এক পশলা বৃষ্টি

এক পশলা বৃষ্টি

টিপ টিপ করে বৃষ্টি হচ্ছে!
ইউনিভার্সিটির সামনে বসে আছি, যদিও এটা আমার ইউনিভার্সিটি না।

আল্লাহ্র রহমতে আমার পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে কখনও পরীক্ষা দেবার সুযোগ হয় নি,

তাই বাবার টাকা ধ্বংস করে একটা প্রাইভেটে কোন রকম কাজ চালাচ্ছি, এখানে একটা কোর্স করছি, তাই এসেছি।
যাক মূল কথায় আসা যাক,
ইউনিভার্সিটির সামনের একটা দোকানে চা খাচ্ছি,
।।
পিছন থেকে একটা মেয়ের ফোনে কথা বলার শব্দ চলে আসছে, বুঝায় যাচ্ছে যে মেয়েটা তার বয়-ফ্রেন্ড কে বুঝানোর চেষ্টা করছে।
মেয়েটা- প্লিজ, ও আমার চাচাতো ভাই, আমাদের বাড়ী বেড়াতে এসেছিলো, তাই আমি ওর সাথে ঘুরছিলাম, আব্বু বলেছিল।
।।
তার পর মেয়েটার কান্নার শব্দ শুনতে পেলাম। মেয়েটা কদাচিৎ পরিমাণ হলেও যে ছেলেটাকে ভালোবাসে সেটা বুঝা যাচ্ছে।
আমি সামনে গিয়ে বললাম, আপু ওকে ছেড়ে দিন, মেয়েটা মাথা তুলে দাঁড়ালো।

মেয়েটা- তো কি ওকে ছেড়ে তোর সাথে প্রেম করবো?
আমি- আমি আমার সাথে প্রেম করতে হবে না…..,

আমার সে ভাগ্য নাই যে আপনার মতো সুন্দরী মেয়ে যার হাতে একটা সুন্দর ব্লাক-বেরী ফোন আছে সে আমাকে ভালবাসবে,
মেয়েটা- তুই কে রে?
আমি- আমি কে সেটা না হয় একটু পরে বলছি, মূল কথায় আসা যাক।
।।
আপনার কথা শুনে মনে হলো, আপনি একটা ছেলের সাথে ঘুরছেন আর আপনার প্রেমিক সেটার জন্য আপনার সাথে ঝগড়া করছে।

ছেলেটা কে সেটা আমি জানি না, কিন্তু আপনি নিজে জানেন, মানুষের সব থেকে বড় বিচারক নিজের বিবেক,
।।
আপনি যদি মনে করেন, আমি একটা প্রেম করছি করি, সাথে আরও কিছু মজা করি, তবে আপনি ঐ ছেলে কে ঠকাচ্ছেন না,

আপনি নিজে ঠকছেন, একবার ভেবে দেখেন, ঠিক এই কাজ যদি ঐ ছেলেটা করতো।
।।
আর দ্বিতীয় কথা হচ্ছে ভালোবাসা জিনিসটা হলো অলিখিত তাই এই সম্পর্কের মূল বিষয় হলো বিশ্বাস,

আপনার প্রতি যদি তার বিশ্বাস না থাকে তবে এই সম্পর্ক করে লাভ কি?

এই সম্পর্ক যদি সুখ না নিয়ে প্রতিদিন দুঃখ, কান্না আর হতাশা নিয়ে আসে তবে এই সম্পর্ক শেষ করে দেওয়ায় ভালো।

ভালোবাসা এমন একটা জিনিস যখন কেউ এক জন ভালোবাসে, তখন অপরজনকে অনেক সম্মান করে,

এটা চিন্তা করে না যে সে সারাদিন কি করে, কার সাথে ঘুরে, কিন্তু যখন সম্পর্ক দুই দিক থেকে হয়ে যায়, তখন তুমি এই করতে পারবা না,

এর সাথে কথা বলতে পারবা না, এতো সময়ের বেশি বাসার বাইরে থাকতে পারবা না, আরও অনেক কিছু?
।।
ঠিক একটা পাখিকে ধরে খাঁচার মধ্যে ফেলা, আর আমারাও খারাপ, আমারা প্রেম ও করবো আবার অন্য জনের সাথে লুচ্চামি করতেও ছাড়ি না।
আমি সবার কথা বলছি না, কিন্তু পার্কের কোনায় যখন এসব দেখি, তখন ভয় সবার হয়।
আপনি বললেন না কে আমি? এই টা আমার ফেসবুক আইডি, এই আমাকে বলে দিবে আমি কে।
।।
আর এখন যায়, বৃষ্টি থেমে গেছে, আমার ক্লাশ শুরু হবে তবে এই যায়গা টা খুব ভালো লাগে,

কারণ এই যায়গায় বসলে নিজেকে একা মনে হয় না, মনে হয় গার্ল-ফ্রেন্ড নিয়ে বসে আছি। তাই মাঝে মাঝে ২ কাপ চা অর্ডার দিয়ে একা খেয়ে নেয়।
আচ্ছা এখন আসি। বেশি কিছু বললে ক্ষমা করবেন।
।।
ক্লাশ শেষ করে যখন বের হলাম তখন প্রায় রাত!
ফোনে একটা রিকুয়েস্ট এসেছে, আজ কাল অনেক রিকুয়েস্ট আসে তাই এতো কিছু ভাবি না,

দেখলাম এই ম্যাসেজ ও “রিকুয়েস্ট গ্রহন করেন, আমি সেই মেয়ে, যাকে বিকেলে অনেক জ্ঞান দিলেন”
।।
আমি রিকুয়েস্ট গ্রহন করলাম।
মেয়েটা- তার মানে আপনি লেখক? অনেক ভালো লিখেন আপনি?
আমি- থ্যাংকস।
মেয়েটা- আপনার দুইটা গল্প পড়েই আমি আপনার ফ্যান হয়ে গেছি।
আমি- থ্যাংকস।
মেয়েটা- এখন কোথায় আছেন?
আমি- ইউনিভার্সিটি থেকে বের হলাম, এখন বাসে চড়বো।
মেয়েটা- I love u
আমি- থ্যাংকস।
মেয়েটা- আমি আপনাকে I love u বললাম, আর আপনি থ্যাংকস বলছেন এটা কেমন কথা?

আপনার কথা গুলো আমার অনেক ভালো লেগেছে, বিশ্বাস করেন আমি ঐ ছেলেটাকে ভালবাসাম, অভিনয় করিনি ওর সাথে,

আমার ছোট চাচার পরিবার আমাদের বাড়ী বেড়াতে আসে, আব্বু বলল,

তাই চাচাতো ভাই কে নিয়ে ইউনিভার্সিটি এসেছিলাম, তখন আমার বয় ফ্রেন্ড দেখে, তাই রাগ করে।

আমি প্রেম করি বলে কি আমি আমার পরিবার কেউ সময় দিবো না?

ও সব সময় এই রকম করে, এমন কি আমার ফেসবুক আর পাসওয়ার্ড ওর কাছে থাকে,

আমি নতুন কারো সাথে কথা বললেই আমাকে বকা দেয়, তাও মেনে নেয়, কিন্তু এভাবে আর কতো দিন?

তাই আজ সন্ধ্যায় আমি ওকে বলেছি আমাদের সম্পর্ক এখানে শেষ। এখন বলেন আমার দোষ কোথায়?
আমি- আপনার কোন দোষ নাই।
মেয়েটা- তাহলে আপনি রাজী?
।।
আমি- একটু আগে তো পরাধীনতার শিকল ভেঙ্গে বের হলেন, আবার প্রেম করবেন?
মেয়েটা- কখন ও বা সেচ্ছায় পরাজিত হবায় যে সুখ আসে তা বিজয় হয়েও আসে না।
মেয়েটা- আমি কি আপনার অযোগ্য?
আমি- আমি তো সেটা বলি নি, বিকেলে বললাম না, ভালোবাসা ততক্ষণ পর্যন্ত পবিত্র আর সম্মান থাকে যতক্ষণ পর্যন্ত সেটা এক পক্ষ থাকে।

তাছাড়া আমি খাঁচায় বন্ধী হতে চাই না।
মেয়েটা- আপনি কি কখন ও বিয়ে করবেন না?
আমি- কেন করবো না, অবশ্যই করবো।
মেয়েটা- তখন কি পরাধীন হবেন না?
আমি- তখন আল্লাহ্‌র রহমত থাকবে আর এখন শয়তানের কু মন্ত্রণা থাকে।
।।
মেয়েটা- ওহ আমি তো ভুলে গেছিলাম, আপনি লেখক! আপনাকে কথায় পারা যাবে না।
আমি- না সেটা না ভাগ্যে যদি আপনি থাকেন তবে আপনি আমার বউ হবেন।

আল্লাহ্‌ তো আগে থেকেই সব লিখে রেখেছে, তাহলে এতো চিন্তা করার কি দরকার, আর প্রেম করে বউ পাহারা দেবার কি দরকার?
মেয়েটা- আপনি সত্যি অদ্ভুত। আচ্ছা কালকে তো আবার আসবেন?
আমি- হ্যাঁ। কালকে তো ক্লাশ আছে।
মেয়েটা- তাহলে কাল বিকেলে দেখা করে কথা বলবো, সেই গাছের নীচে ২ কাপ চা।
আমি- খুব ভালো। আচ্ছা এখন বাই।
আমি- আচ্ছা আপনার নাম টা কি?
মেয়েটা- পায়েল।
।।
আমি-পায়েল!

খুব ভালো। পায়েল।

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত