ইঞ্জিনিয়ার বউ

ইঞ্জিনিয়ার বউ

– সাহরিয়া কই তুমি…. (বউ)!
– তুমি যেখানে…. আমি সেখানে
সেকি জানো না…..।
– এইটা কী দেখছো…।
– হুমমমমমমম… তোমার হাত।
– একটা থাপ্পড় দিয়ে দুই মাড়ির চারটা চারটা আট টা দাঁত খুলে দিবো।
– ওমা সব বাদ দিয়ে… মাড়ির দাঁত খুলবা ক্যান…।
– যাতে কথা বলার সব কেউ না বুঝতে পারে তোমার দাঁত নাই।
– ওয়াও বাহ্ … এতেই প্রমাণ হয় তুমি মোরে কতোটা ভালোবাসো….
ভালবাসা না থাকলে এই বুদ্ধি জিন্দিগিতে ও কারো মাথাই আসবা না…
এবার মনে হচ্ছে তুমি আমার সত্যি কারের বউ হি হি হি ।
– ওমনি ফট করে একটা থাপ্পড় দিলো…
ঐ বউ মারলে কেনো।
– প্রথম অপরাধ হইল যে… এই টিভি আর ফ্রিজ খুলে নষ্ট করে রাখছো কেনো।
– আরে বাবা বাসাতেই তো ইঞ্জিনিয়ার আছে…
তাই ভাবলাম একটু খুলে দেখি,
আর যেই ওপেন করতে যাবো তখন দেখি কোন কিছু হচ্ছে না….।
একটু ঠিক করে দাও না….।
কিন্তুু মারলে কেনো।
– এই যে আজাইরা প্যাচাল, আর এমন উদ্ভট কাজ কর্ম করার জন্য….।
– হাজার হলে ও তুমি আমার সিনিয়র বউ.. তার উপরে আবার নাম ধারিনি ইঞ্জিনিয়ার..
দুই একটা থাপ্পড় মারার অধিকার তোমার
অবস্যই আছে…।
– সাহরিয়া বেশি হয়ে যাচ্ছে কিন্তুু।
– আচ্ছা লাবন্য বউ… তুমি আমাকে কেনো বিয়ে করছো বলতো।
– জানি না।
– আরে বলোনা।
– তোমার এই সব উদ্ভট কাজকর্মের জন্য… কারণ আমি ছাড়া তোমাকে কোন মেয়েই সামলিয়ে রাখতে পাড়বে না।
– এইটা কিন্তুু ঠিক বলেছো….
সেই জন্যই তো তোমাকে বউ
বলে ডাকি. আমার লাবু বউ.. হি হি হি।
– ঐ কী বললা… আমার নাম লাবু।
– হায় হায় জীবনে ও না… তুমি তো আমার মিষ্টি বউ লাবন্য…
একটু আদর করে লাবু ডাকছি সোনা।
– তাই না…।
– ঐ… স্ক্রুডাইভার টা সরাও সামনে থেকে… কেমন ডাকাত ডাকাত লাগছে তোমাকে।
– হুমমমমম… আমি ডাকাত…. তোকে তো আজকে মেরেই ফেলবো, আমাকে লাবু ডাকা….।

– উহুহুহুহুহহুহুহুহুহুহুহু… বউ গো মরে গেলাম..।
– কী হইছে…।
– ঠিক জানি না তবে.. মাথার পিছনে কী জানি হচ্ছে..
সব কেমন জানি অন্ধকার লাগছে..
তুমি আমাকে মাফ করে দিও….
চোখটা বন্ধ হয়ে গেলো ।
– সাহরিয়া কী হয়েছে তোমার..
ঐ বাবু উঠো না প্লিজ…
কথা বলো না।
– দেওয়ালে দাঁড়াই হেলান অবস্থাই ছিলাম… হঠাৎ ফ্লোরে ধরমর করে পড়ে গেলাম।
লাবন্য তো আমাকা জরিয়ে ধরে কাঁদতে লাগছে…।
– ঐ বাবু উঠো না… কী হয়েছে তোমার… আমি আর কোনদিন তোমাকে বকা দেবো না দেখো,
উঠো না, সাহরিয়া উঠো না…।
– আমি তো মনে মনে হেঁসে হেঁসে শেষ, পাগলিটা আমাকে কত্ত ভালোবাসে।
আর এই দিকে চোখের পানি দিয়ে আমার গেঞ্জিটা ভিঁজে দিয়েছে…।
– সাহরিয়া উঠো না… আমি আর কোদিন মারবো নারে সোনা..।
– এই দিকে আমি ও এবার পাগলিটাকে জরিয়ে ধরে বললাম… সত্যি তো আর মারবা না।
– হুমমমমমমম… আর কোনদিন না…।
– মনে হয় আবেগে বলে ফেলছে।
– ঐ….তার মানে তোমার কিছুই হয় নাই।
– হি হি হি দূর আমার আবার কী হবে।
– তার মানে এমন মিথ্যা ড্রামা
করলা আমার সাথে।
– ইয়ে মানে বাবু.. সরি… আর করবো না এমন সত্যি।

– থাক আর সরি বলতে
হবে না… আমার সাথে আর কথা বলবা না তুমি।
– এখন ও পাগলিটা স্বাভাবিক হতে পারে নাই…. কান্নার বেগটা আছেই…
বাবু তোমার সাথে কথা না বললে আমি মরেই যাবো তো….।
– কোন কথা নাই……।
– কথা বলো না….
আচ্ছা জোকস শুনবা….
ঠিক আছে গান বলি তাহলে…
ও বউ এই যে দেখো নাচতেছি…
তুমি না আমার ইঞ্জিনিয়ার বউ কথা বলো না।

এমন ভাবে সারাটা দিন চলে গেলো, পাগলিটা আমার সাথে কথা বলে নাই… আমি ও নাছোড় বান্দা কানের কাছে
বক বক করেই যাচ্ছি ।
মাঝে মাঝে দেখছি এখন ও ফিকটা থাকে নাই…।

– জানো বউ সত্যি আমি একটা বদমাশ, শয়তান, বেয়াদব, আরো যা আছে সব…. ওকে কয়টা থাপড়ানি দিলে কথা বলবা বলো…
এই নাও গালটা এগিয়ে দিলাম…
তাও কথা বলো একটু….।
– কিছু না বলে রান্না ঘরে চলে গেলো…..।
আমার এবার সত্যি খারাপ লাগছে, আসলে তখন ওমটা করাটা ঠিক হয় নাই…
পাগলিটা আমার সত্যি সত্যি অনেক কষ্ট পাইছে….
নিজেই নিজেকে থাপড়ানি দিতে মন চাচ্ছে … ভালো বউটা মনটা খারাপ করে দিলাম…
লাবন্য… ও লাবন্য কই গেলা।

একটু পড়ে একটা কথাই
শুনতে পেলাম….।
খেতে আসো….।
– আগে যেমন বোকার মতো ওর দিকে তাঁকাই থাকতাম তেমন ভাবেই তাঁকাই আছি….।
তুমি না খাইয়ে দিলে তো আমি খেতে পারি না….
খাইয়ে দাও….।
– কিছুই বললো না… খাইয়ে দিতে লাগলো…।
– জানো বউ তুমি খাইয়ে দিলে না… কেমন জানি ফাটাফাটি লাগে… লবণ ও মিষ্টি লাগে হি হি হি।
কিছুই বললো না… খাওয়া শেষ করে সব গুছিয়ে রেখে
শুতে গেলো….
এর আগে আমাকে না নিয়ে যেতো না, হিসি করে আসার কথা বলতো।

কী রাগরে বাবা… কিছুই বলছে না।

ও এমন করলে তো আমার
ভালো লাগে না.. কী যে করি…।
রুমে গিয়ে দেখি লাইট অফ…
লাইট টা দিলাম,
ওমা বউ তো আমার অন্য পাশে মুখ করে আছে…।

কোন কথা না বলে হাতটা ধরে টেনে দাঁড় করালাম…।
– দেখো বউ তুমি এমন করলে,
আমার ভালো লাগে না জানো।
আমি তখন বুঝি নাই তো সত্যি,
আমি এই কথা দিচ্ছি কোনদিন আর ওমন করবো না…
তুমি এমন করে থাকলে কিন্তুু আমি ও কান্না করে দিবো হুমমমমম।
এই দেখো চখে পানি চলে এসেছে, ওই বউ কথা বলো না…..।
– হঠাৎ জরিয়ে ধরে আমার কাঁদতে লাগলো… শয়তান জানো আমি কতোটা ভয় পাইছিলাম…
আমার প্রাণটা মনে হয় বের হয়ে গেছিলো…. আর তুমি এমন কেন হুমমমম কোনদিন কী বুদ্ধি হবে না… এমন বাচ্চাই রয়ে যাবে।
– বাচ্চা থাকাই তো ভালো… তোমার আদর বেশি করে পাবো হি হি।
– এবার ছেড়ে দাও।
– কেনো…।
– ঘুমাবা না বুঝি।
– ও হ্যা তাই তো….।
জরাই ধরে ঘুমাবো কিন্তুু ।
– কোনদিন না জরাই ধরে ঘুমাইছো হুমমমমমমম।
– হি হি হি হি হি।
– খালি হাঁসি বেয়াদব একটা।।।।

ওহহহহহ কত কষ্টে বউটাকে মানাইলাম…. আচ্ছা টাটা।

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত