মেধার বাতানুকূল ঘুঙুর

মেধার বাতানুকূল ঘুঙুর

অস্তিত্ব

ভোর রাতে দরোজায় গ্রেপ্তারের টোকা পড়ে
একটা কয়েদি মারা গেছে তার স্হান নিতে হবে

জামাটা গলিয়ে নেবো ? দুমুঠো কি খেয়ে নেবো ?
পিছনের ছাদ দিয়ে পালাবো কি ?

কপাট ভাঙার শব্দে খসে পড়ে চুনবালি
মুখেতে রুমাল বেঁধে কিছু লোক ঘরে ঢুকে পড়ে
‘ট্যারাচোখ ফরসা চেহারা লোকটা কি যেন কী নাম
কোন ঘরে লুকিয়ে রয়েছে নয়তো আপনাকেই
আমাদের সঙ্গে যেতে হবে’

ভয়েতে গলার স্বর বুজে আসে; আজ্ঞে স্যার কালকে সকালে
পাড়ার লোকেরা তাকে কুপিয়ে মেরেছে।

আরেকবার উহুরু

কালো কাপড়ের খোল মুখেতে পরানো, দুই হাত
পিছমোড়া করে বাঁধা, দাঁড়িয়ে রয়েছি পাটাতনে,
জল্লাদের ঘামের তিতকুটে গন্ধে ভোরের বাতাস থম–
সময় গুনছে কারা ? ডাক্তার পুলিশ জজ ওয়ার্ডেন ? নাকি কেউই গোনে না !

আচমকা নেমে যাব ঝুপ শব্দে যেখানে ঘোলাটে অন্ধকারে
পোষা হয় ঘামলোনা নোংরা ইতিহাস;
কাঁপতে থাকবে দড়ি, প্রথমে খুবই ঘন ঘন,
দুর্বল ঝাঁকুনি, তারপর স্হির, বোবা চিৎকারে
ওভাবে যেখানে কবি খুনি নেমে গেছে বহুবার
আমিতো উঠেছি আজ সেইখান থেকে জ্যান্ত হয়ে

এই একমাত্র ওঠা! এছাড়া উথ্থান নেই শব্দদানবের
যাদের পায়ের কাছে পড়ে থাকে বিধ্বস্ত ভূগোল

মরার জন্যে যারা জন্ময় আমি সেই ধর্মবংশ
বাঁচিয়ে রাখব বলে বারবার ঝুলি না ফাঁসিতে।

আলো

আবলুশ অন্ধকারে তলপেটে লাথি খেয়ে ছিটকে পড়ি
পিছমোড়া করে বাঁধা হাতকড়া স্যাঁতসেতে ধুলোপড়া মেঝে
আচমকা কড়া আলো জ্বলে উঠে চোখ ধাঁধায়
তক্ষুনি নিভে গেলে মুখে বুট জুতো পড়ে দুতিনবার
কষ বেয়ে রক্ত গড়াতে থাকে টেরপাই

আবার তীব্র আলো মুহূর্তে জ্বলে উঠে নিভে যায়
গরম লোহার রড খালি পিঠে মাংস ছেঁচে তোলে
আমাকে লক্ষ করে চারিদিক থেকে আলো ঝলসে ওঠে ফের
আপনা থেকেই চোখ কুঁচকে যায় দেখতে পাই না কাউকে
একসঙ্গে সব আলো আরেকবার নিভে গেলে
পরবর্তী আক্রমণ সহ্য করার জন্যে নিজেকে তৈরি করে নিই।

এ কেমন বৈরী

ভাবা যায় ? কোনো প্রতিপক্ষ নেই !
সবকটা আধমরা হয়ে আজ শুয়ে আছে জুতোর তলায় ?
কিছুই করিনি আমি
কেবল মুখেতে হাত চাপা দিয়ে চিৎকার করেছি থেকে থেকে
হাহাহা হাহাহা হাহা হাহা
পিস্তল কোমরে বাঁধা তেমনিই ছিল সঙ্গোপনে
ক্ষুর বা ভোজালি বের করিনিকো
বোমাগুলো শান্তিনিকেতনি ব্যাগে চুপচাপ যেমন-কে-তেমন পড়ে আছে
আমি তো আটঘাট বেঁধে ভেবেছি বদলা নেব নিকেশ করব একে-একে
সকলেই এত ভিতু জানতে পারিনি
একা কেউ যুঝতে পারে না বলে দল বেঁধে ঘিরে ধরেছিল
এখন ময়দান ফাঁকা
তাবৎ মাস্তান আজ গরুর চামড়ায় তৈরি জুতোর তলায়
কিংবা পালিয়েছে পাড়া ছেড়ে কোনো জ্ঞাতির খামারে
আমি তো বিধর্মী যুবা এদের পাড়ার কেউ নই
জানালার খড়খড়ি তুলে তবু যুবতীরা আমার ভুরুর দিকে তাকিয়ে রয়েছে
ছ্যাঃ এরকম জয় চাইনি কখনো
এর চেয়ে সামনে শিখন্ডি রেখে জেতা ছিল ভালো
ভেবেছি চেংঘিজ খান যে-লাগাম ছেড়েছে মৃত্যুর কিছু পরে
তার রাশ টেনে ধরে চুরমার করে দেব এই সব জাল-জুয়াচুরি
আগুন লাগিয়ে দেব মাটিতে মিশিয়ে দেব ধুরন্ধর গঞ্জশহর
কিন্তু আজ সমগ্র এলাকা দেখি পড়ে আছে পায়ের তলায় ।

ঘুণপোকার সিংহাসন

ওগো স্তন্যপায়ী ভাষা পিপীলিকাভূক মুখচোরা
ভূচর খেচর জলচর দাম্পত্যজীবনে তুষ্ট একশিঙা
নীলগাই বারাশিঙা চোরাকিশোরীর হাতে মূল্যবান প্রাণী
স্হলে বিচরণকারী উদবিড়াল গন্ধগোকুল বিনোদিনী
শব্দগহ্বর খেয়ে নোকরশাহির রাজ্য এনেছ এদেশে ।

দুঃখ

মুখের সেলাই খুলে ফোঁপাতে চেষ্টা করি
পেঙুইন পাখালির দুধসাদা বুকে মুখ রেখে মনে হয় কেঁদে ফেলি
চারিপাশে বোবাকালা খেয়াল গাইয়েরা বসে নুলো হাত নাড়ে
ও-সঙ্গীত বন্ধ করো সজারুর কাঁটা খসে যাবে
গোরক্ত শরীরে মেখে খুনি পিঁপড়ের ঝাঁকে শয়ন করেছি
এখানে চামড়ার টাকা ভাঙাতে দেব না
সৈন্ধব লবণে তৈরি হৃৎপিণ্ড নিয়ে তুমি দরোজা আগলে রাখো কেন
ঝুলে থাকো আমরণ চামচিকেদের সাথে
বুড়ো আঙুলের ছাপ পৃথিবীতে রেখে
তৌজি মৌজা সব বিলি করে দেব
একবস্ত্রে বহুবার রাকস্যাক পিঠে রেখে সভ্যতা ছেড়েছি
ক্লিওপেট্রার মসীলিপ্ত যোনি টানতে পারেনি
বারংবার চমকেছে গা ঘেঁষে বিদ্যুতলতা
চাবুকের দাগ দেখা যাবে বলে পোশাক খুলি না

দোটানা

ফেরার সময় ওরা ঘিরে ধরে। ছসাতজন। প্রত্যেকেরই
রয়েছে কিছি-নাকিছু হাতে। আসার সময় জানতুম আজ
গোলমাল হবে তাই তৈরি হয়েই এসেছি। তবু প্রথমেই
নিজের তরফ থেকে হাত ওঠাবো না সেটা ঠিক করা আছে।
জামার কলার ধরে একজন খিস্তি করে, “পেরেম করতে এয়েচো
এপাড়ায় ! কেন ? নিজের বাড়িতে মাগ নেই নাকি”।

দাঁতে দাঁত দিয়ে মাথা ঠাণ্ডা রাখি। তখনই চোয়ালে ঘুষি
রক্ত টেনে বের করে সেটা হাত দিয়ে টের পাই।
এক ঝটকায় ছাড়িয়েই বসে পড়ি। মোজার ভেতর থেকে
চকিতে বেরিয়ে আসে নতুন প্রজন্মের ক্ষিপ্র চিৎপুরি–
হ্যালোজেন-মাখা অন্ধকারে ঝলসে ওঠে স্টেনলেস চাকু
ফলায় ছিদাম লেখা একপিঠে মাকালী ওপিঠে।
জটলা ছিৎরে যায়। চাকু-দেবতার নামে কত গুণ আছে
সকলে জানে না।মানব কেন অমন কুচুটে?
প্রেমিকের জন্যে কোনো ভালোবাসা নেই ? এই যে ছসাতজন
মনের স্বামীত্ব হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে বলে ঘিরে ধরেছিল
কেমন গুটিয়ে গেল চাউনির একটি ঝলকে !

