কৌণপের লুচিমাংস

কৌণপের লুচিমাংস

অভ্রপুষ্প

মোচড়খোলা আলোয় আকাশকে এক জায়গায় জড়ো করে
ফড়িং-ফোসলানো মুসুরিখেতে বক্তৃতা দিচ্ছিলেন বোলডার-নিতম্ব কবি

মরাবাতাসের বদবুমাখা কন্ঠস্বরে ঝরছিল বঁড়শিকেঁচোর কয়েলখোলা
গান থেকে এক-সিটিঙে সূর্যের যতখানি রোজগার

শেষ হয়ে যায় মধু দিয়ে সেলাইকরা মৌচাকে মোতায়েন জেড ক্যাটাগরির
ভোঁদড়ের খলিফা-আত্মা সামলাতে

প্রদূষণ-বিরোধীদের দিকে ছোঁড়া কাঁদানে গ্যাসের হাসি চুয়ে পড়ছিল
লিপস্টিক বোলানো গোধূলি থেকে চুলকুনি-জালে বানানো চামড়ায়

ভুটভুটির মাঝি-মেকানিক তখন ফ্রিজের কুমড়োর শীতঘুম থেকে উঠে
দুচার ক্রেট নদী ভরেছে ডটপেনের নীল শিরদাঁড়ায়

যার ফলে আঙুলের ডগায় লেগে থাকা স্মৃতিতে খুঁজে পাওয়া গেছে
হারানো চাবির বিকল্প এক আয়ুর্বেদিক জ্যোৎস্না

মাথার ওপর বয়ে নিয়ে চলেছে বোরখাঢাকা মেঘের মধ্যে
পালকখোলা টিয়াদের জোয়ারে হেলান দেয়া গেঁহুয়াপিঠ ঢেউ

আমার জিগরি দোস্ত ফ্যাটুল চিঠিপাধ্যায়

দোষ-নির্দোষের মাঝে আটক আমার জিগরি দোস্ত ফ্যাটুল চিঠিপাধ্যায়
ওর হাঙর-হাসি মুখ ভেঙচে বাছুরের চামড়ায় বাঁধানো ভাগবতে
হাত রেখে শপথ করেছিল যে, ফাঁকা চেয়ারগুলোয় যে-অদৃশ্য লোকেরা
বসে থাকে তাদের বলবে: “সময় ব্যাটাই বন্ধু সেজে ভয় দেখায়”

কাঠঠোকরার বাসার ফুটোয় ঝড়ের ঢঙে ঠোঁট রেখে বাঁশি বাজাচ্ছিল ফ্যাটুল
বেচারার বগলে ঘামের কাতুকুতু ছাড়া জীবনে আর কোনো আহ্লাদ ছিল না

ভালোবাসার লোকজন একে-একে হাপিশ হবার পর নিয়তির তাড়া খেয়ে
ইতিহাসেই আছে উত্তরণ জেনে বাদুড়রা যখন ওর মাথা ঘিরে ঠা-ঠা হাসছে
নিজের কুকুরকানে শুনল: “সময়ের মতন মান-হানিকর বজ্জাত আর নেই”
যে-লোকই পাশে শুয়ে শ্বাস নিয়েছে সে-দেখি অসৎবাজ বেরিয়েছে

গ্রন্থকীটের পরাগমাখা রুপোলি আঙুল বুলিয়ে ভেবেছে শব্দই স্রেফ সার্বভৌম
বাদবাকি লোকেরা কান্না ফুরোবার অপেক্ষায় শবখাটের বাহক
বাচারা জানত না ‘অর্কিড’ শব্দটা গ্রিক অর্কিস মানে অণ্ডকোষ থেকে এসচে
তাই জগৎটাকে চিরকাল দেখেছে ছাড়ানো নারকোলের মরচে-পড়া চোখ মেলে

ওপাড়
পালঙ্কের নরম হ্রদটির কেচ্ছা না-থাকার দুঃখে
দুলছিল হেলিকপ্টার নাচানো সোনালি ধানখেত
ফলে শীষের গোছায় পাতকো ঝোঁকা বালকদের চোখে
নক্ষত্রগুলো আর একদম থাকতে চায়নি
মানা যায় এরকম উপদেশের অভাবে কাদাচিকন -কোমর
গুটিকয় কাঁটাতার-কেশবতী মাঠের আলের ওপর দাঁড়িয়ে
কেউটের ডিম পাড়ার শব্দে টুসকি বাজিয়ে ডাকছিল
আদুলগা প্রতিধ্বনির বৈঠা-বাওয়া বকদম্পতিকে
কাঁধে ওদের জোয়ালের দাগ যার ভারে লোলচর্ম অন্ধ আকাশপথ
চিৎকার করছিল রাস্তা পার করে দাও রাস্তা পার করে দাও
রাস্তা পার করে দাও রাস্তা পার করে দাও

কাউন্টার ডিসকোর্স
সমুদ্রের নোনাডাক লাগাতার বলছিল আমি আর আগের মতো নেই রে
নেই কেননা হাসপাতালে বিছানার রেলিঙে আমার পা বেঁধে দেবার পর

খাটের দুপাশ দিয়ে আলাদা বয়ে যাচ্ছিল মজুরের নদী কৃষকের নদী
যে-কড়াকড়িতে সারাদিনে সূর্য শুধু একবারই ওঠে আর মিলিয়ে যায়

উদাহরণ দিতে হলে বলতে হয় এ তো ব্যাঙ আর কাউটের শুভদৃষ্টি
যখন বীজের আধভেজা খোসা শেষবার জড়িয়ে ধরেছে অঙ্কুরকে

আমি জানতুম আমি আর আগের মতো নেই রে সব শব্দেরই তালাখোলা শেষ
দিনকাল এমন পড়েছে যে গোলাপের গোড়ায় ঋষির হাড়গুঁড়ো না দিলে ফোটে না

আর কেউ শালা আকাশের এক কোণে পিক ফেলে কেটে পড়েছে
হতে পারে…হতে পারে…কাকতাড়ুয়ার ওপর বসে থাকা দাঁড়কাকটা

আশ্বিন-দুপুরের কাঁথাস্টিচ-করা পুকুরের জল থেকে
আমি ইয়ার নিজের শেষ ছায়াটুকু চাঁচপোঁছ করে তুলে নিয়েছি

ক্যাটাক্রিসিস

আমি কিন্তু তামাদি মনীষীদের তেলরঙা স্মৃতির বোটকা গন্ধে বসে
জলের ওংবিষ্ণু ছিটে দিয়ে শষ্যবীজের জ্ঞান ফেরাতে গিয়ে অবাক
সরকারি-স্ট্যাচুর গুদোমঘরে পরাবাস্তব জেনিটাল-টুকরো ছড়ানো ঘাসে
যাসশালা, মূর্তিভাঙা পাথরচুরো বিয়ের আগে কী নাম ছিল ভুলে গেছে

আমি কিন্তু বুঝতে পারছিলুম নদীটা মাছেদের বুক ধড়ফড়ে কাহিল
পেঁকো ভাঁটার দেঁতোহাসি করোটির কাঁকড়া-ঢাকা চোখে
নেশার বোধিতে বুজে আসছে দুর্গাঠাকুরের পারিবারিক খড়পচা লাশের চাপে
যা সবাইকে এই সভ্যতা থেকে ওই সভ্যতার রোগে পথ বাতলে নিয়ে যাবে

আমি কিন্তু কুঁড়ে টাইপের বিকেলবেলায় যখন বেহেড পাকস্হলি নিয়ে ফিরছি
ভুল সময়ে আগত শীতে বদনবেচুনিদের চৌরঙ্গি স্যামপেলের ডেরায়
ম্যাপ খুলে দেখালে হ্যাঁ এই যে ওফুটে ওইতো ইউজার-ফ্রেন্ডলি বসন্তঋতু
চিলের পেছন-পেছন উড়ে ব্লোআপ হিরোর গায়ে হাত ছুঁইয়ে ভিককে চাইছে

আমি কিন্তু অতীতকে নতুন-করে গড়ে ফেলেছি জলফোঁটায় বেঁধেবেঁধে
প্রকৃতি কি আর জানতোনা লাশ গোঁজড়াতে এক সেট অমাবস্যা চাই
তাইতো জলের ক্যাঁদরায় খুকি-পোনাদের ভাগিয়ে নিয়ে চলল জোয়ার-বুড়ো

গণতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতা

আমি তো বলতে গেলে দাঁতনখের চাষ ছেড়ে সাজলুম প্লাইকাঠের নেতা
ছদ্মবেশ ধরলে দেখি আসল ছেহারাখানা বেরিয়ে পড়েছে রে
স্ববিরোধিতা ছাড়া কি আর অন্য কোনো মৌলিক কাজ আছে ? বল!

আমি তো বলতে গেলে জরাজীর্ণ আকাশ জুড়ে ঢিললা-চিল বুড়ো
ভান করার ভান করি আর তা জীবন নামে চালাই
সাঁতারু-খেলানো জলে নৌকোর ছইয়ে সংসার পেতেছি

আমি তো বলতে গেলে পাষাণ-রিদয় পাথর ভেঙে দেখি
বালি-ঝুরঝুর চাউনি মেলে কাছিমখেকো বেতোরুগির দল
জলে ডোবা পাঙাশ মেয়ের ঠোঁটে ডানাউড়াল হাসি খুজছে

আমি তো বলতে গেলে গৃতাহুতির ভেজাল ধোঁয়ায় কেঁদে
সত্য বানাই মৃত্যু বানাই হুর্ধ-অধ গোলচক্কোর বানাই
সাপটা ছিল নিজের গর্তে হাত ঢুকুয়ে তাকেও তো ভুল বোঝাই

ঘুসপইঠি

আমি এমনকী ব্রিটিশদের টুকরোটাকরা-ঠাসা অতীত ঝেড়ে
অন্ধস্কুলের দেয়ালে দেখি লেখা গুটিকয় তালঠুকুয়া জ্ঞানের স্লোগান
হাতড়ে দেখি আরে ক্ষীরের সিঙাড়ার হালুয়ায় পুর-দেয়া কানামাছি
চাঁদবণিক প্রায়ভেট নামে বিশ্বায়নের পার্লার খুলেছে

আমি এমনকী কোকিলটাকে বলেছি তোর নাম যে কোকিল তা কি জানিস
কইমাছও তো জানে না যে বাজারে ল্যাংটোপোঁদে ও দুরুদুরু-বুক কইমাছ
ভুষিমালের প্রতীক নিয়ে করবিটা কী নতুন বলতে কিসসু বাকি নেই রে

আমি এমনকী শালবনের রিমিক্স নাচের ঐতিহ্য বাঁচিয়ে রাখতে
খাঁজকাটা রোদ্দুরের ডালেডালে অক্ষয় বয়স্ক চিল রেখেছি দফায়-দফায়
যাতে একটানা ডেকে-ডেকে রাতটাকে বাড়াতে পারে কুকুর সমাবেশ

আমি এমনকী মানব-সন্তানদের হিসিভেজা মফসসলি ইসটিশানে
মাগিপিয়াসী নিত্যযাত্রীদের আত্মা-মেরামতের নাইটশিফট কারখানায়
মানুষ কাকে বলে জানতে আয়নাভাঙা টুকরোর মুখগুলো ওজন করাতে গিয়ে
টের পেলুম সত্যকে জানতে হলে ভাষার বাইরে লাইন দিতে হবে রে

জীবনস্মৃতি

পেছনপানে হেলে-পড়া ছায়া গুটিয়ে কোকিলঠাসা অন্ধকারে
চুপচাপ বসেছিলেন প্রেমিকার সামনে জীবনে প্রথম উলঙ্গ প্রেমিক
পাখিগুলোর দ্বিস্বর কন্ঠ ঝর্ণার তোতলামি ফুটিয়ে ওকে বলেছিল
আমাদের দুধ-সফেদ গান কিনলে ছাড় পাবেন
প্রেমিকের দুচোখের নবজাতক-ভাসানো নদীতে যে-গ্ল্যামারকন্যা সাঁতরাচ্ছিলেন
তলপেটে বাদুড়ব্যস্ত কলকাতার গোধুলি মেখে
তাঁর পতনকালীন পয়ের পাতায় কয়েকটা ঘাড়-গোঁজড়ানো শোকার্ত শকুন
তাকিয়েছিল স্ক্রিন টেস্ট-করা স্তনের দিকে
যার বোঁটায় নবদম্পতি ফড়িংজোড় অতীতকে খরচ করার ধান্দায়
হিসেব কষছিল আজ আর কালের মাঝে ক্ষয় আর বৃদ্ধি
কিন্তু কচুডাঁটায় চেপকানো গেঁড়িদের পিনকোড-দূরত্বের
পুকুরে প্রেমিকের পায়ে ঠেকেছে শ্যাওলা-সুনসান জাহাজডুবি
আর ওর ফেরত-দেয়া অভিশাপে হাসপাতাল-ট্রেডমিলে বুড়ো তীর্থযাত্রীরা
এমনধারা শেকড়তোলা নাচ নাচছিল
যেন তাদের মাকড়জালে ঢাকা আয়নায় দেখা হাঁ-মুখ থেকে ভুটভুটিধোঁয়ায়
ফরস্টুন-ওড়ানো সিংহগর্জনের শেযতম রেশ চলছে

টাপোরি

আমি যে-কিনা পালটিমারা তিতিরের ছররা খাওয়া আকাশ
জলে ডোবা ফানুসপেট মোষের শিং থেকে জন্মেছিলুম
অলসচোখ দুপুরে পুঁতি-ঝলমলে নিম-গাছটার তলায়
থাবা-তুলতুলে আদর খাচ্ছিলুম ভুরু-ফুরফুরে শ্যামাঙ্গী গৌরীর
হাতখোঁপায় গোঁজা বৃষ্টির কাছে নতশির স্বর্ণচাঁপার কোলে

আমি যে-কিনা গ্রিলবসানো সকালমেঠো দিগন্তে দাঙড়িয়ে
মাড়ানো ঘাসের পদচিহ্ণ-আঁকা শোকাচ্ছন্ন রোদের সোঁদাভূমিতে
শেষ গড়াগড়ির বিছানায় কাঠকীটের রাতঘ্যাঙোর শুনেছি
ভাবছিলুম উদ্দেশ্য প্রণোদিত হলেই খারাপ হতে যাবে কেন রে
পদ অলঙ্কৃত গতরের ঘামে কি খাটুনির লবণকলা নেই

আমি যে কিনা ডাহুককে জিজ্ঞেস করেছি প্রজাপতির ডানায় কী স্বাদ পাস
কানপটিতে খুরধ্বনি সেঁটে চিপকো খেলার তেজবরে কনের আদলে
জাহাজ-এড়ানো লাইটহাউসের আলোয় এক করাতদেঁতো হাঙর
যামিনী রায়ের আঁকা স্তনের কেরানির সঙ্গে মহাকরণের খাঁচালিফটে
হেঁকেছিলুম আরোহী-ফেলা পুংঘোড়ার লাগামছেঁড়া হ্রেষা

আমি যে কিনা উচ্চিংড়ের স্বরলিপিতে গাওয়া ফুসফাসুরে গান
বেড়াজালের হাজার যোনি মেলে ধরে রেখেছি ইলশে ঝাঁকের বর্ণালী
স্বদেশি আন্দোলনের লাশঝোলা স্মৃতির গাবগাছের পাশের ঝোপে
শুকপোকায় কুরেখাওয়া লেবুপাতার পারফিউমড কিনার বরাবর
পাথরকুচি কারখানা-মালিকের ঘাড়কামানো পাহাড় থেকে উড়ছি

পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে বাঁচাতে হলে

কেন জানি না আমি
হাঙরপেটের গোলাপি-জীবনের পাগলাগারদে
আপদ-বিপদ পিষ মানিয়ে বিপথগামী বৃষ্টিতে ভেজা গলির সৎপথে
কাঁধে অন্ধকার বয়ে ২০৫নং রুটের বাসটা যখুন বাবুঘাট পৌঁছোল
ড্রাইভার বললে ওপারে সামলে যান নদী গেছে সমুদ্রে মাছ বিয়োবার ধান্দায়
জানেন তো বাসিমড়া ছাড়া আর-সবায়ের শবযাত্রায় নিষেধ লেগেচে

কেন জানি না আমি
প্রবেশ নিষেধ লটকানো এলাকায় যেখানে বজ্জাতরা জেতে
কানের লতিতে আগাছাঅলা ক্রেটারমুখো সাংবাদিককে দেখলুম গুণছে
দুঃশাসনের ব্যথাবিহীন হাত দিয়ে বিদ্যুৎচুল্লিতে জমা শেষনিঃশ্বাসের ছাই
যাদের পেশা ছিল ছারপোকার মাতৃভূমিতে যুক্তি দিয়ে অন্যের মতখণ্ডন

কেন জানি না আমি
গুজবে কান না-দিয়ে যারা জিভ দেয়াটাই ভালো মনে করে
তারা যখন অশান্তিকে শান্তি বলে মেনে নেবার জন্যে থাকাখাওয়া ফ্রি করে দিলে
স্বনামের কবর থেকে বেরিয়ে এল জয়যাত্রা নামের বিষকালি-মাখা খোঁয়াড়
সবাই চেল্লাচ্ছিল বিপ্লব চাই বিপ্লব চাই কিন্তু চাকরিতে বদলি চাই না

কেন জানি না আমি
প্রেমিক-বর্জিতা গর্ভবতী যেদিন ব্যাঙডাক প্রতিধ্বনিত কুয়োয়
ভেসে উঠল—খুনির ব্যবহৃত স্মৃতিভারাক্রান্ত বাটখারাটি মুদির দোকানে
সত্যনারাণের সিন্নির জন্যে আটা ওজন করাতে সাহায্য করছিল
হাবভাব তো এমন যেন ডাঙায় তোলা মাছকে দখিনা বাতাস কাতুকুতু দিচ্ছে

কেন জানি না আমি
আঘাত তার ব্যথার স্মৃতি যত দ্রুত ভোলে তারচে তাড়াতাড়ি
দেখলুম লাশের কপাল বেয়ে সন্দেশচুরো মুখে শ্মশানপিঁপড়ের মিছিল

ভূমিকা বদল

হাই তুলতে-থাকা থুতনির তিলে
বিষে নেতিয়ে আছে যে বিকেল
কিস্তিতে কেনা আদরের বেড়াজাল
কচুপাতার টলটলে সবুজ নাভিতে তা
অল্পস্বল্প ঢিলেঢালা প্রতিধ্বনি মিশিয়ে
মাখিয়ে দিন ঝিনচাক দেদোল দেহে
ব্যাস হারানো জিনিসের বিকল্প পাবেন
চাউনির অভিযোগ থেকে পোঁ-পোঁ বেরিয়ে
ডুমোডুমো করে কাটা কথাবাত্রায়
চুবিয়ে নিন প্রজাপতি-গর্ভের ডিজেল
খুজলি-খচিত কানের মাকড়সাকে বলুন
রংচটা আঁখি-উলির কী রেট যাচ্ছে হে
ও-ই আনবে নিরুদ্দেশ নুড়ির জলস্মৃতি
আর রয়াল বেঙ্গল খচ্চর-ডাক
কাঁচিতে-কাটা পুকুরের পানাচাদর গায়ে
আখের রসকে পালটান খেজুর-পাটালিতে
ঠিক করুন কী নাম ধরে ওকে ডাকা হবে
যদিও ফি-সন্ধ্যায় বেশ্যাদের নাম-বদল হয়
ধুলো-মাখা উরু ঝেড়ে উড়োনো কুয়াশায়
ও ও ও ও ওয়েস্ট উইন্ড ফেরত যাও পচ্ছিমে
জোয়ার তো গা-জোয়ারি তামাদি করেছে

রূপসী বাংলার ভাতার

আমি যে কিনা ফসফেটে ন্যাতা ঝিঁঝির চোখে ডিঙি-ভাসানো রোদ্দুর
মরা কলাবোসের ডিম্বদৃষ্টি মেলে নরীবিহীন বাড়ির জোড়াখাটে
চুলের নুটি-জড়ানো রজনীগন্ধা গোছার তলায় বদগন্ধ তক্তাবুক লাশ
হাত দুটো দুপাশে মরে পড়ে আছে বলে ঠোঁটের মাছি ওঢ়াতে পারছি না
সান্নিধ্যের দূরত্ব ঘিরে অফুরন্ত অবসরের নেকড়ে-চাউনি জ্ঞাতিদের ভিড়

আমি যে-কিনা কুহকঠুঁটো মেয়েদের মাঝে ছিলুম ট্রিগারলিঙ্গ যুবা
খড়খেতের সোঁদাসোনালি চামচমকানো
মকাইগুঁফো চাষার ছেলে
একটা চুল টানতেই শিরশিরিয়ে বেরিয়ে পড়েছে রক্তপচা আঁতের ঝুরি
জ্ঞাতিদের মুখে পাঁঠার গলায় নেবে-আসা
খাঁড়ায়-আঁকা চোখের কান্না
দেখছি আর ভাবছি কী যে মজা ওফ শবশকটে আগা চাপিনি কক্ষুনো

শূন্যগর্ভ

বাতাসবোনা ঘাসখেতে কানের লতিতে ধুলো মেখে
আমাকে ঘিরে যখন কেউটে শিশুরা নাচতে আরম্ভ করেছে
খসখে অন্ধকারে উদোম তর্জনী তুলে
দেখলুম বৃষ্টির ফিসফিসানির মাঝে সূর্য ওঠার রিনরিন বাজনা
এমন মৃদু রাইফেলের ফুটোয় দেখা চারচৌকো জগৎসংসার
তাকে ঘিরে রেখেছে
কাঁতার মুকুটপরা স্লোগানসিক্ত পাঁচিল

ওই বাগান এগিয়ে এসে আমায় আপ্যায়ন করার পর
ঘাসে-ঘাসে পড়ে আছে কেউটে মা-বাপের নাচের নূপুর
আর কেউটে গৃহিনী বারবার মনে করিয়ে দিয়েছেন
আসল জিনিস চাইলে তাও খুলে দেখাতে পারি

তাকিয়ে-তাকিয়ে যে-নারীর কৌমার্য নষ্ট করে দিয়েছিলুম
তারই মোচড়ানো হাতের অযৌন আলিঙ্গনে চোখে পড়ল
কাঁকড়ার আলোতরল বুকে আমার ঠিকুজির ছককাটা আছে
যা চুমু-চিকন ঠোঁটে চেটে নিয়েছিলেন কেউটে গৃহবধু

মেনু-ছাপানো শ্রাদ্ধবাসরের হাসিখুশি শোকে
নিজের গা থেকে ছায়া চেটে বাজারের ব্যামোকুকুর
আর তখনই বিস্কুটের ঘুঁড়ো-ছড়ানো মানচিত্রে
একদেশ থেকে আরেকদেশে চলে যাচ্ছিল পিঁপড়ের সার

শেষট্রেনের নাম তত্ত্ববিশ্ব

রুপোলি স্ফুলিঙ্গমাখা চিতলন্যাজা ধামসাবাদকের আঙুলহীন মুঠোয়
ডিমখোর ঢেউদের চাঁদবদন হল্লায় বাজছিল মৌমাছিডানার মৌতরঙ্গ
তবু ছুটন্ত সুড়ঙ্গে ষাঁড়পুরুষের মেটিংকল শুনে
চোখের বালির খোঁজ পড়েনি নিতম্বমসৃণ ভালোবাসায়
ফলা কলকাতার সর্বজনীন আস্তাকুঁড়ের সদবিপ্র মাসিকচক্রে ফলেছে
রাঢ়ের ওল আলো আর ভাষাভুষো
তা এখানের এই লেফটহ্যান্ডড্রাইভ দেশে কুচো-কুচো সূর্য ভাসাবে
এই আশায় মাতালরা যাবার পর হাঁফ ছেড়েচে ঘরটা
কেঁদেছে: হায়গো তাম্রপত্রে কলঙ্ক লাগবেই
যতই না জাঁদরেল টিকটিকি কড়িকাঠ কাঁপাক
আর ভাঁটার দুলুনি খেয়ে ঘুমিয়ে পড়ুক ক্লান্ত স্টিম লঞ্চ
হাড়েহাড়ে টের পাওয়া হাড়গুলো দাঁতনদেঁতো প্যাংলার দুর্ভাবনায়
ডেরা ডেলে চুলখোলা বারান্দায় চোখবুজে দেখবে এক তিন ঠেঙে বেড়াল
শ্যাওলাচাদর মুড়ি দিয়ে
প্রতিধ্বনি নকল করতে ওস্তাদ তলপেট-ফোলা বোলডার
পিঁপড়ের খনিটানেলে জড়ো করেছে টুসকি নির্দেশে
নামিয়ে-আনা তত্ত্ববিশ্ব

সাঁকো বাঁধা যায় না এমন ওপার

সোমবার অফিস-টাইমে মড়াপোড়া হাওয়ায় আচমকা সেঁদিয়ে
যে-পুরুতের দেয়া সব বিয়ে ভেঙে গেছে

চড়ুইদের বিতর্কসভায় ফুড়ুৎবাদী মণ্ডপে বসে মজাসসে জানালেন
প্রেম যাদের রাতঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়

তাদের চেটোর আঁকিবুকিতে একা থাকার চুলকুনি বহাল রইল
সবাই তো নিজস্ব নোংরামিতে ঢালাই-করা

ঢোকো বা না ঢোকো ভালোবাসার আছে একটিমাত্র ঝাঁচকচকে কানাগলি
যে-উৎসবে কয়েকটা শতক ঠাসা থাকে তাতে

বাঙালির ভবিষ্যবাণী শোনায় ঝাঁকঝাঁক গোলাপিগলা শকুন
যাদের জিভের ছোঁয়ায় মায়ের ভাষা পচছে

তাদের দয়ায় সুবিধে এই যে কলকাতা শহরে কারোর মরতে ইচ্ছে করেনা
কেননা প্রতিশোধ তো আদরের রাজা

তাইতো হাত হাতকড়ার স্মৃতি ভুলে বোলতার মেটেবাড়ি অহরহ খোঁচায়
ফলে রাজার কুকাজের ভাগিদার না হয়ে প্রজার উপায় কই

পরস্পরকে ছিঁড়ে যত আলাদা করবে তত সম্পর্ক দিনকেদিন গজাবে
বছর-বছর আহ্বান মুলতুবির এইটেই মজা

গল্পের বিষয়:
কাব্যগ্রন্থ

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত