বেকার স্বামী

বেকার স্বামী

মেহা খুব সুন্দরী না হলেও মোটামুটি সুন্দরী।একটা কোম্পানির এমডি।পারবারিক অবস্থাও বেশ ভালো।মেহা যে রাস্তা দিয়ে অফিসে যায় প্রতিদিন একটা ছেলেকে দেখতে পায়।মেহা ওই রাস্তা দিয়ে যখন হেটে যাই ছেলেটাও তার পিছু পিছু যায়।কিন্তু মেহা আজ ২দিন ধরে ছেলেটাকে দেখছে না।ছেলেটাকে মিস করছে মেহা।প্রতিদিন যখন ছেলেটার সাথে দেখা হত।তখন দুজনের ভিতরে চোখাচোখি হত।দুজন দুজনকে দেখে মুচকি হাসি দিতো।ব্যাপরটা মেহা বেশ ইনজয় করতো।

২য় দিন ছেলেটাকে না দেখতে পেয়ে মেহা বাড়িতে চলে আসলো।এবং ভাবলো কাল যদি ওই শয়তানটাকে দেখতে পাই।তবে আচ্ছা করে বকা দিবো।আমার মনটা চুরি করে ওনার পাত্তা নেই।কাল তুমি আসো দেখাবো মজা..
পরেরদিন মেহা পুরো প্রস্তুতি নিয়ে গেলো..আজ ছেলেটাকে চরম বকা দিবে।মেহা সেই রাস্তায় আসতেই দেখতে পেলো ছেলেটা কয়েকজনের সাথে আড্ডা দিচ্ছে..তাই মেহা ভাবলো আজ কিছু বলবেনা।কিন্তু পরেক্ষনেই সিন্ধান্ত পাল্টে নিলো।এবং ছেলেটার কাছে গিয়ে তার শার্টের কলার ধরে নিয়ে একটা ফাকা জায়গায় এনে সামনে দাড় করালো..

ওহ ছেলেটার পরিচয় দেওয়া হয়নি..ছেলেটা হলাম আমি..নামতো শুনাহি হোগা

তবুও বলি..আমি চয়ন।পড়াশোনা শেষে।বর্তমানে বেকার কোম্পানিতে চাকরি করি।ঢাকা শহরে পড়ে আছি শুধু মেহাকে প্রতিদিন একপলক দেখার জন্য..দুইটা টিউশনি করে ভালোই চলে যায়..

:-এই ছেলে নাম কি?(মেহা)
:-আ আ আমার?
:-নাহ..আমার।
:-মেহা চৌধুরি
:-ফাজিল তোমার নাম বলো..
:-আমি চয়ন সমাদ্দার
:-এই দুইদিন কোথায় ছিলে?
:-শরীরটা একটু খারাপ ছিলো..
:-এখন শরীর কেমন?
:-এখন ভালো..
:-তা আমাকে ফলো করা হয় কেনো শুনি?
:-আপনাকে ভালোওওওওও…
:-বলার সাহস নাই..আবার আমার মন চুরি করে বসে আছে
:-আমি তোমাকে ভালোবাসি মেহা..(হাটু গেড়ে ফুল নিয়ে..আজ প্রস্তুতি নিয়েই এসেছিলাম)
:-মন যেহেতু চুরি করেছো..তাহলে তো আর ফিরিয়ে দেওয়া যাবেনা..
:-তারমানে তুমি রাজি?
:-রাজি না হয়ে উপায় আছে..আর এখন যাই..আর শুনো এখন থেকে বিকালে নিতে আসবে
:-আচ্ছা আসবো..নাম্বারটা দাও
:-০১৭১২৩*****
:-বিকালে কল দিবো..
:-আচ্ছা বাই..

আমাদের সম্পর্কটার শুরু এভাবেই হয়েছিল..প্রতিদিন মেহাকে নিয়ে আসা আর নিয়ে যাওয়া করতে হতো আমাকে।আর রাত জেগে কথা বলাতো থাকতই..আমাদের সম্পর্কের তিনমাস পর মেহা একদিন বললো..

:-চয়ন বাবা তোমার সাথে দেখা করতে চাই
:-কেনো?
:-আমি আমাদের সম্পর্কের কথা বাবাকে বলে দিয়েছি..
:-তোমার বাবা মেনে নিয়েছে আমাদের সম্পর্ক?

:-হুম..আমি ছোট থেকেই বাবার ইচ্ছামতো চলেছি..আমার ইচ্ছা ছিলো ডাক্তার হবো।কিন্তু বাবার কথায় অনার্স&মাস্টার্স করে।বাবার কোম্পানির দায়িত্ব নিয়েছি।আর আমি বাবাকে বলে রেখেছিলাম আমি আমার পছন্দের ছেলেকে বিয়ে করবো..

:-কিন্তু এখনো আমি বেকার..বিয়ের পর তোমাকে খাওয়াবো কি?
:-কেনো আদর খাওয়াবা..
:-আদর দিয়ে পেট ভরবে?
:-হুম..তুমি শুধু আদর খাওয়ালেই চলবে।আর আমিতো চাকরি করি তাইনা?
:-কি বলো?বৌয়ের টাকায় বসে খেতে লজ্জা করবেনা..

:-লজ্জা করবে কেনো?নারী পুরুষ সমান অধিকার।তাছাড়া সব ছেলেরা বেকার মেয়েকে বিয়ে করতে পারলে আমি কেনো বেকার ছেলেকে বিয়ে করতে পারবনা?সংসারে একজন উপার্জনকারী থাকলেই যথেষ্ট..

:-তোমার সাথে কথায় পারা যাবেনা..
:-হুম..

অতঃপর মেহার সাথে ওদের বাসাতে আসলাম..ওর বাবার সাথে দেখা করলাম..তিনি আমার বাবা মাকে আসতে বললেন..তারপর দুই পরিবারের সম্মতিতে আমাদের বিয়েটা হয়ে গেলো..বিয়ের পর মেহার বাবা আমাদের আলাদা একটা ফ্লাট দিলেন।ভালোই সুখে চলছিলো আমাদের সংসার..কিন্তু সুখটা বেশিদিন স্থায়ী ছিলনা..

বিয়ের পর থেকে বাড়িতে রান্না বান্না সহ সকল কাজ আমিই করতাম..আর মেহাকে ফোন করে খোজ খবর নিতাম সময়..

একদিন মেহাকে অফিস টাইমে ফোন দিলাম..১ম বার রিসিভ হলোনা কিন্তু ২য় বার রিসিভ হলো..

:-হ্যালো পাখি..

:-বারবার ফোন দিচ্ছো কেনো?জানোনা এখন অফিস টাইম..বিরক্ত করা ছাড়া কাজ নাই?বসে বসে খাও বুঝবে কি করে টাকা উপার্জন করা কত কষ্ট লাগে..খালি পারো সবসময় ঢং করতে..

মেহার এমন কথা শুনে আমি হতবাক হয়ে গেলাম..আমাদের এতদিনের সম্পর্কে কোনদিন মেহা এমন কথা বলেনি..আর সত্যিই তো আমি বসে বসে খাই..আর নেহাকে বিরক্ত করি..তাহলে কারো বিরক্তির কারন হয়ে থাকবনা..তাই সব কিছু গুছিয়ে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম..বাসের ভিতরে বসেই কথাগুলো ভাবছিলাম..
টুং টাং শব্দ করে ফোনে ম্যাসেজ আসলো..ওপেন করে দেখি মেহার ম্যাসেজ..”সরি বাবু..আসলে একটা গুরুত্বপূর্ন ডিল হাতছাড়া হয়ে গেছিলো..তাই রেগে ছিলাম।এজন্য তোমাকে খারাপ কথা বলে ফেলেছি”

আমি প্রতিউত্তরে লিখলাম..”সব সমস্যার সমাধান সরি তে হয়না।আর রাগ করলে মুখ থেকে সত্য কথাই বের হয়..চিন্তা করোনা খুব তাড়াতাড়িই মুক্তি পেয়ে যাবে”

ম্যাসেজটা সেন্ড করেই সিমটা পাল্টে নিলাম..

মেহাকে কখনো গ্রামে নিয়ে আসিনি আর বাড়ির কারও নাম্বার ওর কাছে নাই..সো যোগাযোগের সব পথ বন্ধ…

বাড়িতে আসতেই মা এসে জিজ্ঞেসা করলো?
:-বৌমা কোথায়?

:-এতদিন পর বাড়িতে আসলাম..কোথায় আমার কথা জিজ্ঞাস করবে তা না বৌমাকে নিয়ে পড়লে..তোমার বৌমার অফিস আছে তাই আসেনি..

:-কিছু হয়েছে তোদের মধ্যে?
:-নাহ..

মাকে কোনরকম কাটিয়ে রুমে চলে আসলাম..মা হয়ত কিছুটা আন্দাজ করতে পেরেছে..এতক্ষন জার্নি করার ফলে বেশ ক্লান্ত হয়ে পড়েছি..তাই এসেই ঘুমিয়ে পড়েছি..ঘুম ভাঙল সন্ধার পর..ঘুম ভেঙে দেখি মেহা আমার বুকে শুয়ে আছে..কিন্তু মেহা এখানে আসলো কিভাবে?ওকে দেখে রাগটা আরো বেড়ে গেলো..তাই বুকের পর থেকে নামিয়ে দিয়ে উঠে দাড়ালাম..তখন ও আমাকে জড়িয়ে ধরলো..

:-বাবু আমাকে ক্ষমা করে দাও প্লিজ..আমি তখন রাগের মাথায় ওসব বলে ফেলেছি..
:-তুমিতো অন্যায় করোনি তাহলে ক্ষমা চাচ্ছো কেনো?দোষ আমার আমি তোমাকে বেশি বিরক্ত করেছি..তাই তোমাকে মুক্তি দিয়ে চলে এসেছি

:-আমি মুক্তি চাইনা..তুমি আমাকে আরো বিরক্ত করবা..তবুও আমাকে এত বড় শাস্তি দিওনা প্লিজ..আমি আর কখনো এমন করবোনা প্লিজ ক্ষমা করে দাও..

:-ওকে দিলাম..পাগলী একটা..
:-হুম শুধু এই পাগলটার পাগলী

দুজন দুজনকে ভালবাসার বন্ধনে আবদ্ধ করে নিলাম..

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত