অধরা ভালোবাসা

অধরা ভালোবাসা

এই যে মহারাণী আপনার আর কতক্ষন লাগবে,আপনার আটা,ময়দা থেরাপি এখনও শেষ হয় নাই।কথাগুলো বলে একটা রিক্সা ডাক দেয় রাজ। ওপাশ থেকে সুপ্তি বরাবরের মত ঝাড়ি না দিয়ে খুব মায়াবী কন্ঠে বলে,তুই দাড়াঁ আমি আসছি। রাজ আর সুপ্তি সেই ছোটবেলার বন্ধু। পাশাপাশি বাসা,দুই পরিবারের ভাল সম্পর্ক আর একই স্কুল কলেজে পড়ার সুবাদে দুজন দুজনার খুব ভাল বন্ধু। কিন্তু সেটা যে আর বন্ধুত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই সেটা দুজনেই বুঝতে পারছে। শুরুটা ভার্সিটি ভর্তির প্রথম দিন। ক্লাশ শেষে বাসায় ফিরছিল ওরা।

 

ঠিক এইসময় হঠাৎ বৃষ্টির আগমন। রিক্সা থেকে নেমে একটা বন্ধ শপিংমলের সামনে দাড়াঁল দুজন। দুজনেই ভিজে একাকার।হঠাৎ করে কাছে কোথাও বাজ পড়ল। ভয়ে রাজকে শক্ত জরিয়েকরে ধরল সুপ্তি।রাজ অনুভব করল কোন এক স্বর্গীয় সুখের আবেশে হারিয়ে যাচ্ছে সে। বুকের ভিতর কেমন জানি নিস্তদ্বতা বিরাজ করছে। কেমন জানি একটা গাঁঢ় মিষ্টি গন্ধ যা শুধু মেয়েদের শরীরেই থাকে।

 

সেদিন এর পর থেকে রাজ বুঝতে পারে সুপ্তিকে সে ভালবাসে। কিন্তু সে বলবে কিভাবে? ইদানিং সুপ্তি কেমন জানি তাকে এড়িয়ে যাচ্ছে। আগের থেকে সুপ্তি অনেক বদলে গেছে। আগে কোন মেয়ের সাথে কথা বললে সুপ্তি সেটা সহ্য করতে পারত না। সবকিছু কেমন জানি পাল্টে যাচ্ছে।অনেক রাতে সুপ্তির ফোন ওয়েটিং পায় রাজ।তবে কি সুপ্তি অন্য কাওকে।না সেটা হলে রাজ জানত। এইসব ভেবে ভেবে রাজের অবস্তা দিন দিন খারাপ হচ্ছে।

 

সুপ্তির বাসার সামনে এসে রাজ দেখে সুপ্তি দাড়িয়ে আছে।নীল রঙের একটা শাড়ী পড়া। এমনিতেই আবেগপ্রবণ পুরুষদের নীল রঙের শাড়ী পরা রমণীদের প্রতি আলাদা দূর্বলতা কাজ করে। তার ওপর সেটা যদি নিজের সেই স্বপ্নের রানী হয় তবে বুকের বাপাশের চিনচিন ব্যাথাটা যে শ্বাসপ্রশ্বাসের থেকে দ্বিগুণ হারে বাড়তে থাকে সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না। রিস্কায় বসে সুপ্তি বলল যে কাল আমার বিয়ে তাই তোকে নিয়ে শপিং এ যাব।আশ্বর্য হয়ে রাজ জিঙ্গেস করল তর বিয়ে কই শুনি নাই ত,মিথ্যা বলছিস কেন?

 

সুপ্তি শান্ত কন্ঠে জবার দিল কাল রাতে ফাইনাল হইছে হাসবেন্ড আমেরিকা থাকে।

 

২দিনের জন্য দেশে আসছে।তাই হুট করে বিয়েটা করছি।তারপর আমাকে নিয়ে চলে যাবে। কথাগুলো সুপ্তি এতটা স্বাভাবিক ভঙ্গিতে বলল যে রাজ তাকে আর কিছু জিঙ্গেস করল না। বাসায় ফেরার পথে শুরু হল বৃষ্টি।দুজনেই ভিজে একাকার। হঠাৎ করে বাজের শব্দে রাজকে জরিয়ে ধরল সুপ্তি।

 

চারদিকে তখন অন্ধকার। রাজ আবার সেই মিষ্টি গন্ধের তিব্রতা অনুভব করল।তার ঠোঁটগুলো ছুটে গেল মিষ্টি গন্ধের ভ্যাপসা নিশ্বাসের অজানা অনুভূতির খোঁজে। সুপ্তিও নিজেকে আর ধরে রাখতে পারল না। হঠাৎ করে সুপ্তি বাস্তবে ফিরে আসল।ছাড়িয়ে আনল নিজেকে। তারপর নেমে এল নিস্তব্দতা।ফুপিঁয়ে ফুপিঁয়ে কাদঁতে লাগল সুপ্তি।

এরপর একবছর কেটে গেল।সেদিনকার ঘটনার পর রাতেই রাজ ফিরে আসে তার গ্রামের বাড়িতে।সেখানে তাদের একটা পুরনো জমিদারবাড়ি ছিল।আর সুপ্তির কষ্ট ভুলতে ধীরে ধীরে নেশায় আসক্ত হয় সে।বৃদ্ধ বাবা,মা ছেলেকে সংসারী করার জন্য অনেক চেষ্টা করলেন।কিন্তু লাভ হল না। ধীরে ধীরে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যায় সে। সন্ধার দিকে একটা অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন পায় রাজ।গলাটা সুপ্তির,রাজ তুমি একটু তাড়াতাড়ি আসতে পারবা।মরার আগে তোমাকে একটু দেখে মরতে চাই।

 

তোমার কাছ থেকে শুধু একটা কথা শুনতে চাই যা শোনার জন্য একটি মেয়ের রিদয় তৃষিত হয়ে থাকে।লাইনটা কেটে গেল।রাজ তক্ষুনি বেড়িয়ে পড়ল। বাসার প্রায় কাছাকাছি আসার পর গাড়িটা নষ্টহয়ে গেল। রাজ দৌড়ে বাসার দিকে রওনা হল। শরীর যেন বিদ্রোহ করছে।নাক দিয়ে রক্ত পড়ছে।সিড়িঁ দিয়ে উঠার সময় হোচট খেলে পড়ল সে। কিছুক্ষনের মধ্যেই জিবনের দেনাপাওনা মিটিয়ে পরপারে গেল সে। তার লাশটা পাওয়া যায় সিড়িঁর নিচে।আর অভাগী সুপ্তি বাচাঁর অভিনয় শেষষ করে ক্যান্সারের কাছে হার মানল সে।

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত