ম্যাডাম এর উপরে ক্রাস

ম্যাডাম এর উপরে ক্রাস

– ক্লাসে বসে বসে সবাই আড্ডা দিচ্ছে, এখন ও বড় শয়তানটা আসে নাই।
– ঐ তো হারামিটা চলে আসছে (রাজু)।
– মাাাাম্মাাাা আমি কামিং,
দুই হাত ছড়াইয়া মাত্র দৌড় দিছি ওমনি কারো সাথে মনে হয় ধাক্কা খাইলাম, চোখটা সামনে যাইতেই আমার চোখ পুরা পিছনে ঘুইরা গেছে।
একটা মেয়ে তেমন সুন্দরী না কিন্তুু দেখলে যে কোন পোলা ক্রাস খাবে।
আমি আর কম কী চটপট ফ্রি ফ্রি ক্রাস খেয়ে ফেলেছি, ক্রাসই একমাত্র খাবার যেটা খাইতে কোন টাকা লাগে না।
আব্বা কইছে ফ্রি জিনিস বেশি বেশি খাবি, না হলে পরে পুস্তাবি।
– হাই..তোমার নাম কীইইইই, আমি সাহরিয়া।
ওমা মেয়ে তো রেগে উঠে গেলে, ওরে বাবা আবার চশমা ও পরে।
সুন্দরী না তবে কিউট এর ডিব্বা, শাড়ি পড়ে আছে আরো ফাটাফাটি লাগততেছে, কেমন উঠে হন হন করে চলে গেল।
– ঐ হারামি ঐটা কে জানিস (রাজু)।
– একটা লাত্তি দিমু সালা, জানলে কী
এতদিন সিংঙ্গেল রাখতাম, কবে বিয়ে করে ফালাইতাম এত দিনে তুই কাকু হইতি।
– চুপ সালা ঐটা আমাদের ইংলিশ এর ম্যাডাম।
– কীইইইই আগে বলবি না সালা কু্ত্তা।
– আরে কালকেই জয়েন্ট করছে, কেন কিছু বলছিস নাকি।
– দূর না খালি নাম শুনতে চাইছি, আর ফ্রিতে আমার নাম বলছি।
আর যাই বলিস ভাই মেয়েটা আমার এই খান টা নড়াই দিয়ে গেছে।
– চুপ সালা ওটা তোর ম্যাডাম লাগে।
– যাই হোক মেয়ে তো নাকি, চল এখন ক্লাসে যাই।

হায় হায় আজকে তো প্রথমেই ইংলিশ ক্লাস আছে আমারে সিওর আজ আপমান করবে।
একটু পরে আমার ক্রাস আসল মানে আমাদের ম্যাডাম।
এসেই ইংরেজি তে ফটরফটর করে যাচ্ছে, সব আমার মাথার চুলের উপর দিয়ে যাচ্ছে।
– হেই হউ, এই যে তুমি দাঁড়াও।
– দাঁড়াই গেছি, সাহরিয়া অপমান হওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে যা ভাই।
– কী নাম তোমার।
– সাহরিয়া.. তার পরে ইংরেজি তে কী না কী বলল আমি তো খালি
হা করে আছি।
– আচ্ছা তুমি পড়ালেখা করতে
এখানে এসেছ নাকি শুধু বাবা
মার টাকা নষ্ট করতে শুনি , আর
যদি কোনদিন বাঁদরামি করো সোজা
তোমার বাড়িতে কমপ্লেন করব।
সো এখন থেকে ভাল হয়ে থাকবা।
– হুমমমমমম ঠিকআছে।
– বসো এখন।
– এর পরে ক্লাস শেষ এখন কলেজ ছুটি
দিবে, না না যাই বলুন আমি ভালা হওয়ার
পোলা না, ম্যাডাম ম্যাডাম ম্যাডাম।
– এই ছেলে এত চিল্লাও কেন।
– ম্যাডাম তখন এর জন্য অনেক গুলা সরি, একটা কথা বলতে পারি কী।
– হুমমমমম বলো।
– আচ্ছা ম্যাডাম আপনি আমার থেকে কত দিনের বড়, প্লিজ ম্যাডাম বলেন না প্লিজ।
– আমি তো স্টাডি শেষ হওয়া মাত্র জব পাইছি, এই ধরো চার বছর।
– ও আচ্ছা মাত্র, তাহলে কোন ব্যাপার না।
– ঐ কী বলো।
– না না কিছু না ম্যাডাম, আর একটা কথা বলি প্লিজ।
– হুমমমমমম বলো।
– ম্যাডাম আপনাকে না দেখতে আমার হেব্বি লাগে হি হি, বলে দিছি দৌড় কলেজ চার দিন ছুঁটি এর মধ্যে সব ভুলে যাবে।

বাসাই এসে মা ও মা মা কই গেলে।
– এত্ত চিল্লাচিল্লি করছিস কেন শুনি।
– জানো মা আজকে না আমাদের কলেজে একটা নতুন ম্যাডাম এসেছে,
সুন্দরী না তবে দেখতে অনেক ভাল, আমি তো প্রথম দিনই ধাক্কা লেগে গেছি আর প্রথম দেখাই………. ।
– প্রেমে পড়ে গেছিস তাই তো।
– হুমমমমমম, বাবাকে যেন বল না কেমন তাহলে আমাকে হেব্বি প্যাদানি দিবে।
– হ্যারে শোন, আমাদের উপড়ের তলায় নতুন ভাড়া এসেছে, তাদের একটা মেয়ে আছে নতুন নাকি জব পেয়েছে কজেল টিচার্স।
মেয়েটা ও দেখতে ভালই।
– দূর আমার পরীটার কাছে পাত্তাই পাবে না।
– হুমমমমমম এখন রুমে যা আমার হাতে অনেক কাজ।
– রুমে গিয়ে ম্যাডাম কে ভাবতে ভাবতে ঘুমাই গেছি, মার ডাকে ঘুম ভাঙ্গল।
– সাহরিয়া ওঠ তারাতারি আর কত ঘুমাবি, উপরের তলার আন্টিরা এসেছে দেখ।
– এত্ত সকালে কেন ডাকছ মা, চোখ ডলতে ডলতে মাত্র রুম থেকে বাইরে আসছি,
ওমনি দেখি মা আর উপরের তলার আন্টির সাথে বসে আছে আমার ক্রাস মানে ম্যাডাম।
– ঐ গাধা এখন সকাল না সন্ধা বুঝলি, যা ফ্রেস হয়ে আয়।
– তার পরে ফ্রেস হয়ে আসলাম।
– ঐ টা তোর আন্টি, আর এটা হলো তোর অধরা আপু সবাইকে সালাম দে।
– হুমমমমমম, আস্ সালামুয়ালাই কুম।
আহা পরীটার নাম ও জেনে গেলাম অধরা আহা কী সুন্দর নাম।
– মা একটা কথা বলার ছিল।
– হুমমমমমম বল।
– আমি তো একদম ইংলিশ পারি না, তাই একটা স্যার দরকার।
– আরে অধরাই তো ইংলিশ এর টিচার্স তুমি ওর কাছেই পড়তে এসো (আন্টি)।
– মনে মনে তো আমি আনন্দে চৌদ্দ খানা।
যাক টোপ টা কাজে লাগল।
– আন্টি আপু যদি আজকে থেকেই একটু শিখাই দিত তাহলে একটু ভাল হত।
– হুমমমমমম ঠিকআছে।
– ওরে বাবা অধরা আপু মানে ম্যাডাম তো রেগে শেষ, কিন্তুু কিছু বলতে পাড়তেছে না।
– অধরা মা তুই একটু সাহরিয়াকে ইংলিশ শিখাই দিয়ে আয়, আমি আর তোর আন্টি এখানে বসে গল্প করি একটু।
– ঐ গাধা অধরা কে নিয়ে যা ।
– আপু এসো ঐ সামনের টা আমার রুম।
রুমে ঢুকেই।
– সরি আপু না না ম্যাডাম।
– চুপ বেয়াদব, এইটা তোমার রুম।
– হুমমমমমম।
– ছি এত্ত অগোছালো কেন।
– তোমার মতো বউ নেই তো তাই।
– ঐ কীইইইই বললা।
– না না কিছু না।
– ওয়াও রুবিক্স কিউব, তুমি মিলাতে পারো ।
– হুমমমমমম, দেখ মিলাই দিতেছি।
– বাহ্ এত্ত তারাতারি কেমননে সম্ভব।
– তুমি যেমন না না আপনি যেমন ইংলিশ বলেন তেমন করে।
– আমাকে শিখাবা।
– হুমমমমমম কুন্তুু আমার একটা শর্ত আছে।
– কীইইইই।
– আমি আপনি বলতে পারব না তুমি করে বলব ।
একটু কী জানি ভাবল।
– ওকে ঠিকআছে কিন্তুু কলেজে সবার সামনে তুমি বলতে পারবা না।
– আচ্ছা।
– তাহলে এখন শিখাও।
– হুমমমমমম দেখ এমন ভাবে প্রথমে দুই স্টেপ ট্রাই করো আজকে রাতে।
কালকে পুরোটা শিখাব।
– আমার তো রুবিক্স কিউব নাই।
– আরে আমার এটাই আজকে থেকে তোমার নাও।
– আচ্ছা এখন বই বের করো।
– আজকে না কালকে কেমন।
– চুপ বেয়াদব কিছু বলছি না তাই,বই বের করো।
তার পরে সেদিন এর মতো আমার ম্যাডাম পরীটা চলে গেল।
– মা এটাই তো সেই ম্যাডাম।
– কীইইইই বলছিস।
– হুমমমমম, দেখছ কেমন পটাই ফেলছি, দেখবা কালকে সকালে কেমন নিজেই আমাকে ডাকতে চলে আসবে।
– কেন ডাকতে আসবে শুনি।
– আরে রুবিক্স কিউব এর নেশা ধরাই দিছি না হি হি।
– চুপ শয়তান একটা।
– আর যাই বলো মা, মেয়াটা আমার বউ হলে বেশ লাগবে হুমমমমম।
– ঐ তোর কোন লজ্জা সরম নেই হুমমমমমম।
– ছিল হয়তো তোর পেঁট থেকে নিয়ে আসতে ভুলে গেছি।
– যা এখন খেতে আয়।

সেদিনের মতো খেয়ে দেখে, ম্যাডাম আপুর কথা ভাবতে ভাবতে ঘুমাই গেলাম।
সকাল বেলা আপুর গলা শুনতে,
মনে হয় কালকের কথাটা কাজে লেগেছে।
তাই তারাতারি কপাল ঘুসে ঘুসে গরম করলাম যাতে কপালে হাত দিয়ে ভাবে জ্বর আসছে।
হঠাৎ আমার রুমে আসল, আমি চোখ বন্ধ করে আছি।
– সাহরিয়া ঐ সাহরিয়া তারাতারি ওঠ অর্ধেক মিলানো শিখে গেছি।
সাহরিয়া কী হল, বলেই মাথাই হাত দিল, ঐ তোমার তো জ্বর আসছে।
– আন্টি আন্টি।
– ঐ থামো থামো মাকে ডাকছ কেন,
তোমাকে তো একটু বোকা বানালাম হি হি।
– শয়তান পোলা, দেখ এইটু তো শিখে গেছি এখন কী করব।
– আচ্ছা দাঁড়াও কয়টা টেকনিক বলব আর তুমি ঘুরাবা কেমন।
– হুমমমমমম।
– এখন চোখ বন্ধ করো, একবার ও খুলবানা কেমন।
– হুমমমমমম।
– এবার কাছে আসো, আমি ওর হাত ধরে ধরে ঘুরাচ্ছিলাম, মনে হচ্ছিল সারা জীবন ওমন ভাবে ঘুরাই।
এবার চোখ খুলো।
– ওয়াও সব দিক মিলে গেছে, আমাকে ও শিখাও না প্লিজ।
– ওকে তুমি ছাদে যাও আমি ফ্রেস হয়ে যাচ্ছি।
এর পরে দীর্ঘ দুই ঘন্টা একি হারে বুঝানোর পর ঠিকঠাক মিলাতে পাড়ল।
আমার মাথা পুরাই শেষ,
যদি অন্য কেউ বলত ভাই আমাকে এমন করে শিখান বিনিময়ে ১০০০ টাকা দিমু, মাফ চাই ভাই আমি
তোরে ১০ টাকা দিচ্ছি ভাড়া দিয়া বাড়ি যা।
কিন্তুু মিলানো শিখানোর পর যে ও কত্ত খুশি, ফ্রিতে একটা পাপ্পি ও পেয়ে গেছি।
এর পর থেকে আমরা আরো ফ্রি,
কলেজ ছুটি তাই সব সময় পড়া লেখা আর বিকেলে বেড়াতে যাওয়া, আমার ফেভারিট জায়গা নদীর পারে।
– ও কী মনে মনে ভাবত আমি জানি না, একদিন জিজ্ঞেস করছিলাম অধরা আপু তোমার ‘বফ’ নাই।
– আরে পড়ালেখাই এমন বিজি ছিলাম ঐ সব এর টাইম পাই নাই।
– যাক তার মানে আমার লাইন ক্লিয়ার,
না এখন না সময় বুঝে সব কথা বলতে হবে।
এর মধ্যে কলেজ এর ছুটি ও শেষ।
– আমি আর অধরা এক সাথে হেঁটে যাচ্ছি কলেজে, কলেজে ঢুকতেই তো সবাই অবাক।
যখন ক্লাসে সবার থেকে আরো ভাল ইংলিশ পাচ্ছি তখন সবাই আরো অবাক।
ক্লাস শেষে ক্রিকেট খেলছিলাম হঠাৎ হুরমুর করে বৃষ্টি আসল।
দৌড়ে আসতে আসতে ও মাথা ভিজে গেছে।
গেঞ্জি দিয়ে টেনে টেনে মাথা মুছতেছি।
– ঐ সাহরিয়া এই দিকে আয়।
– হুমমমমম কীইইইই।
– এখন যদি মাথাই পানি বসে যাই তাহলে জ্বর আসবে না হুমমমম।
বলেই শাড়ির আঁচল দিয়ে মাথা মুছে দিতে লাগল।
মনে হচ্ছিল যে নিজের বউ হি হি।

তারপরে বাসাই চলে আসলাম ডিসিশন ফাইনাল আজকে রাতেই প্রপোজ করব।
রাত ৭ টাই ফোন করে অধরা আপু ম্যাডাম কে ছাদে আসতে বললাম।
– হুমমমমম কীইইইই বলবি শুনি।
– সোজাসুজি বলে দিলাম আমি তোমাকে ভালবাসি।
ওমনি ঠাসসসসসসসসস।
– ছি সাহরিয়া তুই এতটা নিচ আমি জানতাম না, এইটা তুই কেমনে ভাবলি ছি।
আমার চোখের সামনে আর আসবি না।
বলে চলে গেল।

সত্যিই আজকে খারাপ লাগছে, যাকে এত্ত ভাল বাসলাম সেই এমন বইলা চলে গেল।
মাকে ও কিছু বলি নাই খেয়ে দেয়ে শুয়ে আছি।
কখন ঘুমাই গেছি যানি না।
– সাহরিয়া ওঠ কলেজে যাবি না।
– না মা আজকে ভাল লাগছে না, তুমি যাও আমি উঠতেছি।
– হুমমমমম তারাতারি খেতে আয়।
– খেয়ে দেয়ে নদীর পারে গিয়ে একা একা বসে আছি। একটু সাইটে তাঁকাই দেখি অধরা ম্যাডাম আপু আসতেছে।
ওখান থেকে উঠে বাসাই চলে আসলাস,
আম্মু আর আমি লুডু খেলতেছি হঠাৎ অধরা আসল।
একা একাই ফোনের রিংটোন টা চালু করে দিলাম,
– মা রাজু ফোন করেছে আমি বাইরে গেলাম।
এই বলে বাইরে চলে আসলাম,
একদম সন্ধাই বাসাই আসলাম,
– সাহরিয়া শোন তোর সাথে আমার কথা আছে (মা)।
– হুমমমমম বলো।
– তুই আর অধরার সাথে কথা বলিস না কেন।
– এমনি।
– আমি সব জানি, রাতে তোকে ছাদে যেতে বলেছে।
– আমি কেন ছাদে যাব, আমাকে চোখের সামনে যেতে বারণ করবে,
আবার আমি কেন যাব।
বলে রুমে চলে আসলাম।
কিন্তুু বেহায়া মনটা যে আর মানতেছে না,
তাই ছাঁদে চলে গেলাম, গিয়ে দেখি ম্যাডাম আপু আমার আগে থেকেই দাঁড়াই আছে।
– কীইইইই বলবেন বলেন।
ওমনি দৌড়ে এসে আমাকে জরাই ধরে কেঁদে দিছে,
– সাহরিয়া অনেক গুলা সরি, আমি তোমাকা ছাড়া থাকতে পারব না জানো।
– তাহলে ওমন করে বলছিলে কেন।
– এমনি।
– এখন তা হলে পাপ্পি দাও অনেক গুলা।
– চুপ শয়তান একটা।
– দাও না প্লিজ।
– আচ্ছা এই নাও দিলাম।
তার পরে অধরার হাত ধরে রুমে নিয়ে গেলাম।
মা ও মা এই দেখ তোমার মিষ্টি বউ মাকে নিয়ে আসছি।
এখন আর একটা পাপ্পি দাও না।।।।। হি হি হি।।।।

>>সমাপ্তThe End

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত