কুড়িয়ে পাওয়া ভালোবাসা

কুড়িয়ে পাওয়া ভালোবাসা

গল্পের নাম টা শুনে হাসি পাচ্ছে তাই না। হাসি পাওয়ার ই কথা ভালোবাসা আবার কুড়িয়ে পাওয়া যায় নাকি। তাহলে চলুন যানি কিভাবে কুড়িয়ে পাওয়া গেলো ভালোবাসা………..
বিকেল বেলা বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিয়ে সন্ধ্যার দিকে বাসায় ফিরছি হেটে হেটে। একাই হাটছি রাস্তা দিয়ে। এমন সময় আমার চোখ পড়লো কিছু একটা পরে আছে সেটার উপর। কৌতূহল বসত ঐজিনিস টার কাছে গেলাম। গিয়ে দেখলাম ঐটা মেয়েদের হেন্ড পার্স। আশে পাশে তাকিয়ে দেখলাম কেও নাই। তুলবো কি তুলবো না এটা ভাবতেছি। চারপাশে দেখি কেও নেই।
তাই তুলে নিলাম পার্স টা। তারপর বাড়ি চলে আসলাম।
রাতের খাবার খেয়ে একটু পড়তে বসলাম । তখন মনে পরলো আমি তো রাস্তায় পাওয়া পার্স টার কথা। তারপর পার্স টা খুললাম দেখি কিছু টাকা আছে। বের করলাম না আর টাকা গুলো। যেভাবে ছিলো সেভাবেই রেখে দিলাম। তারপর শুয়ে পরলাম। শুয়ে শুয়ে ভাবতেছি কিভাবে এই পার্সটার মালিক কে খুজে পাই।
পার্স এতো আর নাম ঠিকানা লিখা নাই । কি করে খুজে পাই। অন্য কারো টাকা নেওয়ার আমার কোনো ইচ্ছা নাই। ধুর….. কেনো যে ব্যাগ টা তুলতে গেছিলাম। ভালো লাগছে না এখন। সকাল বেলা পার্স টা যেখানে পেয়েছিলাম সেখানে যাবো হয়তো পার্সটার মালিক কে পাবো। এসব ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পরলাম। পরদিন সকালে খাওয়া দাওয়া করে যেখানে পার্স টা পেয়েছিলাম সেখানে গেলাম। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কেও আসলো না। পরেরদিন ও একই কাজ করলাম কিন্তু কাওকেই পেলাম না। খুব খারাপ লাগছে…… কেনো যে তুলতে গেলাম পার্স টা। তারপর ভাবলাম খুলে দেখি পার্স টা হয়তো ভিতরে কিছু আছে। যেটাতে পার্সটার মালিক খুঁজে পাওয়া যাবে।
তারপর পার্স টা খুললাম। তাতে দেখলাম ১২৯০ টাকা। একজুরো কানের দুল। একটা চেইন আর একটা আংটি। আর পেলাম একটা সিমের প্যাকেট , সিম কেনার সময় যে প্যাকেট টা দেওয়া হয় সেটা।
সিমের প্যাকেট টা দেখে একটু সস্থির নিশ্বাস ফেললাম। কেননা সিম থাকলেও কারো না কারো কাছে জানা যাবে কে এই পার্স এর মালিক আর না থাকলেও জানা যাবে। কেননা সিমের প্যাকেট এর উপর নাম্বার দেওয়া আছে।
যাক অবশেষে একটা জিনিস পাওয়া গেলো পার্সের মালিক টা খুঁজে পাওয়ার মতো।
না সিমের প্যাকেটে কোনো সিম নেই।
তারপর নাম্বার টা ফোনে উঠালাম।
প্রথম বার কল দিলাম বন্ধ দেখালো ।
দ্বিতীয় বার দিলাম তবুও বন্ধ।
ধুররররর……..
যাও কিছু একটা পেলাম পার্সটার মালিক খুঁজে পাওয়ার আশায় সেটাও বেস্তে গেলো।
পরেরদিন কল দিলাম,,, যাক বাবা এবার রিং হচ্ছে।
প্রথম বার ফোন তুললো না।
দ্বিতীয় বার যখন ফোন দিলাম তখন তুললো।
আমি : আসসালামু আলাইকুম ,
সে : ওয়ালাইকুম আসসালাম, কে বলছেন।
আমি : আসলে আমি আপনাকে চিনিনা।
সে : চিনেন না তো কল করছেন কেনো। আর কখনো আমার এখানে ফোন দিবেন না।
বলেই ফোন টা রেখে দিলো।
যাক বাবা আমি তার উপকারের জন্য কল দিলাম আর সে কল টা কেটে দিলো ।
একটু পর আবার কল দিলাম
ধরার সাথে সাথে ঝাড়ি দিলো
আপনাকে বলছি না আমাকে ফোন দিবেন না তবুও কেনো ফোন দিচ্ছেন। আর যেনো কল না আসে। দিলো কেটে।
বাধ্য হয়ে দিলাম আবার কল দিলাম।
এইবার
আমি : আসলে আমি আপনার একটা আপনার একটা উপকার করতে চাই।
সে : আমার কোনো উপকার লাগবে না । ok…
কল কেটে দিলো।
পরবর্তীতে আরো কল দিলাম কিন্তু ডুকছে না কল। মনে হচ্ছে ব্লকলিস্টে নাম্বার দিছে।
কি মেয়েরে বাবা একটু কথা টাও শুনলো না।
নাম্বার টা দিয়ে ফেইসবুক এ সার্চ দিলাম কিন্তু সেই নাম্বারে কোনো আইডি নাই।
তারপর অন্য নাম্বার থেকে তাকে কল দিলাম
ধরার সাথে সাথে আমি বললাম আপনার হারানো জিনিস টা আমি পেয়েছি।
সে : মানে, কি পেয়েছেন।
আমি : আমি আপনার পার্স টা পেয়েছি।
সে : সত্যিই আপনি আমার পার্সটা পেয়েছেন।
আমি : হুম সত্যিই পেয়েছি।
সে : বলেন তো আমার পার্সে কি কি ছিলো।
আমি : ১২৯০ টাকা, একজোরা কানের দুল, একটা আংটি আর এই সিমের প্যাকেট টা।
সে : হুম, এটা আমার। আত্মিয়ের বাড়ি থেকে আসার সময় পার্স টা কোথাও পরে গেছে।
আমি : আসলে আমি আপনাকে পার্স টা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্যই কাল থেকে ফোন করছি।
by the way কাল এ রকম করলেন কেনো আমি কল করার পর।
সে : আসলে মন টা ভালো ছিলো না, ঐ খানে যে চেইন, কানের দুল আর আংটি টা দেখতে পাচ্ছেন ঐগুলো আমার মায়ের স্মৃতি। আমার মা ২ বছর আগে মারা গিয়েছে।
আমি : ওহ sorry . এতক্ষন ধরে কথা বলছি আপনার নাম টাই যানা হলো না।
সে : আমার নাম নিলা। আপনার নাম কি?
আমি : আমি রনি। কি করেন আপনি?
নিলা : পড়াশোনা করি , আপনি?
আমি : আমিও ,কিসে পড়েন?
নিলা : ইন্টার ফাস্ট ইয়ার। আপনি?
আমি : আমি অনার্স সেকেন্ড ইয়ার।
আচ্ছা আপনাকে কোথায় পাবো আপনার জিনিস টা দেওয়ার জন্য। নিলা : আপনি ………….এই যায়গায় আসতে পারবেন।
আমি : না,,,, আপনি বরং কাওকে নিয়ে…………….­.. এই জায়গায় চলে আসেন। [ কাওকে সাথে নিয়ে আসতে বললাম কারন ওর বাড়ি থেকে একটু দুরে আর মেয়ে মানুষ একা আসা টা ঠিক না]
নিলা : আচ্ছা ঠিক আছে আমি আসবো। আপনি ১৮ তারিখ ৪ টা সময় ঐ যায়গায় থাকবেন।
আমি : ok ,আমি থাকবো।
নিলা : আচ্ছা, ভালো থাকেন।
আমি : হুম আপনিও ভালো থাকেন।
নিলা : bye
আমি : bye…
যাক বাবা একটা যামেলা থেকে মুক্তি পেলাম। পার্স টার মালিক কে পেয়েছি। এটা দিতে পারলেই আমি মুক্ত।
তারপর ১৮ তারিখ আসলো, নির্দিষ্ট যায়গায় বসে আছি, কিছুক্ষণ পর একটা মেয়ে সাথে একটা ছেলে আসলো। আমার কাছাকাছি এসে কল দিলো তখন আমার ফোন টা বেজে উঠলো। ওর বুঝতে অসুবিধা হলো না আমিই সেই ছেলে। যে তার পার্স পেয়েছি। মেয়েটা খুব বেশী ফর্সা নয় শ্যামলা। খুব মায়াবি চেহেরা টা আমি তার দিকে হা করে তাকিয়ে আছি।
নিলা :উহুম, উহুম,,, আপনিই রনি তাই না।
আমি : চোখ টা নামালাম তার দিক থেকে ,হুম আমিই রনি।
নিলা : এ হলো আমার ছোট ভাই, মেহেদী।
আমি : হাই মেহেদী।
মেহেদী :হেলো, কেমন আছেন?
আমি : ভালো, তুমি ভালো আছো?
মেহেদী : জি ভালো আছি।
তারপর আমি নিলাকে তার পার্স টা দিলাম, দিয়ে বললাম দেখে নিন সব কিছু ঠিকঠাক আছে কিনা।
নিলা বললো তার আর দরকার হবে না।
যে মানুষ পার্সটার মালিক খুঁজে বের করতে এত পরিশ্রম করছে তাকে চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করা যায়। thanks আপনাকে আমার জিনিস গুলো দেওয়ার জন্য । যানেন ঐ গুলো আমার মায়ের দেওয়া জিনিস। আমার কাছে থাকা মায়ের শেষ স্মৃতি।
হুম ,,,,,,welcome.
নিলা : চলেন আপনাকে সাথে নিয়ে কিছু খাবো, খুব খুদা লাগছে।
আমি : আচ্ছা চলেন।
তারপর তিনজন মিলে একটা রেস্টুরেন্ট এ গিয়ে খেয়ে নিলাম আর বিলটা নিলাই দিলো।
তারপর আমি চলে আসলাম আর ওরা চলে গেলো।
ভাবছিলাম এটা হয়তো এখানেই শেষ। কিন্তু শেষ হলো না এখান থেকে নতুন কিছুর শুরু হলো।
গল্পে
নিলা রাতে ফোন দিলো,,,,,
নিলা : কেমন আছেন?
আমি : ভালো, আপনি কেমন আছেন?
নিলা : ভালো, কি করছেন?
আমি : এইতো শুয়ে আছি, আপনি?
নিলা : আমিও।
আমি ঠিকমতো খাইছি কিনা। ঠিক মতো পড়াশোনা করিএভাবেই মাঝে মাঝে কথা হয় আমাদের ।
সম্পর্ক টা আপনি থেকে তুমিতে নেমে আসছে।
নিয়োমিত কথা হয়
আমি ওর খোঁজ খবর নেই ও আমার খবর নেই।
আমি ওর প্রতি খুব দুর্বল হয়ে গেছি।
ওর প্রতিটা কথা ভালো লাগতো।
সব সময় ওর কথা ভাবতাম।
তো একদিন ওকে ফোন করে বললাম যে তোমার সাথে কিছু কথা আছে ।
নিলা বললো বলো কি বলবে।
আমি বললাম তোমার কি bf আছে।
নিলা বললো হুম আছে।
তখন আমার মাথায় আকাশ ভেঙে পরলো, আমি স্তব্ধ হয়ে গেলাম।
নিলা বললো কি হলো কথা বলছো না কেনো ।
আমি বললাম না কিছুনা।
তখন নিলা বললো, bf এর নাম টা শুনবে না।
আমি বললাম হুম বলো। [আমার খুব কষ্ট লাগছিলো]
নিলা বললো ,,রনি ,,
কি??? আমি???
নিলা : হুম, আমি তোমাকে খুব ভালোবেসে ফেলেছি।
আমি : আমিও তোমাকে আজ এই কথাটাই বলতে চাইছিলাম। তোমার bf আছে এটা শুনে মাথায় আকাশ ভেঙে পরছিলো।
আর যখন শুনলাম এটা আমি তখন তো লুঙ্গী ডান্স দিতে ইচ্ছা করছে।
i love u janu so much …….
i love u too ……

গল্পের বিষয়:
রোমান্টিক
DMCA.com Protection Status
loading...

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত