আমরা এবং আমাদের ধর্ম

আমরা এবং আমাদের ধর্ম

আমাদের সমাজে এমন কিছু বিষয় আছে যা গুনাহেরতো বটেই খুব হাস্যকরও,,,
কোন বিয়ের অনুষ্ঠানে যদি কোন পর্দাশীল মেয়ে রুমের এককোণে বসে থাকে,বাইরের গান বাজনা,আনন্দ পূর্তি থেকে দূরে থাকে,তখন একদল মুরুব্বিরর বাণী…

কি মেয়ে এটা!! চিকন ঘোমটা দিয়ে এখানে বসে আছে, এখন আনন্দপূর্তি করার বয়স। নাচ গান করার বয়স। আর এমন মেয়ের বিয়ে দিতেও মা বাবার সমস্যা হয়ে যাবে,সবার সাথে মিশবে,সবাই দেখবে তারপরতো পছন্দ হলে বিয়ের জন্য আসবে। এভাবে নিজের চেহারা ডেকে রাখলে জীবনে কেউ বিয়েও করবে না। এখনকার ছেলেরা যে স্মার্ট,আধুনিক। ভাল ছেলে জুটবেওও না। আর এত পর্দা করার কি দরকার এখনকি বয়স হয়েছে। আমাদের মত বুড়ি হয়ে গেছে নাকি।

……………..
তারপর আসি পর্দা করে যখন মেয়েরা বাইরে বের হয়….
: এত পর্দা করার কি দরকার। আমরা অইবয়স পার করে আসি নি।কই রাস্তাঘাটে তো আমাদের সাথে কিছু ঘটে নাই।মনের পর্দা আসল পর্দা।মন ঠিক থাকলে সব ঠিক।যারা এমন হুজুর সেজে থাকে তারাই আকাজ করে বেশি। কত দেখলাম,ঘোমটার নিছে শয়তান বেশি থাকে।আজকাল কার মেয়েদের ঢং দেখে বঁাচি না।
………………….
তারপর কুসংস্কার নিয়ে যখন কিছু বলতে যায়,,,
: আমাদের আর জ্ঞান দিতে আসিও না।দুই কলম বেশি পড়ছ হয়ত তাই বলে নিজেকে এত বড় ভাবিও না।পড়ালিখা আমরাও করেছি।সেই বাপ দাদার আমল থেকে দেখে আসছি,এখন এগুলা বিদাআত হয়ে যাবে,শুনো তোমাদের চেয়ে বয়স আমাদের বেশি, চুলতো আর বাতাসে পাকে নি।যেটা বলি সেটা কর।
………………….
তারপর বিয়ের জন্য ছেলে মেয়েরা যখন দ্বীনদার কাউকে খুঁজে,,,,,
: এককথায়,, হুজুর ছেলে ভালো না।হুজুরদের চরিত্রভালো না।দুই কলম আরবি পড়ছে,কতটাকাই ইনকাম করে,বউ চালাবে কিভাবে।এইসব চিন্তা মাথা থেকে বাদ দাও।বাড়ি গাড়ি, বেশি বেতনের ছেলে দেখে বিয়ে দিব,যেন কোন দিন কষ্ট করতে না হয়।

এভাবে আরো কত বিষয় আছে বলে কি আর শেষ করা যাবে।

তারপরও আমরা গর্ব করি আমরা মুসলিম, ইসলাম আমাদের ধর্ম।আসলে একজন মুসলিম হিসেবে আমাদের জীবন পদ্ধতি কেমন হওয়া উচিত, সেটা কয়জন মুসলমানের জানা আছে??থাকবেই কিভাবে,যদি ছোট থেকে এরকম পরিবেশে, এমন ধারনা সম্পন্ন মানুষদের মাঝে বেড়ে উঠে।জ্ঞান হওয়ার পরই যদি বাংলা, ইংরেজির এত্তগুলা বই ধরিয়ে দেওয়া হয়। এক ঘন্টা মক্তব/আরবী ছাড়া বাকি সময় স্কুল, প্রাইভেট, কোচিং এ ব্যস্ত রাখা হয়,একসময় এরাও ঠিক ওদের মতই হয়ে যায়।
এই ধারনা নিয়ে বেড়ে উঠে, নিজেকে যতটা আধুনিক, স্মার্ট বানানো যাবে সমাজে তত বেশি প্রাধান্য পাওয়া যাবে, পর্দা-ইবাদত এগুলাতো বৃদ্ধ হলে তখন করলেই চলবে, দুইদিনের দুনিয়া একটু আনন্দ পূর্তি না করলে হয়,অনেক টাকা ইনকাম করতে হবে,ইত্যাদি ইত্যাদি।
এই আধুনিকতা,আনন্দ,টাকার পিছনে দৌড়াতে দৌড়াতে যখন হঠাৎ মৃত্যু এসে পড়ে তখন আমাদের হুস হয়।কিন্তু তখন সময় শেষ

………..

“অবশেষে যখন তাদের কারো মৃত্যু আসে,সে বলে হে আমার রব আমাকে পেরত পাঠান,যেন আমি সৎ কাজ করতে পারি যা আমি ছেড়ে দিয়েছিলাম”
সূরা আল-মু’মিনূন ৯৯

গল্পের বিষয়:
ধর্মীয়
DMCA.com Protection Status
loading...

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত