মিসকারেজ

মিসকারেজ

আমাদের বিয়ের ৫বছর চলতে লাগলো এখনো আমি মা হতে পারিনি।ঠিক মা হতে পারিনি বললে ভুল হবে মা ডাক শুনতে পারিনি।ঠিক ২বছর আগের কথা আমাদের বিয়ের ২বছরের মাথায় আমি কন্সিভ করি।রাফা আমার গর্ভে আসার পর যখন আমরা জানতে পারলাম তখন আমাদের আনন্দের শেষ ছিলো না।রাফি খুশিতে পারতো না আমায় মাথায় তুলে নাচতে।অফিসের কাজ ফেলে সারাক্ষণ আমার খবর নেয়াতেই ব্যস্ত ছিলো যত্নআত্তি ও কম করে নি।যদিও আমার শাশুড়ি আমার দেখাশুনা করতেন তারপরও তার আমায় নিয়ে চিন্তা করতে হত।আমি খেয়েছি কিনা,কি করছি না করছি কল করে সব খবর নিত প্রতি ১০মিনিট পর পর! আমরা বাবুর নামটাও ঠিক করে ফেললাম।ছেলে বাবু হলে রাফি বলেছিলো আমার নামের সাথে মিল রেখে অরণ্য রাখবে আর মেয়ে বাবু হলে আমি বলেছিলাম ওর নামের সাথে মিল রেখে রাফা রাখবো।

৫মাসের মাথায় যখন আমার আলট্রাসনোগ্রাফি করানো হয় তখন জানতে পারি আমাদের মেয়ে বাবু আসছে।

আমাদের বাসায় মেয়ে বাবু আসছে জেনে দুজনে মিলে বাসাটাকে সাজাতে লাগলাম।রাফার জন্য জামা-কাপড়, খেলনাপাতি, পুতুল একদম সব সব কিছুই কিনে ফেললাম।আস্তে আস্তে দিন যেতে লাগলো,মাস যেতে থাকলো আমার ভিতরে রাফাও বেড়ে উঠতে লাগলো।রাফার নড়াচড়া আমাকে জানান দিত তার অস্তিত্বের কথা।

৯টা মাসে আমার মেয়েটা আমার ভিতরে বেড়ে উঠেছিলো।যখন তার পৃথিবীতে আসার সময় হলো ভাগ্যের কি পরিহাস আমাদের মেয়েটাকে আমাদের থেকে কেড়ে নিলো!আমার মেয়ে পৃথিবীতে এসেছে ঠিকি কিন্তু পৃথিবীর আলোটুকু দেখতে পাইনি!আমায় একবার মা বলে ডাকতে পারিনি,তার বাবাকে একবার বাবা বলে ডাকিনি।পৃথিবীতে আসার পর একবারের জন্য কাঁদতে পারেনি,তার চোখগুলো মেলে দুনিয়ার আলো দেখতে পারেনি! কেন আমার সাথে এমনটা হলো??৯টা মাস তাকে নিজের মধ্যে আগলে রেখেছি কিন্তু দুনিয়াতে তাকে আনতে পারি নি।৯টা মাস তাকে নিজের মধ্যে আগলে রেখে কত স্বপ্ন বুনেছি।আমার কলিজাটা ছিঁড়ে গিয়ে ছিলো যেন সেদিন।সেদিন শুধু আমি কাঁদিনি আমার কষ্ট দেখে আকাশও বুক উজাড় করে কেঁদেছিলো!সেদিন কি যে মুষলদারে বৃষ্টি হলো ঠিক আজ যেমন বৃষ্টি হচ্ছে তেমন। বারান্দায় দাঁড়িয়ে বৃষ্টি দেখছি আর রাফার ছোট্ট জামাটা বুকের চেপে ধরে নিজের চোখের পানি ফেলছি।

-অরণি অরণি ওখানে দাঁড়িয়ে কি করছো তুমি? (রাফি)

রাফির কথা শুনে আমার হুশ ফিরলো তাড়াতাড়ি চোখের পানি মুছতে লাগলাম।রাফি পিছন থাকে এসে আমার পিছনে দাঁড়িয়ে আমার কাঁধে হাত রাখলো নিজের আর শান্ত রাখতে পারলাম না। ওর বুকে মুখ লুকিয়ে কাঁদতে লাগলাম।

-কেনো আমাদের সাথে এমন হলো?কি দোষ ছিলো আমার?কোন পাপের শাস্তি আল্লাহ এভাবে আমাকে দিচ্ছে বলো?আমি আর পারছি না সহ্য করতে।

-শান্ত হওউ।অরণি ধর্য্য ধর আল্লাহ একদিন না একদিন ঠিকি আমাদের দিকে মুখ তুলে চাইবেন। (রাফি)

-আর কতটা ধর্য্য ধরবো?রাফার যাওয়ার পরে চার চারবার মিসকারেজের পর আমি আর কত ধর্য্য ধরবো তুমি আমায় বলে দাও।আমি এতোটাই অক্ষম যে তোমাকে এই পাঁচ বছরের মধ্যে বাবা ডাকটা শুনাতে পারলাম না।আমি বেঁচে থাকার থেকেও মরে যাওয়া অনেক ভালো।

-(এইবার আমি আর নিজের চোখের পানি ধরে রাখতে পারলাম না।অরণিকে আরও শক্ত করে জাড়িয়ে ধরলাম..) এইসব কি বলছো তুমি পাগলের মত?আমার বেঁচে থাকাটা একদম বৃথা হয়ে যাবে তোমাকে ছাড়া।তোমার মুখের দিকে তাকিয়েইতো আমি বেঁচে আছি।তোমার মধ্যে যেমন মা হওয়ার আকাঙ্ক্ষা রয়েছে তেমন আমার মধ্যেও তো বাবা হওয়ার ইচ্ছাটা জাগে তাই বলে কি আমি তোমাকে ছেড়ে বাঁচতে শুরু করবো নাকি করছি বলো?? কেনো তুমি প্রতিবারে এমন আমায় ছেড়ে যাওয়ার কথা বলো?আমার কাছে বাবা ডাক শুনার থেকেও তুমি আমার কাছে সব থেকে বড়।

দুজনের কান্না দেখে আকাশেরও মনে হয় খুব মন খারাপ হচ্ছে।আকাশ তার সবটুকু জল বৃষ্টি হিসেবে ঢেলে দিচ্ছে। বৃষ্টির শব্দটাও বেড়ে যাচ্ছে মাঝে মাঝে ব্রজপাতের শব্দ শুনা যাচ্ছে।এক বিষণ্ণ সন্ধ্যা যাচ্ছে দুজনের।
.
★★★১মাস পরে★★★

-কি ব্যাপার তুমি খাবা না?এখনো দেখি শুয়ে আছো।চলো আমার সাথে বসে খাবা।

-তুমি যাও না আমার শরীর ভালো লাগতেছে না।মাথা খুব ব্যাথা করছে।

-আচ্ছা আমি এখানেই ভাত নিয়ে আসছি তোমার উঠতে হবে না।

-শুনোনা রান্নারুমে আচার আছে ভাতের সাথে আচারটাও নিয়ে আসিও।খেতে ইচ্ছে করছে।

-তোমার এমন বাহানা দেখলে কি যে করতে ইচ্ছে করে।ঠিক মত খাওয়া দাওয়া করবে না শরীরের কি যে অবস্থা করছো দিন দিন সে দিকে খেয়াল আছে তোমার?(রাফি)

-না নেই তো এখন তুমি যাও আচার দিয়ে ভাত নিয়ে আসো। (অরণি)

-যাচ্ছি যাচ্ছি।(রাফি)

★★★রাতের বেলা★★★

অরণি শুয়ে আছে আর পাশে বসে রাফি লাপটপে কাজ করছে…

-রাফি কিছু বলার ছিলো।

-বলো শুনছি।

-কয়দিন থেকেই তো শরীরটা খারাপ যাচ্ছে।

-তুমি খাওয়া দাওয়া কর না দেখেই এই অবস্থা তোমার।আমার কথাতো শুনোই না।

-আমার মনে হচ্ছে আমাদের আবার নতুন অতিথি আসতে চলেছে।

-অরণি কতা শুনে আমার আঙ্গুল গুলো বন্ধ হয়ে গেলো অরণির মুখের দিকে তাকিয়ে তার মুখের মিষ্টি হাসিটা দেখে জিজ্ঞাসা করলাম, ” সত্যি? ”

-হুম সত্যি। কিন্তু আমার না খুব ভয় হচ্ছে।

-অরণি কে জড়িয়ে ধরে বললাম, কিসের ভয় পাগলী? এইবার নিশ্চয় আল্লাহ আমাদের সাথে ভালো কিছুই করবে।

-শুনোনা তুমি কালকে হুজুরের থেকে আমাকে একটা তাবিজ এনে দিবা?যে আসছে তাকে আমি দুনিয়ার আলোটুকু দেখাতে চাই।তাকে সাবধানে পৃথিবীতে আনতে চাই।

-আচ্ছা তুমি যা চাইবা আমি তাই এ এনে দিবো।এইবারে আমিও আমার যত্নে কোনো কমতি রাখবো না।আমি তোমার মুখের এই হাসিটা সব সময় দেখতে চাই তার জন্য আমাকে যা করতে হবে আমি করবো।
আস্তে আস্তে দিন যাচ্ছে রাফি প্রতি সাপ্তাহে ডাক্তার দেখানো থেকে শুরু করে আমার যত্ন নেয়াতে কোনো কমতি রাখছে না।আমার শাশুড়ি তো আছেন তারপরও আমার যত্ন নেয়ার জন্য একজন মহিলাকে ঠিক করেছে।

এখন আমার পাঁচ মাস চলছে। আজকে আমার আলট্রাসনোগ্রাফি করানো হবে ডাক্তার বলেছে। আজকে আমরা জানতে পারবো আমাদের ছেলে বাবু হবে নাকি মেয়ে বাবু হবে।ঘুম ভাঙ্গার পর থেকেই অস্থির হয়ে আছি কখন ডাক্তার কাছে যাবো কখন জানতে পারবো কে আসছে আমাদের বাসায়।
আজকে রাফিও তাড়াতাড়ি ঘুম থেকে উঠে গেছে আমাকে কোনো কাজ এ করতে দিচ্ছে না।

-আচ্ছা শুনো সাবধানে থাকবা কিন্তু।আম্মা কিন্তু বাসায় নাই নিজ থেকে কিন্তু কিছু করতে যাবা না বলে দিচ্ছি।আর রহিমার মা আসার পরে কিন্তু গোসল করতে যাবা তার আগে না বলে দিলাম।(রাফি)

-আচ্ছা ঠিক আছে।শুনোনা আজকে অফিসে না গেলে হয় না?

-আমারতো যেতে ইচ্ছে করছে না কিন্তু বস ও তো ছুটি দিবে না।জানোইতো আমার বসটা কেমন।তারপর আজকে আমি তাড়াতাড়ি আসার চেষ্টা করবো। ৪টা বা ৪:৩০টার দিকে চলে আসার চেষ্টা করবো।

-আচ্ছা ঠিক আছে।আবার ভুলে যেওনা কিন্তু আজকে ডাক্তার কাছে যেতে হবে।

-সব কিছু ভলে গেলেও এটা আমার ঠিক মনে থাকবে।এই লেট হয়ে যাচ্ছে।আসি তাহলে?আর ঠিক মত খাওয়া দাওয়া করবা কিন্তু। আমি কল দিবো।এখন একটা মিষ্টি হাসি দিয়ে আমায় বিদায় দাও দেখি।

-দেখি আরেকটু নিচে মাথা নামাও কপালে একটা আদর দিবো..শুনো সাবধানে যাবা কিন্তু।

-ঠিক আছে মহারানী।

★★★দুপুর ১২:৩০মিনিট ★★★

রহিমার মা টা আজকে আসলো না এইদিকে ১২:৩০টা বাজে কখন গোসল করবো!নাহ ওরে কল দিয়ে বলি না হলেতো বাসায় এসে আমার সাথে রাগারাগি করবে।

-হ্যালো

-হুম বলো..কি করছো তুমি?

-কি আর করবো শুয়ে আছি এদিকে রহিমার মা টাও আজকে আসে নাই একা একা ভালো লাগতেছে না।

-আসে নাই মানে?!এই মহিলার প্রবলেমটা কোথাও?নাহ দেখতেছিতো নতুন মহিলা দেখতে হবে।এরে আর রাখা যাবে না।

-আচ্ছা শুনো না আমি গোসলটা করে নি?
-একদমি না।থাক আজকে আর গোসল করা লাগবে না। মুখ হাত ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে নাও শুধু।
-কিহ!পাগল হইছো?এই গরমে গোসল না করে থাকবো এটা কোনো কথা হলো?
-হা আমি যা বলছি তাই এ করবা।
-ধুর তোমাকে না বলাটাই ভালো ছিলো।রাখতেছি বাই।

-এই শুনো..যাহ বাবা বলার আগেই কেটে দিলো।অরণিরে কল দিলাম রিং হয়ে যাচ্ছে রিসিভ করছে না কেমনটা লাগে!

আচ্ছা থাক ও যখন বারণ করছে তাহলে আর গোসল না করি ঠান্ডা পানি দিয়ে শরীরটা মুছে নি তাহলে একটু আরাম লাগবে।

বাতরুমে ডুকে পানির টেপটা খুলে দিলাম তোয়ালেটা নিতে গিয়ে দেখি, আরেহ তোয়ালেটাইতো নেয়া হলো না।তোয়ালে নেয়ার জন্য বাইরে আসছিলাম তখনি বাতরুমের ফ্লোরে স্লিপ কেটে পরলাম। পানির টেপের সাথে সজোরে মাথায় আগাত লাগলো আমি নিচে পরে যাচ্ছি চোখ গুলো বন্ধ হয়ে আসছে কিছুই দেখছি না আর।

★★★৪ঘন্টা পর★★★

দুপুর থেকে কত্তবার কল দিলাম রিসিভ করলো না মেয়েটা মাঝে মাঝে এমন সব কাজ করে আমাকে চিন্তায় ফেলে দেয়।বাসায় যেতে আর ১০মিনিট লাগবে..এই ১০মিনিট যে এখন আমার কাছে কত্ত গুলো ঘন্টার মত লাগছে তারে যদি একবার বুঝাতে পারতাম।

বাসায় পৌঁছানোর পর কলিংবেল টিপেয় যাচ্ছি তার কোনো খবর নেই।নাহ ডুপ্লিকেট চাবিটা দিয়ে ডুকতে হবে দেখছি।
বাসায় ডুকেই অরণিকে ডেকে যাচ্ছি কোথাও দেখতে পাচ্ছি না।

আমাদের রুমে এসে দেখি বাতরুম থেকে পানি পরার শব্দ শুনা যাচ্ছে।দৌড়ে বাতরুমে গিয়ে দেখি অরণি ফ্লোরে পরে আছে আর সাদা ফ্লোর লালা হয়ে আছে।
আমার মাথা আর কাজ করছে না অরণি বলে একটা চিৎকার দিলাম।
অরণিকে পাঁজাকোলে তুলে রুম থেকে দৌড়ে বের হয়ে আসলাম।
নিচে নেমে দারোয়ানকে বললাম তাড়াতাড়ি একটা গাড়ি ডেকে আনার জন্য।
আমার মাথা একদম কাজ করছে না।

অরণিকে হসপিটালে নিয়ে এলাম।ডাক্তার ওকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যেতে বললেন। কয়জন নার্সকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে গেলো।
আমি মা,আপু সবাইকে ইনফম করছিলাম তখন ডাক্তার এসে বললো,

-দেখুন ওনার মাথায় প্রচন্ড আঘাত লেগেছে সাথে আঘাত স্থান থেকে প্রচুর রক্ত ক্ষরণ হয়েছে।আর একটা কথা উনি পরে যাওয়াতে ওনার মিসকারেজটা হয়ে গেছে প্রচুর ব্লিডিং হয়েছে।অনেক ব্লাডের প্রয়োজন। দেখুন বেবিকে তো আর পাওয়া যাবে না এখন মাকেই বাঁচাতে হবে এমিডিয়েটলি ব্লাডের ব্যবস্থা করুন না হলে কিন্তু খুব বিপদ হবে।

-আমার অরণিকে সুস্থ করে ফিরিয়ে দিন আমি সব কিছুর ব্যবস্থা করছি।শুধু আমার অরণিকে আমার কাছে ফিরিয়ে দিন।

পাগলের মত হয়ে আমি ব্লাড যোগার করেছি কিন্তু আমার অরণিকে বাঁচাতে পারলাম না।শুনেছি আমাদের নাকি ছেলে বেবি হয়েছে।

আমার অরণি তার ছেলের সাথে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছে আমাকে একবারোও বলে যাইনি।আমাকে একা ফেলে চলে গেছে না ফেরার দেশে।আমি কি নিয়ে থাকবো?কেমন করে থাকবো?সে আমার কথা ভাবলো না।

অরণির লাশের পাশে বসে এতো বার ডাকছি সে শুনতে পাচ্ছে না।এই অরণি চোখ খুলোনা দেখো আমি আর কখনো তোমায় একা রেখে অফিসে যাবো না।এই চোখ খুলো।দেখো আমাদের কোনো বেবি লাগবে না তুমি শুধু চোখ খুলো।এই অরণি আমি একা থাকবো কি করে?

★★★৫বছর পর★★★

অন্ধকার রুমে এক কোনায় বসে রাফি বিড়বিড় করে বলে চলেছে, এই অরণি চোখ খুলোনা দেখো আমি আর কখনো তোমায় একা রেখে অফিসে যাবো না।এই চোখ খুলো।দেখো আমাদের কোনো বেবি লাগবে না তুমি শুধু চোখ খুলো।এই অরণি আমি একা থাকবো কি করে?

সেদিন অরণির মৃত্যুটা রাফিকে মানুষিক ভাবে এতোটাই ধাক্কা দিয়েছিলো যে রাফিকে শেষ পর্যান্ত পাগলাগারদে ভর্তি করতে হয়েছে।তার চিকিৎসা এখনো চলছে।রাফির রুম থেকে সব সময় একটা কথায় বেসে আসে,

“এই অরণি চোখ খুলোনা দেখো আমি আর কখনো তোমায় একা রেখে অফিসে যাবো না।এই চোখ খুলো।দেখো আমাদের কোনো বেবি লাগবে না তুমি শুধু চোখ খুলো।এই অরণি আমি একা থাকবো কি করে?”

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক
DMCA.com Protection Status
loading...

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত