— দয়া করে আপনারা ঝগড়া করবেন না।
— আপনি কে?(নিহান সাহেবের ছেলে আমায় বলল)
— আমি রাজ আর একজন ডিটেকটিভ। আর এই খুনের তদন্ত আমার হাতে এসেছে।
— খুন মানে?
— মানে আপনার বাবাকে খুন করা হয়েছে।
— কিন্তু ওনার তো এক্সিডেন্টে মৃত্যু হয়েছে।
— দেখুন আমি আপাতত বললাম এটা খুন কিন্তু ময়না তদন্ত না করলে হয়ত সবটা জানা যাবে না।
— কিন্তু?

— এখানে কোন কিন্তু নেই? আপনার বাবার আসল খুনিকে যদি বের করতে চান তাহলে ময়না তদন্তে পাঠাতে বাঁধা দিয়েন না।

— হুমমম।

তারপর নিহান সাহেবের ছেলে আমাদের আর বাঁধা দেয় নি। আমি পুলিশকে বললাম…

— ময়না তদন্তের রিপোর্ট পেতে কতক্ষণ সময়ের প্রয়োজন?
— ৪ ঘন্টা লাগবে ময়না তদন্ত হতে কিন্তু এর রিপোর্ট আসতে আরো ২ ঘন্টা লাগবে। মোট ৬ ঘন্টা লাগবে।
— আচ্ছা আপনারা লাশটা নিয়ে যান আর আমার নাম্বার টা রেখে দেন। রিপোর্ট আসলেই আমায় ফোন দিবেন। আমি নিজে এসে রিপোর্ট নিয়ে যাবো।

— আচ্ছা।

আমি পুলিশকে আমার নাম্বার দিয়ে বিদায় করে দিলাম। তারপর নিহান সাহেবের ছেলের সামনে আসলাম…

— আচ্ছা নিহান সাহেবের রুমটা কি আমি দেখতে পারি?
— হুমম আসুন।

তারপর আমি অরুনকে নিয়ে নিহান সাহেবের বাসায় যেতে লাগলাম। আর অরুন যেন ঘুমে পড়ে যাচ্ছে। আসলে আমারও ঘুম চাপছে কিন্তু রহস্যের নেশাটা আমার মাথায় চেপেছে।

নিহান সাহেবের রুমটা আমি ভাল করে দেখতে লাগলাম। কিন্তু খুন হওয়ার মত কোন চিহ্নই তো রুমে নেই। তারপর একটা বক্স পেলাম আর এটা ঔষুধের বক্স। সবই ঠিক আছে কিন্তু আমার চোখটা বার বার ঘুমের ট্যাবলেটের দিকে যাচ্ছে। তখন নিহান সাহেবের ছেলে প্রশ্ন করলাম…

— আচ্ছা আপনার বাবার কি ঘুমের সমস্যা ছিল?
— হুমম
— বুঝলাম। ঘুমের জন্য কি বেশি সমস্যা হতো? মনে করেন যে ঘুমের ঔষুধ না হলে ঘুমই হবে না।
— না তেমন তো হত না।

— তাহলে এস্টাযোলাম(Estazolam) নামে ঔষুধ ব্যবহার কেন করে? এটা তো মারাত্মক ঘুমের সমস্যা না হলে ডাক্তার কখনো দিবে না ।

— কি বলেন আপনি?বাবা তো লোরাযেপাম (Lorazepam) নামে ঘুমের ঔষুধ খেতেন। এই যে প্রেসক্রিপশন।
— তাহলে এস্টাযোলামের দুটা ট্যাবলেটের পাতা এখানে কেন?

আমি কিছুটা শিউর হয়ে গেলাম এটা স্বাভাবিক কোন মৃত্যু নয়। তারপর আমাদের ঘুমানোর ব্যবস্থা করা হয় এই বাসাতেই। অরুন বিছানায় শুয়ে পরার সাথে সাথেই ঘুমিয়ে পরলো কিন্তু আমার ঘুমটা আসছে না। তাই একাই নিহান সাহেবের রুমে গেলাম। বার বার ঘরটা ভাল করে দেখতে লাগলাম।

সকালে ফোনের আওয়াজে আমার ঘুমটা ভাঙ্গলো। তাকিয়ে দেখি অপরিচিত নাম্বার। ফোনটা রিসিভ করতেই বলল…

— আমি আগ্রাবাদ থানা থেকে বলছি। ময়না তদন্তের রিপোর্ট চলে এসেছে।
— আচ্ছা আমি আসছি।

তারপর অরুনকে ঘুম থেকে তুলে নিহান সাহেবের ছেলেকে নিয়ে থানার উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে গেলাম।থানায় এসে রিপোর্ট টা নিয়ে লাশ দাফনে পাঠাতে বললাম। কিন্তু রিপোর্ট টা দেখে আমি একটুও চমকালাম না কারন এটা ঘুমের বড়ির কারনেই হয়েছে। এটা নিহান সাহেবের ছেলেকে দেখাতে ওনিও বিশ্বাস করলো। আসলে ওনার মৃত্যুটা খুব কষ্টকর হয়েছে। ওনার বডিতে ২০টার পরিমানের এস্টাযোলাম(Estazolam) ট্যাবলেট পাওয়া গেছে। তার মানে নিহান সাহেব গাড়ীতে উঠার আগে এই গুলো খাওয়ানো হয়। কিন্তু এক সাথে এতো গুলো ট্যাবলেট তো মানুষ আর জেনে শুনে খাবে না। তাছাড়া ওনার বাসার লোক ওনাকে মারতে চাইবে? এটাই আমাকে জানতে হবে।
দাফনের সব কাজ শেষ করে আমি নিহান সাহেবের বাসায় আবার গেলাম। তারপর বাসার সবাইকে এক সাথে নিয়ে বসলাম আর এক এক করে প্রশ্ন করতে লাগলাম।

— আচ্ছা ওনার মৃত্যু টা কিভাবে হয়েছে সবাই জানেন তো?
— ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে।

— ঠিক আপনারা সহজেই মেনে নিলেন শুধু ঘুমের ট্যাবলেট খাওয়ার কারনে ওনার মৃত্যু হয়েছে কিন্তু এক সাথে ওনাকে ২০টা ঘুমের ট্যাবলেট খাওয়াবেই বা কে?এটা কি ভেবেছে?

— (সবাই চুপ)
— আচ্ছা ওনি রাতে কি খেয়েছিল?
— নিরামিষ সবজি আর ভাত।
— ও আচ্ছা ওনি কি আমিষ খায় না?
— না, অনেক আগে থেকেই ওনি নিরামিষ খাবার খায়।
— সেই রাতে কে ওনার খাবারটা রান্না করেছেন?
— আমি কিন্তু ওই খাবারটা ওনি খেতে পারেন নি ? (নিহান সাহেবের ছেলের বউ বলল)
— কেন?
— কারন যখন ওনাকে খাবার দিতে যাবো তখন দেখি হাড়ির ভিতরে মরা ইদুর।
— গরম ভাতের হাড়িতে ইদুর তাও মরা। মজার তো।
— কিন্তু আমাদের বাসাতে তো ইদুর নেই।
— যখন কাউকে মারার প্লেন করা হয় তখন হাড়িতে মরা ইদুর নয় বরং মরা হাতিও থাকতে পারে। যাই হোক, এরপর কি হইছে এটা বলুন?

— এবার আমরা বাইরে থেকে খাবার অর্ডার দেই। তারপর বাবা খাওয়া দাওয়া শেষ করলে একটা ফোন আসে আর ওনি সরাসরি হাতটা ধুয়েই গাড়ী নিয়ে বেড়িয়ে পরেন। এরপর ২০ মিনিট পরই খবর পাই বাবার গাড়ী এক্সিডেন্ট করছে।

— আপনি এখনি খবর নেন যেই হোটেল থেকে আপনার বাবার জন্য খাবার আসে।

— এটা আমি রাতেই নিয়েছি কিন্তু ওদের ওইখান থেকে যে খাবার দিতে আসছিল ওরে নাকি আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

— খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না মানে?
— মানে ওই ছেলেটার খুন হয়ে যায়।
— আমাকে এই কথা আগে বলেন নি কেন?
— ভেবেছি এই ছেলের মরার সাথে বাবার মৃত্যুর কোন সম্পর্ক নেই।
— সম্পর্ক নেই তবে অনেক সম্পর্ক রয়েছে।
— আচ্ছা আপনার বাবার ফোনটা পাওয়া গেছে?
— না।

— খুনি তার খেলাটা খুব চমৎকার ভাবে সাজিয়েছে কিন্তু বুঝতে পারে নি যে চুর চুরি করলেও তার প্রমান ঠিকই ছেড়ে যায়।

— মানে?

— মানে টা প্রথম থেকে শুরু করি। প্রথমে নিহান সাহেবের খাবারটা নষ্ট করে দেওয়া হয় যেন ওনাকে খাবারের জন্য বাইরে যেতে হত।কিন্তু যেহেতু বাসায় খাবারটা অর্ডার করা হয়। যে ছেলে খাবার নিয়ে আসে তাকে মেরে খুনি নিজে ঔষুধ খাবারের সাথে মিশিয়ে আপনাদের দিয়ে যায়। আর আপনেরা চিনতেও পারেন নি। আর ওনার খাবারের সাথে এস্টাযোলাম(Estazolam) নামক ঘুমের ট্যাবলেট মিশানো হয়। যা খাওয়ার ৫ মিনিট পর কাজ শুরু করে দেয়। ঠিক এর আগেই ফোন দিয়ে নিহান সাহেবকে বাসা থেকে বের করে আনা হয় আর ওনার গাড়ীর এক্সিডেন্ট করানো হয়। যেন কেউ বুঝতেই পারে না এটা খুন। আর সব চেয়ে মজার জিনিস হলো খুনি এই বাসায় ঢুকে নিহান সাহেবের ঘরে ২ পাতা এস্টাযোলাম(Estazolam) বড়ির পাতা রেখে আসে। যার থেকে সবাই ভাববে এটা স্বাভাবিক মৃত্যু।

— কিন্তু বাবাকে মেরে কার কি লাভ হলো?
— সেটা তো খুনিকে ধরলেই বুঝা যাবে।
— সেটাই তো করবো।আর এবার আগামী বুদ্ধিজীবিকে আমায় বাঁচাতে হবে।
— মানে?

— টানা তিনটা বুদ্ধিজীবি মারা গেল। ০১ তারিখে একজন, ০৪ তারিখে আরেক জন আর এখন ০৭ তারিখে নিহান সাহেবকে। আগামীটা শিউর ১০ তারিখে হবে। কিন্তু আগামীটা কাকে টার্গেট করেছে সেটা বুঝতে পারছি না।

— তো এখন কি করবেন?
–দেখা যাক। তবে এই খুনির তালাশীতে আরো বড় একটা কাজ বাকি আছে সেটা করতে হবে।
— কী?

আমি কারো কথার উত্তর না দিয়ে অফিসে স্যরকে ফোন দিয়ে সবটা জানিয়ে দিলাম। স্যার আমায় বলল..

— তো এখন কি করবে রাজ?

— স্যার ০১ তারিখে খুন হওয়া হাসান সাহেব আর ০৪ তারিখে খুন হওয়া নয়ন সাহেবের লাশটা তুলে ময়না তদন্তের একটা আইনি রিপোর্ট পাশ করান। আমি কাল সকালে ঢাকাতে আসছি। আমি এসেই রিপোর্ট পরবো। তাহলে আশা করি খুনির আগামী টার্গেট পেয়ে যাবো। আর আমি যতদূর ভাবছি খুনি খুন করে নিজেই নিজের প্রমাণ ছেড়ে যাচ্ছে যেন আমি তাকে ধরতে পারি।

— যা ভাল বুঝো।

সবাইকে খুনি ধরার কথা দিয়ে আমি অরুনকে সাথে নিয়ে ঘুমাতে চলে গেলাম। রুমে আসতেই অরুন আমায় বলল…

— এই জন্যই আমি তোমার সাথে কোথাও যেতে চাই না।
— তোর যাওয়া না যাওয়ায় কিছুই হবে না শালা বাবু তোর বোন চায় যেন তুমি বাজে ছেলেদের সাথে না মিশে একটু জ্ঞান অর্জন করো।
— তুমিও পচা রাজ দা। কেউ আমায় বুঝো না।

ওর কথা শেষ না হতে হতে অরুনের বোন নিত্তিয়ার ফোন চলে আসলো। আসলে নিত্তিয়ার সাথে গত মাসেই আমার বিয়ে ঠিক হয়েছে। আর গত পরশু দিন অরুন বাসা থেকে রাগ করে ব্যাগ নিয়ে আমার বাসায় আসে আর আমি জানতাম এই তদন্তের জন্য স্যার আমায় ফোন দিবে। কারন কিছু একটা কারনে আমি স্যারের সাথে রাগ করি বলে আমি ইচ্ছা করে এই কেসটা হাতে নেই নি। তবে আগে থেকেই এই কেসের জন্য প্রস্তুত ছিলাম।আর নিত্তিয়াকেও এটা জানাই। তাই যখন বাসায় অরুন রাগারাগি করে তখন নিত্তিয়া তার হাতে ব্যাগ ধরিয়ে দিয়ে বলে বাসা থেকে বের হয়ে যাওয়ার জন্য। আর আমি অরুনকে ফোন দিয়ে আমার বাসায় নিয়ে আসি।আর কিছু না ভেবে নিত্তিয়ার ফোনটা রিসিভ করলাম।

— হ্যালো নিত্তিয়া।
— তোমার শালা বাবুর কি খবর?
–আপাতত ছেলেটা ঘুমের কষ্ট করছে। কথা বলবে ওর সাথে।
— দাও কথা বলি।
— ওই অরুন ঘুমিয়ে পরছো নাকি।
— (ফোনের ওইদিকে নিত্তিয়া হাসছে আর অরুন এদিকে রাগ করে আছে)

তারপর কিছুক্ষন কথা বলে ফোনটা কেটে দেই। এরপর আমিও ঘুমিয়ে পরি।
সকালে সবার থেকে বিদায় নিয়ে চট্টগ্রাম স্টেশনের উদ্দেশ্য বেড়িয়ে পরি। কিন্তু এবার টিকেট কেটে আমার শালা বাবুকে শান্তিতে নিয়ে আসি।

প্রায় ৭ ঘন্টা পর আমি অফিসে পৌঁছে যাই। এসে দেখি স্যার রিপোর্ট পরছে। আমাকে হয়ত খেয়ালই করে নি।
— স্যার মনে নয় অনেক ব্যস্ত।
— আরে রাজ, এসো বসো।
— স্যার হাসান আর নয়ন সাহেবের ময়না তদন্ত হইছে।
— এই যে ওদের রিপোর্ট।

আমি স্যারের থেকে রিপোর্ট টা নিয়ে ভাল করে চেক করলাম।

— স্যার আমার আন্দাজই ঠিক।
— মানে?

— মানে হাসান সাহেবের মৃত্যু লিভার ড্যামেজে আর নয়ন সাহেবের মৃত্যু ব্রেইন স্ট্রোক। কিন্তু দুইটার মাঝে মিল হলো দুই জনেই ঘুমের ঔষুধ খেয়েছে। তবে হাসান সাহেবকে ক্রমাগত এস্টাযোলাম(Estazolam) ঘুমের বড়ি খাওয়ানো হয়ে ছিল। তাই সেটা লিভার ড্যামেজ করে দেয়। আর নয়ন সাহেবকে অতিরিক্ত এস্টাযোলাম(Estazolam) খাওয়ানো হয় বলে ওনার ব্রেনে অক্সিজেন পৌঁছাতে পারে না। যার কারনে ব্রেইন স্ট্রোক হয়। এই দুইটা মৃত্যুই স্বাভাবিক দেখা গেলেও এখন টানা ৩টা মৃত্যুই অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন প্রশ্ন হলো খুনির আগামী টার্গেট কে হবে?

— রাজ এই প্রশ্নটার উত্তর না জেনেও আমরা একটা কাজ করতে পারি?
— কী স্যার?
— আমরা সব বুদ্ধিজীবিদের বাসায় পুলিশ পাহাড়া বসাতে পারি।
— এটা হলে সারা দেশের পুলিশ বুদ্ধিজীবিদের পাহাড়া দিতে হবে।
— তাও ঠিক।
— স্যার একটা কাজ করলে কেমন হয়?
— কী কাজ?

— গত জানুয়ারি মাসে ২০১৭ এর সেরা ৫ জন বুদ্ধিজীবীর অ্যাওয়ার্ড যারা পেয়েছে শুধু তাদের বাসায় পুলিশ পাহারা বসাতে পারি।

— ঠিক বলছো।

স্যার তখন আমার সামনে পুলিশ কমিশনারকে ফোন দিয়ে শেষ টার্গেট আব্দুল ও রফিক সাহেবের বাসায় পাহারার ব্যবস্থা করে দেয়। তখন স্যার আমায় বলে…

— রাজ তুমি আজ রফিক সাহেবের বাসার উদ্দেশ্যে রওনা দাও। কারন রফিক সাহেবের বাসা যশোর আর আব্দুল সাহেবের বাড়ি ঢাকাতেই। ওনাকে আমরা বাঁচাতে পারবো। তুমি যশোরের উদ্দেশ্যে বেড়িয়ে পরো।

— ওকে স্যার।

এতক্ষন অরুন আমার পিছনে দাঁড়িয়ে সবই শুনলো। আমি ওরে বললাম…

— তুই বাসায় চলে যা। বাসার সবাই তোরে মিস করছে।
— রাজ দা এই খুনির গল্পের শুরুটা আমায় নিয়ে করলে, শেষটাতেও আমি সাথে থাকতে চাই। প্লিজ।
— চল।

আমি বেড়িয়ে পরলাম। আর আজ ১০ তারিখ তবে কাল মৃত্যু হবে আব্দুল হয়ত রফিক সাহেবের।

রাত প্রায় ১১টা বাজে আমি রফিক সাহেবের বাসায় গেলাম। খুব কঠিন পাহারা বসানো হয়েছে। সবার সাথে কথা বলে আমাকে আমার রুম দেখানে হলো।আমি রুমে গিয়ে আমার ব্যাগটা খাটে রাখতেই ব্যাগ থেকে একটা কালো গোল তারের মত কি যেন পরলো? হয়ত কোন তারের টুকরো তাই ফেলে দিলাম।

রাত ১২টা বাজতেই আমার ফোনটা বেজে উঠলো। আর অরুন ঘুমিয়ে আছে।অপরিচিত নাম্বার তাই তারাতারি রিসিভ করলাম। তখন একটা ছেলে কন্ঠ ভেসে আসলো।

— রাজ সাহেব মনে হয় অনেক টেনশনে আছো।
— কে বলছেন?
— আপাতত তোমার প্রতিদ্বন্দ্বী বলতে পারো।
— মানে?
— মানে আমি খুন করছি আর তুমি সেই আমাকেই ধরার জন্য মরিয়া হয়ে আছো।
— কে তুমি?

— আমি কে বলে দিলে তো খেলাই শেষ? তবে তোমায় ছোট্ট একটা ক্লো দিচ্ছি আর সেটা হলো “তোমার চোখের সামনে আমার নাম আছে “। পারলে খুঁজে নাও নয়ত আমার টার্গেট শেষ করেই ধরা দিবো।টা টা।

ফোনটা কেটে দিল। আমি তারাতারি অফিসে ফোন দিয়ে এই নাম্বার কোথায় থেকে ফোন দিছে জানতে চাইলাম।

— স্যার নাম্বারটা ঢাকা থেকে ফোন দেওয়া হইছে তবে যে ফোন দিছে ওনি গাড়ীতে থাকায় নির্দিষ্ট জায়গা ট্রেক করা যায় নি।আর নাম্বারটা সোহেল নামে একজন রিকশা চালকের

— আচ্ছা ঠিক আছে।

তার মানে খুব শীঘ্রই আব্দুল সাহেব মরতে চলেছে যা আমি চাইলেও বাঁচাতে পারবো না। আমি স্যারকে ফোন দিলাম।কিন্তু স্যারের নাম্বারটা বিজি। একটু পর স্যার ফোন ব্যাক করলো।

— হ্যালো স্যার।
— রাজ আব্দুল সাহেব মারা গেছেন।
— কিভাবে?

— ওনার বাম হাতে গুলি করা হয়। তাই ওনাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর হাত থেকে গুলি বের করা হয় কিন্তু…

— কিন্তু কি?
— ওনার ব্রেইন স্ট্রোক হয়।
— তার মানে হাসপাতালে খুনিটা ছিল।
— হুমম কিন্তু তাকে ধরার আগেই পালিয়ে যায়।
— এতো কিছু হয়ে গেল আর আমাকে কিছুই জানালেন না।
— ঘটনাটা ২ঘন্টা আগে ঘটে। আমি তোমায় ফোন দিয়ে ছিলাম কিন্তু মোবাইল টা বন্ধ পাই।

— কিন্তু আমার মোবাইল তো অন ছিল। ওয়েট স্যার। তার মানে আমার ব্যাগে অপটিক্যাল ফাইবার ছিল। যার কারনে আমার মোবাইলেরর নেটওয়ার্ক ডাউন ছিল।

— মানে?

তারপর আমি স্যারকে সবটা বললাম। স্যারও অবাক হয়ে গেল। তাহলে আমাদের শেষ টার্গেট রফিক সাহেবকে বাঁচাতে হবে। কিন্তু একটা প্রশ্ন রয়ে গেল আর সেটা হলো, খুনি যদি দুই ঘন্টা আগে আব্দুল সাহেবের উপর আক্রমন চালায় তাহলে আমার ব্যাগে অপটিক্যাল ফাইবার রেখে ছিল কখন? আমি স্যারের সাথে কথা শেষ করে রফিক সাহেবকে ডাকি। যদিও ওনারা ঘুমিয়ে পরেছে কিন্তু ওনাকে আব্দুল সাহেবের হত্যার খবরটা দেওয়া দরকার। আমি নিজেই ওনার রুমে গিয়ে ডাক দিলাম। ওনিও আমার সাথে কথা বলতে বাইরে আসলো।

— রাজ এতো রাতে ডাকলে? কোন সমস্যা?
— আপনার বন্ধু আব্দুল সাহেব কিছুক্ষণ আগেই মারা গেছে।
— কী?(ওনি অনেকটা ভয় পেল)
— আর আশা করছি খুনির আগামী টার্গেট আপনি। কারন খুনটা সিরিয়ালি হচ্ছে।
— তো এখন বাঁচার উপায় বলো?
— আপাতত আপনাদের ৫ জন বন্ধুর অতীতটা আমায় বলেন। যদি আপনাদের সবার কোন শত্রু থেকে থাকে?
— আমাদের কোন শত্রু নেই?
— একটু ভেবে দেখুন রফিক সাহেব। নয়ত কেঁচো খুঁজতে না সাপ বের হয়?
— না রাজ তেমন কিছুই না। (খুব ভয় পেয়ে গেল)

— আপনারা ৫ জন টানা১০ বছর ধরে বাংলাদেশের সেরা বুদ্ধিজীবী মনোনীত হয়েছেন। কিন্তু তবুও এই দশ বছরে আপনাদের কোন শত্রু নেই?

— না রাজ নেই।
— ওকে তাহলে আর কি? যদি কোন শত্রুই না থাকে তাহলে তো ঠিকই আছে তবে ভেবে দেখুন এখনো সময় আছে।
— হুমম

আমি ওইখান থেকে চলে আসি। পুরো বিষয়টা এবার রহস্যে ঢেকো গেল কিন্তু আমি এখনো একটা রহস্যও ভেদ করতে পারি নি। কিন্তু খুনি যেই হোক না কেন?আগামী পরশু দিন রফিক সাহেবের উপর আক্রমণ করার আগে তাকে খুঁজে বের করবো।

আচ্ছা আমি কোন ছায়ার পিছনে ঘুরছি না তো। ” আমার চোখের সামনে খুনির নাম ” তাহলে কে হতে পারে খুনি? ও আমি পাগল হয়ে যাবো।

রাতে কখন যে ঘুমিয়ে পরেছি খেয়াল ছিল না। সকালে ৯টা ঘুম থেকে উঠলাম। তখন দেখি বিছানায় অরুন নেই। হয়ত বাইরে কোথাও গেছে। আমি আমার মোবাইলটা চার্জে লাগিয়ে বিছানায় বসে রইলাম।

সারাদিন কাটিয়ে দিলাম কিন্তু কোন দিক করতে পারলাম না।
রাতে আমি আর অরুন রফিক সাহেবের সাথে ড্রয়িং রুমে বসে আছি কারন আগামী ২৪ ঘন্টার মাঝেই রফিক সাহেবের উপর আক্রমন হতে পারে। রফিক সাহেবের বাসায় পুলিশ পাহারা দ্বিগুণ করা হয়েছে। আমি তখন আবার রফিক সাহেবকে প্রশ্ন করলাম…

— আপনি কি সত্যি জানেন না আপনার শত্রু কে? নাকি কিছু লুকাতে চাচ্ছেন।
— আমি সত্যি বলছি রাজ।

— কিছু ছোট ছোট মিথ্যার আড়ালেও বড় বড় মিথ্যা লুকিয়ে থাকে মিস্টার রফিক। (অরুন বলল)
কিন্তু অরুনের কথা বলার ধরনটাই বদলে গেল। ও তো খুব শান্ত কিন্তু এমন ভাবে তো কথা বলে না।তখন রফিক সাহেব বলল…

— তুমি কি বুঝাতে চাইলে অরুন?

— আমার বুঝানোর কথা শুনে লাভ নেই। যদি আপনি আপনার অতীতটা বলে দেন তাহলে হয়ত আপনার মৃত্যু নাও হতে পারে।

— কি সব বলছো অরুন?( আমি অরুনকে ধমক দিলাম)

কিছুক্ষনের জন্য সবাই চুপ হয়ে গেল। কিন্তু আমি সেই মুহূর্তে একটা বললাম যা শোনার জন্য প্রস্তুত ছিল না। আর কথাটা ছিল…

— কেন তুমি ৪ জন বুদ্ধিজীবীকে মারলে অরুন?

সবাই অবাক হয়ে গেল কিন্তু অরুন নিচের দিকে তাকিয়ে চোখের জল ফেলছে। তারপর অরুন চোখটা মুছলো আর রফিক সাহেবের দিকে তাকালো।

— রফিক সাহেব আপনি আপনার অতীতটা বলবেন নাকি আমি বলবো?
— কিসের অতীত?

— আপনাদের ৫ জনের বন্ধু ব্রজলাল সাহেবের কথা মনে পরে। যার আবিষ্কার করা থিউরি আর তার লেখা ২৫টা আর্টিকেল আপনারা নিজের নামে চালিয়েছেন।

— মিথ্যা কথা। ওই সব আমাদের লেখা ছিল।
— নিজের মৃত্যুকে চোখের সামনে দেখেও মিথ্য বলতে লজ্জা করছে না।

— বলছি তবু আমায় মেরো না। ব্রজলাল আর আমরা বাকি ৫ জন মিলে দেশের হয়ে একটা প্রকল্প হাতে নেই। কিন্তু সেই প্রকল্পের জন্য কিছু স্পেশাল থিউরির প্রয়োজন ছিল। যা সবার আগে ব্রজলাল আবিষ্কার করে। কিন্তু হাসান আর নয়নের কথায় আমরা ব্রজলালকে মেরে ফেলি। তার খাবারে এস্টাযোলাম ঘুমের ঔষুধ মিশিয়ে দেই। যার কারনে ওর ব্রেইন স্ট্রোক করে।কিন্তু এতে আমার একদম হাত ছিল না।

— ওদের সাথে তো আপনিও ছিলেন তাই না রফিক সাহেব।
— আমায় মাফ করে দাও বাবা।
— চিরতরেই মাফ করবো তবে আপনাকেও আমার বাবার কাছে পাঠিয়ে। কারন ব্রজলাল আমার বাবা ছিল।
— অরুন তুমি এটা করো না। এতে তোমার বাবার আত্না শান্তি পাবে না বরং কষ্ট পাবে। ( আমি বললাম)
— রাজ দা আমায় আটকাবেন না।
— অরুন যাই হোক, আমাকে তুমি এই ভাবে ব্যবহার করবে সেটা আমার জানা ছিল না।

— রাজ দা আমি খুন করেছি তবে প্রত্যেকটা খুনেই প্রমান রেখে গিয়েছি। যেন তুমি আমায় ধরতে পারো কিন্তু তুমি সেটা পারো নি।

— অরুন তোমায় আমি গতকালই ধরেছি কিন্তু বুঝতে দেই নি। প্রথমত তুমি সবাইকে এস্টালোযাম ঔষুধ দিয়ে মেরেছো। আর আমি এখানে আসার পর যে একটা ফোন আসে সেটা তুমি না। কারন তুমি আমার সাথেই ছিল। তবে সেই ফোনটা তুমিই অন্য একজনকে দিয়ে করিয়েছো। আর আগ্রাবাদে নিহান সাহেবের খুন তুমিই করিয়েছো। আর নিহান সাহেবের ঘরে তুমিই এস্টাযোলাম ঔষুধ টা রেখে আসো। তার মানে এই দাঁড়ায় যে খুন গুলো তুমি একা করছো না বরং আরো ২ জন তোমার সাথে আছে। তারা কে?

— আমারই দুই ভাই জয় আর বিজয়।
— কিন্তু তোমার তো কোন ভাই নেই? তোমার তো একটা বোন আর সেটা নিত্তিয়া।
— পুরোটাই নাটক। নিত্তিয়া আমার কোন বোন না আর ওদের পরিবারের সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমরা

ভাইয়েরা যখন প্ল্যান করি ওদের ৫ জনকে মারবো তখন আমরা জানতাম আমাদের সব চেয়ে বড় বাধা হবেন ডিটেকটিভ রাজ। তাই আপনার ব্যাপারে সব খুঁজ নিতে শুরু করি আর জানি আপনি নিত্তিয়াকে ভালবাসেন। তাই একবার নিত্তিয়ার পরিবারকে সমস্যায় ফেলে আমি ওদের বাঁচাই আর নিজেকে অনাথ পরিচয় দিয়ে ওদের বাড়িতে থাকা শুরু করি। তারপর যখন আপনার সাথে নিত্তিয়ার বিয়েটা ঠিক হয় তখন আমি ইচ্ছাকৃত ঝগড়া করে আপনার বাসায় আসি আর আপনার সাথে এই পর্যন্ত আসি।আপনি প্ল্যান করে আমাকে আপনার সাথে আনেন নি। আমি নিজেই সম্পূর্ণ প্ল্যান করেছি। আর আজও আপনি আমায় ধরতে পারতেন না যদি আজ সকালে আমার ব্যাগে এস্টাযোলাম ট্যাবলেটের পাতা না পেতেন। প্রথম দুইটা খুন আমি নিজেই করি আর বাকি দুইটা জয় আর বিজয় করে আর এখন শেষ খুনটা আমিই করবো। তাও একই পদ্ধতিতে।

— অরুন তুমি এটা করতে পারো না।
— কে বলল পারি না? এই যে দেখেন..

অরুন পকেট থেকে একটা ইনজেকশন বের করে সাথে সাথে রফিক সাহেবের গলায় বসিয়ে দিলো। আমি আটকানোর চেষ্টার আগেই সম্পূর্ণ ঔষুধ টা দিয়ে দিলো। সবাই মিলেও কিছু করতে পারলাম না। আমি রাগে অরুনের গালে চড় বসিয়ে দিলাম।

— এটা কি করলি অরুন?

— রাজ দা আমি আমার টার্গেট পূরন করেছি। এবার আমাকে পুলিশের হাতে দিয়ে দাও। আর আমার ভাইয়েরাও এতক্ষনে আত্মসমর্পণ করেছে। তোমার পকেটে একটা অপটিক্যাল ফাইবার আছে। যার কারনে তোমার কাছে কোনো ফোন আসছে না। আমার ব্যাগ থেকে যে ঔষুধের পাতা নিয়েছো এর মাঝে একটা অপটিক্যাল ফাইবার ছিল। এটা আমি ইচ্ছা করেই করেছি। এটা না করলে অফিস থেকে তোমার ফোন আসতো আর তুমি আমায় ধরে ফেলতে। এখন হাজার চেষ্টা করলেও রফিক সাহেবকে বাঁচাতে পারবে না। কারন ৫ মিনিটের মাঝে ওনি স্ট্রোক করবে।

— অরুন তুই এটা কি করলি? আমাকে একবার বলতে পারতি?
— আমায় পারলে মাফ করে দিও।
— হুমম

তারপর অরুনকে পুলিশের হাতে তুলে দিলাম। আর রফিক সাহেবের মৃত্যুটাও আটকাতে পারলাম না। তারপর আমি আমার নিজের গন্তব্যে এগিয়ে গেলাম। অরুন তুই হেরে গিয়েও জিতে গেলি আর আমি জিতে গিয়েও হেরে গেলাম।
তারপর আমার পকেট থেকে অপটিক্যাল ফাইবার টা ফেলে দিয়ে স্যারকে ফোন দিয়ে সব বললাম। স্যার বলল ওনি কিছুক্ষন আগেই সবটা জেনেছেন। কিন্তু আমার উপর কোন রাগ দেখায় নি কারন যাদের মারা হয়েছে তারা সমাজের শত্রু ছিল। আমিও নিজের শহরের দিকে পা বাড়ালাম।

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক
DMCA.com Protection Status
loading...

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত