বর পরিবর্তন

বর পরিবর্তন

সকালে ঘুম থেকে উঠে রেডি হলাম কলেজ যাবো বলে..তাই দ্রুত নাস্তা সেরে নিলাম।যখন বাসা থেকে বের হবো তখনি বাবার নাম্বার থেকে ফোন আসলো…

:-হ্যালো বাবা..কেমন আছো?
:-হুম ভালো আছি তোরা কেমন আছিস?
:-আমার ভালো আছি..
:-কি করছিস এখন?
:-এইতো কলেজ যাবো..
:-মেঘ(দাদা) কোথাই?
:-দাদা অফিস চলে গেছে..

:-ওহ..মেঘকে ফোনে পেলাম না।তাই তোকেই ফোন দিলাম মেঘের জন্য মেয়ে দেখেছি..মেয়ে আমাদের পছন্দ।আমরা বিয়েও ঠিক করেছি।এই মাসের ২৬তারিখ বিয়ে।মেঘকে বলবি।আর দুই ভাই ২৩ তারিখ বাড়িতে আসবি..

:-বাবা আমিতো আসতে ২৩ তারিখ যেতে পারবনা..আমার ভাইবা পরিক্ষা আছে।ভাইয়াকে পাঠিয়ে দিবো।
:-আচ্ছা..তুই কবে আসতে পারবি?
:-আমি বিয়ের দিন সকালে আসবো..
:-আচ্ছা মেঘকে বলিস..
:-আচ্ছা..মা কেমন আছে?
:-ভালো আছে..কথা বলবি?
:-না এখন কলেজ যাবো..রাতে ফোন দিবো
:-আচ্ছা..সাবধানে যাবি
:-আচ্ছা..ভালো থেকো

বাবার সাথে কথা শেষ করে..কলেজের দিকে রওনা দিলাম।

এবার পরিচিত হই..আমি চয়ন।আমারা দুই ভাই।বাবা,মা আর দুইভাইয়ের ছোট্ট পরিবার আমি অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র..

আমার দাদা হলো মেঘ..ও পড়াশোনা শেষ করে চাকরি করছে।আমারা দুইভাই একসাথে থাকি..আর আমাদের গ্রামের বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার কালীগজ্ঞ থানাতে..

সন্ধার দিকে দাদা বাসাতে আসলো..আমি পড়ছিলাম।দাদা ফ্রেশ হয়ে এসে আমার পাসে বসলো..

:-কিরে পড়াশোনার কি খবর?
:-এইতো চলছে..বাবা সকালে ফোন করেছিলো..
:-কি বলেছে?

:-তোকে ফোনে পাইনি..তাই আমার কাছেই বলেছে..এই মাসের ২৬ তারিখ তোর বিয়ে..২৩ তারিখ তোকে বাড়ি যেতে বলেছে।

:-হঠাৎ করেই বিয়ে ঠিক করে ফেললো কেনো?
:-বাবার কাছে ফোন করে শুনে দেখ
:-না থাক..তুই পড়
:-হুম..

আমরা দুই ভাই ছোট থেকে অনেক কষ্টে বড় হয়েছি।কারন আমরা অনেক গরীব ছিলাম..তাই আমাদের অনেক কষ্টে বাবা এতদূর এনেছে।তাই বাবার সব সিন্ধান্ত আমারা মেনে নিই..

দেখতে দেখতে দাদার বিয়ের দিন এগিয়ে আসলো…আজ ২৩ তারিখ।তাই দাদাকে বাসস্টান্ডে দিতে এসেছি..

:-নিজের খেয়াল রাখিস ভাই..আর ২৬তারিখ চলে আসিস
:-আচ্ছা..বাড়ি গিয়ে বৌদির একটা পিক পাঠিয়ে দিস
:-আচ্ছা দিবো..আসি
:-সাবধানে যাইস..
:-হুম..তুইও সাবধানে থাকিস

অতঃপর দাদাকে বাসে তুলে দিয়ে আমি বাসাতে ফিরে এলাম..সামনে পরীক্ষা তাই পড়তে বসলাম কিছুক্ষন পড়ার পর দাদার ফোন আসলো..

:-হ্যা দাদা বল
:-আমি মাত্রই বাড়িতে পৌছালাম..
:-রাস্তায় কোন অসুবিধা হয়নিতো?
:-নাহ
:-বৌদির একটা ছবি পাঠিয়ে দে..কারো থেকে নিয়ে
:-আচ্ছা..মায়ের সাথে কথা বলবে
:-মায়ের কাছে ফোন দে
:-নে কথা বল..
:-কেমন আছিস পুচকু
:-এইতো মা ভালো আছি..তুমি ভালো আছো?
:-আমার আর ভালো থাকা..সারাদিন কাজ করে মরছি
:-আর মাত্র কয়েকদিন।তারপর তোমার বৌমা চলে আসবে।তখন তোমার মুক্তি
:-হু..তুই মেঘের সাথে আসলিনা কেনো?
:-আমার পরীক্ষা আছে..আমি বিয়ের দিন চলে আসবো
:-আচ্ছা..

মায়ের সাথে কথা বলে..খাওয়া দাওয়া করে ঘুমিয়ে গেলাম পরেরদিন পরিক্ষা দিয়ে মার্কেট গেলাম..মার্কেট থেকে..একটা পাঞ্জাবী কিনলাম।

সন্ধায় দাদা ফোন করলো..

:-হ্যালো পুচকু(মেয়ে কন্ঠ)
:-কে বলছেন?আর দাদার ফোন আপনার কাছে কেনো?
:-আমি তোমার বৌদি
:-ওহ..বৌদি কেমন আছেন?
:-এইতো ভালো আছি..তুমি?
:-আমিও ভালো আছি..তা দাদার ফোন আপনার কাছে কেনো?
:-তোমার দাদা আমার সাথে দেখা করতে এসেছে..
:-ওহ..তাহলে কথা বলুন আপনারা
:-আচ্ছা..

অতঃপর হবু বৌদির সাথে কথা শেষ করলাম..কিছুক্ষন পর দাদা বৌদির একটা ছবি পাঠালো আমাকে..বেশ সুন্দর দেখতে

অতঃপর বিয়ের দিন বাড়িতে গেলাম..সন্ধায় হবু বৌদিদের বাড়ি রওনা হলাভ।দাদা আর আমি এক গাড়িতে।বাকিরা অন্য গাড়িতে..

দাদার থেকে জানতে পারলাম বৌদির একটা বোন আছে আমার বয়সী..বৌদি আমার থেকে বছর ২এর বড়…
বিয়ে বাড়িতে এসে সবাই যখন বর নিয়ে ব্যাস্ত তখন আমি গেলাম বৌদির রুমে।গিয়ে দেখি বৌদি একাই আছে..আর বাকিরা বরের গেটে..

:-কেমন আছেন বৌদি?
:-(চুপ করে তাকিয়ে আছে আমার দিকে)
:-ও বৌদি কোথাই হারালেন?
:-এইতো..কি যেনো বললে
:-কেমন আছেন?
:-হুম ভালো..তুমি কেমন আছো?

:-আমিও ভালো..তবে আপনার বোনকে দেখলে আরো ভালো হয়ে যাবো।কোথাই আপনার বোন?
:-কেনো আমাকে দেখে ভালো লাগছেনা?

:-হ্যা তবে আপনাকে দেখার জন্য দাদা আছে..কিন্তু আপনার বোনকে দেখার কেউ নাই।তাই ভাবছি সেই দায়িত্বটা আমিই নিই

:-হুম..দেখো বাইরে আছে..

ওহ সরি বৌদির নাম বলা হয়নি..বৌদির নাম পিংকি আর বৌদির বোনের নাম রিংকি..
অতঃপর বাইরে এসে রিংকিকে খুজে পেলাম..রিংকি দেখতে বৌদির মতোই..এবার রিংকির সাথে গল্প করছিলাম।মানে পটানোর চেষ্টা করছিলাম..

একদম শেষ পর্যায়ে ফোন এসে ব্যাঘাত ঘটালো..

:-হ্যা দাদা বল
:-কোথাই তুই?
:-এইতো এইদিকটাই আছি..
:-এক্ষুনি বিয়ের মন্ডপের কাছে আয়
:-কেনো?
:-বাবা ডাকছে তোকে
:-আচ্ছা আসছি..
অতঃপর বেয়াইকে পটানো বাদ দিয়ে বাবা আর দাদা কাছে গেলাম..
:-পিংকি বিয়ে করবেনা বলছে(বাবা)
:-কেনো?
:-পিংকির তোকে পছন্দ হয়েছে..তাই সে তোকে বিয়ে করতে চাইছে।
:-এটা কিভাবে সম্ভব?
:-পিংকির বাবার সাথে কথা বলেছি।তিনি বললো পিংকিকে তুই বিয়ে কর আর রিংকির সাথে মেঘ বিয়ে।
:-তো তুমি কি বললে?

:-আমি বলেছিলাম রিংকির সাথে মেঘের বিয়েটা হোক।পরে পিংকি আর তোর ব্যাপারে ভেবে দেখবো।কিন্তু পিংকি বলেছে বিয়ে হলে দুজনের একসাথেই হবে।না হলে হবেনা।তাই ভেবেছি তোদের দুজনেরই একসাথে বিয়েটা সেরে ফেলি?

:-তোমার যা ভালো মনেহয়
:-হুম।যা গিয়ে রেডি হয়ে নে
:-আচ্ছা

অতঃপর হবু বৌদি থেকে বৌ..আর শালী হলো বৌদি।মানে বর-বৌ পরিবর্তন।এতক্ষন যাকে পটালাম সে এখন আমার বৌদি…

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত