পালাবদল

পালাবদল

এই বৃষ্টি

চিন্তার সমস্ত রং ধুয়ে গেছে শাদা হ’য়ে
মনের প্রহরী ভিজছে ছাতি হাতে নিঃকুম প্ৰহরে,
কুপকূপ বৃষ্টির গলিতে
বাসনার আলোগুলো বিমিয়ে ঝাপসা জলে পাশে ।
হে বিরতি
ঘন রাত্রে কোনখানে এক স্তব্ধ চেয়ে আছে :
মেঘে-মেঘে ভয়ংকর আসন্নতা,
বোবা বুক চিরে ঝলে বর্ষার বিজলি শঙ্কাহারা,
শুধু মেনে নেওয়া বেলা, প্রবাসে যেমন ৷।

বসন্তের মাঝামাঝি এই বর্ষাকাল,
প্ৰস্তুত ছিলো না, তবু এলো যেই, ব্যস্ত মন
রাজি হ’লো ঘোরাফেরা চেনার কল্পনা ফুল ভুলে,
ফেলে গিয়ে ঘরে-ফেরা সুদূর কাহিনী,
শুধু ভিজতে, খানিকক্ষণ ধারাবাহী মগ্ন অবকাশে ।
মাটির প্রতীক্ষা আর ঘাসের শ্যামতা সঞ্চারিত
নির্মান নতুন পাওয়া
অস্ফুট স্বদেশী ছাপ রেলিঙের ধারে৷।

 

এপারে

দেখলাম দু-চক্ষু ভ’রে, হে প্ৰভু ঈশ্বর মহাশয়
চৈতন্যে প্ৰসন্ন সূৰ্য,
খচিত রাত্রির দেয়া গান
রেডিয়ো নক্ষত্রে বাজিলো এই দেহে ঝিমঝিম দূরে
শিরায় জড়ানো নহবৎ ।
ইন্দ্ৰিয়ের চুর্ণ সুরে
জেগেছে সংসার প্রান্তে আদিম গায়িত্ৰীমন্ত্রময়
ভুভূবঃ স্বঃ।
হোক না স্বেচ্ছায় বন্দী প্ৰাণ
হঠাৎ মুক্তি সে পেল।
( কিছু বন্দীদশা ইচ্ছাতীত,
সে তর্কে নামবো না। আজ । )
মহাশয়, পার্থিবের দেশে
স্বীকার্য, অনেক হ’লো : সভ্যতা যতই পাপ কাজে
যুদ্ধে হানে জ্যোতিবুদ্ধি, রক্তবহ যন্ত্রণ সমাজে
গঙ্গোত্রীর ধারা নেমে বার-বার অলক্ষ্য রঙ্গিত
ধুয়ে মুছে দিয়ে গেলো মুহুর্তে অক্ষয় লোকালয়
কোটি মৃত্যু কান্না ছোয়া সমুদ্রের নীল নিরুদ্দেশে ।
শুধু আজ্ঞা দাও, যেন বুঝি
আয়ুকাব্য মহাময়
অধ্যায়ে-অধ্যায়ে খোলা অভাব্যের এই পরিচয়
গ্ৰন্থিবাধা তারি মধ্যে এসে আমি জন্মমৃত্যুপারে
আজো কোন খুজি বাসা,
এদিকে পঞ্চাশ হ’লো, দিন
এ যাত্ৰা সন্ধ্যায় ক্রমে সন্ধিক্ষণে হ’য়ে আসে। ক্ষীণ
পালা-বদলের বেলা,
মেলাবে কি যোগ অন্ধকারে
সৌর ধুলো তৈরি দেহ রাখি যবে, ঘরে-ফেরা বাঁশি–
বহু পথ এসেছি তো বস্টনে বাঙালি দূরবাসী ৷

 

চার্লস নদীর ধারে

স্মরণাতীতের রৌদ্রভূমি
সেখানে এনেছো তুমি,
স্পষ্ট লেখা
নিবিড় ঘাসের গূঢ় রেখা
কচি নাচে
অঙ্গের আসঙ্গে ডুবে আছে
শ্যামতির মাঠে ;
মেঘোৰ্ত্তীর্ণ শূন্যের ললাটে
এক জোড়া পানকৌড়ি তীর বেগে দূরে যায়
মধ্যাহ্নে বার্নিশ করা আকাশের গায়,
মনোপারে তীর পায় ;
কানের অচেনা পটে ভাষার বুনুনি
ঝুমঝুমি আদি কথা শুনি
মানে যার অশব্দ কাকলি,–
যেটুকুতে কাজ চলে শুনি আর বলি।
যে-কোনো দু-জনে গল্পে চলে রাস্তা দিয়ে
ছলছল বুকে যায় আত্মীয় বুলিয়ে,–
ভাবি ডেকে প্রশ্ন করি অন্য কোন দিনের কুশল
কত কাল ভুলে যাওয়া জন্মফল ;
পাড়ার প্রত্যেক বাড়ি বিস্ময় আঙুল তুলে বলে :
অন্য সংসারের চিমনি তলে
কোন এ শীতের লগ্নে উৎসবের বেলা এলো ফের,–
ধোঁয়া ওঠে কুণ্ডলী প্রশ্নের ॥

 

বে-স্টেট রোডে

ঠিক তাই ; ধারে-আসা। একটি কথার প্রতি ধাপে
শব্দ যেই স্তব্ধ হ’য়ে ভাবনা আভার নীলে ঠেকে
সেখানে সিঁড়িতে বসা, পাশে দেখা পশ্চিমী পাতার
লাল তামা আসন্নত নবেম্বরে, রঙা অশ্রুভার
অন্যতার প্রান্ত-নিঃশ্বসিত ; ট্রাফিকের ভিড় থেকে
কেম্ব্রিজের ব্রিজে শোনা সমস্ত নগর দূরে কাঁপে
একটি গুঞ্জন জনতার ; বারে-বারে শীর্ষে থামা,
ঊর্ধ্বে জ্বলে বৌদ্ধতারা, বহুরাত্রিপারে দৃষ্টিনাম ॥

ঘরে ফিরে শুভলক্ষ্মী রেকর্ডের শুভ্ৰাত ভজন
মুহুর্তের কণ্ঠে আনে দ্বাদশ দেউল জাগা তীর,
প্রবাস-সমুদ্রহীন, অকল্প চাওয়ার বুকে স্থির ;
কত দিন হ’য়ে গেলো খুঁজেছি সে পথের লগন ।
নীল আঁকা চীনে হাঁস ফুলপাত্রে উড়েছে মিং যুগে
ডেস্কে তারি কাছে আসা ; শূন্য শান্ত ; বেঁচেছি দৈবাৎ
—ককটেল আতিথ্যে কারো ধূম্রতা বিলাসী কক্ষে ভুগে—
কার্পেটে তুরানী নক্সা, নিয়ে তারি ঐন্দ্রিক দৃক্‌পাত ৷।

চিত্ৰ-আসি, তীর্থ-আসি : শিরায় মনের দুঃখে ঝড়ে
জমা-মেঘ-সন্তর্পিত ব্যবধান চূৰ্ণ-করা দিনে
পাতঞ্জলি সূত্ৰ পড়ি, কোচে শুয়ে ভাবি, বই খোলা
প্ৰাঞ্জল আয়ুকে কেন প্রত্যহ ধুলোর ধর্মে ভ’রে
অব্যবহিত-হারা আবিস্মিত ইট গেঁথে তোলা ।
আখ্‌রোটের কাঠে-খোদা কাশ্মীর ভূস্বৰ্গ স্বপ্ন চিনে
চুমকি-বসানো হ্রদ— মনে আছে ? –ধরি বুকে তাই ;
স্বামীজি অখিলানন্দ তাঁর কাছে মধ্যে-মধ্যে যাই ৷।

গল্পের বিষয়:
কবিতা

Share This Post

আরও গল্প

সর্বাধিক পঠিত