প্রত্যক্ষ

সম্বিত ফিরে পাচ্ছি ক্রমে
হাত-পা ও মুখ বাঁধা পড়ে আছি রেলের লাইনে
চারিদিক খাঁ-খাঁ
শিশিরে কাপড়-জামা ভিজে গেছে
একটানা ঝিঁঝির আওয়াজ
ঠাণ্ডা নক্ষত্রে ভরা গেঁও অন্ধকার
মুখের ভেতর তুলো ঠোসা তাই চিৎকার করতে পারছি না
প্রচণ্ড মারের চোটে পায়ের বুকের হাড় ভেঙে গেছে
নিজেকে নড়ানো যাচ্ছে না
পিঠে ফুটছে শক্ত পাথর—
কী সুন্দর এ-পৃথিবী কোথাও অশান্তি নেই সবকিছু দিব্বি চুপচাপ
অন্ধকার ফুঁড়ে বেগে আলোকবিন্দু এক এগিয়ে আসছে এই রেলপথ ধরে।

প্রস্তুতি

কে বললে বিধ্বস্ত হয়েছি ? দাঁত-নখ নেই বলে ? ওগুলো কি খুবই
জরুরি ? আবাঁট চাকুর মেধা তলপেট লক্ষ করে বিদ্ধ করে দিয়েছি সেসব
এরই মধ্যে ভুলে গেলেন কেন! পাঁঠার মুখের কাছে
পাতাসুদ্ধ কচি এলাচের গোছা, সেই যে সেইসব কাণ্ড ? ঘৃণাশিল্প ক্রোধশিল্প
যুদ্ধশিল্প ! পিছমোড়া মুখবাঁধা যুবতী সানথাল; গোলাপি ফুসফুস ছিঁড়ে
কুখরির ধারালো আনচান — সেইসব ?
হৃৎমাংসে রক্তমেখে উঠে আসা চাকুর গরিমা ? আমার তো গান বা
সঙ্গীত নেই; কেবল চিৎকার, যতটা হাঁ করতে পারি
নির্বাক জঙ্গলের ভেষজ সুগন্ধ; ঘুঁজি-পরিসর কিংবা হারাম-সন্ন্যাস
বলিনি, “জিভ দিন জিভ গোঙানি ফেরত নাও
দাঁতে দাঁত দিয়ে সহ্য করার ক্ষমতা।” নির্ভীক বারুদ বলবে:
“মূর্খতাই একমাত্র শিক্ষণীয়।” উদারহস্ত নুলো
দাঁতে ছুরি নিয়ে আমি লাফিয়েছি জুয়ার টেবিলে, তোমরা ঘিরে ফ্যালো
ছেঁকে ধরো রাবার বাগিচা কফি চায়ের বাগান থেকে
গামবুটে স্বচ্ছন্দ চাকুরিসুদ্ধ এসো কে কোথায় আছো
জরাসন্ধের পুং যেভাবে বিভক্ত হয় হীরকের দ্যুতি ছলকে ওঠে
হাত-পা চালিয়ে যাওয়া ছাড়া আর জ্ঞানগম্যি বলে কিছু নেই
বাঁশির মতন ধরে সিঁধকাঠি বাজিয়ে দেখেছি আমি অসুখে অভাবে
আপেল ত্বকের মোমরেণু-মাখা ভঙ্গুর স্নেহ
সঙ্গমের আগে মাদি পিপীলিকা ডানা খুলে রেখে দেবে পাশে
আমিও উরুত চাপড়ে বিকল্প চিৎকার দিচ্ছি: পৃথিবীকে খালি করো
বেরোও বের হও সর্বশক্তিমান
বান্দরের চুলকানিপ্রবণ চার হাতে শঙ্খ
চক্র পদ্ম গদা নিয়ে নিজের ঘামের নুনে লবণ বিদ্রোহ হোক
বারুদ সুতলি ধরে বিস্ফোরণের দিকে তুমাকার স্ফূলিঙ্গ ছুটুক
সারা গায়ে অন্ধকার লেপড়ে এসো বাকফসলের কারবারি
কুকুর-যুবার মনোমালিন্যে ভরা মাঝরাতে
কীটনাশকের ঝাঁঝে মজে থাকা ফড়িঙের রুগ্ন দুপুরে
ভূজ্ঞান সম্পন্ন কেঁচো উঠে আয়
চাকুর লাবণ্য আমি আরেকবার এ-তল্লাটে দেখাতে এসেছি।

বজ্রমূর্খের তর্ক

আজকে শুক্কুরবার। মাইনে পেয়েচি।বোধায় শরতকালের পুন্নিমে।
পাতলা মেঘের মধ্যে জ্যোসনা খেলছে। মাঝরাত। রাস্তাঘাট ফাঁকা।
সামান্য টেনিচি তাড়ি। গাইচি গুনগুন করে অতুলপ্রসাদ।
কোথাও কিচ্ছু নেই হটাৎ কুচকুচে কালো নেড়িকুকুরের দল
ঘেউ ঘেউ করে ওঠে। তাড়া করে। বেঘোরে দৌড়ুতে থাকি।
বুঝতে পারিনি আগে। রাজপথে এসে হুঁশ হয়।
মাইনেটা পড়েচে কোথাও হাত থেকে। কী করে ফিরব বাড়ি?
কেউ তো বিশ্বাস করবে না। ভাববে খেলেচে রেস,
গিয়েচে মাগির বাসা, বন্ধুদের সাথে নিয়ে বেলেল্লা করেচে।
বন্ধুবান্ধব কেউ নেই। রেসও খেলি না কতকাল।
অন্য স্ত্রীলোকের খোলা বুকে হাত শেষ কবে দিয়েচি যে
ভুলে গেচি। জানি না বিশ্বস করে না কেউ কেন!
আমার তো মনে হতে থাকে, যা করিনি সেটাই করিচি বুঝি।
যা কইনি সেকথা বলিচি। তাহলে এ-পুন্নিমের মানে?
কেন এই মাইনে পাওয়া? কেন গান? কেন তাড়ি?

আবার ঢুকতে হবে রামনোংরা গলির ভেতরে। নির্ঘাত কুকুরগুলো
গন্ধ শুঁকে টের পাবে। ছেঁকে ধরবে চারিদিক থেকে।
যা হবার হয়ে যাক। আজ শালা এস্পার কিংবা ওস্পার।

বাড়িদখল

দরোজায় লাথি মেরে বেহায়া চিৎকার তুলছি মাঝরাত্তিরে
যারই বাড়ি হোক এটা খুলতে হবেই নাতো ভেঙে ঢুকে যাব
সামলাও নিজস্ব স্ত্রীলোক বাঁদি সোনাদানা ইষ্টদেবতা
ফেরেবের কাগজপত্তর নথি আজ থেকে এ বাসা আমার
ভোর হলে রাস্তায় সমস্ত আসবাব ছুঁড়ে ফেলে দোব
শষ্যের গ্রীষ্মবর্ষা পাপোশের নারিকেল ছায়া পোশাকের মেঘলা দুপুর
গয়নার ভালোবাসা বাসনের দিনান্তের খিদে
সদর দরোজা দিয়ে ধাক্কা মেরে বের করে দোব
দখল করছি না আপাতত কেননা এখনও অনেক বাড়ি বাকি

মনুষ্যতন্ত্র

আক্রান্ত হবার জন্যে তৈরি হয়েই আছি এসো মারমুখি চামচিকে
জামাগেঞ্জি ছিঁড়ে দাও বাড়ির দেয়ালে বোমা মারো
রগে রিভলভার চেপে ভয় দেখাও হাজতে ঠেঙিয়ে জেরা করো
ধাবমান ট্রেন থেকে ঠেলে দাও আমাকে আটকাও মেরে ফ্যালো
আমি ভূকম্পনযন্ত্র আণবিক যুদ্ধ দেখব বলে বেঁচে আছি
নীল গর্দভের লিঙ্গ মানবের শুক্রজাত কাফ্রি খচ্চর ।

মুরগির রোস্ট

পালক ফুলিয়ে ক্রোধে লড়ো মুর্গা, চাকুমালিককে খুশ করো
হুলেতে পরাগ মেখে ঝাপটাও ডানা
বলেওছি: দুহাত মুচড়ে নতজানু করে রাখো
মাঝরাতে ঘুম ভেঙে মাদুর গুটিয়ে নেমে এসো ছাদ থেকে
বুটজুতো — রাইফেল — ঘুরন্ত বুলেট — চিৎকার
বাড়ি নিয়ে যাও বলে কেঁদে ওঠে পাশের হাজতে বন্ধ বৃদ্ধ কয়েদি
ছেড়ে দাও ছেড়ে দাও যেতে দাও বাড়ি যেতে দাও
ডিমের ওপরে বসে সিংহাসনে ঝিমোয় ডাহুক
অন্ধকারে গলা টিপে ধরো
লড়ো মুর্গা, মরো লড়ে, গর্জাও গুঙ্গার দলে ঢুকে
জিভেতে কাঁচের ফুলকি — নাচাচ্ছি বুকের পেশি
মাছের কানকো খুলে জলেতে কুয়াশা মিশিয়েছি
কড়ে আঙুলের টুকরো মোড়া ছিল গোলাপি কাগজে
দুহাতে দুচোখ ঢেকে কে কাঁদে হাউ-হাউ করে জেলখানায়
নারী না পুরুষ আমি বুঝতে পারি না
এ নাও চোখের পাতা — ফুঁ দাও বাঁহাতে রেখে
শিশিরে ফণার পাঞ্জা খোলো
মেয়েলি হিসির শব্দে তলপেট কাঁপে জাতগোখরোর
রক্ত গড়ালে নাকে তুলো গুঁজে শ্মশানে পাঠাও
রাস্তায় পড়ে থাকবে চটিজুতো ভাঙাইঁট ঠ্যাঙ টেনে ছেঁড়া পাতলুন
ঝড়ের সমুদ্র থেকে যে-ঢেউ খাবলে তুলে মেখেছি দুপায়ে
সে-নব বর্ণমালা থেকে আজ হরফ এনেছি

মেসোমশায় পর্ব

যুধিষ্ঠির
আববে পাণ্ডবের বাচ্চা যুধিষ্ঠির
বহুতল বাড়ি থেকে নেবে আয় গলির মোড়েতে
নিআয় ল্যাংবোট কৃষ্ণ ভীম বা নকুল কে-কে আছে
পেটো হকিস্টিক ক্ষুর সোডার বোতল ছুরি সাইকেল চেন
বলেদে দ্রৌপদীকে আলসে থেকে ঝুঁকে দেখে নিক
আমার সঙ্গে আজ কিছু নেই কেউ নেই
ধৃষ্টদ্যুম্ন দুর্যোধন নেই
তোদেরই অঙ্গুলিহেলনে কেটে তর্জনীও দিয়েছি শৈশবে
দাঁড়াচ্ছি পা-ফাঁক করে দন্তস্ফূট হয়ে যাবে জয়ধ্বনি তোর
সিঁড়িতে শেকলবাঁধা মহাপ্রস্হানের কুত্তা লেলিয়েও দ্যাখ
ন্যাটা হাতে যুঝে যাব জমিন ছাড়ব না
লুমপেন বলে তোরা ঘিরে ধরবি
আরেকবার ছিটকে পড়ব ফুটপাতে মুখে গ্যাঁজলা নিয়ে
ছুটন্ত খচ্চরবাচ্চা পিঠের ওপরে ক্ষুর দেগে যাবে
নাভিতে ব্লেডের কুচি দিয়ে তোরা খোঁচা দিবি
পায়ুমুখে জ্বলন্ত সিগারেট
পাঁজরে আছড়ে পড়বে কম্বলে মোড়া সোঁটা

দেখে নিস তোরা
মাটিতে গোড়ালি ঠুকে পৃথিবীর চারিধারে জ্যোতির্বলয় গড়ে যাব ।

লালসেলাম হায়

মুখের গহ্বরে এক জান্তব গোঙানি ডাক চলাফেরা করে
জেলহাজতের ভিড়ে ত্রিকালজ্ঞ ভিড় দেখে চমকে উঠি
এরা কারা হাতকড়া পরে ঠাঠা হাসে সারাদিন
বাইরে যারা রয়ে গেল ঝুঁকিয়ে দাঁতাল মাথা
তারাই বা কারা ?
জল্লাদের ছেড়ে দেয়া প্রশ্বাস বুক ভরে টানে!

চাই না এসব ধন্দ
মশারি খাটিয়ে বিছানায় সাপ নারীর বদলে

নৌকোর গোলুই থেকে ছুরি হাতে জ্যোৎস্নায়
বুকের ওপরে বসবে লুঙি-পরা রোমশ সারেঙ
নাসারন্ধ্র থেকে বন্দুকের ধোঁয়া
‘বল শালা শকুন্তলার আংটি কোন মাছে আছে’

জানি তবু বলতে পারি না
মুখের ভেতর আংটি জিভের তলায় আমি লুকিয়ে রেখেছি।

গল্পের বিষয়:
কাব্যগ্রন্থ

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত