বন্ধুত্ব থেকে প্রেম

বন্ধুত্ব থেকে প্রেম

:-দোস্ত তোকে একটা কথা বলি?
:-হ্যা বল(রিনি)
:-আমার মনে হচ্ছে আমি তোকে ভালোবাসি
:-থাপ্পর দিয়ে তোমার 22টা দাত ফালাই দিবো..তোমার এখন ভালোবাসার ইচ্ছা হচ্ছে?
:-হ্যা দোস্ত…
:-কিন্তু দোস্ত আমি যে তোকে ভালোবাসতে পারবোনা..
:-কেনো?
:-একসাথে দুজনকে কিভাবে ভালোবাসবো?
:-মানে?
:-আমি একজনকে ভালোবাসি..
:-আমাকে বলিস নাই কেনো?
:-তোকে বললেতো তুই ব্রেকাপ করাই দিতি আমাদের..
:-কিন্তু মামা..এখন যে তোমার বি এফ এর সাথে না দেখা করালে আন্টিকে বলে দিবো
:-আচ্ছা দেখা করাবো..কিন্তু কথা দে আমাদের ব্রেকাপ করাবিনা?
:-আচ্ছা করাবোনা..এখন বল দেখা করাবি কখন?
:-বিকালে একটু আগে প্রাইভেটে আসবি..ও আমাদের আগের ব্যাসে পড়ে
:-ওকে..বাড়ি যাবি নাকি থাকবি?
:-হ্যা যাবো..চল
:-চল..
একক্ষন যাদের ভেতর কথা চলছিল তারা দুজন হলো একে অপরের বেষ্টু..ছেলেটা আমি(চয়ন) আর মেয়েটা রিনি..আমরা অনার্স ২য় বর্ষে পড়ি..পাশাপাশি গ্রামে থাকি..আজকে কলেজে রিনিকে প্রপোজ করালাম তিনি কি বললো তাতো শুনলেন..
বাড়ি এসে একটা কড়া করে ঘুম দিলাম..তারপর ঘুম থেকে উঠে প্রাইভেটে গেলাম..দুর থেকে দেখতে পেলাম..
রিনি একটা ছেলের সাথে কথা বলছে..মনেহয় ওটাই ওর বয়ফ্রেন্ড..পাশের দোকান থেকে তিনটা ললিপপ নিলাম..তারপর দৌড়ে ওদের কাছে গিয়ে ছেলটার দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়ে বললাম
:-হ্যালো ব্রাদার..আমি চয়ন
:-হ্যালো..আমি সুমন
:-নিন ললিপপ খান..রিনি তুইও নে।
তারপর তিনজনে তিনটা ললিপপ খাওয়া শুরু করলাম…
:-সুমন ও হলো আমার বেষ্টু..আর দোস্ত এই হলো…(রিনি)
:-এই হলো আমার হবু দুলাভাই..তাইতো?
:-হুম..
:-দোস্ত আমি ভিতরে যাচ্ছি..তোদের কথা বলা শেষ হলে চলে আসিস
:-ওকে…
ওদেরকে রেখে আমি প্রাইভেট স্যারের বাসাতে প্রবেশ করলাম..রিনিও আসলো আমার রুমে..
এভাবেই চলছিলো আমাদের দিনকাল..তবে রিনি এখন আমার সাথে আগের মতো মেলামেশা করেনা..হয়ত ওর বয়ফ্রেন্ডের সাথে সময় কাটায়..এতে একদিক থেকে আমার ভালোই হয়েছে..আগে রিনির সাথে ঘুরেফিরে যে সময় ব্যায় করতাম..এখন সেই সময়টা এখন পড়ে ব্যায় করি..১মাস পর পরীক্ষা পড়াশোনা করাটাও জরুরি..যদি আমার আর রিনির সম্পর্ক আগের মতো থাকতো তাহলে..পড়ার সময় পেতামই না..কারন রিনি সবসময় আমাকে দৌড়ের উপর রাখতো..এটা কর,ওটা কর,ওখানে যাবো ইত্যাদি..
পরীক্ষা অনেক ভালোই হয়েছে..কারন অনেক পড়াশোনা করতে পেরছি..রেজাল্টের আগে বেশ কয়েকদিন বন্ধ পেয়েছি..
তাই ভাবছি সময়টা কাটানো যায় কিভাবে?হটাৎ একটা বুদ্ধি মাথায় আসলো..শার্ট গায়ে দিয়ে চলে আসলাম মার্কেটে..১০টা টেডি বিয়ার আর একটা ১পুথি পিস্তল কিনে বাড়িতে চলে আসলাম..
আমার রুমের পাশে একটা ফাকা ঘর আছে সেটাতে ১০টা টেডিবিয়ার গুলো সাজিয়ে..আমি পুতি পিস্তল হাতে নিয়ে পলাশির যুদ্ধে লেগে গেলাম..প্রতিপক্ষ আমার কিছুই করতে পারবেনা কারন নবাব সেনাপতি মীর জাফর আমার দলে..হু হা হা হা..
প্রতিদিন এভাবেই সময় ব্যায় করতাম..আর সন্ধায় ব্রিজে আড্ডা দিয়েই দিন কেটে যেতো..
তো এভাবেই একদিন ঘরে পলাশির যুদ্ধ করছিলাম..হঠাৎ করে রিনি যুদ্ধের ময়দানে প্রবেশ করলো?
:-এই চয়ন বাচ্ছাদের মতো এসব কি করিস?
:-জাহাপনা আপনি কোনপক্ষের?আপনার আগমনের হেতু?
:-ফাজলামি রেখে বাইরে আয় কথা আছে..
:-যুদ্ধ অসমাপ্ত রাখিয়া আমি ময়দান ছেড়ে কোথাও যেতে পারবোনা..
:-করাচ্ছি তোর যুদ্ধ
রিনি দৌড়ে এসে আমার হাত থেকে পিস্তলটা ফেলে দিয়ে..হাত ধরে টেনে এনে আমার রুমে বসালো..
:-দোস্ত তাড়াতাড়ি রেডি হ
:-কেন?আর হঠাৎ আমার বাসায় কি মনে করে?
:-অনেকদিন তোর সাথে দেখা হয়নি..তাই দেখা করতে আসলাম..শার্টটা গায়ে দিয়ে চল ঘুরতে যাবো
:-মামা ডারমি কুচ কালা হে?
:-নেহি সব সাদা হে..চলতো..
রিনি এক প্রকার জোর করেই আমাকে নিয়ে আসলো..ছাতা মিয়া না ডাল মিয়া?থুক্কু পাতা মিয়ার পার্কে..পার্ক কয়েকটা লিচু আর আম গাছ ছাড়া কিছুই নাই..আবার ৫০টাকা করে টিকিট..আমার ১০০টাকা জলে গোলো..রিনি আমাকে টানতে টানতে একটা পার্কের বেন্স এনে বসালো..
লিচু গাছ থেকে কয়েকটা লিচু পেড়ে খেতে শুরু করলাম যদি কিছুটা টাকা অসুল করা যায়..পার্ক ফাকা তাই কেউ দেখার চান্স নাই..তাই লিচু পাড়ছি আর খাচ্ছি..
:-এই ঢেড়শ কিছু বলবি নাকি চুপ করেই থাকবি?হুদাই বসাই রাখছিস?
:-ভ্যা ভ্যা ভ্যা(কেদে দিলো)
:-এই ছেড়ি কাদিস কোন সুখে?
:-সুখে কেউ কাদে হতচ্ছাড়া?
:-তা হলে কোন দুঃখে কাদছিস?
:-দোস্ত সুমন….
:-হ্যা সুমন কি?
:-সুমন আমাকে ছেড়ে ওর পরিবারের সাথে ইন্ডিয়া চলে গেছে..
:-তো কি কাদার কি হলো?
:-আমি ওকে খুব ভালোবাসি..আর ও আমাকে ছেড়ে চলে গেলো..
:-আমিও তোকে ভালোবাসি..তুইতো আমাকে ছেড়ে চলে গেছিলি..তো আমি কি কাদতাম?কাদতাম না..আরো বরং ভালো ছিলাম..তুই জ্বালাতন না করাতে পরীক্ষাটাও অনেক ভালোভাবে দিতে পেরছি..
কথা বলেই পাশে দেখলাম রিনি রেগে ফায়ার?আর মুহুর্তের ভিতরেই আমার উপর কিলঘুষির বর্ষন শুরু করে দিলো
:-দোস্ত হাত পা ছোড়া বন্ধ কর লাগছে..
:-চয়ন তোর ভালোবাসা আমি এখন বুঝতে পেরেছি..তুইকি আমাকে একটিবার ভালোবাসার অধিকার দিবি?
:-সম্ভব না..তুই সাথে থাকলে আমার পরবর্তী পরীক্ষাগুলা আবার খারাপ হবে..আর তাছাড়া তোর মনটা এখন আর ইনটেক নাই অন্য একজনের ব্যাবহৃত..
:-ফাজিল তোকে আজকে মেরেই ফেলবো..আগে বল ভালোবাসি…(আবার কিলঘুষির বর্ষন)
:-মরে যাবো কিন্তু?
:-তাহলে বল ভালোবাসি
:-আচ্ছা বলছি…আই লাভ ইউ ছ্যাকাখোর
:-তবেরে শয়তান..
এবার আমি দৌড় দিলাম..আর রিনি আমার পিছু পিছু ছুটছে….অবশেষে আমি ইহাকে পাইলাম..

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত