বিন্দু বিন্দু

বিন্দু বিন্দু

কোকিল
এক যে ছিল বাউল, হায়, সেও হল সংসারী
সর্বত্যাগী সন্ন্যাসীরও দুই পাশে দুই নারী
কত মহান শিল্পী এখন সোনার কারবারি
শুধু কোকিল চায় না আজও নিজস্ব ঘরবাড়ি।

বাঘ ও পিঁপড়ে
বাঘ ও পিঁপড়ে দুই বন্ধুতে ধরেছে জবর বাজি
সামনে একটা বেচারা মানুষ, কে কেমন ভাবে
জিতে নিতে তাকে রাজি!
বাঘটা বলল, ছোঃ ও দু’ পেয়ে দুবলার আমি
চোখে নিমেষে ঘাড়টিকে মটকাবো
পিঁপড়ে বলল, ও লোকটা কবি, ওকে ভাই আমি
সারাটা জীবন
জ্বালিয়ে পুড়িয়ে খাবো!

কবিতাগদ্য
একটি কবিতা কবুতর হয়ে রয়েছে বুকের মধ্যে
তবু মেঘহীন সন্ধ্যায় কবি ঝড় ঝঞ্ঝাটে আটকা
কাজ-অকাজের দু’খানা কেল্লা গোলাগুলি ছোড়ে গদ্যে
কে জেতে কে হারে, ভুরু সন্ধিতে তাই নিয়ে চলে ফাটকা !

আলো অন্ধকার
আলোর গর্ব সে সব কিছুই উজ্জ্বল করে দেয়
অন্ধকারটি শুধু সে দেখাতে পারে না
অন্ধকারেরও গর্ব রয়েছে, আলোকেই সে ছড়ায়
দূরে চলে যায়, লুকোয়, তবুও হারে না!

প্যাঁচা ও জোনাকি
প্যাঁচা হেসে বলে, ওরে ও জোনাকি, তোর দুঃখের
নেই যে সীমানা
আলো পেলি তবু জ্বলে সেটা তোর মাগ্যে!
জোনাকিটি বলে, দিনের বেলায় সূর্য জ্বলেন
তবু তুমি কানা
দেখছো তো ভাই, যার যেটা আছে ভাগ্যে!

দেশ
হিন্দু এবং মুসলমান
করল দেশটা খান খান
কোন দেশ ভাই, কোন দেশটা?
উড়ে এল বহু উপদেষ্টা
বলল, এ দেশের নেই তুলনা
দুটো জাত ছিল, মানুষ ছিল না!

কে আগে?
ডিম আগে, না মুরগি আগে?
মেঘ আগে, না জল?
প্রেম আগে, না চুমুর ইচ্ছে?
ফুল আগে, না ফল?

কাব্যে উপেক্ষিত
একটি মেয়ে, আর কিছু না, আয়নামুখী, টিপ পরছে
পুরুষ কেন তাতেই মুগ্ধ, মেয়েরা তা জানে কি?
পুরুষরাও তো চুল আঁচড়ায়, দাড়ি কামাচ্ছে সাঁতার কাটছে
সবই কি গদ্য? মেয়েরা কেউ জানল না এর মানে কী?

বিদ্যাসাগর
বিদ্যাসাগর প্রেম করেননি, কাজ-পাগল, ছিলেন বেরসিক
না লিখলেন কবিতা বা গল্প উপন্যাস
হেরে গেলেন বঙ্কিম ও রবীন্দ্রের প্রবল খ্যাতির কাছে
এঁরাই হলেন এ কালের বাল্মীকি-বেদব্যাস।
নারীর দুঃখে কত কাঁদলেন বিদ্যাসাগর সারাজীবন, হায়রে
অর্থ এবং আয়ু কতই খোয়ালেন সে খেয়ালে
নারীরা কেউ মনে রাখেনি, স্কুলের বালিকারাও এমনকী
টাক মাথা ওই কুরূপ ছবি টাঙায় না দেওয়ালে!

চাঁদ
আজকে চাঁদের নীলাভ বর্ণ, কাল ছিল হলদেটে
ফুসফুস রোগী চাঁদ খায় রোজ নিমপাতা রস বেটে।
বৃষ্টির দিনে চাঁদের খাদ্য নিছক ফটিক জল
দেবরাজ খান সোমরস, আর মহাদেব হলাহল।
উর্বশী যদি স্বর্গ সভায় নিলাজ নৃত্যে মাতে
সেদিনের চাঁদ রক্তিম হয় ঈর্ষার মৌতাতে।

পুরুষতন্ত্র
সত্যি করে বলো তো দেখি, কে বেশি ভালোবাসে
প্রেমের মূল্য কে বেশি বোঝে, পুরুষ কিংবা নারী?
প্রশ্নকারী, কে তুমি বটে, পুরুষ নও? সবাই এটা জানে
উকিল এবং বিচারকের সান্ধ্যসভায় পুরুষই দলভারী!

শাশ্বত
রোমিও এবং জুলিয়েট আর কৃষ্ণ এবং রাধা
যদি ফিরে আসে কী দেখবে পৃথিবীতে?
এত হুড়োহুড়ি, তবুও নিভৃতে দৃষ্টি সেতুতে বাঁধা
কারা যেন আছে, যারা শুধু দেয়, কিছুই চায় না নিতে।

বিদেশ স্বর্গ
মা-বাপ বাঙালি, এই দেশে যার জন্ম ও খেলাধুলো
তবুও শেখেনি গরিমা মাতৃভাষার
বিদেশ স্বর্গ, কাঁচুমাচু দিন, কূপমণ্ডুক রাত
সুট-টাই পরে পা চাটতে হয় চাষার!

যুগলবন্দি
মেঘ ডাকছে গুরু গুরু, আবার বৃষ্টি শুরু?
প্রেমিক এবং চাষা, দু’জনের কুঁচকে গেল ভুরু।
সারা বছর বৃষ্টি নেই, ফসল সব উজাড়
রাষ্ট্রনায়ক, ছিঁচকে চোর, দু’জনেরই মুখ বেজার!

গল্পের বিষয়:
কবিতা

Share This Post

সর্বাধিক পঠিত