গুন্ডি মেয়ের মিষ্টি পাপ্পি !!!

গুন্ডি মেয়ের মিষ্টি পাপ্পি !!!

 

– ওহহহহ আজ কালের রিক্সা ওয়ালা গুলার ও রাজার মতো চাহিদা।
দুকলা ছাড়া একলা যাবে না …
এখন আমি আর এক জন কই পামু ,
সবাই তো দুকলা হয়ে ঘুরে আমার কপালে কিচ্ছু জুটল না ।
দূর আর যদি একটা “গফ” থাকতো
তাইলে অন্তত এই রিক্সার চিন্তা করা লাগত না ।

কী আর করার হেঁটেই কলেজ এর দিকে রওনা দিলাম ।
হঠাৎ পিছন থেকে অনবরত
বাইকের হর্ন এর শব্দ … একে তো রিক্সা না পাওয়াই, এই রোদের মধ্যে হেঁটে যাচ্ছি তাঁর ওপরে আবার এমন কানের কাছে হর্ন এর শব্দ সহ্য হয় ।

পিছনে ঘুরতেই দেখি নিধি আপু তাঁর স্কুটি নিয়ে আমার পিছনে এমন হর্ন দিচ্ছে ।
বলার মতো অনেক কথা ছিল কিন্তুু তাঁকে দেখে সব হাওয়া ।
কারণ নামটার যত মিষ্টি তাঁর মধ্যে মিষ্টির কোন ছিটাফোঁটা নাই ।
পুরাই গুন্ডি টইপের একটা মেয়ে , খালি আমি কেন কলেজ এর বড় ভাইয়েরা ও তাঁর সাথে কথা বলতে ভয় ।

তাঁর মুখ যেমন চলে হাত পা তাঁর থেকে বেশি ছোটাছুটি করে ।
সবাই তো কাছে যেতেই ভয় পায় , আর এই মেয়ে খালি খালি আমার পিছনে ক্যান
পড়ে থাকে আমি বুঝি না ।

– ওই রিয়া …একা হেঁটে হেঁটে কই যাস ।
– মেজাজটা কেমন লাগে বলেন একবার ,
দেখতেই পাচ্ছে ঘাড়ে ব্যাগ আছে তাও জিজ্ঞেস করছে ।
কিন্তুু কী আর করার .. তাঁর মুখের উপরে তো আর বলার মতো সাহস আমার নাই ।
– আপু আমার নাম রিয়া না সাহরিয়া … নামের লেজটা ধরে ঢাকেন ক্যান ।
– আমার ইচ্ছা হইছে তাই … তোর কী এতে কোন প্রবলেম আছে ।
– না কোন প্রবলেম নাই , কিসের আবার প্রবলেম ।
– ওকে … কই যাচ্ছিস ।
– কলেজে যাইতেছিলাম ।
– তো রিক্সা করে যাবি ।
– না মানে রিক্সা ওয়ালা দুকলা ছাড়া একলা নিবে না তাই ।
– ওহহহহহ আচ্ছা …তা হলে আমার স্কুটিতে চর ।
– হি হি হি তোমার ওই বুলেটে চড়ার মতো ক্ষমতা আমার নেহি , এই উঠতে বলবা , আবার উঠতে গেলেই থাপ্পড় দিবা আমি জানি ।
– কী বললি … ভালই ভালই উঠে পড় না হলে সত্যি সত্যি থাপড়ানি খাবি ।

– না মানে বলছিলাম কী তুমি একটা মেয়ে , আর আমি তোমার পিছনে চড়ে গেলে লোকে কী বলবে বলো ।
হঠাৎ স্কুটি থেকে নামতেছে …
– খবরদার যদি দৌড়ানি দিছিস তাহলে তোরে ওই লেকের পানিতে চুবামু ।
– কী আর করার মাত্র দৌড় দেয়ার প্লান নিছিলাম … তাঁর আগেই এমন ওয়ারনিং… আমার বাপরে দেখে না আমি যতটা ভয় করি … এই মেয়েরে দেখে আমি তাঁর চাইতে শত গুন বেশি করি ।

স্কুটি থেকে নেমে আমার শার্টের কলার ধরল ।
– লোকে কী বলবে তাই না , এবার দেখি কোন লোকে আজ তোরে বাঁচাই ।
– আচ্ছা আচ্ছা তোমার কথায় সই কী করব বলো ।
– আজকে আমার স্কুটি তে করে কলেজ এ যাবি বুঝলি ।
– না মানে তুমি চালাবা আর আমি পিছনে থাকবো এটা কেমন লাগে … তাঁর থেকে
আমি চালাই তুমি বসে থাকো ।
হায় হায় মুখের উপরে কথা বলছি ।

সরি … না মানে মুখ ফসকে কথা গুলো বেরিয়ে গেছে ।
– আচ্ছা আচ্ছা ওকে তুই চালা আমি পিছনে বসছি … আর ভুলে ও যদি জোরে ব্রেক মেরে গায়ে টাচ করিস … তাহলে মেরে তোর নাক ফেটে দিমু ।
– কী মেয়েরে ভাই … এইটুকু রাস্থার জন্য কতো ভয়ে ভয়ে চলতে হবে , কার কপালে যে এই গুন্ডি মেয়েটা আছে আল্লাহ্‌ জানে তাঁর কী অবস্থা হবে ।
– ওই বিড়বিড় করে কী বলছিস ।
– কই কিচ্ছু না তো … ।
– হুমমমম ভদ্র পোলার মতো কলেজে যাবি ।
– আর কলেজে যাওয়া এমনিতেই সবাই যেমন হা করে তাকাই আছে (মনে মনে ) ।

– আপু কলেজে চলে আসছি ।
– আচ্ছা এবার নেমে সোজা ক্লাস এ যাবি … যদি কোন মেয়ের সাথে ট্যাংকি মারতে দেখি না … তোরে একদম খেয়ে ফেলমু ।
– ওলে বাবা … আমি কী তোমারে ভয় পাই নাকি হি হি হি … বলেই এক দৌড় আমারে এখন আর কে পায় ।
জীবনে আর নিধি আপুর সামনে পরমু না ।

আহা কী শান্তি লাগতেছে এখন … এতক্ষন মনে হয় অক্সিজেন ছাড়া ছিলাম ।
শার্টের বোতাম খুলে দিয়ে ক্লাস এ যাচ্ছি ।
– হাই … সাহরিয়া কেমন আছো (নীলা) ।
– হ্যালো … নীলা এইতো ফাটাফাটি তুমি ।
– আমি ও ভালো … আচ্ছা তুমি তো ওই নিধি আপুর ভয়ে আর আমাদের সাথে কথায় বলো না ।
– আরে দূর কে বলল আমি নিধি আপুকে দেখে ভয় করি … উল্টাে সে আমাকে দেখে ভয় করে বুঝলা ।
– আচ্ছা আমি গেলাম আমার ক্লাস আছে কেমন … পরে ওই পুকুর পারে আসবা কেমন ।
– আরে আমি আসব না তো কে আসবে হা হা হা ।

উল্টো ঘুরতেই ঠাসসসসসস করে একটা চটকানি খেলাম ।
– ওহহহহহহহ … আচ্ছা আপু মারলা ক্যান আর এত্তজোরে কেউ মারে ।
– তোরে না কোন মেয়ের সাথে কথা বলতে বারণ করছি ।
– আরে আমি তো কিচ্ছু বলি নাই আমার কাছে নোট চাচ্ছিল ।
– বাহ … দুনিয়াই ভালো ছাত্র এর অভাব পড়ছে তো তাই তোর কাছে নোট চাইবে ।
– হুমমমমম ।
– ওই হারামি হুমমমম কী হুমমমম …
আমি তোরে দেখে ভয় পাইছি কোনদিন শুনি । বানাই বানাই মিথ্যা কথা
বলা তোর ছুটাইতেছি … আর আহা দরদ কত ক্লাস শেষে পুকুর পারে এসো …
ভুলে ও যদি ওই দিকে যাস তা হইলে তো দুই পা ভেঙ্গে ফেলে দিমু … এবার ক্লাস এ যা ।
– বাচ্চা পোলা গো মতো মাথা নাড়াই চলে আসলাম ।

আমি জানি না আমার সাথেই ক্যান এমন করে ।
আরো তো অনেক পোলা আছে তাঁদের তো শাষণ করে না ।
আরে নিধি আপু দেখতে ও কিন্তুু হেব্বি দেখলেই সব পোলার বুকের ধুকধুকানি বেড়ে যাবে হি হি হি ।

কিন্তুু যে গুন্ডি মেয়েরে বাবা ভালোবাসি তো আমি জীবনে ও বলতে পারমু না ।
ভবতেছি কী করা যায় , একটা সুযোগ পেলেই কাজে লাগামু ।

মাত্র ক্লাস থেকে বেড় হতেই দেখলাম নিধি আমি তাঁর এর ক্লাসমেট রিয়াদ ভাইয়ের সাথে কথা বলছে ।
মনে মনে ভাবছি এটাই সুযোগ , নিধি আপু কে ওনার সাথে কথা বলতে এমন ভাব করলাম যে আমি রেগে গেছি ।
একবার তাকাই রাগ করে চলে আসার মতো করে চলে আসলাম ।

মনে হয় কাজ হইছে … আমাকে কয়েকবার পিছন থেকে সাহরিয়া সাহরিয়া বলতে ডাকতেছে ।
কিন্তুু কে শুনে কার কথা , এক দৌড় দিয়ে একটা ঝোপের আড়ালে লুকাই পড়লাম ।
দেখলাম আমাকে কেমন পাগল এর মতো করে খুজতেছে ।
হি হি হি এবার বুঝবা মনু … কেমন লাগে ।
ফোন অফ ফেসবুক অফ সব একে বারে বন্ধ ।

সাত দিন আরামছে কেটে দিলাম … না এখন কলেজে যাওয়া দরকার ।
কলেজে যেতেই সবাই হা করে আছে মনে হয় আমি একজন খুনি কাউকে খুন করে আবার সাত দিন পরে ফিরে আসছি ।
– সাহরিয়া তুই এতদিন কইছিলি (সজিব) ।
– সেই কথা আর কইস নারে ভাই এক ঘুমে সাতদিন কাবার ।
– হারামি ফাজলামি বন্ধ কর … নিধি আপু তোরে কেমন পাগল এর মতো খুঁজেছে জানিস ।
– দূর হেতের কথা বাদদে থাপরানি দেওয়ার আর কোন মানুষ পায় নাই তাই ।

চারিদিকে উকি ঝুকি মাড়লাম না নিধি আপু নাই …তার মানে আরামছে নীলার সাথে গল্প করা হবে ।
আহহহহহহা কী মজা ।

নীলার কাছে যেতেই ।

– সাহরিয়া কই ছিলা তুমি … নিধি আপু তোমাকে সত্যি অনেক ভালো বাসে তোমার জন্য প্রতিদিন ওই পুকুর পারে বসে থাকে ।
– নীলার কথা শুনে আর দেরি করলাম না এক দৌড়ে পুকুর পারে চলে গেলাম ।
দেখলাম একটা পরী সেখানে শাড়ি পরে বসে আছে ।
– কাছে যেতেই দেখলাম চোখের নিচে কালি পরে গেছে… মনে হয় অনেক কেঁদেছে আর রাতে ঘুমাই নাই ।

মাত্র একটু রোমান্টিক ভাবে কাছে যাচ্ছি …
ওমনি দুই গালে ২+২+৪ টা থাপ্পড় এমনিতেই আমার চোখ দিয়ে পানি বাড়াই গেছে ।
কিসের মধ্যে কী হয়ে গেলো ।
– এখানে কেন আসছিস হুমমমম যা না যা কয়দিন পরে তো এমনি মরে যেতাম ।
– ওহহহহহ খালি আমার বেলা সব দোষ তুমি অন্য পোলাদের সাথে কথা বলো তাঁর বেলা কিচ্ছু না তাই না ।

আমার যখন সব দোষ তাহলে আমি চলে যাচ্ছি ।
আসলে কষ্টে কাঁদছি নারে ভাই ওই গুন্ডি মেয়েটার হাতে হেব্বি জোর গাল দুইটা লাল হয়ে গেছে ।

চলে আসতেছি …।
– এমন সময় পিছন থেকে হাত টেনে ধরল … ওই কই যাস ।
– এক্কেে বারে চলে যাবো … তুমি ওই পোলার সাথে কথা বলো যাও ।
– আচ্ছা বাবা সরি … আমি রেগে গেছিলাম তোকে … না মানে তোমাকে কতো পাগলের মতো খুঁজছি জানো ।
– হুমমমমম … দুই গালে হাত দিয়ে আছি ।
– আচ্ছা অনেক জোরে লাগছে তাই না ।
– না না লাগবে ক্যান একটু ও লাগে নাই ।
– হি হি হি বোকা … আসো যতো গুলো
মারছি তাঁর চাইতে বেশি পাপ্পি দিচ্ছি ।।

ওহহহহহহহহ কী যে কমু ভাই মনে হয় ……………… হারাই গেছি ।
– ওই আর অন্য মেয়ের সাথে কথা বলবা না ।
– হুমমমমম তুমি ও আর কোন পোলার সাথে কথা বলবা না কিন্তুু ।
– ওকে …।
– আচ্ছা মেয়েদের সাথে কথা বলব না কিন্তুু একটু একটু মাইয়াদের সাথে কথা বলব কেমন ।
– কী বললি শয়তান … দাঁড়া একবার …

– আমারে আর কে ধরে যতো গুলো পাওয়ার ফুল পাপ্পি
খাইছি … হি হি হি …।

>>The End<<

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত