বাইতুল্লাহর মুসাফির

বাইতুল্লাহর মুসাফির

আপনি কি কখনো কোন বই পড়ে আবেগে কেঁদেছেন?
‘বাইতুল্লাহর মুসাফির’ পড়ুন,অঝোরেই কেঁদে ফেলবেন!
আচ্ছা!
কখনো কি ‘মৃতদের জীবন্ত শহর’ ভ্রমণ করেছেন?
‘বাইতুল্লাহর মুসাফির’ আপনাকে সেই শহরে’ই পৌঁছে দিবে,যেখানে প্রিয় খোদার প্রিয় বান্দারা মৃতদের মত
সাদা কাপড়(ইহরাম) পরে প্রিয়তমের সাথে মুলাকাত করে!
যেখানে প্রিয়তমের ঘর কাবা ও
নবীর সবুজ রওজা এবং মদীনার খেজুর বাগান রয়েছে।
বইয়ের মধ্যমেই নবীর সবুজ রওজার মিনার দেখার সাথে সাথে আপনার হূদয়ের ব্যাকুলতা বেড়ে যাবে।
আপনি বইয়ের ভাষায় বলবেন,
‘ঐ যে! ঐ যে মিনারের আলো এবং আলোর মিনার! ঐ যে আমার স্বপ্নের সবুজ গম্বুজ!
ঐ দেখো সবুজের জান্নাত এবং জান্নাতের সবুজ!’
‘তোমরা দেখো, আমি বসে আছি ইরানের গুল বাগিচায়!
ভুল, ভুল, আমি তো মদীনায়! খেজুর বাগানের ছায়ায়!’
মদীনার খেজুরবাগান দেখার সাথে সাথেই আপনি কবির সুরে গেয়ে উঠবেন,
‘খেজুর বাগান, তুমি মদীনার খেজুর বাগান তুচ্ছ তোমার কাছে বসরার (ইরাক) গোলাব বাগান’।
কখনো আপনি চলে যাবেন, ‘মৃতদের জীবন্ত শহরে’ জান্নাতুলবাকীতে।
কখনো বা চলে যাবেন, প্রিয় নবী সা.এর হাতে তৈরী প্রথম মাসজিদ কোবাতে।
আবার কখনো চলে যাবেন, অহুদ পাহাড়ে।
হায়! অহুদ তো সেই ময়দান, যেখানে প্রিয় নবীর সত্তরজন প্রিয় সাথী শহীদ হয়েছিলেন।
অহুদের কান্না দেখে আপনিও কাঁদবেন!
আপনার হূদয়-তটে আছড়ে পড়বে কান্নার ঢেউ!!
‘তোমার কান্না দেখে কাঁদি আমি, কিন্তু জানি না তুমি কেন কাঁদো?
কিসের ব্যথা তোমার বুকে?
এতদিন দেখেছি দীপ থেকে দীপ জ্বলে, আজ দেখি, চোখ ভেজে, ভেজা চোখ থেকে!’
অতপর যখন আপনি প্রিয়তমের ঘর কা’বাতে পৌঁছবেন।
হ্যাঁ! আপনার রবের ঘর কাবাতে…
আপনার মনে অবস্হা কীরকম হবে, তা-আমি লিখে বুঝাতে পারব না! মনের ঢেউ-তরঙ্গ কলমে ফুটাতে পারব না !
বইয়ের ভাষায়,
‘মজনু হাযির দুয়ারে তোমার কংকাল দেহে,
স্বাস্হ্যের জৌলুস! সে তো বিলিয়ে এসেছি পথে পথে!
আর যাবো না ফিরে, থাকবো পড়ে তোমার দুয়ারে,
এখন শুধু মৃত্যুর সেতু মিলনের মাঝে’।
‘যারা তোমার দুয়ারের ভিখারী হাত পেতেছি তাদেরই মত দীনতায়, হীনতায় শরমে মরিদানের অসীমতায় তবু নই আশাহত’।
‘কাবাঘরের তাওয়াফ করিতে চাই
দুয়ারে এসে হায়, অনুমতি না পাই গায়েব থেকে আসে আওয়াজ বারেবার কী করেছো বাইরে, সাহস করো ভিতরে আসার!’
‘মাথায় তোমার পাপের বোঝা!
নিরাশ হয়োনা।
চাওয়ার মত যদি চাইতে পারো, তাহলে তুমিও অনেক কিছু পেতে পারো।
এ দুয়ার থেকে তো ডাক আসে দিন- রাত, এসো হে নেককার, এসো হে গুনাহগার, লুটে নাও আমার দানের ভাণ্ডার!’
‘পানের জলসায় তুমি তো আনাড়ী আগন্তুক দেখো আমি সুরায় কত পানি মেশাই, কেমনে ঠোঁট লাগাই! আমার চুমুক দেখে দাও চুমুক, দোলাও মাথা জমবে নেশা, পাবে ভিন্ন স্বাদ, ভিন্ন মজা’।
‘আমি বুঝি না জ্ঞানীদের ভাষা, যুক্তির শব্দমালা! আমাকে শোনাও
মজনুর কাহিনী, দেখাও পানশালা আমি হতে চাই প্রেমের ‘শহীদ’ লায়লার দুয়ারে কিংবা তারগলিতে, কিংবা মরুপথের অভিসারে!
বইটি এমনই যে, বইটির রিভিউ আমি কীভাবে লেখব!
কেমনিই বা লেখব! কিছুই মাথায় ধরে নি।
তাই বইটির মাঝে-মধ্যে যে কবিতাগুলো এসেছে, তা-দিয়ে রিভিউ শেষ করলাম!!
বইটির দ্বারা বাংলাভাষার ভ্রমণবিষয়ের শূন্যতা পূরণ হয়েছে।
যারা হজ হজ্ব করতে যাবেন, যাওয়ার আগে অন্তত একবার বইটি পড়ে যাবেন।
তখনি আপনার হজে জমবে নেশা, পাবেন ভিন্ন স্বাদ, ভিন্ন মজা। আল্লাহ হাফেজ।

গল্পের বিষয়:
ধর্মীয়

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত